কবিতা সমগ্র - ১২
বিভাস রায়চৌধুরী
চাঁপাবেড়িয়া, বনগাঁ

জন্ম ১৯৬৮ সালে সীমান্ত শহর বনগাঁয়। তিনি নব্বই দশকের এক স্বতন্ত্র কবি।কাব্যগ্রন্থঃ নষ্ট প্রজন্মের ভাসান, উদ্বাস্তু শিবিরের পাখি, শিমুলভাষা পলাশভাষা, জীবনানন্দের মেয়ে, যখন ব্রিজ পেরোচ্ছে বনগাঁ লোকাল, চন্ডালিকাগাছ, পরজন্মের জন্য স্বীকারোক্তি, সমস্ত দুঃখীকে আজ, শ্রেষ্ঠ কবিতা, আমার সামান্য দাউদাউ ইত্যাদি।
উপন্যাসঃ কলাপাতার বাঁশি, অশ্রুডানা, বাইশে শ্রাবণ। 
পুরস্কারঃ কৃত্তিবাস পুরস্কার (নবপর্যায়) - ১৯৯৭, বাংলা আকাদেমি পুরস্কার - ২০১৪।
দশকঃ নব্বই।  

একটি স্বপ্ন 


লাল ঘোড়া ছুটে যায়

            নীল মানুষের দিকে ...
নিজেকে একলা লাগে!

এবারের কথা বলছি না।
পরের বার ভালবাসবে তো?
যদি অসম্ভব আসে আকাশের জানালায়?

আজ স্বপ্ন উচ্চারণহীন।

লাল ঘোড়া ছুটে যায়
            নীল মানুষের দিকে ...

আমি তো প্রান্তরহীন।
ধুলো-টুলো মেখে দেখলাম,
কবিতার বাইরে এল আশ্চর্য কবিতা ...
কান্নার ওপাশে আজ 
                        নির্জন অভূতপূর্ব কান্না ...
ভিজে-যাওয়া বালি আয়নার মতো
                        চকচক করছে!

লাল ঘোড়া আর নীল রঙের মানুষ
            নিজেদের মধ্যে কত বাক্য বানিয়েছে।
শুধু আমি নেই ?
            আয়না ভেঙে ঘুম মৃত?

এবারের কথা বলছি না।
পরের বার ওষুধ খেয়েছ?
            বিষণ্ণ হতে ভোলোনি তো?


জোছনা

চাঁদে ঘুম লেগে গেল জলের আকাশে

নৌকা এক স্বাভাবিক প্রাণী

যেন অন্ধ লেপ্টে আছে ওপারের বনে

পাখি ডাকে অনন্তের...
কিছু পরে মৃত্যু ডেকে আনি...

দুঃখের দিনের বন্ধু
বিভাস রায়চৌধুরী 
বিশ্বাস
অনেক গাছের নীচে তুমি নেই কোনওদিন...

হাওয়া এসে ঘুরে যায়
জল থেকে চুপচাপ উঠে আসে হাঁস

পৃথিবী বিশ্বাস চায়... একটু বিশ্বাস...

কত গাছ অপেক্ষা করছে
এক জীবন... দুই জীবন!

এত শূন্যতায় বেঁচে থাকতে ভাল্লাগে না কারও

যেসব গাছের নীচে তুমি নেই কোনওদিন,
একাই দাঁড়িয়ে থাকি...

কী একটা বিশ্বাস ফিরে আসতেও পারো...


কেউ

মানুষ অবুঝ প্রাণী। তার একটাই ভাষা।

কোনও গাছ, কোনও প্রাণী কাঁদে না কখনও, কবি।

তারা হয় পায়, নইলে মরে যায় চুপিচুপি।

মানুষ অবুঝ। কান্না তার এক ধরণের দাবি।

তুমি কি তেমন অবুঝ?
তবে কাঁদো... কাঁদো, কাঁদো...
কান্না হোক নিয়ত ধারালো!

মানুষ অতৃপ্ত প্রাণী।
বৃষ্টির ভেতর কবে বেরিয়ে পড়েছি
প্রাণহীন... আবরণহীন...
চকিতে তবুও মনে হয়,
নেতুর ওপরে চুপিচুপি
একনিশ্বাসে কেউ কি দাঁড়াল?


শূন্যতা

ঠোঁটের অভাব বুঝি।

পাখির অভাব।

ক্রমশ ফুরায় আয়ু...
ক্রমশ জগৎ ঘন...

আমার জীবন আর
প্রসবকাতর গাছ
যদি এক ভোরবেলা
কাছাকাছি আসে,
কোনো কথা বলবার নেই...

কোনো কথা বলবার ছিলো না কখনও

 


প্রবল বৃষ্টির পর


দুঃখগুলো পার হয়ে আসি...
পার হতে হয়...

মরা ডালে পাতা গজানোর
দিনে বুঝি মনেই পড়ে না
দুঃখ এক শাশ্বত বিষয়...

কোনও একদিন
প্রবল বৃষ্টির পর
সামান্য ঝিঁঝিঁর ডাকে
হাউমাউ ফিরে আসতে পারে!

