কবিতা সমগ্র - ১৪
গৌতম ঘোষ 
বিড়া, উঃ চব্বিশ পরগণা  

তরুণ কবি। ২০১৫এ গ্রাজুয়েশনের পর কয়েক বছর চাকরী করছেন। পেশায় ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছবি আঁকা আর চলে কবিতা লেখা। থাকেন উঃ চব্বিশ পরগণার বিড়া অঞ্চলে। কবিতার বই 'ডাইরির পাতা থেকে' ২০১৪ তে প্রকাশিত হয়। ২০১৬ তে 'আবছায়া জানলার কাঁচ'। বিভিন্ন ওয়েবম্যাগ, পত্র-পত্রিকায় লিখে প্রকাশিত হয় ওনার কবিতা। 

জীবন হচ্ছে কবি সম্মেলনের মত।
সবার বোরিং ঘ্যান ঘ্যান শুনে শুনে,
একেবারে শেষে যখন তোমার টার্ন
আসবে তখন দূর দূরান্ত তাকিয়ে দেখবে
তোমার টা শোনার জন্য কেউ নেই...

তর্পন

এক পৃথিবী জমিয়ে রাখা, বুকের ভেতর ঘর কোণে,
প্রেমপুজো এক কঠিন আচার, শান্তি কেবল তর্পনে,
ছিলে, আছো, থাকবে কালও,
দূরত্ব কার কি আটকালো,
তুমিই আমার শ্রেষ্ঠ ঠাকুর, মনের গোপন দর্পণে,
প্রেমপুজো এক কঠিন পুজো, শান্তি কেবল তর্পনে।

******

আসলে, সব মনখারাপ ই যে 'মন ভালো নেই' এমন নয়।
কখনো কখনো মন ভালো থাকলেও 'মনখারাপ' থাকে...

*****

আমার মৃত্যু গচ্ছিত থাক মৃত পাহাড়ের বুকে,
শিরদাঁড়া বেয়ে বিষ নেমে যাক সমাজের ভুলচুকে,
রক্ত দিয়ে হোক লেখা হোক মানুষের নামাবলি,
ক্ষুদিরাম ফের জন্মে উঠুক পৃথিবীর অলি গলি।

"হাসি হাসি পরবো ফাঁসি, দেখবে জগৎবাসি,
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি..."
আজ ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যু দিন ১১ই আগস্ট... আমার তরফ থেকে অজস্র প্রণাম... 
*********

 

আমার মৃত্যুর দিন

ভর করা এক শ্রাবণ, আর মেরুন রঙের শাড়ি,
তোমায় আমি কেবল শুধু দুঃখ দিতে পারি,
এই পৃথিবী আজকে ভুল,
পৌছে দিয়ো গোলাপ ফুল,
স্মরণ-সভায় ভাসছে যখন একলা আমার বাড়ি,
তোমায় দিলাম দুঃখ, তবু দেওয়াটা দরকারি।

********

একা...
জেনো শুধু পথ একা। পথিকেরা তার কিছু নয়...
সব ব্যথা বুকে চেপে, আজীবন বয়ে যেতে হয়।
তবু কিছু মন আছে,
হারাই তাদের কাছে,
নদীদের মনে বাঁচে পলি সঞ্চয়...
একটা জীবন তার কত কিছু নাম,
যে পাখিটা ফিরে গেছে তাকেও দিলাম,
ভালবাসা, অমলিন সুখ...
স্পর্শ করিনি তাকে,
ছুয়ে থাকি কবিতাকে,
সব ব্যথা বুকে চাপা, হৃদয়ে অসুখ...
জেনো শুধু মন একা। সঙ্গীরা তার কেউ নয়...
কিছুতো পাথেয় করে এজীবনে টিকে যেতে হয়।

*****

 

হিংসে করতে করতে,
নদীরাও একদিন পাথর হয়ে যাবে...

