প্রচ্ছদ - সুরজিৎ সিনহা ​

 
srikrishna.jpg
 জানুয়ারী
২০২৩
Village2.jpg

প্রচ্ছদঃ সুরজিত সিনহা

লেখক/লেখিকাবৃন্দ

 
birds.jpg

মানবিক মুল্যবোধের চরম অবক্ষয়

মিজানুর রহমান মিজান

বিশ্বনাথ, সিলেট, বাংলাদেশ

প্রবন্ধ

Mijanur Rahman.jpg

কল প্রশংসা এক মাত্র বিশ্বপ্রভু মহান আল্লাহর প্রাপ্য। যিনি এ জগত সংসারের যাবতীয় বস্তুর সৃষ্টিকর্তা, হেফাজতকারী, পরিচালনাকারী ও সর্বশেষ মৃত্যুদাতা। কারণ ‘জগতের সকল প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’। তিনি এক, অদ্বিতীয়, তাঁর সমতুল কেহ নেই। সর্বশ্রেষ্ঠ, শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (স:) আল্লাহর প্রেরিত নবী।হাজার হাজার সালাম ও দরুদ পেশ করি হযরত মোহাম্মদ (স:)’র নামে। মানুষকে আল্লাহ আশরাফুল মাখলুকাত নামে অভিহিত করেছেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বলে। কারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে বিবেক, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনাসহ সচেতনতাবোধ সম্পন্নতা।আল্লাহ মানুষের জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছেন কিভাবে জীবনযাত্রা পরিচালিত হবে। এ সমস্ত বোধ শক্তি থাকার মুল মন্ত্র হল সৎ, সত্য সঠিক পথে পরিচালিত হওয়া, হারাম–হালাল, বৈধ-অবৈধ বুঝে হালাল ও বৈধ আয়ের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করা। অত:পর নীতি নৈতিকতা, ভদ্র, নম্র আচার আচরণের মাধ্যমে জীবন নামক তরী বেয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছানো। প্রত্যেক মানুষের পিছনে মৃত্যু দূত সব সময় রয়েছেন। নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত সময়ে সবাইকে চলে যেতে হবে। এক মিনিট আগেও না, এক মিনিট পরেও না। পশু পশু হয়ে জন্মায়। তাকে পশুত্ব অর্জন করতে হয় না। কিন্তু মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। মনুষ্যত্বের মুলে রয়েছে নীতি, নৈতিকতা, মানবিক, হালাল, বৈধ পন্থা অনুসরণ করে অভীষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো। সুতরাং তা অর্জন করতে অনেক কঠিন, কঠোর ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছানো প্রত্যেক নরনারীর ঐকান্তিক কামনা ও বাসনা থাকা চাই। কিন্তু আমরা বর্তমানে কতটুকু মানবিক ও মনুষ্যত্ব সম্পন্ন মানুষের পরিচয় দিচ্ছি? তাই জিজ্ঞাস্য?
বর্তমানে সামান্য স্বার্থের লোভে আমরা যে পরিচয় দিচ্ছি তা কতটুকু নৈতিক, মানবিক ও মনুষ্যত্ব নির্ভর? দু’একটি উদাহরণ দিলেই তা স্বচ্ছ আয়নায় পরিস্ফুটিত হবে সহজে। এইতো গতকল্য একটি ভিডিও দেখে হলাম আশ্চর্যান্বিত। কুমিল্লা জেলার এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্কুলের নিকটেই তিনির বাসা। সে বাসায় স্কুল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে তিনি চলছেন।আরো টিনের নির্মিত ছয়টি কক্ষ রয়েছে, তাতেও প্রধান শিক্ষকের রোম থেকে সংযোগ দেয়া হয়েছে। একজন শিক্ষকের বেতন বর্তমানে ৩০/৪০ হাজার। এতো টাকা পেয়েও তিনি অবৈধ, অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত। প্রাপ্ত বেতনে যদি শিক্ষকের জীবন যাপন কঠিন হয়।তবে একজন মসজিদের ইমাম, শ্রমিক, কৃষক মাত্র ৪/৫ হাজার টাকায় এবং একজন কৃষক কত অমানবিক পরিশ্রম করে ৬/৭ হাজার টাকায় তাঁদের জীবন চলে। শিক্ষক মহোদয় কি খান? কোথায়, কিভাবে ব্যয় করেন? তিনি কি সোনা রুপা খেয়ে ফেলেন? আর শ্রমিক, কৃষকের, ইমামের জীবন যদি অল্প বেতনে সংকুলান সম্ভব হয়। তবে কেন শিক্ষকের উচ্চ বেতন পেয়েও সংকুলান হয় না। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের জবাবে তিনি বলেছেন ৭/৮ বৎসর যাবত এভাবে চলছেন। কিন্তু অন্যান্যরা বলেছেন আরো দীর্ঘ দিন থেকে ব্যবহারের কথা। আমি আমার মুরব্বিয়ানদের মুখ থেকে প্রায়ই শুনতাম একটি প্রবাদসম বাক্য। যা হচ্ছে “বৈধ, হালাল উপার্জনে রয়েছে বরকত(মুরাদ)”। অবৈধ ও হারাম উপার্জনে বরকত (মুরাদ) শব্দটির অনুপস্থিতি। শাক-সবজি খেয়ে কৃষক, শ্রমিক অনেক বলবান, অপরদিকে বিরিয়ানি খেয়ে হচ্ছেন ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ। খানা খাদ্যে নিষেধাজ্ঞা সমৃদ্ধ। শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর, সম্মানী ব্যক্তি। কিন্তু কাজকর্ম নিন্দিত। (সব নয়) একজন শিক্ষক সত্য ও সততার হবেন প্রতীকী। বিগত ১২জানুয়ারি ২০২১ দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত “৬ বছর অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক” এবং সুরমা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম’র ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখের প্রকাশিত সংবাদ “থাকেন আমেরিকায়, করেন সিলেটে প্রধান শিক্ষিকার চাকুরী” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ পাঠে জানা যায়, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বৈরাগিপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমেনা খাতুন স্কুলে ৬ বছর যাবত অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। অভিভাবকরা বিষয়টি লিখিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালককে জানালে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত পূর্বক একটি বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং মামলায় তার দুই বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়। ঐ শিক্ষকের কর্মকান্ডে ছাত্ররা বা সন্তানরা কি শিখবেন? তা পাঠকের বিবেচ্য! ঐ শিক্ষকদ্বয়ের এ জাতীয় মন মানসিকতা কি