কাকে বলে বেঁচে-থাকা?
দুঃখের দিনের বন্ধু চোখে জল এনে
চেনা দিয়ে যায় বারেবারে...

 



বিষাদের মাছগুলি

এই জল মূলত আমাকে 
চিন্তা দেয়, আমি তার
পাশে জুবুথুবু বসে থাকি...

একটি অর্জুন গাছ মায়াবী জন্মের
ছায়া ফ্যালে জলে...
বিষাদের মাছগুলি ঘোরে ফেরে আর
আমি ভাবি শিরায় শিরায়
অন্ধকার বাজায় নিজেকে!

এভাবেই দেহত্যাগ নিয়ম হয়েছে...
সকল নির্জনে
জল প্রবাহিত হয় জলের অধিক

 


ভাটিয়ালি

বুকের ভেতরে গান... আছে আছে পাখিদের বাড়ি
বুকের ভেতরে ডিঙি... আমি কিন্তু মাঝি হতে পারি

বুকের ভেতরে রাগ... তুলে দিই সব কাঁটাতার!
রক্ত দিয়ে মুছে দিই দেশভাগ, এপার-ওপার

বুকের ভেতরে তির... ভাষাব্যাধ হয়ে পাহারায়
রাত্রিদিন জেগে থাকি, চোখ লিখি রোজ কবিতায়

বুকের ভেতরে চোখ... চোখে চোখে বাংলাভাষা বীর
বর্ণমালা জুড়ে আছে কত কত শহিদশিবির

কত কত ভাঙ্গা পাড়... কত বজ্র... কত ঘুর্ণিঝড়...
মাথাভরতি স্বপ্ন আর কুলুকুলু বাঙ্গালীর স্বর

বুকের ভেতরে আমি আগলে আগলে রাখি ভাঙাবুক
ভাঙা বাংলা জোড়া লাগলে সেরে যাবে আমার অসুখ...

 


কুঞ্জবন

এক-আধটা চুমু ওড়ে, বেশি বেশি ঝগড়া-ঝাটি হয়
মনে আছে আমি তোর দুষ্টু দুষ্টু লালন ফকির?
মনে আছে আমাদের বাংলাভাষা ঘুঙুর-পায়ে ‘ঝুম্‌’...
এক-আধটা চাঁদ অড়ে, বেশি বেশি আকাশ কুসুম
সখী, এই কুঞ্জবন দিগন্তের রং মিলেমিশে
যুগে যুগে জাতিস্মর, যুগে যুগে প্রেমের বাগান
সখী, এই কুঞ্জবন পাত্র চাই- পাত্রী চাই মুছে
হয়ে উঠতে পারে আলো, প্রেমানন্দে জাগা বাংলাগান

আলো সূত্রে আমরা পাখি, আলো সূত্রে আমরা রোজ ভোর
দুই পাখি উরে যাচ্ছি শূন্য থেকে পেড়ে আনতে ভাষা
ঝলসে যায় ডানা, তবু মুখ থুবড়ে কখন পড়ব না
গান আনছি ঠোঁটে ঠোঁটে, কুঞ্জবন ফিরছি ভালবাসা

এক-আধটা গান অড়ে, বেশি বেশি গুন-গুন চলে
সখী এই কুঞ্জবন পেয়ে গেছি চাকরির বদলে

 


কবিতা

নিজেকে ভেতর থেকে প্রথমে কিছুটা উপড়ে নেবে,
নিয়ে নিজেকে প্রতিভা ভাববে, তুমি বিরল প্রতিভা।
টাটকা জখমের দাগ মুছে দেবে গাছেদের গায়ে,
ন্যাংটো গাছেদের গায়ে, ঈশ্বর তখন স্নানরত...
অস্ফুট পিপাসা পাবে, কিন্তু এই খেলা বিনয়ের!
এই খেলা সাধকের বুকের ভেতরে ঘুণপোকা!
দিনকাল গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ঝরে পড়ে অবিরত...
অতএব, হে শাশ্বত ক্ষত, তুমি একে কবিতাই
ভাববে, না, অন্যকিছু ভাববে, সে তোমার ব্যাপার,
আমি শুধু এই আজ অভিজ্ঞতা থেকে বলে যাই
মাথার ভেতরে গুজবের মতো আসে কবিতারা...কিছু ঘটে অবশ্যই, বাকিটুকু শুধু রটে যায়!

