রবীন ঘোষের জন্ম বরিশালে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'হিরণ্ময় তোমার হাতে' প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬ তে। 'পিলসুজে সাঁঝের বাতি' তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। কবিতা লেখার শুরু ১৯৭৩-৭৪ সালে। 'সুনীল করতল' নামে তখন বহুল প্রশংসিত কবিতা পত্রিকার সম্পাদকদ্বয়ের একজন। সেই সময় নিয়মিত সাময়িকী বা পত্র পত্রিকায় কবিতা লিখেছেন। কর্মব্যস্ততায় অনেক বছর লেখালেখির জগতে না থাকলেও ২০১৩-১৪ সাল থেকে আবার লিখতে আরম্ভ করেন। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। ছাত্রজীবন শুরু বরিশালের 'প্রভাতী স্কুলে'। পরবর্তীকালে 'ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের' পরিধি ছাড়িয়ে 'ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ' থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। 'শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ' থেকে এম বি বি এস পাশ করেন। থাইল্যান্ড থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন। বিদেশেও ছিলেন কয়েক বছর। বর্তমানে রবীনবাবুর কর্মস্থল ও বাসস্থান বরিশাল শহরেই।

কবিতা সমগ্রঃ ১০
রবীন ঘোষ
বরিশাল, বাংলাদেশ

১) একলা ডিঙা

 

যেন হোঁচট খেয়ে উঠোনে চলে এলো রোদ

মিহিদানা মেঘে ছেয়ে আছে আকাশের মুখ

 

ভেবেছিলে মুঠোহাত খুলে দিলে অন্ধকারে চিতার অঙ্গার

ভেবে নিলে, বৈঠকখানার রঙচটা সোফায়

আসনপিঁড়ি করে বসে থাকে বিষন্ন গোধূলি

 

সুবর্ণ ঘোড়ায় টানা রথ থেমে যায় দিগন্তের পাড়ে,

নদীর শিরশিরে হাওয়া, জ্যোৎস্না খেয়ে নেয়া বিস্তৃত জল

বাঁকের মুখে শতবর্ষী বটবৃক্ষের মূল

 

সেইখানে চকমকে জলে দোলে আনন্দীর খেয়া

                                       একা -

আমাদের বেদনায় ঋষি, একাকিত্ব আর নক্ষত্রের আলো

জলের আলোড়নে সবই একাকার।

 

ভোর হয়। দূরে শোনা যায় স্তোত্রধ্বনি কার -

 

 

২) দাগ পড়ে থাকে

 

নিকষ কলসের গায়ে ফুটে ওঠে বাসনা-মুকুর

সন্তর্পণে - - - অতি ধীরে

হে আমার প্রিয় সখী, অধীত প্রণয়

 

হৃদের বিস্তৃত শানকীতে মুখ দেখে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চাঁদ

হেমন্তের ঝরাপাতায় কোন দূরের আগুনের ধূলো

বিরান ঝিলের বুকে জন্মের শোধ হাসে কুমারী শালুক

 

বুকের ভেতরে তান্ডব বর্ষণ

বুকের ভেতরে অস্ফুট দুধধান

বুকের ভেতরে ঝগরুটে রাগী শালিক

 

কুয়াশা ঢাকা ভোরে আকুল খেয়াটির কাছে ফিরি

যেইখানে রূপটান দিয়ে এইমাত্র জেগেছে দিগন্ত

 

সেইখানে প্রার্থনার দুইহাত তুলে ধরি ,

যদি জলের দাগ পড়ে থাকে বিশীর্ণ খাড়ির উপরে

শিঙ্গাধ্বনি অন্তরিক্ষে, ভুল জীবনের ছায়া পথ থেকে --

 

হে আমার প্রিয় সখী, অধীত প্রণয়

 

৩) দূরের তুমি

 

বৃত্তের শহর থেকে বেরিয়ে আসি, নর্তকিরাও সাজঘরে

মুখোশ পরে আজ যে মেয়েরা মজলিস মাতিয়ে গেলো

তারাও পায়ের মল খুলে ফিরে গেছে আবাসনে।

 

টেবিলে আধাশেষ গ্লাস ; টুকরো খাবার ইতস্তত ছড়িয়ে চারিদিকে।

একটু পরে কেতাদুরস্ত বালকেরা এসে সব ধুয়ে মুছে দেবে।

 

জলের ধারা এসে শুকিয়েছে জঙ্গলেরই এইপাশে

ত্রস্ত চোখ হরিণীরা গুটিপায়ে ক্ষীনকায়া নদীটির ধারে

বাতাসের মর্মর শুনি, তোমার বসতী বুঝি অরণ্য ছাড়িয়েও

-       আরো দূরে ?

