কবিতা সমগ্রঃ ১১
বীরেন মুখার্জী

বীরেন মুখার্জী: কবি ও প্রাবন্ধিক। পেশা সাংবাদিকতা। বর্তমানে দৈনিক যায় যায়দিন পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত। কবিতাগ্রন্থ: উদ্ভ্রান্ত সময় (১৯৯৮, কলকাতা), প্রণয়ের চিহ্নপর্ব (২০০৯), প্লানচেট ভোর কিংবা মাতাল বাতাস (২০১১), নৈঃশব্দ্যের ঘ্রাণ (২০১২), পালকের ঐশ্বর্য (২০১৩), মৌনতা (দীর্ঘকবিতা ২০১৩), জলের কারুকাজ (২০১৪), হেমন্তের অর্কেস্ট্রা (২০১৬)। গল্পগ্রন্থ: পাগলী ও বুড়ো বটগাছ (২০১৬)। প্রবন্ধগ্রন্থ: কবির অন্তর্লোক ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০১২), সাহিত্যের প্রতিপাঠ (২০১৪), কবিতার শক্তি (২০১৭)। সম্পাদিত প্রবন্ধগ্রন্থ: বাংলা কবিতায় ঐতিহ্য (সম্পাদনা ২০১৪)। সম্পাদিত ছোটকাগজ: ‘দৃষ্টি’ (প্রথম প্রকাশ ১৯৯৪। ১৫টি সংখ্যা প্রকাশিত)

জাস্টিসিয়া

নৈরাজ্যের দিকে চলে যাচ্ছে একটি পথ, জাস্টিসিয়া। এই বিরূপ গ্রীষ্ম সাক্ষ্য দেবে, সেদিন কোথাও সুশীতল ছায়া ছিল

 

নৈরাজ্যের দিকে চলে যাচ্ছে একটি পথ- দুঃখ করো না জাস্টিসিয়া। এই বিরূপ গ্রীষ্ম সাক্ষ্য দেবে, কোথাও সুশীতল ছায়া

ছিল না। ছিল না ঋতুর অঙ্গীকার- প্রতিশ্রুতি। শুধু বর্ষণসম্ভবা মেঘ উড়ে গেছে পূর্ব থেকে পশ্চিম। এই নিরর্থক দিন, তবুও

প্রতীক্ষা- হয়তো গৌরবান্বিত কোনও ঋতু আবারও ডেকে নেবে- অনুভবের খুব কাছে! বায়ান্নো কিংবা একাত্তরের মতো

উজ্জ্বল প্রেম উঁকি দিয়ে যাবে আবারও, অন্ধকার চূর্ণ করে জ্বলে উঠবে প্রগতির আলো, জাস্টিসিয়া- সেদিন নিশ্চিত,

মেঘও ঝরাবে- প্রত্যাশিত জলধারা।

 

দুঃখ করো না জাস্টিসিয়া; গ্রীষ্মরোদে গলতে গলতে এই নুনঘাম, বিকেল ফেরি করে একদিন হয়ে উঠতেও পারে ভবিষ্য

পাহাড়! ভূ-বিশ্বের যাবতীয় অহঙ্কার তো চূর্ণ হয়েছে এভাবেই। শুধু সংশয়, আগামীর চেতনা খুব গোপনে, অন্ধকারের

দাস হয়ে উঠবে না তো!

যোগফল

সময় খুললে হাওয়ার গন্ধ ভাসে- দারুচিনি ধূপ;

 

অসংখ্য মীড় হাতড়িয়ে পাওয়া সুরের পাশে

তোমাকে দেখি অর্ধমৃত যোগফল, যখন উড়াল চিহ্নে-

লেগে থাকে নিদ্রিত দিনের সবটুকু বিভ্রাট!

 

সময়ের গেরো খুলে উঁকি দিয়ে দেখো-

বাস্তব স্বীকৃত এই মোহ তৃষ্ণার পাশেই অকৃত্রিম;

ঋতুর পাথর গড়িয়ে উজ্জ্বল হয় দিনের স্বয়ম্বর,

বিপন্ন অশোকে বাজে- নীতির বেহাগ!