*****

 

মন ভিজেছে চোখের জলে; জলতো চোখের মোতি,
প্লাবন আসে আসুক তবু, জল হারালেই ক্ষতি,
হারিয়ে গিয়েও বাঁধবো দানা,
তোমার মনে এক ঠিকানা,
ঘর বেঁধে এক থাকবো সেথায়; দেবেনা সন্মতি?
প্লাবন আসে আসুক শুধু জল হারালেই ক্ষতি।

*****

 

তোমার কোনো দোষ ছিল না আমার কোনো দোষ ছিল,
বুকের ভেতর শব্দ গুলোর ফুটন্ত আফশোষ ছিল,
এই পৃথিবীর হাজার জাত,
এক চালেতেই কিস্তিমাত,
তোমার ইয়াসমিন ছিল আর, আমার শেষে ঘোষ ছিল,
তোমার তাতে দোষ ছিল না আমার তাতে দোষ ছিল।

*****

 

আমাকে ভুলের মত ভেবে, 
সাজানো ফুলের মত ছিঁড়ো, 
অথবা নদীর মত ভেবে, 
সহসা স্রোতের কাছে ফিরো...

*****

 

আসলে, ব্যথাদের ডাকনাম নেই।
নতুন করে দিতে হলে 'তুই' নাম দিতাম....

*****

 

"খুদ সে ভি মিল না সাকো, ইতনা পাস মত হোনা,
ইস্ক তো করনা,মগর দেবদাস মত হোনা...
দেখনা, চাহানা, মাঙ্গনা, ইয়া খো দেনা,
ইয়ে সারে খেল হে, ইসমে উদাস মত হোনা..."

*****

 

তুমি যাচ্ছ প্রেম দূরে দূরদেশে,
ওড়া পাখিদের চেনা মেঘ ঘেঁষে...

*****

 

"সব ফ্যায়সলা হোতে নাহি, সিক্কে উছালকে...

ইয়ে দিলকা মামলা হে, জরা দেখ ভাল কে...."

*****

 

যেদিন তুমি বৃষ্টি দিনের মিষ্টি কোনো সুর....
পাড় ভাঙছে, তখন আমার নদীরা ভরপুর...

*****

 

ভেবেছিলাম জীবন যেন পথ হারা এক গলি,
ভেবেছিলাম মনের কথা তোমায় খুলে বলি,
কিন্তু তোমার চোখের ওপর,
অবাধ্য এক সোলার টোপর,
আমায় তুমি ভাবলে শুধুই পাপড়ি ছেড়া কলি....

*****

 

#জীবনে দূর্দান্ত রকমের কিছু তো আমাকে করতেই হবে,
না হলে যার প্রেমে পড়ে ভাবুক কবি হয়ে গেছি, 
তাকেও কিছু প্রমান করার থাকবে না...।
একটা গোটা জীবনের ইনভেস্টমেন্ট,
এত সহজে লসে রান করানো যাবেনা।
যার জন্য জীবনের বহুমূল্যবান রাতগুলো জেগে পেন কামড়াচ্ছি,
এটলিস্ট তাকে তো আঙুল কামড়াতে বাধ্য করতেই হবে।

#এটা শুধু আমার কাহিনী কি? তোমার নয়?
তুমি চাওনা?
ভিড়ের মধ্যে তোমাকে ঘিরে হাজার লোক থাকুক....
কিন্তু "সে" দূরে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে নিজের কপাল কে দোষারোপ করুক?
এমন কিছু করো, যাতে "সে" রোজ তোমার ফেসবুক প্রোফাইলে এসে তোমার কর্মকান্ডের স্ক্রিনসর্টে "তার" মোবাইল ভর্তি করুক।
অতচ এতটুকু সাহসে না কুলাক যে, তোমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতে পারে....
*****

 

এজীবনে অজস্র প্রেম নেমে আসুক....
কিছু না কিছু করে ফেলবোই একদিন....

*****

দুঃখ আমার অশেষ,
শুধু পিয়াজ কাটার সময়....

*****

 

তিনটে নদী। এক চালা ঘর। বাড়তি কিছু ধার আর দেনা।
সময়, তো সে। খুবলে খাবেই। অপেক্ষাদের মান রাখেনা।

*****

 

রোপন করেছি ক্ষত!
ফুটে ওঠে সহস্র কবিতার গাছ,
তুমি শুধু জল দিও আনাচ-কানাচ...

