কবিতা সমগ্র - ১৩
মৃণাল বসুচৌধুরী
প্রিন্স গোলাম হোসেন শাহ রোড, কলকাতা 

কবি মৃণাল বসু চৌধুরী - কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ পাশ করেছেন। কবির প্রথম কবিতার বই 'মগ্ন বেলাভূমি' প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। তারপর 'শহর কলকাতা' ১৯৭০ সালে, 'যেখানে প্রবাদ' ১৯৭২ সালে, 'গুহাচিত্র' ১৯৭৬ সালে, 'এই নাও মেঘ' ১৯৮১ সালে, 'শুধু প্রেম' ১৯৮২ সালে এবং 'ধারাবাহিক অবহেলা'১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৯৯ তে 'কবিতা সংগ্রহ',  ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় 'এবার ফেরো সন্ন্যাসে', ২০০১ সালে 'শব্দ নির্মাণ', ২০০২ সালে 'যদি ওড়ে উড়ে যায়', ২০০৩ সালে 'নির্বাচিত কবিতা' এবং 'মায়াবী উত্তাপ', ২০০৪ সালে 'স্বর্গ থেকে নীল পাখি', ২০০৫ এ 'স্বপ্নে সমর্পণে','শূন্যতার ছায়া'', ২০০৭ সালে 'যাদুঘরে শব্দহীন', ২০০৯ সালে 'মায়া বন্ধরের দিকে', ২০১০ এ 'ঘুম উড়ে আসে' ২০১১ তে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে 'বিকল্প চাঁদের কাছে'। 

কবি সম্মান - কবিপত্র, রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র সম্মান, প্রমা পুরস্কার, বিষ্ণু দে পুরস্কার, অরুণ মিত্র পুরস্কার, শীলিন্দ্র, জিগীষা, লোকসখা। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অ্যাকাদেমির 'বিভা চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার। বাংলাদেশ টাঙ্গাইল থেকে 'অরণি পুরস্কার, 'কবিতা বাংলা' ঢাকার আন্তর্জাতিক কবি সম্মান। 

তথ্য সংগ্রহঃ মিলনসাগর, কবির সভা। 

এখন না যাই যদি   

 

        এই দীর্ঘ  অসুস্থতা ঘিরে  তোমাদের প্রছন্ন বিদ্রুপ আর   

        অলস মুর্খামি  নিয়ে    তেমন  ভাবিনা

        রঙিন টিশার্ট    গোঁফ   কিম্বা

                   নিখুঁত হিসেবি ঐ  গরদের  শাড়ির বিভ্রম   

                           কোনকিছুই আর ক্লান্ত করছে না এখন  

                                                                                     

                     এখন সামান্য রোদ

                           দু’ ফোঁটা বৃষ্টির জল

                           মাটিগন্ধ মাখানো দুপুর

                     নির্জন খেলার মাঠ   একতারা

                ভাঙা  দূরবীনে     চেনা চেনা দুঃখ নিয়ে

                            অস্পষ্ট সেতুর নীচে  একলা যুবক  

                                 অনন্ত বিষাদ ছুঁয়ে পড়ে থাকা                                                                 মাটির প্রদীপ

                   এ সমস্ত আমি আর দেখেও দেখি না

 

      রাজরক্তে রাঙিয়েছি সব উত্তরীয়                                                    পরিখার  ওপারে এখন

                        দাঁড়িয়েছে দ্রুতগামী ঘোড়া

            এসো 

          এখন না যাই যদি

                          কবে আর কখন সময়

শীতের হাওয়ায়

 

শীতের হাওয়ায় কাঁপতে কাঁপতে যে মোমবাতিটা  জ্বলছিল...তার পাশেই

পড়েছিলো এলোমেলো জীর্ণ পাণ্ডুলিপি..শব্দহীন স্মৃতির পাহারা ....  

 বসেছিল সতর্ক বেড়াল      যার চোখ মাছ নয় দুধ নয়  আগুনের দিকে

উড়ছিল ময়ূর পালক ...মাটিচাপা বারুদের স্মৃতি .