 

 

৪) জ্বলে যায়

 

যেখানেই হাত রাখ, সবুজের গহীন অরণ্য

নিমিষেই ছাই হয় আবাদী জমিন

পাখপাখালির আওয়াজ, ভয়ার্ত বনভূমি;

 

শ্রমণের গৈরিক বসন

নির্বাসনে হেঁটমাথা দেহাতী দোতারা –

 

ঋতু বদল হলে পাতাঝরার দিন

পাহাড়ের মাঝ দিয়ে চলা সরুপথ

বিবর্ণ শুকনো পাতায় নিজেকে ঢেকে ফেলে –

 

তোমারও সময় হল এবার

বুকের সবুজ শ্বাস যেটুকুই বাকি ছিল

হাত রাখ, জ্বলে যাক সেইটুকু দাবানলে।

৫) অক্ষর

 

একটি অক্ষরের মত থাকে স্বপ্নে ও পথে

রক্তের শতদল

ফুটে আছে পদ্মঝিলে গভীরে অতলে –

 

একটি অক্ষরের মতই উৎফুল্ল অরণ্যে

প্রাকৃতিক সুবর্ণ আভা

কতো মমতায় জেগে ছিল মিছিলের হাতে –

 

আমারই কবিতার ভাষা, মায়া বসনের রঙ!

 

 

 

৬) মায়াজাল 

 

ঊষা মুহূর্তের আলোর অন্যরকম মায়া থাকে

নদীজলে মায়াজাল –

ডুব দিলে আলোময় সমস্ত শরীর ।

কপালের ঠিক মধ্যখানে কোন এক হিরন্ময়

স্পর্শ লেগে উজ্জল হয়ে ওঠে নিম্নগামী দেহ

 

ঢেউ ভেঙে আদর মাখে নদীপাড়ের বালুকণা,

পাখিদের কলরব, আড়মোড়া ভেঙে জাগে অরণ্যসংসার,

অবারিত ধানক্ষেত, বল্কলে আবৃত মোহ –

এই আমি, এই তুমি শুয়ে থাকি আলোময়

তটিনী প্রান্তরে, নিস্কলুষ আদুল শিশুদের মতো –

 
কবিতা সমগ্রঃ ১০
তাপসকিরণ রায় 
জব্বলপুর, মধ্যপ্রদেশ

ঢাল নেমে গেল
            
আকাশ দেখে উদার হতে পারো নি 
বাতাসের স্পর্শে পারো নি 
শিশুর চঞ্চলতা শরীরে মাখতে 
বৃষ্টির ধারাপাতে জীবনের 
    অবিন্যস্ত শরীর তোমার 
     নিয়ম ভেগেছে বারবার
চৈত্রের খরায় তৃষিত মৃগ হয়ে 
ছুটে গেছ মরীচিকার মুখে 
বৈশাখের জন্মে ঝড়ের দাপটে 
ভাঙ্গা শান্তির মোহ তোমার নেই 
শ্রাবণের ধারায় বয়ে যায় মন
দুরের প্রিয়র মর্ম ব্যথা...
কাঁদে বকুল কুড়োনো বেলা 
মেঘলা আকাশ বাষ্পে 
ঝাপসা ছবির মলাট
প্রকৃতির নিয়ম ভাঙ্গার 
সৃষ্টি ছাড়া খেলায় মেতেছ তুমি 
অস্থির চৈতন্য তোমায় 
        সাগরে ভাসায়...
সবুজ দ্বীপের স্বপ্ন ভেঙ্গে বন্যা এলো
ছন্ন ছাড়া জীবনের 
ঢাল নেমে গেল 
ভয়াবহ খাই ধরে.

