আলাপ

এই মুহুর্তে কলকাতা তথা বাংলার এক অত্যন্ত প্রতিভাবান তরুণ সঙ্গীত শিল্পী গৌরব সরকারের একটি খোলামেলা, প্রাণবন্ত সাক্ষাৎকার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। 

কিছুদিন আগেই সময় কাটল ওর বাড়িতে। সময় কাটল হাসি ঠাট্টা আর গল্পের মধ্যে দিয়ে, জানা গেল বেশ কিছু অজানা তথ্য। অতুলনীয় আতিথেয়তার পাশাপাশি ভরে উঠল আমার তথ্যে-ভান্ডার। আশা করি মাধুকরীর সকল পাঠকদের ভাল লাগবে এই সাক্ষাৎকারটি। 

এই মুহুর্তে গৌরব বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল নির্মাতা জি বাংলার "সা রে গা মা পা তে" অংশগ্রহণ করেছেন। যারা নিয়মিত বাংলা দূরদর্শনের পর্দায়, জি বাংলার অন্দরমহলে নজর রাখছেন তাদের কাছে এ খবর আর অজানা নয়। মাধুকরীর তরফ থেকে গৌরবকে জানাই অভিনন্দন। ওর সাফল্য কামনা করি। 

সংগীত শিল্পী 

গৌরব সরকার

ছোটবেলা, স্কুল জীবন…

সেট্রাল কলকাতায় পার্ক সার্কাসেই আমার জন্ম ও ছোটবেলা কেটেছে। খুব ছোটবেলা মানে আড়াই বছর বয়স থেকেই গানের প্রতি একটা ভালবাসা জন্মে যায়। তার পিছনে আমার ঠাকুরমার অবদান রয়েছে।

আমার ঠাকুরমা রত্না সরকার সেই সময়ের একজন নামকরা শিল্পী ছিলেন। উনি হেমাঙ্গ বিশ্বাস, নির্মলেন্দু চৌধুরীর সঙ্গে গান গাইতেন। তাছাড়া অনেক ছায়াছবিতে, নাটকেও গান গেয়েছেন। সেই সুবাদেই ঠাকুরমার কাছে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আসতেন গান শেখার জন্য। এই গানের পরিবেশেই থাকতে থাকতে আমার গানের প্রতি একটা আগ্রহ জন্মায়। আমার ঠাকুরমার কাছে গান শেখা শুরু। খুব ক্যাজুয়ালভাবে একটা স্নেহের বাতাবরণের মধ্যেই দিয়েই আমার গান শেখা শুরু। ঠাকুরমার বাড়ি খুব কাছে থাকাতে আমার খুব মজা হত। ছুটির দিন সারাদিনই নানা মজা, গানের মধ্যেই কেটে যেত।

আমার পড়াশোনা শুরু হয় পার্কসার্কাসের মডার্ন স্কুলে। ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছি। তারপরে এগারো-বারো পড়েছি সংস্কৃত কলিজিয়েট স্কুলে। সেই ছোটবেলার স্কুলের মজাটা এখনও খুব মিস করি। তাই বছরে একবার না একবার স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের সাথে দেখা করি, সোসাল মিডিয়ার দৌলতে বন্ধুদের খুব পাশেই পেয়ে যাই। বাইরে কোথাও মিট করে প্রচুর গল্প গুজব এখনো করি। সেই ভালবাসাতে কিন্তু এখনও টান পড়ে নি। এখন খুব ইচ্ছে করে ছোট হয়ে আবার ঐ স্কুলে চলে যাই।

গানের শিক্ষাগুরু…

আমি ঠাকুমাকে নিয়েই শুরু করি। আধুনিক গানের পাশাপাশি ঠাকুমা নির্মলেন্দু চৌধুরীর সঙ্গে লোকগীতি গাইতেন। আবার তার পাশাপাশি হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সঙ্গে গাইবার সময় গণসংগীত গাইতেন। কাজেই বিভিন্ন রকমের গান ঠাকুমার সঙ্গে থাকতে থাকতে শুনেছি, পরে বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে নানা জোনের নানা সময়ের গানের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। ঠাকুমার কাছেই বেসিক গান মানে আধুনিক গান শেখা শুরু। কারোর কাছে গিয়ে যে আধুনিক গান শিখতাম তা কিন্তু নয়। ঠাকুমা কিছু কিছু গান শিখিয়ে দিতেন। কখনো বা কোন ক্যাসেটে গানটা শুনে ঠাকুমাকে গিয়ে শোনাতাম। এইভাবেই আধুনিক গানটা শুরু হয়। তাছাড়া আমি ঠাকুমার কাছে প্রচুর ফোক গানও শিখেছি। বিভধীরদ ধারার, বিভিন্ন ভাষার ফোক গান বলতে পারো। বিভিন্ন রাজ্যের বিহার, ওড়িষা, আসাম, পাঞ্জাব এদের নিজস্ব লোকগীতি, এদের স্টাইল। তাই সেই ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধারার গান শেখার আগ্রহ আমার খুবই ছিল। সব রকমেরই গান শুনতে খুব ভাল লাগত।