 স্বপ্নহীন সমাধির   শব্দ ও অক্ষর থেকে উড়ে আসে মুগ্ধ ইহকাল

উড়ে আসে সুগন্ধি অতীত

            বাতাসবাহিত প্রেম

                    নান্দনিক মায়াবী অভ্যাস

উড়ে আসে ছাইমাখা সুখের শরীর

আসে       হাওয়ায় জড়ানো শীত

                    শীতের মোড়কে মেঘ

                    মেঘের আড়ালে স্মৃতি

                    স্মৃতির  উঠোন ঘিরে   

                       আলো    প্রতিবাদী আলো

 সমস্ত দেওয়াল জুড়ে বিদ্রোহী আলোর সঙ্গে

                            নেচে ওঠে ছায়ার শরীর

এতদিন    

 

     ভুল অর্থে প্রদক্ষিণ

            নিরন্তর মুগ্ধ চতুরালি

     যুদ্ধের বদলে সন্ধি

        পাপোষের কাছাকাছি মোম

                    গবেষণা

       এতদিন

           ভুল অর্থে খাঁচা

             অহংকারী            বারুদের বিরুদ্ধে নালিশ

          এতদিন 

             নির্ভুল নিয়মে চাষবাস

                         শস্যাহীন এই বেঁচে থাকা

স্বপ্নঢাকা শাক

             

                 চালচুলো ভেঙে

                 সুখ আর শান্তির সন্ধানে     

                 সকলেই চলে গেছে বন্দরের দিকে

                 নেভা উনুনের  পাশে পড়ে আছে

                                   স্বপ্নঢাকা শাক

                          জরাজীর্ণ    মলিন চাদর

                    ক্রমশ পচনশীল  স্মৃতির শিকড়

                    পড়ে আছে ধর্মহীন প্রতীকী বিষাদ

 

                     ঝুলিভরা সর্বনাশ  নিয়ে

                         কোনদিকে যাবো ঠিক বুঝতে পারি না

                      জাহাজঘাটায় নয় 

                      হয়ত বা দেখা হবে

                                 ভেজাঘাসে

                        জ্যোৎস্নায়

                                        উন্মত্ত জোয়ারে

                         দেখা হবে         প্রতিরোধে

                             নিয়ত স্বাধীন কিছু দীপ্ত উচ্চারণে

                          দেখা হবে

                         অবিরাম হেঁটে যাওয়া     ছিন্নমূল      মানুষের ভিড়ে     

 

পাপ

 

                তুমি নেই

                 চুপি  চুপি পাপ ঢোকে ঘরের ভেতরে

                  কবিতা বা ছবি নয়

                   তহবিল চেটে খায় বর্ণচোরা সাপ

                তুমি নেই

                   এলোমেলো মেঘ জমে ভ্রমরের চোখে

                    পদ্মনাভি থেকে মধু নিয়ে

                   শব্দনদী  জেগে উঠে ভেজায় শিকড়

 

                   তুমি নেই

                    দীর্ঘতম ছায়া নিয়ে

                    মহুয়ামিলন থেকে  উড়ে আসে  নির্বিবাদী হাওয়া

                     প্রতিবাদী শৃগালেরা

                               স্নায়ুহীন যুদ্ধের দামামা ছেড়ে

                      পেতে চায় জমির দখল

                 তুমি নেই

                এ সমস্ত ধুলোবালি  মেখে 

                    অমোঘ অস্ত্রের পাশে 

                     পড়ে থাকা  শান্তিজল দিয়ে

                সযত্নে ভিজিয়ে দিই সাপ আর শব্দের শরীর

শৈশবের চাঁদ

         

        শৈশবের চাঁদ এসে বসে আছে দূরের পাহাড়ে

        কাঠের আগুন জ্বেলে

                অনাবাদী জমির ওপরে

               শুয়ে আছে গর্ভবতী  উদাসীন নারী

 

          শব্দহীন ঘুমের ভেতরে  কখনো আসো না তাই

          এমন নিশ্চুপ জেগে আছি

          জ্যোৎস্নায় জেগে আছে রাত

                         শাঁখের করাত

         এই জীবনের সুতো ধরে 

                    কে কোথায় কখন নাড়ায়

         এ সব বোঝার আগে          এসো

         বিষণ্ণ আড়াল ভেঙে

                 বিন্দু বিন্দু সুখ নিয়ে  

              শেষবার       শুরু করি

                           স্মৃতিময় স্বপ্নবাহী খেলা

যার বুকে অনন্ত আগুন

 