 
কবিতা সমগ্র - ১২
উদয় শঙ্কর দূর্জয়
 

আনমনা রোদ্দুর ভেজায় হৃতমহল 

 

বাদামী এনভেলাপ খুলতেই উড়ে যায় গুচ্ছ গোলাপ; টুপটাপ 

লাজুক শব্দগুলো লুকোতেই পশ্চিমে ওঠে মেঘের দেয়াল। তখন 

জানালায় নেমেছে ঘনঘটা, আঁচলের আড়ালে রোদনসূত্র গুছিয়ে নিয়ে 

এক ঝাঁক বিহগ ঠিকানা ভুলে উড়ে যায়। মোহনচূড়ার পিঞ্জরে লেখা গিরিখাদের 

পাণ্ডুলিপি পড়তে পড়তে অশ্রুপাতের রং বদলায়। বালিকা তখনো খণ্ড খণ্ড মেঘপুঞ্জের

মাঝে দৃষ্টি ফ্যালে; প্রত্যাশিত আলোক বিন্দু দেখাবে বৈকুণ্ঠের দুয়োর। 

 

সব ভাঙা স্যুটকেস, জামার বোতাম, স্কুল ইউনিফর্মের ছেঁড়া হাতা, পিতলের মেডেল

গোছাতে গোছাতে অভাগিনী, শুকিয়ে ফ্যালে অদৃশ্য সজল প্রপাত। ফিরে যায়

লিখিত দলিলে, যেখানে কালির স্বাক্ষরে ঘটেছিল শুধুই দেহ বদল। তবু বদলে যায়নি

মনের অভিধানে লেখা যত সুখ-যাতনার ত্রিলিপি। পুরুষতান্ত্রিক নীতির কাছে হেরেছে

মূল্যবোধের সবক’টি অনুরাগ; চুর চুর হয়ে গ্যাছে ছান্দসিক ইচ্ছে যত। 

 

একদিন দখিন হাওয়ায় সরে যায় বুকের কাপড়; হু হু করে ঢুকে পড়ে কোনো ইংলিশ

হ্রদের বৈকালিক ঐকতান। উদ্বেলিত ঢেউ, আঁধার চৌচির ক’রে এসে দাঁড়ায় অন্দরচিত্তে। কবিয়াল যেন

ঠিক ঠিক অস্পৃশ্য অবয়ব।  যেদিন বেডরুমের সব ধুলো সরিয়ে একদল প্রজাপতি ঘরময় ওড়ে, সেই থেকে

রুপুর সব অজানা সৈকত হঠাৎ শ্রাবেন ড্যাফোডিল আর পুরুষ জিনিয়ার বাগান হয়ে ওঠে।

আনমনা রোদ্দুর ভিজিয়ে দিয়ে যায়, পড়ে থাকা হৃতমহলের ঝিমানো বাতিগুলো।

নিমগ্নতায় ইস্টিমারের অন্তরিপা গীত 

 

তোমাকে দেখার পর এক অবিরাম সোনালি মেঘ নেমেছে  সমুদ্রালয়ে। 

তামাটে তানপুরায় বেজেছে হাওয়াই বাঁশি। ভেজাভোর আলোকরাশি ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছে

গৃহমন্দিরে। তারপর থেকে দিকভোলা হরিণ বালক ইচ্ছে করেই ভুলে যায় ফেরার ঠিকানা।

 

তোমাকে দেখার পর ক্লাক্টন সীর সব মধ্যরাতের বাতিরা নেমেছে

বালুর সংসারে। আঁজলা ভরা এক শীতল-শুভ্রতা পান করতেই

কলরোল বেজে উঠেছে নির্জন রথে। সেই দেখার পর চৈতন্যের ভেতর

আলোর জোনাক ছুটছে গ্রহপুঞ্জের মতো। 

 

বিষাদসূত্রে বাঁধা যত দগ্ধ ঋতুর গান, সব যেন মুছে ফেলেছে উইলোদের বেলান্তের ছায়া।

উড়াল পর্বত থেকে কাস্পিয়ান সমুদ্রে ঝরে পড়া নিশ্চুপ বিরহ থেকে রাগিণী শিখেছে

উন্মাদনার স্বরলিপি। অম্বলা নদীর বুকে দাঁড়িয়ে ওয়াটারমিল খুঁজেছে

রুপুর হাতে জড়ানো অদৃশ্য মায়ার প্রপাত। 

 

তোমাকে দেখার পর থেকে তুষার ওমে মুছে গ্যাছে

ডী-নদীর নিঃসঙ্গ অস্থিরতা। সোয়ানের ডানায় জলবায়ু ফেলেছে

সবুজ চিহ্ন; শিমুল তুলর মতো উড়ছে সফেদ ঢেউ শৈতিকা ভূ-গ্রহে।

 

তোমাকে দেখার পর

লণ্ডভণ্ড করা টিসুনামি, ক্ষমা প্রার্থনা পূর্বক ফিরে গ্যাছে, ব্যাকওয়ার্ড দৃশ্যের মতো।

ঠিকঠাক পত্রারাণ্যে নেমেছে আনন্দআলো। কার্জন পার্ক গাইছে নিমগ্নতায় ডুবে থাকা

ইস্টিমারের অন্তরিপা গীত।

উড়ছে মেঘের পালক শ্রাবণের মাঠে

 