 

সময় খুললে অসংখ্য অরণ্য- শাদা ভাতফুল;

চারু, সহস্র রঙে তবুও লীলায়িত নিজস্ব ত্রিভূজ!

 

 

প্রাগৈতিহাসিক

বিপন্ন এ খেলা, যখন ঝরতে থাকে জলধারা

দেখতে পাও না, অথচ এইসব রাতে-

সম্পর্কের চাঞ্চল্য বাজিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি ছিল;

 

কতটুকু উৎকীর্ণ হলে-

পেরিয়ে যেতে পারবে তপ্ত মরুভূমি

তারচে’ বেশিই ছিল কৌতূহল ও আড়ম্বর...

 

অথচ, যখন পান করতে চাই সেই দৃশ্য-

ভুলে যাই, পৃথিবীও রং পাল্টাচ্ছে অবিরাম;

আগাম ফোটা কদম, সৌন্দর্যের ভেতরই

লুকিয়ে রেখেছে রহস্য অপার, আর-

গর্জনের মধ্যে গুঁটিসুটি জাগতিক দ্বৈরথ;

 

এমন রাতেই উড়িয়ে দিতে চাই তামাসার আয়ু

কৌশল বিপন্ন করে পৃথিবীর সমস্ত ভূখণ্ডে-

গতিরোধক   

মরা কটালের ভীড় ঠেলে অনন্য রাত্রির ভেতর

সমর্পিত হতে চেয়েছিল- একটি দুপুর;

আলোর মুখোমুখী হতে গিয়ে পুনর্বার ভেবেছিল,

সুখবাদী পণ প্রশ্রয় পাবে না কখনও

অথচ ‘সস্তা’ শব্দটি তার বিস্তারে গতিরোধক হয়ে ঝুলে গেল।

 

চৈত্রের বর্ষণে প্রাচীন বৃরো দেখো-

যেনবা, হয়ে উঠেছে শৈশবের বোধগম্য জল-তরু-লতা!

 

এখন বৈকালিক বৃষ্টি ছুঁয়ে যাবে সেই কল্পিত স্বপ্নরেখা-

সফল একটি আহ্বানের পথে। বয়সের মিথ যুগপৎ ভাটির প্রবাহে

নিমজ্জিত হতেও পারে। চারু, প্রশ্ন হলো-

অঙ্কিত যোগচিহ্নের পাশে বিলম্বিত লয়ে হেঁটে আসা ব্রজবধূকথা,

লেখা হবে কী কখনো- হীরক অক্ষরে!

জীবনমুদ্রা

যে ভাবেই দেখো- জীবন এক প্ররোচনাময় টগবগ, কতিপয় ঘোরেই সুস্থির!

 

বরং অননুমোদিত সেইসব দিনের কথা ভেবে হেঁটে যাও প্রাগ্রসর পথে, হয়তো শুনতে পাবে- পর্যটনপ্রিয় ঘোড়াদের হ্রেষাধ্বনি মিলিয়ে যাচ্ছে শ্রাবণভ‚মির অচেনা সন্ধ্যায়, বুঝে নিও- অশ্রু ও বর্ষার শাশ্বতরূপে প্রোথিত রয়েছে রূপান্তরের বিপুল সম্ভার। কিংবা, ঊরুস্তম্ভে উল্কি এঁকে বিকল্প উৎসেও খুঁজে পেতে পারো জীবনের প্রকৃত নৈর্ঋত!

 

এভাবেই- হাঁটতে হাঁটতে ভেঙে ফেলো অক্ষরের শব আর কাচের মহিমা; প্ররোচনা এড়িয়ে- ভাবে ও আচারে পুনরাধুনিক হয়ে ওঠাই বরং শ্রেয়তর!

চলো, নির্লিপ্ত হেঁটে যাই

 

মোহনীয় সেই গোধূলি- আমরা হাঁটছিলাম। এবড়ো-থেবড়ো আলপথে ছড়িয়ে পড়ছিল রক্তিম আলোক। চোখের পর্দায় গলিত সবুজ এবং সম্ভ্রান্ত একটি সংসারের প্রতিধ্বনির ভেতর ফুটে উঠেছিল হলুদ হাওয়া- উদ্দেশ্যহীন! তবুও কয়েক শতাব্দী হেঁটে সেইসব প্রণয়বেলা আমরা গড়িয়ে দিয়েছিলাম প্রান্তরের ঘাসে-

 

আমরা সাক্ষী ছিলাম ঝরে যাওয়া সময়ের; ভেবেছিলাম- হাস্যকর কোনও ভোর নিয়ে যাবে প্রস্তর যুগের ভোজসভায়!