                                     কে কাকে পোড়ায়

                           বিপন্ন আগুনে পোড়ে কাঠ      নাকি              

                                         নীতিহীন  অন্ধ প্ররোচনা

                                 নিঃশব্দে পুড়িয়ে দেয়

                                         সম্পর্ক-বিলাস

                        কাদামাখা বিষয়ী শরীর

                    নিজের আঙুল ধরে হেঁটে যায়   অলীক শ্মশানে                                      

                     ঘোলাজলে  স্নান সেরে  

                ফিরে এসে                                                                                                                                  

                          হিমাগারে জমা রাখে অন্তর্বাস     

                                 নামাবলী                                                                              নির্জীব কবিতা

                  পরশ্রীকাতর কিছু সাপেদের ঠোঁটে

                  সযত্নে মিশিয়ে দেয় সোহাগি গরল                  

                   অক্ষম আক্রোশে

                   ভেঙে দেয়  যা কিছু সুন্দর

                 কে কাকে পোড়ায়

                            অস্থির লাবণ্য ঘিরে

                        যার বুকে  অনন্ত আগুন

                            সে কাউকে পোড়াতে পারে না

পিছুটান  

 

          তোমরা যারা ঘৃণা জমাও বুকে 

          এবং যারা প্রচণ্ড কৌতুকে

           ঝাউদরিয়ায় ছুটছো আপন মনে

 

            তোমরা যারা দাঁড়িয়ে আছো দূরে

            বলছো কথা  প্রাতিষ্ঠানিক সুরে   

                গাইছো মেকি মানবতার গান          

 

             হয়ত জানো বিষাদপুরের কাছে              

             সবার জন্য নৌকা বাঁধা আছে             

             নেই শুধু ঐ মোহের পিছুটান

অবস্থান

 

      প্রথম সারির এক কোণে নাকি  দ্বিতীয় সারির মধ্যমণি

      পছন্দের অবস্থান নিয়ে  দ্বিধা ও দ্বন্ধের মধ্যেই

                                        শব্দ হলো দরোজায়

        পলাশের মালা হাতে

                  কে যেন এগিয়ে এসে ছড়ালো আবির

            কে যেন বাজালো বাঁশি

        ফেরিঘাটে একলা দাঁড়িয়ে

                                কে যেন ডাকলো খুব জোরে

       তোমরা কোথায় সব

        স্বচ্ছতার পরিভাষা নয়

               শিকড় বা পরম্পরা নয়

        অবৈধ দখল নিয়ে

                     এখনও কি যুদ্ধবেশে ক্লান্ত জেগে আছো

        এসো

           দ্যাখো আজ    শবাগারে কি দারুণ বসন্ত নেমেছে

 

বাড়ি কোচবিহার। পেশায় শিক্ষকতা। তরুন লেখক। কবিতা লিখতে ভালবাসেন। লিখছেন কয়েকটি ওয়েব ম্যাগাজিনে। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ 'ধুলো ঝাড়ছি লাইভ'। 

কবিতা সমগ্র - ১৩
নিলাদ্রী দেব
কোচবিহার, পশ্চিমবাংলা

এক

চাঁদ প্রতি রাতে ভেঙে ভেঙে যায়।
আমিও।
আর ভাঙে প্রেম।
প্রেম পূর্ণিমায় নাইট বাল্ব জ্বালতে হয় না।

তারা হয়ে জেগে থাকা ভালবাসা
সাদা চাদরের আড়াই ফুট ওপরে ছড়িয়ে থাকে।
ওদের কাছে আত্মসমর্পণ করি, ওদের কাছেই।

সূর্যের সমান্তরালে আমি না, আমরা।

দুই

আদরপুকুরের বুকে
ছেঁড়া আকাশ ডুবে যায়, ভেসে ওঠে।
সে আকাশ দেখতে দেখতে
চোখ বুজে আসে।
কখন যে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসি!
পদ্ম পাতার নিচে কবিতা শোনায় কবি মাছ।
ডুবে থাকি কবিতায়, শ্যাওলা জলে।
জলের ওপর জেগে থাকে খানিকটা হাত
আর না-নেভানো সিগারেট।

