বিশেষ প্রতিবেদন

করোনার কবলে ইউরোপ – নেদারল্যান্ডেসের চিঠি

শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য, নেদারল্যান্ড

কোলকাতায় জন্ম আর বড়ো হওয়া। যাদবপুর থেকে বিদ্যুৎ বিভাগে এঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরী জীবন শুরু। তারপর বিয়ে আর কিছুদিন বাঙ্গালরে বাস। ওখান থেকেই নতুন চাকরী নিয়ে  সপরিবারে বিদেশের মাটিতে পাড়ি। প্রায় দু’দশক ছুঁতে গেল হল্যান্ডে বাস। পরদেশে এসে নতুন ভাষা, সংস্কৃতি, মানুষজন, উচ্চশিক্ষা, চাকরী, সংসার সবকিছু মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেকটা সময় চলে গেল। তবে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘোরা হয়েছে অনেক দেশ। তাই ভ্রমণের গল্প লেখার ভাবনাটা হঠাৎই মাথায় এলো। আজকাল ইন্টারনেটের যুগ, নিজের ভাবনাগুলো লেখার আর অন্য মানুষের কাছে সহজে পৌঁছিয়ে দেবার একটা খুব ভালো জায়গা আছে। তাই চাকরীর ফাঁকে ফাঁকে অনেকদিনের এই সুপ্ত বাসনাটাকে একটু জাগিয়ে তোলার প্রচেষ্টা যাতে মন আর মস্তিষ্ক দু’ই নবীন আর প্রফুল্ল থাকে।

      ডাচল্যান্ডের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা আশাপ্রদ নয়। এই ১৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশে এরই মধ্যে অন্তত ৩৭০০ লোক প্রাণ হারিয়েছে, আর ৩৩,০০০ এর বেশী সংক্রামিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে (পরিসংখ্যান- ২০ এপ্রিল, ২০২০)। আর প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে এই সংখ্যাগুলো। মার্চে ঘোষিত তিন সপ্তাহের ‘ইনটেলিজেন্ট লকডাউন’ এর সময়সীমা এই মুহূর্তে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে।

ইউরোপের ট্যুরিস্ট স্পটের বর্তমান লকডাউন সময়ের স্বাভাবিক চিত্র

    গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শোনা যায় “করোনা” ওরফে “COVID-19” ভাইরাল ফিভারের কথা। এই জ্বরের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো হলেও, ঐ ভাইরাস দুর্বল শরীরে প্রবেশ করলে আক্রমন করে আমাদের ফুসফুসকে এবং কালক্রমে শরীরের অন্য ভাইটাল অরগ্যানকেও। তাই অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আক্রান্ত মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে কাবু হয়ে আগ্রাসী মৃত্যুর শিকার হতে পারে। নতুন বছর ২০২০ শুরু হতে না হতেই করোনার কালো ছায়া চলে এলো এশিয়া মহাদেশ পার করে ইউরোপের বুকে।

     জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ইটালির উত্তরের দিকে অবস্থিত লোম্বারডি নামের অঞ্চলটিতে প্রথম শোনা যায় করোনা ভাইরাসের খবর। প্রতি বছর শীতের সময় পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা প্রচুর মানুষ আসে আল্পস পর্বতমালায় স্কি করতে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চলাফেরার সুবিধার জন্যেই অনতিবিলম্বে করোনার ছায়া ছড়িয়ে পড়লো ইউরোপের বিভিন্ন শহরে। প্রথমদিকে গরিষ্ঠ সংখ্যক জনগণ বোধকরি কিছুটা হালকা চালে নিয়েছিলো এই জীবাণুর মহামারীরূপী ব্যাপ্তিকে। একটা করে দিন কাটতে থাকলো, আর সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা এবং মৃত মানুষের পরিসংখ্যান দুইই ক্রমশই বাড়তে লাগলো। খবরে আসতে শুরু করলো ইটালি তথা অন্য ইউরোপের দেশগুলোর প্রতিদিনের অসহায়তার দৃশ্য, দেখা গেলো ইউরোপের অন্যতম উন্নতমানের দেশেও চিকিৎসা ব্যবস্থার অক্ষমতার চিত্র। চিকিৎসকরা প্রকাশ্যে বললেন যে সব অসুস্থ মানুষদেরকে চিকিৎসা করতে তারা এই মুহূর্তে নিরুপায়, কারণ হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেড এবং আবশ্যক সামগ্রী নেই। তাদের বিবেচনা করে নির্ণয় করতে হচ্ছে রুগীদের মধ্যে কাকে তারা বাঁচাতে সক্ষম। এই রকম সামাজিক বিপর্যয়ের সময় বেঁচে 