সত্যিকার নৈতিকতা ও মানবতাবোধের? আমরা কোথায় চলেছি, আকাশে না পাতালে? অবক্ষয়ের মাধ্যমে হচিছ বঞ্চিত প্রকৃত বাস্তবতা থেকে? ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ, জাতি যাচ্ছি রসাতলে। 

আরেকটি কাহিনী সে দিন আমি আমার এক বন্ধুর মুখ থেকে শুনে হতবাক হয়ে গেলাম। আমাদের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যৌথ সম্পত্তি। খুব কম সংখ্যক বাটোয়ারা দলিল হয়ে থাকে। মৌখিক ভাবে চিহ্নিত করে সকলেই ভোগ করতে অভ্যস্ত। এক সময় ছিল একজন তার অংশের ভূমি বিক্রি করতে চাইলে অন্য শরিকান সাক্ষী হিসাবে দলিলে স্বাক্ষর দেবার প্রচলন। তাই ভাতিজা তার অংশের জমি বিক্রি করবে। এখন অন্য শরিকানের সাক্ষী প্রদান আবশ্যক। সেহেতু ভাতিজা বলছে চাচাকে সাক্ষী প্রদান করতে। জমির তার অংশের বিক্রির কথা স্পষ্ট করে বলেছে চাচাকে। চাচা সাক্ষী দিয়াছেন বিশ্বাস করেই দলিল না দেখে। এখানে একটি কথা উল্লেখ করতেই হয়। কবরস্থান কিন্তু যৌথই থাকে। কারণ সেখানে কবরস্থ হবেন সবাই। কিন্তু আমাদের উল্লেখিত ভাতিজা মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। চাচা তা ঘুণাক্ষরে ও টের পাননি। ভাতিজার অংশের আংশিক ভূমিসহ কবরস্থানের দুই তৃতীয়াংশ দলিলে লিখে সাক্ষীর কলামে চাচার স্বাক্ষর নেয়। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা অতীব প্রয়োজন। ক্রেতা ঐ বংশেরই একজন। উভয়ে চক্রান্ত করে তা বাস্তবায়ন করছে লোভ দেখিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাকে। গোপনে তাদের মধ্যে আঁতাত, শলা পরামর্শে কাজটি করা হয়েছে। দিন যায় কথা থাকে। চাচা কবরস্থ ভূমির অংশ বিক্রি করেননি তিনির সত্যে অটল। অপরদিকে বিক্রেতা ক্রেতা এক সময় গোপন আঁতাতে ধরে ফাটল। বের হয়ে আসে গোপন কথা জনসমক্ষে। তখন কিন্তু নদীর জল অনেক বয়ে গেছে। বিক্রেতা দলিল দ্বারা টাকার বিনিময়ে তার নামে কবরের দুই অংশ রেকর্ড করে নেয় টাকা ও শক্তির প্রভাবে। চাচা তাদের সাথে পেরে উঠতে পারছেন না দুর্বল বলে। কিন্তু ভূমিটুকু কবরস্থান বলেই রেকর্ড হয়। এখন কথা হল কবরস্থান বিক্রি হয় না তা বিজ্ঞজন মাত্রই জ্ঞাত। তারপরও হয়ে যায়, যাচ্ছে। সাক্ষী দেবার কারণে চাচার কবরের