*****

..হলদে রঙে ঢেকে যাচ্ছ সূর্য ডোবার দিক।
বুক হাতে ঠায় দাড়িয়ে আছে কিশোরপ্রেমিক...

*****

 

মরে গেলে তাকে এত মানুষ দেখতে এলো।
বেঁচে থাকতে কেউ আসেনি কেন?...

বুকের ওপর ছড়িয়ে থাকা দু'এক বিঘা জমি,
তাকেও দেখি ভাগ করেছে ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমী...

*****

 

মেঘলা দিনের বৃষ্টি শেষে ঝোরো হাওয়ার গান,
বোধহয় কিছু কমলো তোমার বাড়তি অভিমান...

*****

 

যে লোকটা নিজেকেও বিশ্বাস করে না,
সে লোকটাই সত্যিকারের নাস্তিক...

হপ্তা খানেক চোখের জলে ভেজার পরে জ্বর,
আজকে আমার স্মরন-সভা তোমার সয়ম্বর...

*****

 

আমি ফুলকে বলি, ফোটো,
তুমি সাগর হয়ে ওঠো ...
প্রিয় ফুল বলেছে, পারি,
শুধু তোমার সাথে আড়ি।

আমি রাগ করিনি তাতে...

প্রিয় ফুল গিয়েছে ছেয়ে,
আমার উঠোন ভরে; মেয়ে
ওগো ফুলের সুবাস মেখো,
তুমি সময় হলে দেখো....

আমি একলা বারান্দাতে....

*****

 

কোনও তারার মত বাড়ি
পেলে, হারিয়ে যেতে পারি

*****

 

সময় যেন সেতু। আর নির্দ্বিধায় এক লোক-
পার করে নেয় জীবন নদীর সমস্ত দুর্যোগ...

*****

 

মন রেখেছি ডুব সাঁতারে, তলিয়ে গেল খেরোর খাতা,
তুমিই আমার বিপদরেখা, তুমিই আমার পরিত্রাতা.

*****

 

 

সরকারি স্কুল
তুমি হিসেব দেখাও নদী, আমি ভাঙছি চোরাবালি-
আমার বইয়ের পাতা ভরাট কিছু অবাধ্য চুনকালি,
আমার ইস্কুলে এক পাল-
বাড়ে জীবন্ত কঙ্কাল,
তোমার মিড্ডেমিলে পেট ভরে যায়, মগজ থাকে খালি।
~ গৌতম

*****

 

দূর দেশের এক আলো,
তাকে না আটকানোই ভালো...
তাদের চিনতে পারি আজও
যারা দূর থেকে চমকালো...
তারা স্বপ্নে ভাসা তরী,
তারা ক্লান্ত দিগম্বরী,
তারা বুকের ভেতর ফুল ফোটানো
স্বপ্নদেশের পরী...

*****

 

দু'এক মুঠো কল্পনা আর বৃষ্টি মুখর রাত,
তোমার কাছে ফেরত যাওয়ার ব্যর্থ অজুহাত...

*****

 

 

হারানো সবুজ দিন। পিঠে বেঁধে বাড়ি ফেরা মন-
তুমিতেই বেঁচে আছে, তুমিহীনা জীবন-যাপন....

*****

 

খবরের পরে খবরে লেগেছে গুলি,
কবরের পরে কবর জমেছে লাশে-
তুমি ঘুমিয়েছ মূহুর্তে, কোনো ভুলে,
আমি ঘুমিয়েছি ঠিক তার আসে-পাশে...\\

*****

 

জীবন আজও স্পর্শকাতর, তোমার চোখের ঘায়,
শরীর বিহীন মৃত্যু মিছিল বের হল সন্ধ্যায়...

*****

 

হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো আজ ফিকে,
তাকাই, শুধু আজকে তোমার দিকে...

*****

 

কারো প্রশংসা করতে পারাও একটা প্রতিভা।
সবার সে প্রতিভা থাকেনা। আমারও নেই....

*****

 

দু'হাতে ছড়ানো চিঠি।
আলগোছে ফেলে রাখা মন...
মনে মনে ভুলে গেছি নিজেকে কখন...