করোনার আতঙ্কে ডাচ সুপার মার্কেটে ‘হ্যাম-স্টার এফেক্ট’

কার জন্যে ভাগ্যের সহায়তা এবং উপরওয়ালার কৃপাদৃষ্টি একান্তই জরুরি। ইটালিতে করোনার প্রভাব বাড়তে থাকায় চীনদেশ পাঠালো তাদের অভিজ্ঞ মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী। শুধু ডাক্তার বা নার্স নয়, এগিয়ে এলো অনেক স্থানীয় বাসিন্দারা নানাভাবে সাহায্য করতে। তাদের এই অকৃত্তিম স্বার্থ ত্যাগকে জনসাধারণ বারংবার বাহবা জানিয়েছে সমবেতভাবে করধ্বনি করে, সঙ্গীত পরিবেশন করে, ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। ইতিমধ্যে এই জীবাণুর বিশ্বব্যাপী প্রকোপ দেখে ১১ই মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO)“COVID-19” কে “প্যানডামিক” বা “বিশ্ব-মহামারী” ঘোষণা করলো। সারা বিশ্বের শেয়ার বাজার একলাফে অনেকটা নিচে পড়ে গেল, কিছু কিছু নামী কোম্পানিও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে দেউলিয়া ঘোষণা করলো। এই সঙ্কটের পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির ভরাডুবি প্রতিরোধ করতে ইউরোপের দেশগুলো মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে সমস্ত ব্যবসা বানিজ্য একসাথে বন্ধ না করে, অবস্থা বুঝে ক্রমাগতভাবে বন্ধ করবে। এইভাবে বিবেচিত পদক্ষেপ নিলে বেকারত্বের সংখ্যা হয়তো কম রাখা যাবে। পরিস্থিতি যখন ক্রমশ আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে শুরু করে, বাধ্য হয়ে আরও শক্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। বলা হোল যে জনসাধারণ যেন খুব প্রয়োজনীয় দরকার ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হয়। সবাই নিজেদের মধ্যে কমপক্ষে ১,৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখবে, সোশ্যাল মিটিং নিষিদ্ধ, বয়স্ক মানুষদের সাথে দেখা করতে যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হল যেহেতু তারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল আর রোগ প্রতিরোধে অসমর্থ শ্রেণী। একমাত্র সেবামূলক কাজ করতে, বা দৈনন্দিনের বাধ্যতামূলক প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে কিছু সময়ের জন্যে বাইরে যাওয়া যেতে পারে। প্রতিনিয়ত রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ, যারা প্রত্যেক পথচারীকে থামিয়ে তদন্ত করছে। ইউরোপের স্বাধীন সামাজিক জীবনযাত্রায় এ এক বিরল চিত্র। আর এইসব নিয়মকে আরও কার্যকারী করতে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া এবং নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে যে এই নিষেধাজ্ঞা না মানলে শতাধিক ইউরো জরিমানা হবে। কোন কোন দেশ আবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে, যেমন রোবট চালিত ড্রোনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে কেউ অনাবশ্যক জনপথে ঘোরাফেরা করছে কিনা।

      নেদারল্যান্ডসে করোনা রুগীর প্রথম খবর পাওয়া যায় ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এর ক্রমবর্ধমান গতি দেখে ডাচ গভর্নমেন্ট জনগণের উদ্দেশ্যে জানায় যে তারা যেন আশু পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায় সুপার মার্কেটে উপচে পড়া ভিড়। নিমেষের মধ্যে শেষ হয়ে গেল পাস্তা, ডিপ-ফ্রিজের ও টিনের সংরক্ষিত সবজি-মাছ, টয়লেট পেপার, হ্যান্ড-সেনিটাইজার, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, ইত্যাদি। একে নাকি বলে ‘হ্যাম-স্টার এফেক্ট’। এই পরিস্থিতি দেখে শেষে ডাচ প্রধানমন্ত্রী জনগণকে আবেদন করলেন সংবেদনশীল হতে, বাকি মানুষদের কথা ভাবতে- কেউ যেন বঞ্চিত না হয় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা কাজ হল, শীঘ্রই ফিরে এলো সেই পরিচিত সুপার মার্কেটের ছবি।