অংশটুকু থেকে তিনি হলেন বঞ্চিত। সর্বশেষ কথা হল এ ক্ষেত্রে কবরস্থান নিয়েও মানুষ প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, ঠকানোর ধান্ধায় লিপ্ত। আর বাকি কি রয়েছে? প্রতারকও তো কবরস্থানে যাবেন শেষ পর্যন্ত। তা থেকে তো কোন ক্রমেই রেহাই নেই। সুতরাং মানুষের মনুষ্যত্ব, মানবিকতা, নীতি-নৈতিকতা কোথায়, কোন অবস্থায় কি ভাব দাঁড়িয়েছে। সম্মানিত পাঠক ও বিজ্ঞজনের আর ব্যাখ্যা করে দেখাবার প্রয়োজন নেই। যে কেহ অতি সহজে অবশ্যই বুঝে নিতে কষ্ট হবার কথা নয়। আরো তদন্ত করলে যে বের হবে না তা কি নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যাবে? শুধু শিক্ষকদের কথা নয়। দেশের প্রতিটি সেক্টরে অনুরুপ দায়িত্বহীনতার ভুরিভুরি প্রমাণ মিলবে। দু’একজনের জন্য কেন হবে ঐ সমাজ কলঙ্কিত?
যে কোন কাজে ব্যক্তির চারিত্রিক সংশোধন সর্বাগ্রে প্রয়োজন। ব্যক্তি সংশোধিত না হলে সামগ্রিক কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন অসম্ভব। আবার ব্যক্তি সংশোধিত হলেই চলবে না। প্রয়োজন সমষ্টি। কারণ পৃথিবীর কোন কিছুই সংঘবদ্ধ ব্যবস্থাপনা ব্যতিরেকে উন্নতির শিখরে পৌছতে পারে নাই, পারবে না। সুতরাং সম্মিলিত শক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তারপরও কথা থেকে যায়। কোন কিছুতেই কিছু হবে না। যতক্ষণ মানুষকে সঠিক অর্থে সঠিক মানবতা, নৈতিক গুণাবলী সমৃদ্ধ ও মানবিক মানুষ বানানো যাবে না। এ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুষ, দুর্নীতি মারাত্মক ব্যাধি রূপে আক্রান্ত সমাজ।এ থেকে পরিত্রাণের আবশ্যকতা অত্যন্ত জরুরী। নৈতিকতা ছাড়া যেমন কেহ ভাল হতে পারেন না,তদ্রুপ মানবিক এবং সামাজিক মুল্যবোধের অভাবে পূর্ণতায় আসা সম্ভব নয়। মুল্যবোধের অবক্ষয় যাতে না ঘটে সেদিকে আমাদেরকে সজাগ, সুদৃষ্টি ও লক্ষ্য রাখতেই হবে। তাহলে হয়ত আমরা পেতে পারি সুন্দর ও সঠিক সমাজ ব্যবস্থা। পরিশেষে এ প্রত্যাশা সর্বাত্মকরণে প্রতিটি ক্ষেত্রে অবক্ষয় থেকে উটে আসার। তথা দায়িত্বশীল, কর্তব্যপরায়ণ ও নৈতিকতাবোধে কাজ করার, দায়িত্ব পালন করার।তা না হলে কবির ভাষায় বলতে হবে আক্ষেপের সুরে, “রাত পোহাবার কত দেরী, পাঞ্জেরী”।