 

 

একটি জোনাকী

অন্ধকারকে লজ্জা দিয়ে  যায় একটি জোনাকি
তোমার আলোকিত স্নাত দেহ 
সূর্যের আলো নিয়ে খেলা করে ,
সূর্য ডোবা কালো আঁধারের ওপারে ওঠে চাঁদ
সন্ধ্যার রাগিণী উদাসী সুরে 
করুণার গোধূলি ছড়ায় 
গৃহ গৃহবধূর চোখে জ্বলে ওঠে প্রদীপ শিখা
চন্দন তিলকে সাজা চর্চিত শরীর তোমার 
চাঁদের শরীরে কি সত্যি কলঙ্কের টিকা!
নাকি,ঈর্ষার জ্বালায় গালে দাও কাজলের ফোঁটা 
সর্বনাশী নজর এড়াতে!
কৃষ্ণ তিলে তুমি রাঙ্গাও মন--
কৃষ্ণ বিহীন যমুনা তীরে  
গোপী চরে ব্রজ হীন 
ডুবে থাকে উলঙ্গ চাঁদ.
আলোর পিপাসা নিয়ে এ কি সর্বনাশা
খেলা তোমার!     

 

 

এঁদো পুকুর,মশার ডিম
                  
মিষ্টি চাঁদের রুপোলি চামচের  
ভাঙ্গা দাঁতে মুখ দেয় কুব্জি বুড়ি, 
এঁদো পুকুরের মাছহীন নর্দমা ভাসে 
                                মশার ডিমের ঝাঁক, 
অস্থিরতা জমে কুমীরের মুখে 
হাঁ-করা হাঙ্গরের লেজ কে যেন দেখে ছিল আজ মনে নেই! 
              ভুতের শিশুর অন্য জন্মে মানুষের শ্বাসে 
বাসা বাঁধার আশায় আকাশের আগুনে সেঁকে রুটি,
সবুজের মাঠে ছেঁড়া স্বপ্নরা মেঘে করে অন্ধকার,
          আগুনে যন্ত্রের মানুষ বুকে তাপে আগামী বীজ.
কালো ছেলেটার পেটে জমা পাথরের কুঁচি,
                     অবুঝ চিৎকারে বনের বধিরতা-- 
অন্ধকার গ্রহণের দিনে চাঁদ তারা ছেঁটে 
                      বাগান পেড়িয়ে সময়ের পথ গড়ে।
 ফুটে উঠা ভ্রূণ প্রাণিত স্পন্দন হারায়
মৃত শরীরে ফোটে অচেতন বৃদ্ধিতা
যন্ত্র মানব শাসিত পৃথিবীটা হেঁটে পার করে ... 

কাপালিকের ফুসলানো চিতা আগুনে 
                           খাদ্যের অভয়ে চাল ফোটে,
শামুকের লক্ষ বছর গুটানো ফসিল  
লক্ষ বছর পেছন থেকে বেরিয়ে এলো কদাকার কোনো জীব।

কেউ তো জ্বলে 

কেউ তো জ্বলে 

তাই আলো দেয় সে 

  প্রদীপের বুকে কাঁপে 

তেলের ঔযষে 

প্যাচানো সলতের পীড়ায় 

        মৃত্যুর ধীর যন্ত্রণ।

 

তেজস্ক্রিয় আত্মার খোলসে 

    বিস্ফোরণের বোমা ফাটে 

প্রতিবাদী সংজ্ঞায়।

আকাশ ফাটে সূর্যের বেদনায় 

রং ঝরে গোধুলির 

 

শক্তির সততা বুকের অগ্নি-দাবে

অঙ্গারে ভাঙ্গে গড়ে

হীরকের উজ্জল দ্যুতি। 

ক্ষয়িত লাভা আগুনের বন্যায় ছোটে

লৌহ সভ্যতার হাতিয়ার। 

 

মন পোড়ে

আঁখির পলকে জমে বরফের ছেঁটা পরশ।

উমোষ হৃদয়ে পোড়ে

সবুজ রং,পাখীর পালক 

ভোরের পূব আকাশে 

শেষ চিহ্নের ঈশ্পাতি ধোঁয়া ওড়ে।   

ঘুড়ির ঠিকানা

 

ছোট বেলায় ঘুড়ি উড়িয়েছি

দুপুর বেলায় আঠা ও কাঁচ গুঁড়োয় দিয়েছি মাঞ্জা

লাট খেয়েছে ঘুড়ি,প্যাঁচের মারণে

অবশেষে সেই ভোঁ কাটা...