করোনার উপদ্রব যখন দেশে ছড়াতে শুরু করেছে, ডাচ গভর্নমেন্ট সিদ্ধান্ত নিলো স্কুল চালু রাখতে, শিশুদের জন্যে ডে-কেয়ার খোলা রাখতে। এই দেশের বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস ছিল যে ১৬ বছর বয়সের নিচের বাচ্চারা করোনার প্রভাবে খুব একটা আসবে না। আর বাচ্চারা যদি নিজেদের জায়গায় ব্যস্ত থাকে, তাহলে তাদের মা-বাবারা ঘর থেকেই অফিস, ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। ফলস্বরুপ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঠেকানো যাবে। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল শুধুমাত্র রেস্টুরেন্ট, সেলুন, জিম, সিনেমাহল, ফুটবল স্টেডিয়াম, চার্চের প্রার্থনা সভা, আর কিছু প্রতিষ্ঠানের উপরে যেখানে অনেক মানুষ এক সাথে হবার সম্ভবনা বেশি। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জারি হল ‘সোশ্যাল ডিসটেন্সসিং’ এর নিয়মাবলী। ডাচ সরকার এর নাম দিল ‘ইনটেলিজেন্ট লকডাউন’। যারা হাসপাতালের পরিসেবাতে আছেন তাদের সুরক্ষিত পোশাক এবং মাস্ক পরা আবশ্যক করা হল, এবং তাদেরকেই শুধুমাত্র নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে এই ব্যাধির সংক্রামণের সম্ভবনাকে সনাক্ত করতে। কারন বিশ্ব জুড়ে দেখা যাচ্ছে যে বেশ কিছু সংখ্যক চিকিৎসকও করোনা রুগীদের সেবা কালীন নিজেরাই এই মারাত্মক জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, যা সত্যি খুবই দুঃখের ব্যাপার।

ডাচ এ্যাম্বুলেন্স আর হাসপাতালের বর্তমান দৃশ্য

      ডাচল্যান্ডের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা আশাপ্রদ নয়। এই ১৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশে এরই মধ্যে অন্তত ৩৭০০ লোক প্রাণ হারিয়েছে, আর ৩৩,০০০ এর বেশী সংক্রামিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে (পরিসংখ্যান- ২০ এপ্রিল, ২০২০)। আর প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে এই সংখ্যাগুলো। মার্চে ঘোষিত তিন সপ্তাহের ‘ইনটেলিজেন্ট লকডাউন’ এর সময়সীমা এই মুহূর্তে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে। ডাচ সোসাইটিকে অবশ্য পুরোপুরি গৃহবন্দী থাকার জন্যে নেদারল্যান্ডস গভর্নমেন্ট তেমন চাপ দিচ্ছে না। দেশবাসীর উপর ভরসা রাখা হয়েছে যে তারা নিজেদের সুরক্ষার সম্পর্কে সচেতন থাকবে। জারি করা শর্ত মেনে চললে বাইরে নিজের বাড়ির কাছাকাছি ঘুরে আসতে, অথবা দোকানে যেতে কোন বাধা নেই। জগৎবিখ্যাত টিউলিপ গার্ডেন অবশ্য এই বছর জনসাধারনের জন্যে খোলা হবে না। এই বসন্তের সোনালি রোদ্দুরে গা ভেজাতে সি-বিচের কাছে যাওয়াও এখন সম্পূর্ণ নিষেধ। নেদারল্যান্ডসের মতো সুইডেনও পুরোপুরি লকডাউন পলিসিতে বিশ্বাসী নয়। করোনার ভয়াবহ প্রকোপে পড়েছে সদ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দেশ ব্রিটেনও। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এই দেশের রাজপুত্র, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বহু আমজনতা এই ভাইরাসের আক্রমণে নাজেহাল। আজকের হিসেবে বিশ্বজুড়ে অন্তত ২.৫ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত, লক্ষাধিক মানুষ ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের তালিকায় আছে ১ বছরের শিশু থেকে ১০০ বছরের বৃদ্ধ। আবার এই প্রাণঘাতী জীবাণুর সাথে লড়াই করে জিতে ফিরেছেন ১০৭ বছরের প্রবীণ তার উদাহরণও আছে। আশার কথা এই যে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৬০-৭০% জনের সংক্রামণ হালকা ধরণের, তাই সেক্ষেত্রে হাসপাতালে যাবার প্রয়োজন হচ্ছে না। তারা বাড়ির পরিচর্যাতেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। ইউরোপে বেশীরভাগ দেশেই হাসপাতালের আইসিইউ এর সেবা বিভাগের সংখ্যা সীমিত। একমাত্র ব্যতিক্রমী দেশ জার্মানি। এই দেশের করোনায় মৃতের সংখ্যাও ইউরোপের অন্য দেশগুলোর থেকে অপেক্ষাকৃত কম। ডাচল্যান্ডেও আইসিইউর সংখ্যা বেশ সীমিত। তাই অতিরিক্ত ইমারজেন্সি বেডের চাহিদা মেটাতে হাসপাতালের বাইরে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প; মিউজিক হল আর স্টেডিয়াম এই মুহূর্তে রূপ নিয়েছে আপাত-হাসপাতালের কেবিনের। পরিস্থিতির গুরুত্ব দেখে নেদারল্যান্ডসে ৮০ বছরের ঊর্ধের করোনায় আক্রান্ত সিনিয়াররা, অথবা বয়স্ক ক্যান্সার রুগীরা অনেকেই স্বেচ্ছায় আইসিইউর সেবা নিতে প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রি-অ্যানিমেট করা যেন না হয় এই রকম আবেদনও করছেন অনেকে। নিজের স্বার্থের সঙ্কীর্ণ গণ্ডি পার করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা ভাবতে পারা ডাচ সমাজের মানবিকতার এক উজ্জ্বল দিক।