 জানুয়ারী ২০২৩ ।। মতামত ।। সূচীপত্র

 

কবিতাঃ সাহেব সেখ

মুর্শিদাবাদ, পঃ বাংলা

 জানুয়ারী ২০২৩ ।। মতামত ।। সূচীপত্র

essaylogo1.jpg

আমি দিয়াছি মোক তোমারে


মি দিয়াছি মোক তোমারে,
আমি দিয়াছি দুহাত ভরে।
আমি পেয়েছি তোমারি দর্শন,
মনেরও অন্দরে, মনেরও অন্দরে।

অশ্রুসজল নয়নে,
চেয়ে রয়েছি গগনে।
আমি একা এই মহাপাবনে,
পুড়িতেছি ক্ষণে ক্ষণে।

আমি দিয়াছি মোক তোমারে,
আমি দিয়াছি দুহাত ভরে।
আমি পেয়েছি তোমারি দর্শন,
মনেরও অন্দরে, মনেরও অন্দরে।

প্রেমেরও আগুনে পুড়ে,

প্রভু কাঁদে মাঝি কাঁদে।

দাঁড় যে চলে যায় বয়ে,

দূর থেকে দূরে, দূর থেকে দূরে।

আমি দিয়াছি মোক তোমারে,
আমি দিয়াছি দুহাত ভরে।
আমি পেয়েছি তোমারি দর্শন,
মনেরও অন্দরে, মনেরও অন্দরে।

বাগান শূন্য করে,
ফুল যায় মালিকের সঙ্গে।
মালী তুই ফেলিস অশ্রু ওরে,
কেউ নেই পৃথিবীতে, কেউ নেই পৃথিবীতে।

আমি দিয়াছি মোক তোমারে,
আমি দিয়াছি দুহাত ভরে।
আমি পেয়েছি তোমারি দর্শন,
মনেরও অন্দরে, মনেরও অন্দরে।

 জানুয়ারী ২০২৩ ।। মতামত ।। সূচীপত্র

 

 কবিতাঃ সুকান্ত পাল

জিতপুর, মুর্শিদাবাদ

তোর জন্য

সারাদিন মন করে উড়ু উড়ু সেই তো তোরই জন্য
এলো চুল মেলে টোল ফেলে গালে হাসলেই তুই অনন্য। 
তোর জন্যই শব্দ চয়ন স্বপ্নেও খুঁজি তোকে
স্বপ্নেই দিই চুম্বন এঁকে তোর ঠোঁটে গালে চোখে। 
শুধু একবার আড়চোখে তুই চাইলেই আমি ধন্য
সারাদিন মন করে উড়ু উড়ু সেই তো তোরই জন্য। 


পড়ার টেবিলে আনমন আমি সেও তো তোরই জন্য
তোকে মন দিতে এতটুকু আমি করিনিকো কার্পণ্য। 
সাইরেন বাজে বুকেতে আমার নিশ্বাসে  নিকোটিন
ক্যানভাস জুড়ে একটাই ছবি আঁকি আমি সারাদিন। 
তোর পিছে পিছে স্টীমবোট আমি নাই কাজ কিছু অন্য
ফাঁকি দিই ক্লাস আমি বারোমাস সেও তো তোরই জন্য। 

গীতিকবিতাঃতোমার দান

যে কর্মভার করেছো দান করতে যেন পারি

কর্মমুখর এই যে ভুবন সবই তো তোমারি। 

         দাও হে শক্তি মনের মাঝে

           সদাই যেন থাকি কাজে

তোমার দেওয়া কর্মে যেন না হই অহংকারী 

যে কর্মভার করেছো দান করতে যেন পারি। 

 

তোমার কাজের যোগ্য করে

        নাও না তুমি আমায় গড়ে—

তোমার কর্মযজ্ঞে যেন সামিল  হতে পারি

যে কর্মভার করেছো দান করতে যেন পারি। 

 