উড়ছে মেঘের পালক শ্রাবণের মাঠে, আঁধারে পুড়ছে আলো বৈকালিক প্রিয়টানে

সবকটি জানালা খুলে গেলে রোষাবেশে, মুঠো ভরা আর্তি ঢুকে পড়ে কঙ্কণ সুরতানে

ঝরে গেলে দগ্ধ অশ্রু বিষাদ অনুরণনে, ঝাঁক সাজবাতি জোনাক কুড়িয়ে আনে

অমন করে ফেলে গেলে চিহ্ন হৃত-পাথরে, শুধু ছুঁয়ে দ্যাখ রক্ত-রঙ দীপ্ত অভিমানে 

 

ও চোখের উদ্যানে সবুজ গাছালি মৃদুমন্দ পায়ে, বহুকাল পরে সে খুলেছে মন বিচরণে

একদল হরিণ শাবক দাঁড়ায় সচকিত চোখে, ভোরের ভেজা তৃণ মেখে খোঁজে সমীরণে

রুপোলি মাছ শিকারের কৌশল রেখে গেলে, স্রোত এসে খুঁজে যায় তিথির অবলম্বনে

এক মাঘী পূর্ণিমায় আকাশ পাশে হাঁটলে, পাল তুলে হৃতমনা নৌকা বয়ে যায় উজানে

 

এক মধ্য দুপুরের ছাই উড়িয়ে নিলে আঁচলে, একাকী মাঠ পেরুবার কালে আনমনে

শৈশবের সব ফুল স্মৃতির পৃষ্ঠা ভুলে গেলে, শুকনো পাতায় লেগে থাকে ধুপ সন্ধ্যা নভমনে

কুয়াশা কাল পেরুলে হঠাৎ উজ্জ্বল আঁধারে, জপে যাবে এক শুক্লপক্ষ সে নাম প্রাণমনে

এক মরু মিছিল রেখে মৃদু সুবেহসাদিকে, এক ভীরু খরগোশের মতো লুকিয়ে যাবে সন্তর্পণে

ছেড়া ছেড়া মেঘপুঞ্জ

 

১।

প্রাচীনা রূপবতী বন্দরে ভিড়েছিল সাইরেন পেরিয়ে আসা আলবার্টাস,

ঘুম চোখে মানচিত্র দেখতে দেখতে জেনেছিল, কাঁটাতারহীন ভূগোলকের কথা। একদিন প্রত্যাশার দেয়ালে ফুটবে জোস্নার ফুল, তাইতো তামাটে ডানায় জমে থাকা ওম, ভুলে গ্যাছে ফেরার ঠিকানা।

 

২।

দক্ষিণ পাঁজরে জমে থাকা একশ’টি প্রপাত, বিস্ময়বোধক চিহ্ন ঢেকে দিতে 

কিছু সোনালি মাছ বদলে ছিল গতি। তবু সে প্রপাত এখনো বহমান

 

৩। 

যুদ্ধাহত জাহাজ সব বিষাদ কুড়িয়ে এনে দাঁড়াত উঠোনঘাটে, এক মৃত্যুজাত ট্রাক

দিব্য ফেলে যেত খবরের কাগজ। মৃতের নামের জায়গায় লিখত ফুলের নাম, 

আমরা সেসব ফুলের নাম জেনে নতুন অবলম্বন খুঁজতাম পারা ঝরা আয়নায়...

           

৪।

সূর্যের নষ্ট আলোয় ভোরগুলো রোজ রোজ পুড়ে যায়, স্ট্রবেরির শরীর থেকে খসে পড়ে

শিশুদের রক্তের হিমোগ্লোবিন, তবু লেন্সের পর লেন্স লাগিয়ে ঘাতক খুঁজে পাই না। 

 

৫।

ভোর হতেই ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের নামগুলো  কুয়াশার মত ঝরে কফি কাপের বারান্দায়

এত অন্ধকার এত বিভেদের দেয়াল তবু স্বপ্নের সোনালি মেঘ নামে আকাঙ্ক্ষার দরজায় 

সোনালি মেঘের দল

একদিন লিখতে লিখতে সোনালি খণ্ড-মেঘেরা বাজালো নূপুর

তরঙ্গ পায়ে উচ্ছল নদী উঠলো সেজে, খুন করে মধ্য দুপুর

যাতনার শহর পার হয়ে, শঙ্খচূড়া পেলো সুদূর আলোর দেখা

আকাশ বাতাস পিছনে ফেলে, কপালের টিপ ছুঁয়ে দেখল একা

 

একদিন গাইতে গাইতে হরিণীর সুরে, হেঁটে গেলে জুনিপার দেশে

হাতে বকুল সৌরভ, পলাশ আর রক্ত জবার ছোঁয়া নিয়ে বাঙালি বেশে

সিঁথিতে সূর্যের গুড়ো, হাতে রুপোলী বীণা, ধীরে ধীরে নামলে কিনারায়

ম্যাপল পাতা স্বাগত জানিয়ে, রেখে গেলো মুকুট এক শুভ্র বিছানায়

সিক্ত বেহালার ভৈরবী সাজ

 

তুমি চাইলে কতটা মেঘ পথিক হয়ে ওঠে

এক বৃষ্টি-বারান্দা হঠাৎ নদী হয়ে বইলে

অমন সিক্ত বেহালা উজানেতে বাইলে

সব অভিমান শীতের পেয়ালা ভ’রে ওঠে

 