কিংবা, নরম অন্ধকার উসকে জেনে নেবে ক্ষরিত জীবনের সমগ্র রসায়ন। ভাঁজ হওয়া বিকেলের মসৃণতা থেকে জাগিয়ে দেবে অদেখা ভুবন; পাঁজরভাঙা চিহ্নলোকও ফিরে আসা অমূলক নয়। অথচ, শেষাংশ গণনায় দেখি- দণ্ডিত পৃথিবী!

 

অরণ্য প্রাচীন হলে, তার ছায়াতলে, জেনেছিলাম- গড়ে ওঠে পরিবর্তিত বসতি! কথারও অলঙ্কার আছে, সময়ের মোচড়ে ধ্বনিত হতে পারে প্রত্যাশিত রাগিনী ফের; চলো, নির্লিপ্ত হেঁটে যাই- ধূলিরাঙা প্রাচীন গোধূলির পথে...

রাতকে ডেকে বলি

 

গোধূলিসারস, অবিরাম উড়ে যায় ঘনসন্ধ্যার পথে-

রাতকে ডেকে বলি- অন্ধত্বের সুতো ছিড়ে প্রাচ্যের আকাশে জাগো;

কেননা, গুমোট আঁধারেগোল হয়ে আছে সময়- মৃতবৎ!

 

গতিশীল হতে গিয়ে- যে দেয়াল প্রলম্বিত চারিপাশে

প্রত্নযুগে রচিত সে ইতিহাস! অসংখ্য খুন বিধৌত মৌনহাসি

মূলত, স্বার্থ আর ভোগের ঝরনাধারা; কলস্বরে বাজায়-

তাপানুকুল হাওয়ার সমঝোতা!

 

যে অরণ্যগুহায় সমাধিস্থ সাম্প্রতিক বিবেক,

তার রংমহলজুড়েও সাপিনীপ্রেম ফোটে টগবগ,

ফণাশীর্ষে লোভনীয় স্বর্ণমণি; আর-

বাস্তুসাপের তাড়া খাওয়া ধাবমান যাত্রীরাও দেখছে,

তেঁতুলনগর দাউদাউ- পিশাচ তাড়ানোর হোমাগ্নি!

 

চারু, উদগীরণ মানেই আগ্নেয় লাভার বিকিরণ-

রাতকে ডেকে বলি- গুমোট ইতিহাস পুড়তে দাও...

দুঃখ করো না

 

নদীর প্রসঙ্গে মনে পড়ে নিঃসঙ্গ মানুষের মুখ

যাদের ছুড়ে ফেলা হয়েছে বিনাশ সমুদ্রে...

 

দুঃখ করো না অরণ্য, জলাভ‚মি-

কুয়াশাপৃষ্ঠার ওপারেই বসন্তের প্রত্যুষ প্রতীক্ষারত;

একদিন ঠিক দূরীভূত হবে বিরহ জঞ্জাল

দু’তীরের সম্রাজ্ঞী বাগান ভরে যাবে বাদামী ভ্রমরে

পুষ্পচঞ্চলতায় হেসে উঠবে বিরহসমগ্র-

 

এখন তো অবগুণ্ঠন খোলার সময়...