ইটালিতে “মাস ক্রিমেশন” এর দৃশ্য

নেদারল্যান্ডসের রাস্তায় ১,৫ মিটারের নোটিশ জারি

নেদারল্যান্ডসে মৃত ব্যক্তির সৎকারের পদ্ধতিও অভূতপূর্ব। বেশীরভাগ লোকই তাদের ভবিষ্যতের পরকাল যাত্রার বন্দোবস্ত “ডেথ-ইনস্যুরেন্স” এর মাধ্যমে নিজেদের জীবনকালেই নির্ধারিত করে যায়। ইনস্যুরেন্স কোম্পানির লোকেরাই ঐ দুঃখের সময়ে পরিবারের পাশে থাকে, আর অন্তিম সৎকারের সব দায়িত্ব কাঁধে নেয়। এই দেশে তাই কারোর মৃত্যুর ৫-৭ পরে নির্ধারিত দিনে সব পরিজনের উপস্থিতিতে তাঁর স্মৃতি চারণ করা হয় এবং বাদ্যযন্ত্রের সুরের ছোঁয়ায় তাঁকে চিরবিদায় জানানো হয়। আজকে এই শেষ বিদায়ের ছবি পুরোপুরি অন্যরকম। এখনকার এই ‘সোশ্যাল ডিসটেন্সসিং’ সময়ে শুধুমাত্র নিকট পরিবারের লোকজন ছাড়া আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে। এতো কফিনের ভিড়ে অসম্ভব হয়ে পরেছে ট্র্যাডিশনাল নিয়মে সুচারুভাবে শেষ বিদায় জানানো্র প্রথা। তাই এখন ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে পরিচিতরা পাঠাচ্ছেন বিদেহী প্রিয়জনের উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ। আর সময় বিশেষে চলছে সন্মিলিত সৎকার বা “মাস ক্রিমেশন”।

     এতো কিছু বিরূপ চিত্র’র মধ্যেও কিছু ভালো খবর আছে। যেমন ‘সোশ্যাল ডিসটেন্সসিং’ কাছে এনেছে পরিবারের লোকজনকে। বাড়ির বাচ্চারা এখন তাদের পরিবারকে সারাক্ষণ কাছে পাচ্ছে। বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করার এই নতুন অভ্যেস হয়তো আমাদের জীবনকে সংযমী করতে শেখাবে, নিজের স্বার্থে বুঁদ হয়ে না থেকে সমাজের কথা ভাবাতে শেখাবে, জীবনের নতুন দিক খুঁজে বার করার প্রেরণা দেবে। তদুপরি, আমাদের পরিবেশের বায়ুদূষণ অনেক পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা এই জীবাণুর প্রতিষেধক খুঁজে বের করার প্রয়াস নিয়ে দিবারাত্রি নিরলস কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। সারা বিশ্ববাসীর এখন একমাত্র প্রার্থনা যত শীঘ্র সম্ভব এই প্রচেষ্টা সফল হোক এবং সেই রহস্যময় অজানা ওষুধ শিগগিরি আবিষ্কার হোক। মনুষ্য জগত কিছুতেই পরাজয় মানবে না এই ক্ষুদ্র আপাত-অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে- ‘আমরা করবো জয় নিশ্চয়ই!’।

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Maadhukari explores Bengali Literature Around The World