তুমি গাইলেই বাদল, রাগিণীর সুরে বাজে

উদ্যান; পাইনের বাকল আঁচল হয়ে উঠলে

জল কল্লোল সোনালি বৈভব মুছে ফেললে

নকশি হাতে আলোরা ছোটে ভৈরবী সাজে

 

তুমি ভেড়ালে ঢেউ, যাতনা নদী হয়ে নাচে

পাথর জল হরিৎ শরতের কোনো মহাকালে

বৃষ্টি মাখা সফেদ পারাবাত সামনে দাঁড়ালে

আরেকবার অনঘ পরান পাগল হয়ে বাঁচে

রংতুলির জলসায় আনন্দ মহল

হেমেন মজুমদারের ক্যানভাসেই এমন সিক্ত বসনারা ঝরিয়ে যায় বহুমাত্রিক 

রামধনু। সমুদ্র শরীরে জড়িয়ে অঙ্গনা কখনও হয়ে ওঠে অবিরাম ইরোটিক

প্লাবিত ঝর্ণারাশি গতিপথ বদলে ন্যায়, রুপালি লিরিল বালিকাদের সৌম্য

দেখে। ঝুলন্ত মেঘ সলিটারি রিপারের গুঞ্জন শুনে আরও কাছাকাছি ভৌম

নেমে এলে, অন্তর্বাসের গোপন চৌকাঠে ছাপ ফেলে যায় বয়ঃসন্ধি বালিকা

 

জিবনানন্দীয় পুকুর ঘাট এখন শোবার ঘরেই। কৃত্রিম জলজ ধারায়

শুধু সিক্ত এখন ত্রিমাত্রিক তনু। ভ্যানগগ পিকাসো; চকচকে রং মেখে

হয়েছিল পশ্চিমের। রূপের বাঙলায় সুলতান দেখেছিলেন বিশালকায়

রংসিক্ত রমণী। অঙ্গে জমে ছিল হিম পুলক। উন্মাদনা ফুটেছিল চিবুকে 

 

এখন নগ্ন পুকুর-জল আর সিক্ত আঁচলে সাজবে কোন সে পোড়ামুখি

কোন বেহায়াপানা এখন দুরন্ত পায়ে; ঝংকার মনে রাখবে জল দাপানি

সমুদ্র ও শহরিকা

 

সমুদ্র এবং শহরিকা  -১

এ শহর কবিতাহীন ইস্পাত আর কাঁচের। হিম আর বরফের। ভীষণ একলা

টেমসের ঢেউয়ে ঢেউয়ে হারায়ে কুল। বার্চ পাইন উইলোদের সংসার। এবেলা

কেড়ে নিয়েছে ঘুম বারটেন্ডারের। অস্তরাগের কোলাহল ডুবতেই ঝাঁক সীগাল

ভুলে গিয়ে তুষার-ওম, দীঘল গ্রহপথ পাড়ি দিতে দিতে পৌছে যায় ক্রান্তিকাল

তবু কবিতার উপাদান নাগরিক হাওয়ায় ওড়ে অনিঃশেষ। সে যে বালিকার শর্ট

স্কাটের ন্যায় ছান্দসিক, পালকবিহীন ইষ্টিমারের খুলে দেয়া বোতাম। লুটপাট

 

 

সমুদ্র এবং শহরিকা  -২

উড়ছে মেঘ ধূলি, মুঠো মুঠো; লেপ্টে যাচ্ছে শরীর। অনিরুদ্ধ মেঘের ঠাস ছায়া

মেখে নেমেছে সমুদ্রবতী। ডানায় ছড়িয়ে বালি, রোদ্দুর ছোঁবে বলে তুমুল মায়া

ফেলে বৃক্ষবিভাস থেকে উড়ছে ধোয়া। রুপোলি বন্যায় আরো কিছু ধুলিজাল

সাইরেনে যাচ্ছে বেজে। সমুদ্র-ফেনায় নিশিকালের সঙ্গমে পড়ে থাকা অনাদিকাল

শঙ্খের গহবরে আদীম চুম্বন খুঁজতে। অজাত অশ্রুপাত। অঙ্গার ও আগুণের

আত্মিক ঘ্রাণ ভুলে জলজ ভ্রমণে তুলে নিয়ে যাচ্ছে গুহ্যসূত্র নিষ্প্রভ ঢেউয়ের

 