ভুবনভরা সৃষ্টি তোমার সারি সারি

বিশ্বময় কর্ম তোমার রকমারি 

তোমার আশিষ ইচ্ছা বিনা করতে কিছুই নারি

যে কর্মভার করেছো দান করতে যেন পারি। 

কামনাবহ্নি

প্রেম নয়, প্রেম নাই— মনে হয় ভুল
শুধু ভালোবাসি আমি কামনার ফুল। 
আকাঙ্ক্ষার ধন তুমি, উদগ্র বাসনার
দেহহীন প্রেম কভু ছিল না আমার। 
নীল চাঁদ জোছনায় নীল নদীকূল
নীল রাত নির্জনে কামিনী মুকুল
ছড়াক সুরভি তার চঞ্চলি প্রাণ
প্রতি রাতে পাই যেন তারই আঘ্রাণ। 
অমৃত সুধারস দেহভান্ড ভরে
আকন্ঠ করি পান তৃষিত অন্তরে। 
চাই না বৈরাগ্য সাধন মোক্ষ মুক্তি আর
জ্বলুক জ্বলুক শিখা বহ্নি কামনার।

 জানুয়ারী ২০২৩ ।। মতামত ।। সূচীপত্র

 

 কবিতাঃ রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়

উত্তরপাড়া, হুগলী, পঃ বাংলা

নারী

 

পুরুষ তুমি যতই মারো,

মরবো কিন্তু লড়বো আরো৷

বুটের নিচে দাবিয়ে রেখে,

পারবেনা কো দমিয়ে রেখে৷

পুরুষ তুমি যতই মারো,

মরবো কিন্তু লড়বো আরো৷

যতই তুমি শাসিয়ে রাখো,

জন্ম দেবো লাখো লাখো৷

পুরুষ তুমি যতই বাড়ো,

জন্ম নাহি দিতে পারো৷

ধর্ষণের বর্ষণেতে যতই ভাবো জিতলে তুমি,

নারী ছাড়া ধরিত্রী তো হবেই হবে মরুভূমি৷

দুর্বল বলে তকমা দিয়ে,

তাচ্ছিল্য তো করতেই পারো৷

পুরুষ তুমি যতই মারো,

লাখো নারী লড়বে আরো৷

পুরুষ তুমি যতই মারো,

সংঘবদ্ধ হচ্ছি আরো৷

মা-বোন বলে ভুলিয়ে রেখে,

পারবেনা কো থামিয়ে দিতে৷

মারবে গুলি ফাটবে খুলি,

যন্ত্রণাতো দিতেই পারো।

পুরুষ তুমি যতই মারো,

জেনে রেখো লড়বো আরো৷
 

ইরাবতী তোমাকে
 

রাবতী ইরাবতী পড়ে কি আমায় তোমার মনে
ফাল্গুনের দিবালোকে দেখা তোমার সনে
মনে পড়ে ফাগুন বেলায় অপূর্ব সেই আলো?
কিশোরীর কাজল আঁখি লেগেছিলো বড়ই ভালো
ইরাবতী ইরাবতী তুমি জীবন্ত নদী 
একবারটি দেখতে পাবো সুযোগ হয় যদি
ইরাবতী ফিরতে কি চাও ফেলে আসা দিনে?
স্মৃতি বড় বেদনার
ফিরে আসে ক্ষণে ক্ষণে
তোমার সাথে শেষ বার যদি দেখা করতে চাই 
জীবন যদি সুযোগ দেয় শেষের কথা বলব তাই 
ইরাবতী দুই দশক বাদে যদি তাকাও একবারটি ফিরে
ফিরে যাবো অতীত দেশে ফেলে আসা দিনের তীরে 
ফিরেবে না আর ফিরবে না যে বাসন্তী অতীত আমার
বয়েস বেড়ে দিনগুলো রোজ আজ ফ্যাকাসে ধুসর বারবার

d2dd669cd332f54bf7950a1155f0b079.jpg
Rajashri Bhattacharya.jpg

 জানুয়ারী ২০২৩ ।। মতামত ।। সূচীপত্র

 কবিতাঃ পার্থ সরকার

প্রতিষ্ঠা প্রতিদানের সংগ্রহশালার

নিঃসঙ্গ তারবার্তা 
ভেঙে পড়া শিশু 
পড়শি সন্দেহজনক যন্ত্রীর 
ব্যথার দিনে হাওয়া বদলের হাতছানি 
প্রতীক হারিয়ে ফেলে কেনাকাটার মুর্খামি 
আবদার পাতা ওলটানোর 