 

ছুটেছি ঘুড়ির পেছনে

অলঙ্ঘ সে ডোরে

হাতের মুঠোয় তাকে নামিয়াছি

 

আজ বড়বেলাতেও ঠিক তেমনি

হাঁটু গেঁড়ে সুত ছাড়ি

অবলীলার এ ঘুড়ি কাটাকাটি

আজও চলেছে ...

 

আজও অদৃশ্য ঘুড়ির শিকড়ে

জল ঢালি

চিহ্নহীন সে আকাশ স্বপ্ন

বৃন্তচ্যুত সে ঘুড়ির মত

হাতে ধরা অনিয়ন্ত্রিত লাটাই

পাই নি সেই ঘুড়ির ঠিকানা ।।  

ঘষে মুছে দিলে দাগ

 

আয়না দেখলে বারবার
কোথাও তো নেই সে চিহ্ন 
মনের ভিতর 
       স্মৃতি ছেঁড়া বাকলে
দেওয়াল লিখনে, শিল্পীর আঁকা চোখ
ভেসে ওঠা তুমি,
লিখে নেও তুমি কোনো নাম হৃদয়ে তোমার  
'ইতি'-লেখা কোনো চিঠির পাতায় 
ছাপা দাগ, ছাঁচের পরতে লাগা অবিকল তুমি 
উঠে আছে পুবের তীর বাওয়া 
নাবিকের ছায়া শরীর--মিশে গেল জনতার ভিড়ে 
মুছে নিলে মুখ --সমস্ত এঁটো কাঁটা যা ছিল লেগে
বিকিরণ ফাঁদে--হৃদয়ের কাঁটা ছিল বেঁধা 
ব্যথার জানালা দিয়ে  
পরিচ্ছদের পৃষ্ঠা থেকে কেটে দিলে 
তবু খচ খচ ব্যথার সাল গড়া জলে ভিজে,
খরায় শুকোয়--টন টন জমা দুঃখ 
মুছে ফেলতে পারো নি তুমি 
নিজের রূপ দেখে নিজেই হয়েছ মোহিত 
কে ছড়ালো সাত রঙা বর্ণ চোরা রং!  

পলাশের বসন্ত ঠোঁটে

 

আমারও বয়স ছিলো
মনের উঁকি ঝুঁকি ইচ্ছাগুলি...
আকাশের ছায়া এসে আমার গায়ের 
ওড়না উড়াত... 

আমার য়ে ছিলো ভালবাসা 
গোলাপের বৃন্তে তবু কাঁটার আঁচড়  
আমার ঘুমন্ত মুখ সুপ্ত গহ্বরে 
পাতা কাটা কিছু কীট 
বিরক্তির ঘিন ঘিন ভাবনায় 
জেগে ওঠা মন ছিলো...

সীমান্তের ভাঁজ চুলে
লালিম গোধূলি আঁকা 
ললাট লিখন আঁচরে ছিলো 
গোল ছবি চাঁদ!

আমার ইচ্ছে ছিলো
সমস্ত সবুজতায় পৃথিবী ছুঁয়ে যাক
আঁকিবুঁকি মন্দাক্রান্তা 
কবিতার ছবিতে নীল সমুদ্র
কিম্বা  ভোরের জেগে ওঠা 
মিষ্টি রোদ্দুরে স্থির বসে থাকি 
ঘ্রাণ নিই মুকুলের
পলাশের বসন্ত ঠোঁটে 
শেষ চুম্বন আঁকা থাক আমার।