সমুদ্র এবং শহরিকা -৩

নিসর্গের ডানা বেয়ে কুয়াশা নামলে, লিরিল বালিকা ড্যাফোডিল পেরুতে পেরুতে

ফেলে যায় তারাগুচ্ছ। বিনির্মিত পথ রেখে শিলাখণ্ডের জমানো খনিজ পেয়ালাতে

পান করে সবুজ আপেলের জন্মান্তরবাদ। দূরে। বহুদূরে ঘাসের সমুদ্রে বেড়ে ওঠা

বাকলহীন বৃক্ষ ঠিক যেন প্রতীক্ষিত যুবক। খুলে যায় গিট। জটিল সমাধানের রিমোট

শহরের আন্তর্জালিক চিঠির বলাকা ফেলে গেলে দীর্ঘশ্বাস, দাঁড়িয়ে ল্যাম্পপোস্ট

ঠিক এক শতাব্দীর পর সমুদ্রের কংক্রিট ঢেউ উড়বে অরন্যার ঝুল বারান্দায়

তোমার জন্য অপেক্ষায় আছে

তোমার জন্য অপেক্ষায় আছে

                ছাপ্পান্ন হাজার রাই সরষে মাঠ

                শাপলা শালুক রক্ত জবা প্রথম সুর্যোদয়।

অপেক্ষায় আছে

                ধরেশ্বরী, কর্ণফুলির কুল কুল তান

                যমুনার ঢেউ আর পদ্মার পাড় ভাঙ্গা শব্দ

                কৃষকের ঘাম ঝরা মেঠো পথ, পাকা ধান ক্ষেত

                মাটির সোদা গন্ধ, দুর্বাদল।

 

এই ময়দান, শিশু পার্ক, রমনা বটমূল

কার্জন হল গর্জে ওঠা ঊনিশ পাঁচ দুই

টি.এস.সি চত্ত্বর নির্মল আকাশ

অপরাজেয় বাংলা এই বুকের সৌধ

রক্তমাখা পিচ ঢালা পথ শহীদ মিনার

                                     অপেক্ষা করে আছে।

 

অপেক্ষায় আছে

                ধানমন্ডি লেক জল ধারা

                বত্রিশটি অপলক কপোত দৃষ্টি

                সংসদভবন খোলা প্রান-র অথই সবুজ সমাহার।

অপেক্ষায় আছে

                সুদূর রেল লাইন বৃষ্টি মেঘ জল পবন

                সারি সারি সুপারি বৃক্ষ, মধুপুরের বন

                সূর্য্য ্লান সেরে কোন নারী পুজোর ফুল হাতে।

 

তোমার জন্য অপেক্ষায় আছে

                চোদ্দ কোটি প্রদীপ, ছয় ছয়টি ভোর

                বেতার কেন্দ্র রৌদ্রময় কঁথার কাপন

                জন সমুদ্র উন্মুক্ত মঞ্চ কল রেডি

                মায়ের গিট বাঁধা শাড়ীর আঁচল

                গলার তাবিজ দরগায় মানত

                মুক্ত দিগন-, বিশুদ্ধ সরোবর

                রণতরী কুচ্‌কাওয়াজ স্যালুট সম্ভাষণ,

                তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে

                বিজয় মাল্য সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সম্মান।

নিরুপম প্রার্থনা ছিল 

অভিবাদন এই মেঘ বৃষ্টি জল ধারায় 
এই সমুদ্র স্নান জল কল্লোল এই অসীম নীল 
অথই গভীরে নামা শুধু তোমাকে দেবো বলে 
    কি নিরুপম প্রার্থনা ছিল 
মুঠো খুলে দেখি সবটাই ছাই 
মেঘেরা দল বেঁধে ফিরে গেছে 
তবে কি ডেকে ফিরে গেছে 
    পড়ে আছে হলুদ পত্রাঞ্জলি 
কি অন্ধকার কি মুষল ধারায় ভিজছে অধরা 
তোমাকে দেবো তাই 
রুমাল খুলে দেখি বিবর্ণ বিষণ্ণ পুষ্পাঞ্জলি 
তোমাকে দেবো বলেই 
    কি আরাধনাই না করেছিলাম 

আকাশ হলো কালো কাক 
বৃষ্টি ধুয়ে দিচ্ছে তো দিচ্ছে 
    কিন্তু অন্তর দেয়ালে লেপ্টে থাকা কাজল 
তার কি হবে 
পড়ে থাকা অবশ দেহ তবু প্রচেষ্টা নিরন্তর 
তবু তোমাকে দেবো বলেই 
    নিঃশ্বাস এখনও জীবিত। 

 

 

কখনও জানা হবে না

আজ জ্যাকসন হাইটের সব আলো গুলো যেন 
নিভে গেল একসাথে! নীরবতার একরাশ কালো ধোঁয়া 
সাঁঝের বেলাটাকে গাঁঢ় থেকে আরও গাঢ় করে তুলল! 