 

দুঃখ করো না জরাজীর্ণ আগামী-

সময়ের বিপন্নতা সরিয়ে তোমাকেই প্রমাণ করতে হবে

কতটা শক্তি ধারণ করেছো আমুল পাল্টাতে-

 
কবিতা সমগ্রঃ ১১
অঞ্জন আচার্য্য 

কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক। জন্ম বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার গাঙ্গিনারপাড়ের অধুনালুপ্ত লালা লজে (স্থানীয় ভাষায় যা ‘লাইলি পট্টি’ নামে পরিচিত ছিল)। এখন রাজধানী ঢাকাতেই অস্থায়ী বাস। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শেষে বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। 

তবুও আশা রাখি
 

যেভাবে বেঁচে আছি, মন্দ কী?
সব যে ভালো হবে তার তো মানে নেই,
কলি যে ফুল হবেই গ্যারান্টি কী?
তবুও আশা রাখি, কিছু না-কিছু হবেই।
এভাবে বেঁচে থাকা, মন্দ না
আঁধার আছে বলেই আলোর এত দাম,
ঘুম যে ভাঙবেই কেউ তা জানে না;
আঁকড়ে ধরি তাই বাঁচার ছদ্মনাম।
জেগে যে স্বপ্ন দেখি, সেসব কল্পনা
সব যে হতেই হবে তার তো মানে নেই,
যা কিছু ঘটে গেছে, সবটা গল্প না;
তবুও আশা রাখি, কিছু না-কিছু হবেই।

 

 

চিতি-পড়া বসন্ত ও অনাহারী বৈশাখ
 

কৃষ্ণচূড়ার ডালে লুকিয়ে কোকিল ডাকলে
কিংবা পথের ধারে শিমুল-পলাশ ফুটলেই বসন্ত আসে না।

প্রত্যেক ঋতুরই আলাদা ঘ্রাণ আছে- 
বসন্তও এর ব্যতিক্রম নয়; বরং আরো বেশি ঘনিষ্ঠ।
বাতাসেই যদি তা না-ছড়ায় তবে সে আবার কীসের বসন্ত?

এখানে রক্তপাত, বারুদের গন্ধময় সকাল
এখানে বৃষ্টিপাত, সময়ের শব্দহীন বিকাল।

দূরে কোথাও যাই, ঘুম ও স্বপ্নের মাঝে ব্যবধান রেখে
এ তো দেখি কাক, কাকপুচ্ছ কোথায়?

কাগজ্যোৎস্নায় ভিজে গেছে রাত্রির মশারি,
বসন্তের জামায় চিতি-পড়া দাগ; বৈশাখ অনাহারী!

অঙ্গার
 

সমুদ্রে ফিরে পকেটে ভরে নিই যাবতীয় ঢেউ 
মরা হাঙরের হাড়ে তৈরি করি নিজের বিছানা; 
জল থেকে লবণ আলাদা করার কৌশল আছে জানা। 
সফেন তরঙ্গতলে সেরে নিই গোপন অবগাহন, 
একটু দাঁড়াও, জলের রঙে নিজেকে হারাও কেউ।

বহুকাল রক্তিম অঙ্গার খাই না শীতের শানকি ভরে 
পাঁজরে তাই জমা-শেওলার রং কালচে হয়ে গেছে, 
বাতাসের ছাদে হাঁটতে হাঁটতে একদিন পথ ভুল করে—
দেখি, আমার জ্বলজ্বলে চোখ দুটো গেছে পুড়ে সূর্যের আগুনে।

বসন্তের মৃত্যুতে শোক
 

গত রাতের ঝড়ো-বাতাসে ভেঙে গেছে বসন্তের ডানা
প্রাতঃভ্রমণে আসা স্বাস্থ্য-সজাগ মানুষের দল
গোল হয়ে দেখেছে মৃত চড়ুইয়ের মতো উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে;
ঝরা-পাতার গায়ে লেগে থাকতে প্রাণহীন বাসন্তী-পালক।

এমন খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে শহরের আনাচেকানাচে
দলে দলে ভিড় করে মানুষ, যেখানে কৃষ্ণচূড়া কিংবা পলাশ আছে।
ঘটনায় দোষারোপ করছে কেউ কোকিলকে, কেউ-বা খোদ কৃষ্ণচূড়াকেই
তবে কোনো এক রহস্যে চোখে-মুখে কালো কাপড় বেঁধে রাখে গণমাধ্যম
নইলে কোত্থাও কোনো খবর প্রকাশ নেই কেন? ছবি তো দূরস্থ।

যেখানটায় প্রকাশ পেতে পারতো এ রিপোর্ট, সেখানে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে
মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি, ইলিশের আকাশ-ছোঁয়া দাম, পোশাকে বৈশাখীর ফ্যাশান।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়- ফেসবুকেও নেই কোনো টু-শব্দটি কোথাও
কেবল এক নিরীহ কবি ছবিসহ পোস্ট দিলো তার ফেসবুক ওয়ালে-
“বসন্ত মরে গেলে কী করে জন্ম নেবে বাংলার বৈশাখ?”