অবাধ বাগানে 


হাভাতে ভিখারী রাস্তার পাতা চাতে,
খোলসের নীচে কে রাজা কে ফকির!
জীবনটা তো জামা পাল্টাবার মতো নয়  
ক্ষনস্থায়ী তামাশার চমক। 
ম্যাজিকের খালি হাত 
সোনা ধরে আকাশের মুঠোয়্,
পুরনো রাজবাড়ী ঘুমোয় নীশিথে,
অঙ্কের ছকে সরে না কুয়াশার আস্তরণ।
          
গাছের  তালে ও বেধেছে বাসা,
অনাম এ পৃথিবী ঘুরছে তো ঠিক ঠাক!
মন-প্রানের ঠিকানা কোথায়,
জীবনকে ঘিরে থাকা দেওয়াল নিরাপত্তা--
মানুষ নয়,পোষা কুকুর ঘুমায় বিছানায়।
                   

গরম ঠান্ডা কিছু নয়,
তুমি ঘুমাছ না জেগে আছ 
অথবা স্বপ্নের ঘর ভাঙ্গা খেলায় 
সাদা কাপড় জড়িয়ে 
দেওয়াল ভেদের খেলায় মেতেছ।
আছি,নেই হওয়ার দোলায়
কেমন চলছি, বলছি, হাসছি, খেলছি দেখ--
এই জ্যোত্স্না রাতের অবাধ বাগানে 
কেউ কি আছ কথাও?

আর এক জন...

পেলেই থেমে যায় চাওয়া পাওয়া

তার চেয়ে কিছু না পাওয়া থাক না মন জুড়ে!

তাকে মনে পড়ে , অনেক পথ এক সাথে

এগিয়ে যাবার যে স্মৃতি

হারিয়ে গেল, এখনো কোন আস্বিনের ঝড়ে

সে কথা মনে পড়ে

সে শীতল বিছানো পাটিতে

এক হলেও আর এক জন...।

কিছু আঁচড় চিহ্ন

 

লিখি 

তবু থেকে যায় আরও কিছু না বলার প্রচ্ছদ,

পৃষ্ঠার মলাট ছবি ভরাতে পারে না মন.

সে নদী ছোট হতে হতে

কিছু আঁচর চিহ্ন নেয় ঠাঁই 

কিছু বালি রেখার নীচে সে থাকে ঘুমিয়ে...

 

একান্ত আপন কোনো লেখা

যদিও স্পর্শ করে বুকের সান্নিধ্য.

সীমিত শব্দের ছকে কতটুকু পায় প্রাণ !

কতটুকু এঁকে তোলা সে ছবি 

নৈরাশ্যের শুন্যতা পেরেছে ভাঙতে?

 

কখনো স্তব্ধতায় মুখর থাকে ভিতর কলহ.

নিদ্রায় কল কল শব্দ ভাঙে ঢেউ!

ভাঙা চোরা সে কল কব্জা জুড়ে 

কখনো কি 

একত্রতা খুঁজে পাবে?

তবু একান্তে নদীর কুল ভাঙবে,

কিছু আঁকিবুকি রেখা নিয়ে 

তার লেখা চলবে অতল মানসে!

 

 

মৃত শরীর  


বেমানান শিশুদের গাম্ভীযর্তা,

শ্বাশত সত্য কি আত্মার অমরতা?

ক্ষমা যেচে যায়, 

মৃত শরীর পালায়

বিছানা খালি রেখে,

রঙ্গিন কাগজ ঢেকে 

ফুলদান

বাড়ায় মান,

খোলা আকাশ ছাদে

বেদনা কাঁদে!

রাতের আঁধার 

চোখ ধাঁধার,

স্বপ্ন কাটে

পথে ঘাটে,

শুন্য হাতে 

কি তুমি চাও?

দেবতার চরণে তাও

চড়েছে নৈবেদ্য,

দুর্ভেদ্য 

সুচিকায় গাঁথা মালা--

জ্বালা

বেঁধা বুক, 

ধুক ধুক 

 

পাখীর দুঃখ নিয়ে 

খাঁচা ভোলানোর গান দিয়ে

আমায় আটক করেছ তুমি!

তুমি ছুঁয়ে আছ ভূমি

মাথায় আকাশ নিয়ে 

ভাবনা ভুলিয়ে

অস্থির

স্থবির ।।

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?