এরপর আমার যখন সাত-আট বছর বয়স আমি রাগ সঙ্গীত শিখতে আরম্ভ করি পন্ডিত আনন্দ গুপ্তার কাছে। প্রায় সাত বছর আমি শিখেছি ওনার কাছে। আমার ক্লাসিকাল বেসটা একদম ওনার হাতে তৈরী। খুবই যত্ন করে শিখিয়েছেন আমাকে। তারপর ধীরে ধীরে কিছু রিয়েলিটি শো-তে গান করা শুরু হয়। পন্ডিত আনন্দ গুপ্তার কাছে শেখা কালীন আমি আই টি সি সংগীত রিসার্চ অ্যাকাডেমীতে অডিশন দিয়ে স্কলারশিপ পাই এবং গান শেখা শুরু হয় পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে। ওখানে প্রায় তিন বছর আমি ওনার কাছে গান শিখি। তারপর এক রিয়েলিটি শোতে আমার সাথে আলাপ হয় একজন জনপ্রিয় কম্পোজার গৌতম ঘোষালের সঙ্গে। ঐ রিয়েলিটি শোতেই গ্রুইং চলাকালীন ওনার কাছেই আবার আমার গান শেখা শুরু। তখনই বুঝতে পারলাম যে শুধুমাত্র ক্ল্যাসিকাল গান শিখলেই হবে না, এর পাশাপাশি আমাকে আধুনিক গানটাও শিখতে হবে। মনে হয়েছিল গৌতমবাবুর কাছে আধুনিক গান গাওয়ার টেকনিকগুলো শিখে ফেলতে হবে। প্রায় আট-নয় বছর হয়ে গেছে আমার ওনার কাছে এই আধুনিক গান শেখার চর্চা। এর ফল্রে আমি অনেক কিছু ডিটেলস-এ শিখেছি ওনার কাছে। কিভাবে গাইতে হবে, গানের মানে বুঝে কোথায় থামতে হবে, কোন শব্দের ওপর দম নিতে হবে, গলার ভয়েস কেমন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি, নানান খুটিঁনাটি। ক্লাসিকাল রাগ সংগীতের ক্ষেত্রে একটা বন্দিশ যখন কেউ শুনতে বসেন তখন তিনি তার পারদর্শিতা, তার রাগের চলন, তিনি কি রকম সরগম করবেন, কি ভাবে সেটা বিস্তার করবেন এই বিষয়গুলি শোনেন। তাতে অনেক ভাবেই অনেক স্টাইলে গাওয়ায় যায়। আধুনিক গানের সময় সীমা কম থাকায় সুর, কথার গুরুত্ব অনেকটাই থেকে যায়। একজন শিল্পীর কাছে এই অল্প সময়ের মধ্যে গানটা ঠিক করে গাইতে পারছে কিনা সেটাই বড় কথা। সত্যি কথা বলতে কি গৌতমকাকুর কাছে গান শিখতে গিয়ে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। শুধু আমি নই অনেকেই আমারই মত ভীষনভাবে উপকৃত হয়েছেন। 

গজলের ক্ষেত্রে আমাকে গুলাম আলি, হরিহরনজী, জগজিৎ সিং ভীষনভাবে ছুঁয়ে যান। গজল, সুফিতে আমি আকৃষ্ট হয়েছি। মন্সুর ফতে আলি খানই প্রথম সুফি গান নিয়ে আসেন বলিউডে। সুফি গানের সঙ্গে পাকিস্তানের শিল্পীদের একটা আত্মিক যোগ রয়েছে। কাজেই আমার কিন্তু সবরকম গানই শিখতে বা গাইতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে একবার পাকিস্তান গিয়ে ওনাদের কাছে শিখে আসি, না হলেও এবার দেখা করে আশীর্বাদ নিয়ে আসি। 

কোন ধরনের গান  গাইতে  তুমি সবচেয়ে পছন্দ কর?

      সব রকম গান গাইলেও আমার কিন্তু নতুন বাংলা বা হিন্দী আধুনিক গান গাইতে খুব ভাল লাগে। তার কারণ নতুন কোন গানের কোন রেফারেন্স থাকে না, যেহেতু কেউই গানটা গান নি। যখন আমি গাইছি আমি দেখি আমি কতটা ভাল করে প্রেজেন্ট করতে পারছি। যখন কোন সুরকার কোন নতুন গান তা সিনেমার জন্যই হোক কিংবা অ্যালবাম, টেলি ফিল্ম, বা সিরিয়ালের জন্য গেয়ে শোনাচ্ছেন তখন দুটি জিনিষ আসে - ১) ঠিক ওনার মত গাওয়া বা ২) সুরকার বলে দিলেন এইভাবে গাও, কিংবা দেখ কিভাবে আরো ভাল করা যায়। দ্বিতীয়টাতে অনেক বেশী লিবার্টি থাকে তবে যেহেতু কিছু রেফারেন্স থাকে না, তাই এতে চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশী থাকে। গাইতে গিয়ে তখন ঠাকুরমা, গৌতমকাকুর কাছে শেখা গানের খুটিঁনাটি বিষয়গুলো খুবই কাজে লাগে। আমার এই নতুন গান তৈরীর ব্যাপারটা খুব ভাল লাগে। 

সাজদা বয়েজ এর কন্সেপ্ট...