 
কবিতা সমগ্রঃ ১১
বিশ্বরূপ রায় 

(১) অস্থির সময়ের পাখি

অস্থির সময়ের পাখি তুমি,
যা তোমার,আজ তাতে অন্যের অধিকার।

যা সহজ সরল সভ্য,আজ তা সময়ের
যাঁতাকলে পিষ্ট নিষ্ঠুর ভবিতব্য।

খোলা মনে উড়বার অধিকার নেই কারও,
চোরাবালির পাঁকে মানবতা তলিয়ে যাচ্ছে
আরও !আরও!আরও!

ঝটপটানি শুনলেই ভয় বাসা বাঁধে মনে।
নীতি,বিবেক,সংস্কৃতি বর্জিত ব্যভিচারীরা
দাপিয়ে চলেছে অতি সাধারণ মননে।

মুক্তিকামীর মর্মবেদনা গুমরে গুমরে কাঁদে,
ওদের স্তব্ধ করতে হবে;প্রতিযোগীতায়
মেতেছে যত বর্বর জহ্লাদে।

ভয় পেয় নাকো,ডানা ঝাপটাও,
যত আঘাতেই হও বিক্ষত,
এ তোমারই জয়,মুক্তিধারার অমৃতবারি
তোমারই পক্ষ্ণস্নাত।

(২) মৃত্যুর রূপ

মৃত্যু তুমি কি কালো?নাকি
রঙ্গমঞ্চের শেষ যবনিকাপাত,
মৃত্যু তুমি কি কঠোর?নাকি
বাস্তবতার নিষ্ঠুর আঘাত।

তুমি কি শীতল গঙ্গোত্রীর হিমবাহের মত!
জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্ত,
স্নিগ্ধ,সমাহিত।

তুমি কি বেদনাময়,জীবনযুদ্ধের পরাজিত- মুখ!
রোগক্লিষ্ট জীর্ণ দেহে রোগমুক্তির নির্মল- সুখ।

তুমি কি বাঁধনহারা,নতুন পথে চলার- খুশিতে!
চিরচেনা জগৎ থেকে বিচরণে অজ্ঞাত- অপরিচিতে।

রূপ যাই হোক না কেন তুমিই চিরন্তন- জগতে,
আগমন তোমার তাই- অতর্কিতে,নিঃশব্দে,নিভৃতে।

(৪) ২৬শে জানুয়ারী

বহু শহীদের রক্তস্নাত আমাদের স্বাধীনতা।
১৫ই আগস্টের মধ্যরাতে যে জাতি উঠল জেগে,
১৯৫০ এর ২৬ শে পেল তার অধিকার।
অধিকার পেল স্বাধীন ভাবে বাঁচার,কথা বলার।
অধিকার পেল মত প্রকাশের,সমাজতান্ত্রিকতার।
কিন্তু যে দেশে জাতপাত আর ধর্মীয় ভেদাভেদ,
এখনও চলছে সমানে,সে কি সত্যিই স্বাধীন?
যেখানে আজও লোক মরে অনাহারে,
যেখানে দাঙ্গাবাজের তরবারিতে সভ্যতা হয় ম্লান!
যেখানে রাজনীতি মানে শুধুই ভোটের হিসাব করা,
মানবিকতার টুঁটি চেপে ধরে সন্ত্রাসী আর সমাজবিরোধীরা।
যেখানে ধর্মের নামে,জাতের নামে সংবিধান দেয় সংরক্ষণ,
যেখানে চলে ধর্মীয় শিক্ষা চলে ধর্মীয় শাসন,
সে দেশ কিভাবে হয় ধর্মনিরপেক্ষ?
যে দেশে প্রদেশ ভেদে একই কাজ করে কেউ পায়না সমান পারিশ্রমিক,
সে দেশ কি করে হতে পারে সাধারণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক?
ভাবার সময় এসেছে বন্ধু,আগামীটা আমাদেরই নিতে হবে গড়ে,
তবেই উঠবে নতুন সূর্য নবচেতনার ভোরে।

 

(৫)   এই কি তবে সভ্যতা?