তবু 
প্রতিষ্ঠা 
প্রতিদানের সংগ্রহশালার 
নামজাদা শৃঙ্খলের 
পুনশ্চ কলাকৌশলের 
কেউ ছাড়তে রাজি নয় বিবিধ জমি 
পৃথিবী জানে ছিঁড়ে যায় একাকার বাঁধনে 
প্রসাদের দাবী 

আবিষ্কারের গোড়াতেই আইনঅমান্য আন্দোলন 
শূন্য কাহিনী নিস্তরঙ্গ। 

women.jpg
 

 জানুয়ারী ২০২৩ ।। মতামত ।। সূচীপত্র

 কবিতাঃ নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি

এলোমেলো

দৃশ্যটা এখন পেপার ওয়েট

চশমা ব্যতিত আর কিছু নেই কাছে।

 

এলোমেলো হাওয়া চাপা পড়ে থাক

কাগজের স্তুপ খোলা চোখ 

কাছটাকে বেশ ভালো দেখে।

 

দূরে দেখার ইচ্ছে নেই

ঘটে কম, তার বেশিটাই রটে।

 

হাতের কাছে কলম কালি

দোয়াত গিয়েছি ভুলে -----

চাপা পড়া কথাদের মতো

বেহিসেবে --------

 

খালি চোখ দেখছে ভালো 

বিশ্বাস গুটিসুটি বুকের ভেতর

গুনগুন বাজে ----- বেঁচে থাক

বেজে যাক্ কুয়াশার এই রোদে!

art1.jpg
 
Narayan Mistry.jpg
 

গল্প

মাতাল

কৃষ্ণতরু বর্মন

ডালাস, টেক্সাস

thief.jpg

 জানুয়ারী ২০২৩ ।। মতামত ।। সূচীপত্র

মাতাল। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি খুবই পরিচিত শব্দ। জড়িয়ে আছে হাজার রকমের নানান কাহিনী। কোনটা মজার, আবার কোনটার আড়ালে থেকে যায় এক কঠিন বাস্তব। আর সব কাহিনীই যে সব সময় খুব মজার হয় তা কিন্তু নয়।
বড় হয়েছি দক্ষিণ কলকাতার কাছাকাছি। তখনকার দিনে এখনকার মত অত কংক্রিটের জঙ্গল ছিল না। বেশ ফাঁকা ফাঁকা জায়গা জুড়ে বাগান সমেত সব বাড়ি। মস্ত খেলার মাঠ পেরিয়ে আম, জাম আর সবেদার বাগান। পুরোনো আমলের কিছু বাড়ি, একটা মন্দিরও চোখে পড়ত। বেশ নির্জন ছিল চারপাশ। গাড়ি-ঘোড়ার দৈনন্দিন যানজট, অহেতুক ঝুটঝামেলা, মানুষের ভিড় এসব একেবারেই ছিল না। খোলা পরিবেশে সবুজ রঙটা তখনও বেঁচে, আকাশ ছিল গাঢ় নীল। শীতের ভোরে দূর্বাঘাসের মাথায় শিশিরের স্নিগ্ধতা টাটকা থাকত অনেকক্ষণ। প্রকৃতির সবুজ কোলে মাথা রেখে খোলা আকাশের নিচে একেবারে নির্ঝঞ্ঝাটে আমাদের বড় হওয়া। প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা ছিল অনেক। আজ হয়ত আর পাওয়া যায় না। সে যাই হোক, তখনকার দিনেও এই অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যেই কেউ কেউ আবার সন্ধ্যা গড়াতে না গড়াতেই একটু আধটু খেয়ে রাস্তা চওড়া করে বেড়াতেন। কথাবার্তা একটু আধটু লাগামছাড়া হলেও ওদের নিয়ে আমাদের যে একটা বিশাল ঝামেলায় পড়তে হত তা কিন্তু নয়। পাড়াতে উৎপ