২০১৩ সালে সুফি মিউজিক নিয়ে কাজ করার জন্য 'সাজদা বয়েজ' নামে এই সুফি গানের ব্যন্ডটা করা হয়। কারণ আমার মনে হয় সুফি গানের মধ্যে একটা দারুন অ্যাাপিল আছে। শ্রোতারাও খুব পছন্দ করেন। বলিউড, টলিউডের এই গানের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। পাকিস্তান থেকেও শিল্পীরা এসে গাইছেন। যেহেতু ছোটবেলা থেকে ফোক গান শিখেছ্‌ গেয়েছি তাই একটা শিকড়ের টান তো রয়েই গেছে। তাই ভাবছিলাম যদি সুফি গান নিয়ে যদি কিছু করা যায়। আমার কো আর্টিষ্ট কৌশিকদা (কৌশিক রায় চৌধুরী) আর একজন মিজশিয়ানকে নিয়ে 'সাজদা বয়েজ' শুরু করি। এখন আমাদের দলের ছয়জন সদস্য। ঠিক করলাম মেইনলি সুফি গাইবো, কিছু বলিউড, রেট্র থাকবে। সুফিই হবে আমাদের মেইন ফোকাস। এইভাবেই ছয়জন মিলে আমাদের প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল। আমাদের একটি নতুন সুফি গান আসছে। আমাদেরই কম্পোজ করা ও গাওয়া। মিউজিক ভিডিওটা খুব তাড়াতাড়ি আসছে।  আশাকরি তোমাদের ও খুব ভাল লাগবে। 

তোমার গানের অ্যালবাম?

ছোটবেলা থেকেই মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, লতা ম্যাঙ্গেশকার, আরতি মুখোপাধ্যায়, হৈমন্তী শুক্লা এনাদের গান শুনে বড় হয়েছি। তখন মনে হত যদি ওনাদের মত পুজোর সময় কিছু গান করার সুযোগ আসে কোনদিন। ২০১৫ সালে হঠাৎই সোসাল মিডিয়াতে খুব অদ্ভুতভাবে আলাপ হয় প্রদ্যুত মুখোপাধ্যায় বলে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে।উনি থাকেন সুদূর রাশিয়াতে। উনি বললেন - 'একটা নতুন গানের অ্যালবাম করতে চাই, তোমাকে দিয়ে গাওয়াতে চাই, কিভাবে শুরু করা যাবে'। তখন আমার গুরুজী গৌতম ঘোষালের সঙ্গে আলোচনা করে একটা পরিকল্পনা করা হল। কারা লিখবেন, সুর করবেন, কোন কম্পানীর সঙ্গে আমরা যাব, লে আউট কেমন হবে, সি ডির কভার কে করবে... ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর আমার "ডাকনাম" নামে অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়। আমি খুবই ভাগ্যবান যে এই অ্যালবামে সুর করেছিলেন রূপঙ্করদা, শ্রীকান্তকাকু (শ্রীকান্ত আচার্য্য), গৌতমকাকু, দেবগৌতমদা, সৌরিশদা। লিখেছিলেন গৌতমকাকু, অর্ণা কাকিমা (অর্ণা শীল), শ্রীজাতদা। সৌরিশদাও লিখেছিলেন একটি গান। আমার নিজেরও একটা কম্পোজিশন ছিল। 'ডাকনামের' গানগুলো অনেকেই পছন্দ করেছিলেন। এরপর ২০১৬ সালে আমার দ্বিতীয় অ্যালবাম রিলিজ করে। দিল্লীতে থাকতেন এক ভদ্রলোক, নাম কল্পকুমার ঘোষ, মেডিক্যাল ফিল্ডে আছেন।  উনি আমার গান শুনে উদ্যোগ নেন। সত্যি বলতে কি এই সময় বাংলা আধুনিক গান আমাকে দিয়ে কেউ করাবেন আমি তো কোন আশাই করি নি। কাজেই ওনাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই অ্যালবামেও কাজ করেছেন গৌতমকাকু। আরো বড় প্রাপ্তি ছিল যে আমি সৈকত কুন্ডু ও অমিত বন্দোপাধ্যায়, ওনাদের থেকে দুটি গান পেয়েছিলাম। বাংলা আধুনিক গানে এনাদের দুজনের হিট গান রয়েছে। 

সৈকত কুন্ডুর লেখা অনেক গানই রূপঙ্কর গেয়েছেন...