সে আমার অস্তিত্বের মত এখনও জ্বলছে।

তিন

বন্দুক থেকে চেরি ফল বেড়িয়ে আসে না। এ ফলের বিনিময়ে বন্দুক কেনাও যায় না। উঁচু উঁচু সশস্ত্র পুতুলগুলো তাই এ ফলের সাথে খুব একটা পরিচিত নয়।
সশস্ত্র পুতুল চেরি খায় না। ওদের কালো পোশাকে চেরি রস দাগ ফেলে না।

যাবার আগে ছোট্ট আয়লান জেনে গেছে- কালো পুতুলের হৃদয় শুকনো রক্তের মতই ঝুরঝুরে।

চার

আপেলগুলোকে ভালবাসা ছুঁয়ে যায়। জমাট ভালবাসা লেগে থাকে ওর গায়ে. ঠোঁটে. চোখের পাতায়. এমনকি ভ্রূ'র আলসেমিতে।

আপেলে ছুরি বসালে তাই হয়তো রক্ত ফিনকি দিয়ে ওঠে।
আমরা কেউ কেউ দেখি. কেউ দেখি না।

শুনেছি
মানুষে মানবতার আরোপে আপেল...
আবার আপেলই বিজ্ঞানের ঘরে ছাদ হয়ে দাঁড়িয়ে।

এ আপেলের ভেতরই আমরা সবাই।
আর বাইরে
ছুরি হাতে আমাদের ঘাতক- আমরা।

পাঁচ
 

অচিনপুরে পুণ্যশ্লোক
(পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত স্মরণে)

 

ধূপের ধোঁয়ায় সাজানো বাগান
হাওয়ায় ভাসে জমাট শোক
অচিনপুরের রাস্তা ধ'রে
এগিয়ে গেলেন পুণ্যশ্লোক

অক্ষরেতে জন্মেছিলে
অক্ষরেতে শেষবিদায়
হঠাৎ ক'রে পালিয়ে গেলে
মিলিয়ে গেলে কবিতায়

স্তব্ধ বুকের ওঠানামা
চশমা-কাঁচে কুয়াশা
মিস্ট্রিগুলো জমতে জমতে
তোমার প্রতি ভালবাসা

তোমার খাতা আজও খোলা
ভাসতে থাকে রঘুর শ্লোক
অচিনপুরের রাস্তা ধ'রে
এগিয়ে গেলে, পুণ্যশ্লোক?

ছয়

মেঘলাবেলা ... নিম্নচাপ ...

নিম্নচাপের আভাস ছুঁয়ে
দুপুর হতেই সন্ধ্যে নামে।
আমার হৃদয় বন্দি থাকে
তোমার দে'য়া চিঠির খামে।

জানলা-কাঁচে বৃষ্টিফোঁটা।
জানিনা, আমি চুপ কখন!
স্বপ্নরাজ্য_ মেঘের ভেলা_
ভাসছে দেখি পরিযায়ী মন।

ভাসতে ভাসতে তোমার ছাদে ...
একলা তুমি_ জ্বরের ছাপ_
তোমায় আমায় মিলিয়ে দিল
হালকা হাওয়া. নিম্নচাপ।

জাপটে ধরে স্বপ্নটাকে
সুখের পারদ চড়ায় সুখ।
মেঘ ভেজানো চশমা-কাঁচে
তোমার হৃদয়. তোমার মুখ।

 
কবিতা সমগ্র - ১৩
সিপাহী রেজা 
প্রিন্স গোলাম হোসেন শাহ রোড, কলকাতা 

আবছা আলোর ঘোর !!! 

 

একটা লাল চোখ নিয়ে তোর দিকে তাকিয়ে আছি

               তুই ভয় পাস না?

 

আমি পুরুষ !

তোকে কিন্তু কখনোই বলবো না ‘একটু সরে বস, বরং

হুট করে জিজ্ঞেস করতে পারি,

"তোর গায়ে এত কড়া ঘ্রাণ কিসের?”

 

আচ্ছা বাদ দে ওসব ! তুই বরং গ্লাসে আরও একটু ঢাল,

বাদামের গায় ভিনেগার, পেঁয়াজ; মরিচের ঝাল!

 

তুই এত নির্বিকার থাকিস কেন?

এখন চোখের ভিতর হয়ে যদি তোকে মস্তিষ্কে নিয়ে যাই!

যদি বেফাঁস কিছু বলে ফেলি, অশ্লীল!

যদি ঘুমুর ছুঁড়ে বলি “নাচ, চুমকি নাচ!”