আমি জীবন জীবিকায় নিয়ত ন’টা পাঁচটা 
আফিস করে চলেছি, কান্তির অভাবে অথবা 
খুব অজান্তে, হয়তো ব্যস্ততার নিয়ম-অনিয়মে 
কোন শারদীয় পড়ন্ত বিকেলে
ক্যামন আছে সে আর জানা হ’ল না। 

আর একটি বারের জন্যও জানা হবে না; সুমিতা 
তুমি ক্যামন আছো। আজ আমার প্রতিটি কোষে 
রক্ত কণিকায় মাতাল অনুভূতি, নিঃশব্দ পথে 
অজানা পথিক। 

আমার চেতনার বিছানা জুড়ে নেমে আসে 
আঁকা আঁকি আর কাদা মাটির এলোমেলো গল্প গুলো। 
সন্ধ্যা বাতি জ্বালতে যখন দেশলাইয়ের জন্য 
আমার বাড়ীর দরজায় দাঁড়াতে আমি আবেগাপুত 
অপলক নিস্তব্ধ বালক, ভালোবাসার কী আকুতিই না ছিল! 
রন্ধ্রে রন্ধ্রে উপলব্ধিতে, অনুভূতির ভ্যাজানো দুয়োর 
খুলে যায়...। 

তুমি যোজন দূরে, আর এই আমি পড়ে আছি আটলান্টিকের 
এপারে সংসার ব্যঞ্জনায়, নাট্য রচনায় কাটে, 
ছেঁড়া ছেঁড়া স্মৃতির অন্তরাতে বেঁধে সুর বাঁধি তোমাকে, 
তবু কখনও জানা হবে না সুমিতা তুমি ক্যামন আছ! 

সমুদ্র এবং শহরিকা  -৪

ক্ল্যাকটন সৈকতের গ্রীবা থেকে মুছে যায় ধুলোপাহাড় বালির প্রাসাদ; বেলাশেষে। আলোছায়া

নেমে যায় উজ্জ্বল নীল গহনে। বৃষ্টি হ্রদ পেরিয়ে যেতে, থোকা থোকা ঝুমকো আলোর ফুল

অন্ধকার গ্রহণকালে মুছে ফ্যালে তীব্র দহন। ব্যাথিত প্রতিধ্বনি খুঁজতে আজো কলরবের দুকুল

অপেক্ষায়, স্থির জলরাশির কাছে। হ্যারিস পাখির বাদামী চোখেই বিষাদ কলতান; মোহ-মায়া

এক শুক্লপক্ষের কাছে গুহ্য চিত্রলিপি জমা রেখে অন্য দিগন্তে লেখাতে চায় নাম। এরপর

রাত্রিদেবীর সব বাতি ঝলসে উঠলে মায়া ভুলে যায় সব ফিনিক্সরা। নিস্তব্ধতা অতঃপর

 

সমুদ্র এবং শহরিকা  -৫

আরও একটি অগ্নি তুষার অপেক্ষার কাল। এ শহর ভিজবে বলে আড়িপাতা গুহাতেই

বুনেছিল প্রার্থনার নকশি করা শিশির। রিজেন্ট লেকের শীতল জলগুচ্ছ প্রত্যাশারই

শেকল বেয়ে উড়োহাওয়ায় ছড়িয়েছে ডানা। সমুদ্র-পথ জেগে ওঠে। বিরাম চিহ্ন এঁকে

স্টারলিংক উষ্ণ-গিরি-পর্বত পেরিয়ে দাঁড়িয়েছে নগর কার্নিভালে। ধুলোস্নাত এ শহর

ভিজবে বলে ডুবসাঁতার নেমছে পথে। পাললিক তটে রকবাঁধা সমুদ্র কল্লোল

সন্তর্পণে সয়ে যাচ্ছে অগ্নিরথের বিরহ বেহালা; কান পেতে শুনছে জলমহল

 

সমুদ্র এবং শহরিকা  - ৬

জাগ্রত রক যেন শৈবালিক পাহাড়, অনাবৃত জলসমগ্র আহ্লাদে আচ্ছাদিত

শঙ্খ-গহ্বরে কান পাতলেই সমুদ্র গর্জন উঠে আসে; স্বাপ্নিক নিরবধিত

ঢেউয়ের প্রপাত তাড়িয়ে দিয়ে যায়, নুড়ি পাথরের মৃত আকাঙ্ক্ষাগুলো

আর কিছু ক্লান্ত আকাশ একে একে পেরিয়ে যায় ফেরার গুঞ্জন শুনে। আলো -

আন্ধকারে এ নগর গুছিয়ে নেয় গণিতের পৃষ্ঠাশীল্প। আর আমরাও বিদায়ীপাঠ

লিখতে লিখতে মায়ার লবণাক্ত ক্লেদ লুকিয়ে রাখি দ্বিপ্রহর। ফেলে যাই হারভেস্টার-মাঠ

হৃদভূমে জন্ম নেবে কি ইচ্ছার বর্ণমালা
 

কি মমতায় বেঁধে ফেলেছো। 
তবে কি আবার মন পাখি খুঁজবে আলো 
আলোর শেষে। 

একদিন রূপালী বর্ষা ধারা 
নামবে তেপান্তরের বিলে, সে লিলুয়া হাওয়ায় 
কান্ত ছায়ায় রৌদ্র পোড়া গন্ধ মুছে ফেলে 
আবার বুকের টেনে নেবে। বলবে 
নীল মাখ প্রিয় দু’হাতে। বিশ্বস্ত চোখে 
যে ঢেউ জেগে উঠতো গোপনে, সেখানে গভীরে নামো আরো গভীরে। 