হ্যাঁ, সৈকতদার প্রচুর গান রূপঙ্করদার গলায়। আমি তো রূপঙ্করদার ডাই হার্ট ফ্যান। তাই অনেক অ্যালবাম যারা অনেকেই শোনেন নি, তা আমার কাছে আছে। তাই সৈকতদার লেখা আমার খুব পছন্দের, অমিতদার সুর খুব ভাল লাগত। আমার দ্বিতীয় অ্যালবামের নাম 'উড়ান'। এই অ্যালবামে অর্ঘ ব্যানার্জী নামে এক অল্প বয়সী ছেলে খুব সুন্দর কাজ করেছে। দারুন কম্পোজিশন করেছে। উড়ানের টাইটেল সং টা ওরই লেখা ওরই সুর করা। খুব সুন্দর পরিচ্ছন্ন কাজ। আর একজন হলেন অরুনাশীষ রায়। অরুনাশীষদা নিজেও একজন ভাল শিল্পী, গজল নিয়ে কাজ করেন। ওনার থেকে আমি একটা গান নিয়েছিলাম, লেখেছিলেন রাজীব চক্রবর্তী। রাজীবদা 'একলব্য' ব্যান্ডের জন্য প্রচুর গান লিখেছেন। রাজীবদা, টুনাইদা এক অসাধারণ জুটি। টুনাইদার সঙ্গে এখনো কাজ করা হয় নি। হয়ত পরের অ্যালবামে কাজ করব। সৌরিশদা কম্পোজ করলেন, আমার নিজেও গান ছিল। ভাল লাগল যে দ্বিতীয় অ্যালবামের গানগুলোও শ্রোতাদের ভাল লেগেছে। এই ভাবেই চলছে। আমার তো অ্যালবাম করার খুব ইচ্ছা, কিন্তু ফরম্যাটই যে চেঞ্জ হয়ে গেছে। ডিজিট্যাল মিডিয়াম এসে গেছে, সেই ছোটবেলার ক্যাসেট, সি ডির কন্সেপ্ট আর  এখন নেই। গোটা অ্যালবামটাই ইউটিউব বা কোন সোস্যাল মিডিয়াতে শুনে ফেলছে। কাজেই অ্যালবামটা একটা ডিজিট্যাল ফরম্যাটে ফেলে শ্রোতাদের কাছে পৌছে দিলে সেটাই ভাল হবে। ২০১৯ এ আবার একটা অ্যালবাম করার ইচ্ছা আছে। নতুন নতুন গান তো সারা বছর গাইতে থাকি, বিভিন্ন কম্পোজারদের গান। খুবই উপভোগ করি। 

বর্তমান বাংলা গানের জনপ্রিয়তা কি উর্দ্ধমুখী...

না, খুব একটা জনপ্রিয় বা উর্দ্ধমুখী তা বলতে পারছি না। পুরোনো গানের একটা আলাদা একটা জনপ্রিয়তা তো থাকেই। আর নতুন গানের ক্ষেত্রে একটা ভাবনা থেকেই যায় যে শ্রোতাদের ভাল লাগবে কিনা। পুরোনো গানের সুর তো কত ভাল হত, খুব সিম্পিল, স্পর্শ করে যেত। রাগাশ্রয়ী গানেরও কত সুন্দর সুর হত। যেমন ধর 'বারে বারে কে যেন ডাকে' কত সুন্দর একটা গান, তাতে রাগের ছোঁয়া তো আছে। কিংবা 'ঐ মৌসুমি মন' বা 'গগন মেঘের ছায়া ঘনায়'। রাগের গান হলেও কোথায় যেন একটা সারল্যতা রয়েছে। এখন গানের সুর সব যে খুব ভাল হচ্ছে তা আমি বলব না। কিছু গান ভাল হচ্ছে, কিন্তু সমস্যা থেকে যাচ্ছে গানের সঙ্গীত আয়োজনে। আগেকারদিনে কোন সুরকার গানের দায়িত্বটা সুর, অ্যারেঞ্জমেন্ট পুরোটাই নিজেই নিতেন। সেইক্ষেত্রে গানটা একটা পরিপূর্ণতা লাভ করছে। আধুনিক গানের ক্ষেত্রে সুরকাররা গানটা অ্যারেঞ্জমেন্ট করছেন না। কোন পছন্দের অ্যাারঞ্জারকে দিয়ে গানটা সাজানো হচ্ছে। তাতে আমার মনে হচ্ছে সুর আর অ্যারেঞ্জমেন্টের সঠিক মেলবন্ধন হচ্ছে না। ধর একটা ম্যান্ডোলিন বা ফ্লুট গানটার সঙ্গে যাচ্ছে কিনা সেটা না ভেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে কারণ ওগুলোকে চাই। বেশীরভাগ গানের ক্ষেত্রেই তাই হচ্ছে। অল্প কথায় সঠিক অ্যারেঞ্জমেন্টের অভাবে গানের সারল্যতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এটা শুধু বাংলা আধুনিক গানের ক্ষেত্রেই হচ্ছে তা নয় ব্যান্ডের গানেও সেই প্রবণতা লক্ষ্যনীয়। ফলে হিন্দী কিংবা বাংলা গানে পুরোনো দিনের লাইন বা সুর নিয়ে আসা হচ্ছে। পুরোনো গানের কিছুটা যদি নতুন গানের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া যায় তাহলে গানটা হয়ত জনপ্রিয় হয়ে যাবে এই ভেবেই এইসব করা হচ্ছে। তবে আমার মনে হয় নিজেদের কথা, সুর, অরিজিনালিটি রাখাটাই ভাল। বাংলা গানের কথা, এখন অনেক আধুনিক হয়েছে, মনে হয় অ্যারেঞ্জমেন্টের ব্যাপারটা একটু আধুনিক হলে গানটা অনেক শ্রুতিমধুর হবে। 