আমরা সভ্য মানবজাতি,সত্ত্ব মোদের সবই,
চিন্তা-ভাবনা,সাজপোশাকে তারই প্রতিচ্ছবি।
যে জন প্রথম জ্বাললো আগুন কাঠ-পাথরে ঘষে,
মানবতাই জ্বলতেছে আজ দানবতার বিষে।
যে দিন প্রথম মারল পশু পেটের ক্ষুধার তরে,
মনের ক্ষুধায় আজকে মানুষ,মানুষ শিকার করে।
ছাল জড়িয়ে নিল গায়ে সভ্য হবে বলে,
লজ্জা,ভয়,শীত,গ্রীষ্ম কাটবে অবহেলে।
আজকে মানুষ নগ্ন বড়ই বিবেক-মানবতায়,
স্বার্থসিদ্ধিই মূলমন্ত্র,কিই বা আসে যায়।
কার কতটা ক্ষতি হল নেই প্রয়োজন জানার,
আমি-তুমি-ছোট্ট উঠোন,এটুকুই সংসার।
এই কি তবে সভ্যতা?যার বড়াই করি মোরা,
এযে বড়ই লজ্জাদায়ক,হারার পরেও হারা।
আমরা যাদের পশু বলি তারাই আসল সভ্য,
বিবেক বিহীন দু-পেয়ে জীব,এটাই ভবিতব্য।

(৩) নীলা

ফোন নম্বর পাল্টাবেনা বলে কথা দিয়েছিল নীলাকে,
সে কথা রেখেছে সমীরণ।
প্রথম প্রথম ভালোবাসে বলে পাল্টায় নি,
কিন্তু পরে এত জায়গায় নম্বর দেয়া হয়েছে যে পাল্টাতে পারেনি।
দিন গড়িয়ে বছর গেছে অনেক,
মনের কোনায় এক চিলতে আশা ঝিলিক দিত মাঝে মাঝে।
হয়তো নীলার ফোন আসবে,কিন্তু আসেনি।
বহুদিন বাদে বাদে অজানা নম্বরের কোনো মিসকলে জেগেছে আশা।
কিন্তু কথা দিয়েছিল নীলাকে কোনোদিন বিরক্ত করবেনা তাই উল্টে ফোন করেনি কোনোদিন।
আজ তার ভরা সংসার,ভালোবাসার অভাব নেই। তবুও মনের মাঝে চোরাগোপ্তা আশা বেঁচে থাকে।হয়তো কোনোদিন ফোন করবে নীলা,করেনি।
হয়তো ভালো আছে,সুখে আছে নীলা।

(৬)   জীবন খুঁজে বেড়াই

জীবন খুঁজে বেড়াই আমি রাতে দিনে যখন তখন।কখনো নিজের মধ্যে,কখনো অন্যের মধ্যে,কখনো বা প্রকৃতির

নিবিড় শীতলতায়।দখিনের মৃদু মন্দ হাওয়ায়,গ্রীষ্মের গরম বাতাসে কিংবা বর্ষার ভেজা মাদকতায়।

কোকিলের কুহুতান জীবনের নবযৌবনের বার্তা নিয়ে আসে।মাটির দেয়ালে ডিম মুখে হেঁটে চলা পিঁপড়ের সারিতে,ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ানো প্রজাপতির ডানায় অনুভব করি তার স্পন্দন।বসন্তের কচি পাতার গন্ধে তারই

সুবাস ভেসে আসে।টুনটুনির সেলাই করা কাঁচা পাতার ঘরে তার ছোট্ট ছানার কচি ঠোঁটের ফাঁকে জীবন ঝিলিক দেয়।

আহা কি সুন্দর তার স্বাদ! আমৃত্যু আমি নিংড়ে শুষে নিতে চাই এর সবটুকু,যতটুকু পারি।এ আমার অধিকার,

এ আমার অহংকার।এই জীবন শুধু আমার-আমার-আমার !!
 

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?