 

উড়ে গেছে দূরদেশে, নিজেদর বাসভূমি ছেড়ে,
স্মৃতির সারনী থেকে যে পাখিরা গান নিয়ে ফেরে...

*****

 

ভাগ করে নিই চিংড়ি-ইলিশ, ভাগ করে নিই সুরা,
তোমার থেকে অনেক সহজ পুরনো বন্ধুরা...

*****

 

তুমিতো পুরনো ঘুড়ি। 
না জানি সয়েছ কত ঝড়...
আবারো হেরেছি আমি, 
এ মাস শেষে হিসেবের পর...

*****

 

রেখেছি গোপনে ব্যাথা, ওপরে ছেঁয়েছে শতদল,
তুমি তো দেখেছো শুধু, চোখ থেকে গড়িয়েছে জল..

*****

 

খোঁজোনি পাগোল তুমি, 
বোঝোনি মনের কোনও দ্বেশে...
স্রোতে হারা নদী জানে,
অভিমান জলে গেছে ভেসে...

*****

 

কয়েকদিনের ঝড়ের পরে তোমার দিকে ফেরা,
বুকের ভেতর মনগুলো আজ হাজার ক্ষতে চেরা...

*****

 

তোমার কাছে যা শিখেছি আমি,
শব্দ আমার সহজ এবং দামি.....

*****

 

খবর শুধু কবর খোঁড়ে নিজে,
রক্ত আমার কঠিন এবং ভিজে...

*****

 

শহর জুড়ে আলো। আর মোমবাতির আজ শোক।
ছোট্ট বেলার নামতা গুলো আজ হল স্বার্থক...

*****

 

হাজার কথার বৃষ্টি আজও ঝরে,
আমায় তবু ভুলেই যাবে তুমি,
জীবন নামের দারুন মহ‌ৎসবেও,
পায়ের নীচে একলা মরুভূমি....

*****

 

তোমার সাথে আমার মিল খায় না কিছুতেই,
আমি এলোমেলো, অগোছালো কাউকে চেয়েছিলাম....

*****

 

প্রেম...
জীবন আজও হিসেব কষে পাস্কেলে,
লক্ষ ব্যাথা খরচ শুধু মাস গেলে,
আজব প্রেমের থার্মোমিটার,
জিন্দেগী তাও ওয়ান সিটার,
আমরা তবু মন রাখি ব্যাস পাশ-ফেলে...

*****

 

পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি,
অনেক দূরে ফেরত যাওয়ার পর,
লক্ষ তারার ঠাঁই হয়েছে, 
তোমার আমার ভালোবাসার ঘর..

*****

 

যাবেই তুমি বেঁকে, জানি নদীর মত ধায়,
শ্রাবণ তোমার স্পর্শ খোঁজে বুকের কিনাড়ায়,
জীবন বড় দামি
কী দেবো আর আমি,
হারিয়ে যাওয়ার পরেও আজও আকাশ চেনা যায়...

*****

 

মেঘ হারালো পথের হদিশ,
মন হারালো জলে,
তোমার প্রিয় কাব্য শুধু
ভাঙার কথাই বলে...

*****

 

সময় শুধু অপেক্ষা আর সর্বনাশের খেলা,
তোমার ঘরই গড়বে, যেদিন আমার ভাঙার বেলা...

*****

 

ভুলে যাওয়ার পরেও তবু পড়বে মনে যাকে,
আমার প্রিয় শ্রাবণ তাকে বন্ধু বলে ডাকে..

*****

 

ত ভাবি মোহনায় ফিরে যাব, চল...
তত এসে ধরা দেয় সীমাহীন জল....
শুভ রাত্রি..... বন্ধুগণ

*****

 

একটা ছোট ঢেউ এর পরে উঠে দাঁড়ায় একটা টেথিস,
এমন কোনও ঝড় বাদলে তুইও যদি পাল্টে যেতিস...
ভালোই হত সাগর দিয়ে তৈরী হত আরেক পাহাড়,
যাকগে ওসব যা হয়নি থাক, সেসব নিয়ে ভাবছিনা আর...