বাংলা নতুন আধুনিক বা ব্যান্ডের গান যাই বল না কেন, মানুষের কাছে কি পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে...।

মনে তো হয় না। সমস্যা তো ওখানেই। নতুন বাংলা গানগুলোকে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেবার দরজাগুলো কিন্তু সব বন্ধ।  

রেডিও বা টেলিভিশনের দায়বদ্ধতাকে তুমি কি এড়াতে পার বাংলা গানকে জনপ্রিয় করে তোলার পিছনে...

ডেফিনেটলি রেডিও একটা বড় ভূমিকা নিয়ে ছিল বাংলা গানকে জনপ্রিয় করে তোলার পিছনে। সেই পুরোনো দিন থেকেই ধরো না, যখন দুটো মাত্র গান থাকত রেকর্ড

"একটা নতুন বাংলা গানের স্লট আসুক, স্ক্রিনিং হোক, অডিশন হোক। যে গানগুলো ভালো সেই গানগুলোই রাখা হোক, কিন্তু রেডিও - টিভিতে নতুন গান শোনানো হোক। কারণ সবাই তো আর ছবির গান গায় না। তাদের গান কি কেউ শুনতে পাবে না। তাহলে সেইসব শিল্পী, সুরকার, গীতিকার রা কোথায় যাবে। "

    - গৌরব সরকার 

প্লেয়ারে, তখন থেকেই রেডিওতে পুজোর গান বাজত। গুরুজনদের মুখেই শুনেছি তারা অপেক্ষা করতেন - মান্না দে, লতা ম্যাঙ্গেশকারের কোন কোন গান আসছে। কয়েকবার শুনেই তারা মনে করতে পারতেন, গাইতেন। এখনকার মত তো আর ওনাদের অপশন ছিল না। আজ আমরা যেখান থেকে খুশি যখন খুশি গান শুনতে পারছি। ঐ সময় গান শোনার প্রতি মানুষের তাগিদটা এক অন্যরকমের গুরুত্ব পেত। রেডিও থেকে বিষয়টা এবার এফ এম এ এল। কবীর সুমন, লোপাদি, রূপঙ্করদা, রাঘবদা, শ্রীকান্ত কাকু, আরও অনেক শিল্পীর গান আমি শুনতাম কিন্তু ঐ এফ এম থেকেই। তখন টেলিভিশনেও খুব একটা পেতাম না। এফ এম এই ওনারদের গান শুনতাম। মনে আছে আমি ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটে গানটা রেকর্ড করে নিয়ে, গানটা লিখে নিয়ে ক্যাসেটের দোকানে গিয়ে কিনে নিতাম। রেকর্ডিংটা খুব একটা ভাল হত না। তাহলেই ভেবে দেখ এফ এমের একটা বিশাল বড় ভূমিকা রয়েছে। একটা নামও করতে চাই্ আমি এ ব্যাপারে শিল্পী শমীক সিনহা। শমীকদার রেডিও স্টেশনে নতুন গানকে জনপ্রিয় করার পিছনে অনেক অবদান রয়েছে। নামী শিল্পীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জনপ্রিয় করে তোলার পিছনে শমীকদার হাত রয়েছে। বর্তমান সময়ে নতুন গানের জন্য কোন জায়গা নেই। নতুন গান তো শোনানোই হয় না বললে চলে। যা চলছে বাংলা সিনেমার গান, ভাল হোক খারাপ হোক চালানো হয়। আমাদের গান বাদ দাও আমাদের আগের প্রজন্ম শ্রীকান্তকাকু, রূপঙ্করদা, রাঘবদা, লোপাদি এনাদের গানও শোনানো হচ্ছে না। হলেও হয়ত খুব কম। 

তোমার কি মনে হয় কেন এমন হল...