রাতভোর গল্প হবে, আবার বিষণ্ণতা কাটিয়ে 
লেকের ধারে আবৃত্তির আয়োজন জুড়ে 
থাকবে নিরুপম প্রার্থনা। 

আবার সুরের পাখি ঝরাবে পালক 
আমি পড়ব ধারাপাত তুমি খুঁজবে অরণ্য চোখে। 
দু’হাতে কুড়াবো রাশি রাশি শিউলি 
ঘাস ফুলে ভরা আঁচল ছেড়ে 
প্রিয় ঘ্রাণ মেখে নিও, আবার 
শারদ সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বলবে 
এই নীপবন এই গড়ের মঠকে স্বাী মেনে। 

কিন্তু মনকে চিনি ভালো করে 
সে কোষে জাগবে কি স্পন্দ 
দীপালী আলোয় হৃদভূমে জন্ম নেবে কি 
ইচ্ছার বর্ণমালা। 

 

 

একদিন ভালোবাসা ছিল 

একদিন জমা ছিল প্রেম বিশাল আটলান্টিকের মত 
            উচ্ছ্বাস ছিল, ছিল কৌতূহল অসীম। 
একদিন কথা হোত গোপনে 
বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে, 
ধ্র“বতারা জ্বলতো চোখের তারায় 
বৃষ্টির উদ্যানে ঘ্রাণ ছিল অবিরাম, 
একদিন পড়তাম ধারাপাত বর্ণমালা 
        ব্যাকরণ আর শ্লোক বেলা। 
একদিন গল্প হত রাত ভোর 
একদিন হেঁটে যাওয়া ছিল সবুজ ঘাসে 
সরষে ক্ষেতে, মটরশুঁটির বনে 
বটের নীচে অতি গ্রীষ্মে অথবা অতি হেমন্তে। 

একদিন অপোয় ছিল ভীষণ সুখ 
প্রাপ্তির টান ছিল চুম্বকের মত, হারানোর ভয় ছিল 
তবে কোন সংশয় করেনি পিছুটান। 

একদিন তোমার জন্য জমানো বরফ ছিল চোখে 
রূপোলী ভোর, সদ্য ঘ্রাণ, পুজোর ফুল 
ধূপ ছিল সন্ধ্যায়, নিশি প্রদীপ, গানের আসর ছিল। 
একদিন তোমার জন্য ফুল ফুটতো বাগানে, প্রজাপতির ডানায় 
খচিত প্রাসাদ ছিল 
আকাশ থাকতো নীল, বলাকার নীল মেখে নিতো ডানায় 
আকাশ মেঘলা হরে বিষণ্ণ মন হয়ে যেত লীন। 
একদিন পাহাড়ের বুকে 
        তারারা জ্বালতো দীপ 
জ্যোৎস্না গলে পড়ত পাদদেশে 
সুগন্ধীর বাতাস ছিল, ঢেউ ছিল বুড়ি ভৈরবে 
একদিন তোমার জন্য কোলাহল ছির স্কুল মাঠে 
অশান্ত দুপুর বেলা, স্কুল ফাকি ছিল 
একদিন ভুল করে চিঠি লিখতাম 
তোমার জন্য ভুল কলে ফেলতাম পাকা খাতায়। 
একদিন ভালোবাসা ছিল 
একদিন ভালোবাসতাম আমি তোমাকে। 

 

অহোরাত্র জেগে পাহারায় অনাদিকাল 
 

আগ্নেয়গিরি সমস্ত জ্বলন্ত আভা এই হাতের 
মুঠোয় তুলে এনেছি। তোমাকে খুশি করার জন্য 
হিমালয় খুড়ে অতল গহ্বরের সবচেয়ে শীতল জলে অবগাহন। 
দ্যাখো একটুও ফাকি নেই, তপ্ত বালু রাশির উপর দাঁড়িয়ে 
তবু করিনি এক খণ্ড মেঘের আশা। প্রার্থনা করেছি 
যদি মুক্ত বলাকা হতে পারি 
একবার তোমার স্বর্গীয় সংসারে 
উঠোনে ছড়ানো পৌষ ধানের পাশে লুকিয়ে দেখে নেবো এক পলক 

বিপুল জলরাশির উপর দাঁড়িয়ে, নায়াগ্রার জলপ্রপাত 
বুকে ধারণ করে দানবের মত শক্তিশালী 
তবু, যখন তোমার সামনে 
এই অসীম ধরণী নত নয়! আমি তো ধূলিকণা। 

শুনেছি মালিনীর বেশে খুব ভোরে সদ্য ঘ্রাণ মেখে নিতে 
যদি প্রজাপতি হতে পারি 
অহোরাত্র জেগে পাহারায় অনাদিকাল, দেখে নেবো 
দলগুলো কিভাবে ম্যালে চোখ তোমার অনিন্দ্য অনুপ্রবেশে। 

একদিন হতে চাই ঘাস নরম উদ্যান 
হেঁটে চল এই বুকের জমিনে 
আর কোন প্রার্থনা নেই। 

 

 
 
 
 
 

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?