*****

 

আমি, শ্রাবণের কাছে কান্না লুকিয়ে, মেঘেদের দলে ভিড়ে যাব...
আমি মনের গভীরে লুকিয়েছি যাকে, আজ তার কাছে ফিরে যাব...

*****

 

এ মন চিলেকোঠা। সিড়ি বেয়ে উঠে আসা ভয়।
যে চুমুটি প্রেমে ভরা, সে ওষ্ঠ প্রেমিকার নয়....!

*****

 

আজকে যিনি পাথর সে কাল তারাও হতে পারে,
তোমার ফেলা বীজগুলো ফুল চারাও হতে পারে,
এতই বা কোন অহংকার-
কোন ইতিহাস মানছে হার!
তোমার নিজের শত্রুতো আয়নারাও হতে পারে।
________________ গৌতম

*****

 

ওগো বিনুনি, আমায় চিনুনি,
সস্তা দরে সাজতে গিয়ে, গোলাপ কিনুনি....

*****

 

ফিরিয়ে দেওয়া প্রদীপ জানে আলোর কত দাম,
আমার প্রেমে পিছলে তোমার জীন্দেগী বদনাম...

*****

 

সুর হারানো পাখির মত গান জুড়েছে পথ,
ওদের ডানায় দিলাম বেঁধে আমার ভবিষ্যত...

*****

 

পাথরে গোপন চোট। ফুটপাতে ফেলে আসা ঝড়...
ভাসতে শিখেছি আমি, নোঙরেরা হারাবার পর।

*****

 

মুখ ফেরানো সময় চেনে নামতা পড়া গাছ,
ও বেদুইন, তোমার দেশে পালিয়ে যাব আজ....

*****

 

ঝাউবনে জেগে থাকে জল, 
মনে মনে চারাগাছ পুঁতি..
বাঁধ ভাঙে আবেগের ঢল, 
কথারা এখনো নিশুতি...

*****

 

শরীর একাই আজও, সাথে এক বেমানান মন...
জীবন নাটক তাই, রিয়েসাল আরও কিছুক্ষণ...

*****

 

আমি মেঘ নই কোনও রোদ্দুর,
আমি ঝড় শেষ কোনও গান নই...
আমি মন নই কোনও মন্দির,
আমি চিরতর অভিমান নই...

আমি সুখ নই কোনও সৌখিন,
আমি দুখ নই কোনও বন্দীর...
আমি ভোগ নই কোনও রোগ নই,
আমি ভাগ নই কোনও সন্ধির...

 

*****

 

সমুদ্র, স্রোতে মেশে আজও, নুড়ি বয়ে খরস্রোতায়,
সবকিছু খুঁজে পাই শুধু, নিজেকেই খুঁজে পাওয়া দায়...

*****

 

নিঃশ্বাস চাই,
একমুঠো নিঃশ্বাস....
আর অনেকটা বেঁচে থাকা....

*****

 

কাগজে মুড়িয়ে রাখা জীবনের যাবতীয় ঋণ,
ফিরিয়ে দিলাম সবই; আজ ঘরে ফেরবার দিন..

*****

 

অজস্র জল আর, ভেসে যাওয়া একলা জাহাজে..
তোমাদের গান আজও, হৃদয়ে বাঁশির মত বাজে..

*****

 

আমার কোন উত্তর নেই আর,
প্রশ্ন আছে হাজার মেঘে ঢেকে....
ফিরিয়ে দেওয়া বে'বাক হাওয়া জানে,
ঝড় উঠেছিল কোন অচিন পুর থেকে....

*****

 

আঁচলে লুকানো ঋণ, আলগছে পুঁতে রাখা চিঠি...
তোমার ঠিকানা আর খুঁজে দিতে পারেনা পাখিটি...

*****

 

চিঠির গভীরে ক্ষত, উপরে লেখা তার নাম,
তুমি যে দিয়েছ প্রেম, বিনিময়ে ফুরিয়ে এলাম...

*****

 

দেখি তোমার দিকে ফিরে
আজ রাস্তা অনেকদূরের..
দুপুর, কাটে আকাশ গুনে
মন ভেজানো রোদ্দুরের...