আগে তো হত, এখন আর হয় না। আসলে ছবিতে প্রচুর পয়সা, প্রায়রিটি তাই ছবির গানগুলিই পায়। তাই তারা বিভিন্ন স্লট কিনে রেখেছেন ছায়াছবির গানের।  একটা গানই তুমি বারবার শুনতে পাবে। বলিউডের গানও প্রচুর শোনানো হচ্ছে। কাজেই বাংলা নতুন গানের ফান্ডিং কোথায়। একটা অ্যালবাম করে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে এফ এমকে দেওয়ার মত সামর্থ তাদের নেই। আগেকার দিনে তো এমনিই গানটা বাজানো হত। এইদিকটাতে সরকার বা সকলেরই একটু এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে হয়। একটা নতুন বাংলা গানের স্লট আসুক, স্ক্রিনিং হোক, অডিশন হোক। যে গানগুলো ভালো সেই গানগুলোই রাখা হোক, কিন্তু নতুন গান শোনানো হোক। কারণ সবাই তো আর ছবির গান গায় না। তাদের গান কি কেউ শুনতে পাবে না। তাহলে সেইসব শিল্পী, সুরকার, গীতিকাররা কোথায় যাবে। 

শিল্পী , সুরকারদের  সঙ্গে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা...

অমিত বন্দোপাধ্যায়ের সুরে ছোটবেলায় অনেক গান গেয়েছি। কিন্তু এখন যখন উড়ানের জন্য অমিতদার সুরে গাইলাম তখন বেশ মজা লাগল। ছোটবেলায় মেয়েদের মত গলায় ঐ গানগুলো গেয়েছি, আর এখন গলার পরিবর্তনেই নিজেরই মজা লাগে।  

একবার শ্রীকান্তকাকু (শ্রীকান্ত আচার্য্য)র বাড়িতে গেছি ওনার কম্পোজিশনে গাইব বলে। তা উনি দেখে শুনে বললেন ঠিক আছে তোর এই স্কেলে আমি করে নেব। আবার ডাকলেন পরে। তবে একটা কথা বলে রাখি শ্রীকান্তদা কিন্তু ভীষন দেরী করেন গান দিতে। যদি পরের বছর প্ল্যান থাকে তো এই বছর বলে রাখি তবেই আমি পাবো (হাসি)... তারপর একদিন আমাকে ডেকে কাকু বলল দেখ তো সুরটা এইরকম বানিয়েছি, গা তো। আমি তো গাইলাম। সেটা ছিল পুজোর আগে। প্রথম অ্যালবামের ক্ষেত্রে 'ডাকনামে'। কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ তেই পুজোর আগে, তাড়াহুড়ো করে আর ২০১৪ এ রিলিজ না করে ২০১৫ এই করি। পরে গিয়ে শুনলাম সেই সুরটা নেই, একটা সম্পূর্ণ অন্য নতুন একটা গান। শ্রীকান্তদা বলল - না রে ওটা ভাল হয় নি। এইটা ভাল লাগছে। সত্যি খুব ভাল গান। তারপর স্টুডিওতে রেকর্ডিং এ শ্রীকান্তদার ভাল লাগার উচ্ছাস দেখে এত ভাল লেগেছিল যে কি বলব। দু একটা জায়গা উনি বলে দিলেন এই রকম উচ্চারণ কর। এত সুন্দর সহজ করে বলে দিলেন সেটা একটা দারুন ব্যাপার।  এত বড় একজন মানুষ, ওনার ভাল লাগাটাই আমার কাছে এক বিশাল ব্যাপার। 

গ্রাম কেন্দ্রিক শ্রোতা ও শহরের শ্রোতারদের  মধ্যে কোন তফাৎ ধরা পড়ে...

হ্যাঁ, তফাৎ তো থাকেই। এখন যদি বল কলকাতায় শ্রোতা যেরকম আগে পেতাম এখন আর পাই না। আগে যেমন কলকাতায় প্রোগ্রাম করে আনন্দ পেতাম সেটার কোথায় যেন একটা ঘাটতি নজরে পড়ছে। যেহেতু গান খুবই সহজলভ্য ওদের কাছে, গান শোনার অভ্যাসটাও আর নেই মনে হচ্ছে। একটা নতুন গান শোনালে বলছে এটা তো চেনা গান না। তারপর একটা জনপ্রিয় গান শোনালেই তারা খুশি হয়ে যাচ্ছেন। খারাপ লাগছে যে ভাল গানের ঘরানা থেকে সরে গিয়ে বাজারের চলতি গান শুনতে চাইছে। আমি সেগুলোও গাইছি, আমার কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু অডিয়েন্সের ভাল গান শোনার কোয়ালিটি যেন কম পাচ্ছি আগের তুলনায়। কিছু কিছু জায়গায় খুবই ভাল লাগে। অনেক ভাল গান গাইতে পারি। গ্রাম বা মফঃস্বলে কিন্তু গান শোনার অভ্যাসটা অনেকটাই উল্লেখযোগ্য মনে হয়েছে। ওনারা ভাল গানের পাশাপাশি বাজারের চটজলদি গান দুটোই কিন্তু খুব সুন্দরভাবে আডপ্ট করেন। যদিও গ্রাম বা শহর যাই বল না কেন, শ্রোতাদের মধ্যে ভাল-মন্দ গান শোনার অভ্যাস রয়েছে বলতে দ্বিধা নেই যে ভাল গান শোনার অভ্যাসটা গ্রাম বা মফঃস্বলের লোকের মধ্যেই বেশী। 

শিল্পী , সুরকারদের  সঙ্গে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা...