 

               হা হা হা  যদি আরও বলি,

               তোর তরতর করে কাঁপা শরীর চাই!

               চনমনে, একটু দ্বিধা – একটু তৃষ্ণা

               অর্ধেক প্রেম – অর্ধেক ছলনা

               কড়া খুবই কড়া !!! হা হা হা...

 

আচ্ছা বাদ দে ওসব! তুই বরং আরও একটু বরফকুচি ঢাল,

বাদামের গায় ভিনেগার, পেঁয়াজ; মরিচের ঝাল।

 

কি যেন বলছিলাম... ও... বিড়িটা দে,

একটা সুখটান, একটা চুমো, একটা নিশপিশে হাত,

একটা আঁচড়, একটা, একটা... ধ্যাত মনে পড়ছে না।

 

               তুই হাসছিস!!

               হা হা হা... ওভাবে ভাবিস না!

 

আমি পুরুষ!

নারীকে মোম ভেবে আগুন জ্বালানো আমার স্বভাব!

 

আচ্ছা বাদ দে ওসব! তুই বরং গ্লাসে আরও একটু ঢাল,

বাদামের গায় ভিনেগার, পেঁয়াজ; মরিচের ঝাল।

 স্পার্ক্‌!

 

একটা অসহ্য দিন,

আরও আছে চ্যাটের বালের অস্থিরতা! কোথাও কিচ্ছু নেই!

যারা আসে, বুঝায় নানাবিধ ধুনফুন – তাদের স্রেফ ভরে দিতে ইচ্ছে করে

 

একদম চুপ! রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম! বাইরে বৃষ্টি!

ভিতরে দগদগে ঘা! পাঁচিলে গজায় সম্ভাবনার নতুন নতুন বাল !

অথচ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক আগের জায়গায়।

 

এতদিনের দেখা ভরপুর যৌবনের শহর

হঠাৎই যদি বলে বসে -

আজ দিতে পারবো না, চলছে মাসিকের দ্বিতীয় দিন!

যদি ঢেকে দেয় জরায়ু; গুঁজে রাখে ন্যাপকিন!

তবে পরিনত এই টাটানো অসুখ, মৌলিক সুখ কীসে মিটাই?

 

মাথার মধ্যে সাউয়ার সেই উরকি – ধুরকি পেইন...

ইশ একটুর জন্য, স্রেফ একটুর জন্য ছুটে গেল লাস্ট ট্রেন!

 

কোন এক শালা হয়তো বলেছিল - বাঁচো নয়ত মরো!

উফফ কী অসহ্য! কী নির্মম!

বুকের মধ্যে শুধু ঘাই মেরে যায়; চুথিয়ার মত হাঁসি হেসেই যায়,

বলেই যায় – আজই বুঝি মরে যাওয়ার দিন, হেরে যাওয়ার দিন!

 

 

নেশাগ্রস্ত চাহিদা 

 

আমি বড় বেশী অস্থির!

একটা হুলুস্থুল রকমের প্রেম চাই

তোমার চুল থেকে পায়ের নখে মোড়ানো প্রেম চাই!

কনকনে শীতে আগুনের মত চাই তোমার স্পর্শ!

 

বলতে দ্বিধা নেই-

চাই তোমার সম্পূর্ণ ওম, দিনে কিংবা রাতে

চাই শরীর কাঁটা দিয়ে উঠা, তোমার প্রতিটি চুম্বন।

যতটুকু লিখে প্রকাশ করা যায় না তারও অধিক...

চাই নেশাগ্রস্থ যুবকের মত – “তুমি” নামক প্যাথিড্রিন।

 

সিনেমার মত একরোখা; উন্মাদ পাগলের মত,

অত বাধা – অত প্রতীক্ষা – অত ভূমিকা নয়

বাচ্চাদের আবদারের মত তোমাকে চাই, ফুচকার টঙে।

শুধু বিশেষ উৎসবে আয়োজনে- সাজানো পুতুল রুপে নয়

চাই দৈনন্দিন চলাফেরায় - রিক্সায় জনবহুল ফুটপাতে।

 

 আল্লাহ্‌র কিরা লাগে!একটা প্রেম চাই-

    অনেকটা তেঁতুলের মত-

    যেন জিব ছোঁয়াতেই শিউরে উঠে অনাবাদি শরীর।

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?