অমিত বন্দোপাধ্যায়ের সুরে ছোটবেলায় অনেক গান গেয়েছি। কিন্তু এখন যখন উড়ানের জন্য অমিতদার সুরে গাইলাম তখন বেশ মজা লাগল। ছোটবেলায় মেয়েদের মত গলায় ঐ গানগুলো গেয়েছি, আর এখন গলার পরিবর্তনেই নিজেরই মজা লাগে।  

একবার শ্রীকান্তকাকুর (শ্রীকান্ত আচার্য্য) বাড়িতে গেছি ওনার কম্পোজিশনে গাইব বলে। তা উনি দেখে শুনে বললেন - 'ঠিক আছে তোর এই স্কেলে আমি করে নেব'। তারপর আবার একদিন ডাকলেন। একটা কথা বলে রাখি শ্রীকান্তদা কিন্তু ভীষন দেরী করেন গান দিতে। যদি পরের বছর প্ল্যান থাকে তো এই বছর বলে রাখি তবেই আমি পাবো (হাসি)... আমাকে ডেকে কাকু বললেন - 'দেখ তো সুরটা এইরকম বানিয়েছি, গা তো'। আমি তো গাইলাম। সেটা ছিল পুজোর আগে। প্রথম অ্যালবামের 'ডাকনাম' কাজ করার সময়।কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪তেই পুজোর আগে, কিন্তু তাড়াহুড়ো না করে রিলিজ  ২০১৫তে করি। পরে গিয়ে শুনলাম সেই সুরটা আর নেই, একটা সম্পূর্ণ নতুন একটা সুর। শ্রীকান্তকাকু বললেন - 'না রে, ওটা ভাল হয় নি, বুঝলি। এইটা ভাল লাগছে, এটাই গা'। গেয়ে দেখলাম সত্যিই খুব ভাল গান। তারপর স্টুডিওতে রেকর্ডিং এর দিন কাকুর ভাল লাগার উচ্ছাস দেখে এত ভাল লেগেছিল যে কি বলব। দু একটা জায়গা উনি বলে দিলেন এই রকম ভাবে উচ্চারণ কর। এত সুন্দর সহজ করে বলে দিলেন সেটা আমার কাছে একটা দারুন ব্যাপার।  এত বড় একজন মানুষ, ওনার ভাল লাগাটাই আমার কাছে এক বিশাল ব্যাপার। 

গ্রাম কেন্দ্রিক শ্রোতা ও শহরের শ্রোতারদের  মধ্যে কোন তফাৎ ধরা পড়ে...

হ্যাঁ, তফাৎ তো থাকেই। কলকাতায় শ্রোতা যেরকম আগে পেতাম এখন আর পাই না। আগে কলকাতায় প্রোগ্রাম করে আনন্দ পেতাম সেটার কোথায় যেন একটা ঘাটতি ল,এ  আসছে। যেহেতু গান খুবই সহজলভ্য ওদের কাছে, গান শোনার অভ্যাসটাও আর নেই মনে হচ্ছে। একটা নতুন গান শোনালে বলছে এটা তো চেনা গান না। তারপর একটা জনপ্রিয় গান শোনালেই তারা খুশি হয়ে যাচ্ছেন। খারাপ লাগছে যে অনেকেই ভাল গানের ঘরানা থেকে সরে গিয়ে বাজারের চলতি গান শুনতে চাইছে। আমি সেগুলোও গাইছি, আমার কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু অডিয়েন্সের ভাল গান শোনার কোয়ালিটি যেন কম পাচ্ছি আগের তুলনায়। কিছু কিছু জায়গায় খুবই ভাল লাগে। অনেক ভাল গান গাইতে পারি। গ্রাম বা মফঃস্বলে কিন্তু গান শোনার অভ্যাসটা অনেকটাই উল্লেখযোগ্য মনে হয়েছে। ওনারা ভাল গানের পাশাপাশি বাজারের চটজলদি গান দুটোই কিন্তু খুব সুন্দরভাবে আডপ্ট করেন। যদিও গ্রাম বা শহর যাই বলো না কেন, শ্রোতাদের মধ্যে ভাল-মন্দ দুটো গানই শোনার অভ্যাস রয়েছে। তবে বলতে দ্বিধা নেই যে ভাল গান শোনার অভ্যাসটা গ্রাম বা মফঃস্বলের লোকের মধ্যেই বেশী। 

বাঙালি শ্রোতা - এলিট গ্রুপ। 

আমি দুভাবে বলি। একটা হল কলকাতার মধ্যে বিভিন্ন এলিট জায়গায় গিয়ে গান আর দুই হল দেশে মধ্যে বা দেশের বাইরে। কলকাতার আসেপাশে বেশীরভাগ আর্টিষ্টই  থাকেন বলে কলকাতার লোকজনের গান শোনা বা প্রোগ্রাম দেখার সুযোগ সুবিধা অনেক বেশী। শহর ছেড়ে আমরা যতই দূরে যাই, ততই নতুন গানের খবর রাখা ওখানকার শ্রোতাদের পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ নতুন গানের তো কোন প্রচার নেই।  রাজ্যের বাইরে যখন আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাই তখন সেখানে সি ডি বা রেকর্ডের দোকান তো ছেড়েই দাও, সেখানে হয়ত এত অনুষ্ঠানই হয় না। সেখানে বছরের কোন একটি নির্দিষ্ট দিনে, কোন অনুষ্ঠানে এই গান প্রচারের সুযোগ হয়। আর দেশের বাইরে তো কোন এক নির্দিষ্ট দিনে কোন এক শহরে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। কাজেই সেখানে গান পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন। 

বিদেশে শিল্পীদের গুরুত্ব আরো বেশী যে এক শিল্পী এক শহরে হয়ত গান গাইতে একবারই গেছেন। তাই স্বশরীরে তার গান শোনার অভিজ্ঞতা কেউই মিস করতে চান না। কলকাতার এলিট ক্লাবে যখন বাঙালি শ্রোতারা আসেন তাদের বেশীরভাগটাই হয়য় আড্ডা, গান শোনার ইচ্ছা বা তাগিদটা অনেক কম। কারণ বছরে একই শিল্পীকে তারা বারবার দেখে আসছেন, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন শোতে। দেশের মধ্যে অন্যান্য রাজ্যে বা দেশের বাইরে যারা থাকেন তারা গানটা খুব সিরিয়াসলি শোনেন। কাজেই রাজ্যের বাইরে দেশেই হোক বা বিদেশে গান গেয়ে অনেক আনন্দ পাই। অনেক ভাল গানের অনুরোধ আসে। 

ভবিষ্যতের ভাবনা...

খুব যে ভাবছি, তা কিন্তু নয়। যেমন চলছে চলুক। ভাল কাজ করার ইচ্ছা আছে, আরো ভাল গান গাইবার ইচ্ছা আছে। যে সমস্ত কম্পোজারদের সঙ্গে কাজ করিনি তাদের সঙ্গে কাজ করার, নিজেও কিছু কম্পোজিশন করার ইচ্ছা আছে। আমার সুরে আমার কিছু পছন্দের কিছু শিল্পীকে দিয়ে গাওয়াবার স্বপ্ন আছে। নতুন বাংলা বা হিন্দী গানের কাজটা আমি চালিয়ে যাব সেটা বলতে পারি।  

বাংলা ছায়াছবি...

নতুন কিছু ছায়াছবিতে গান গাওয়ার সুযোগও হচ্ছে। খুব যে বড় ব্যানারের ছবি তা কিন্তু নয়। তবে সব রকমই পাচ্ছি। তারপর কম নামী সুরকাররা যখন আমাকে দিয়ে গাওয়াচ্ছেন তাতে অনেক গুরুত্ব পাচ্ছি, সেটা আমার খুবই ভাল লাগছে। অনেক নামী সুরকাররা কাউকে ভেবে সুর করেন না। সেক্ষেত্রে অনামী সুরকাররাই আমার কথা ভেবে গানটা বানাচ্ছেন। নতুন গান তো আছেই, তারপর সুফি নিয়ে আগামী দিনেও চালিয়ে যাব বলে তো মনে হয়। 

তোমার পছন্দের বাংলা ও হিন্দী -শিল্পী ও সুরকার...

এত কঠিন প্রশ্ন করলে তুমি... (হাসি)।       

বাংলা গানের পছন্দের সুরকার - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষাল, নচিকেতা ঘোষ, রাহুল দেব বর্মন, সলিল চৌধুরী।   

পছন্দের গায়ক - মান্না দে, শ্যামল মিত্র, রূপঙ্করদা, শ্রীকান্ত আচার্য্য, জয়তিদি, শুভমিতা দি। 

হিন্দীতে কম্পোজারদের মধ্যে আর-ডি-বর্মন, মদনমোহন, শঙ্কর এহেশন লয়, অমিত ত্রিবেদী, এ আর রহমান।

শিম্পী বলতে হরিহরণ, লতা ম্যাঙ্গেশকার, মহঃ রফি, জগজিত সিং, আশা ভোঁসলে, শঙ্কর মহাদেবন, সনু নিগম, কে কে, শান, উদিত নারায়ণ। আর অরিজিৎ সিং। অরিজিৎ একজন অসাধারণ দক্ষ এক শিল্পী। এখন যারা গান গাইছেন তারা অরিজিৎ-এর ধারে কাছে কেউ নেই। 

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?