চোখ একলা হবে আরও,
মন একলা হবে মনে...
দেখি অনেক ভিড়েও একা
মেঘ, হাজার আপন জনের...

 

*****

 

বলবো বলবো ভাবি,কিন্তু বলতে পারছি কোথায়?
মনের কথা বনের ভেতর মিলছে খরস্রোতায়...

*****

 

বুকের ওপর ট্রোপোস্ফিয়ার,
তোমার দেওয়া মোমবাতি, আর-
দু'এক কলি গান।
মেলানকলি আলগা স্রোতে,
পেরিয়ে যাওয়া বসন্ততে,
জমছে অভিমান।

*****

 

ঋণ

জল ছুঁয়েছে লক্ষে আমার,
সাবধানীদের পক্ষে আমার,
কার কাঁধে দিই হাত-

আকাশ ঢাকে পলকা তুলোয়,
বাতাস এসে কান্না ভুলোয়,
অজস্র সংঘাত।

বৃষ্টি আসে মিষ্টি দিনে,
বান্ধবীদের শ্যাম্পু কিনে,
ব্যাপক কাটে দিন-

তন্দ্রা এসে স্পর্শ ঢাকে,
কার হাতে আজ দিই, তোমাকে-
একাত্তরের ঋণ।
______________ 

*****

 

প্রথম প্রেম; এবং শেষ

একটা দিন, ভাবতে দাও। ভাবতে দাও, একটা রাত।
সেই সেবার, দারুন জ্বর। দারুন জ্বর, ব্যাপক শীত।
খুব রঙিন, চোখের ভুল। চোখের ভুল, সে সাক্ষাৎ।
একটা দিন, বাল্য কাল। বাল্য কাল, চু-কিতকিত।

সেই সেটাই, প্রথম প্রেম। প্রথম প্রেম, এবং শেষ।
স্কুল কামাই, বর্ষা খুব। বর্ষা খুব, দারুন জ্বর।
খুব নালিশ, তোমার মা'র। তোমার মা'র, আর্জি পেশ।
ক্লাস নাইন, আজ তোমার। আজ তোমার, সয়ম্বর।

একটা দিন, ভাবছি তাও। ভাবছি তাও, ফিরবে রাত।
আজ বুঝি, সেটাই ঠিক। সেটাই ঠিক, চোখের ভুল।
একটা দান, তোমার মা'র। তোমার মা'র, কিস্তিমাত।
ভাবছিলাম, ফুটবে ঠিক। ফুটলো ঠিক, বিয়ের ফুল।

সেই আমার, প্রথম প্রেম। প্রথম প্রেম, এবং শেষ।
আজ একাই, সঙ্গিহীন। সঙ্গিহীন, থাকছি বেশ।
__________________ গৌতম

*****

 


তোমাকে চিঠিতে জানিয়েছি আগে, আমাদের পরিনাম;
বাসি ফুল গুলো শুকিয়ে গিয়েছে, ভুলে গেছে কত দাম!

ইতিহাস হয়ে পিপিলিকা গুলি, বুকের মধ্যে ধায়,
এজীবন পুড়ে যবনিকা যত, হিংসার কথা বলে।
দাবানল হয়ে পুড়ে গেছে সেতু, আমাজন আঙিনায়।
মিশরের বালি মিশে যায় শেষে নীল নদীদের জলে।

এরপর ফিরি। এভাবে ফেরার সত্যিই মানে নেই।
ভুলের বাগানে ফুটে ওঠা কলি আর কোনও গানে নেই।


এখানে দালান বাড়ি। এখানে শীতল কোনো দেশে ;
এখানে একলা হওয়া বায়বীয় তাপ এসে মেশে।

যে কোনো ফাগুন হাওয়া, এখানে আগুন হয়ে জ্বলে।
এখানে কথার ক্ষণে, এখানে সেনার কোনো শিরে,
কপালে চন্দন আঁকে, ধর্মশাসক রূপি পীরে।
যে কোনো সবুজ পাতা, মিশে যায় জ্বালানির দলে।

যে কোনও মায়ের রাতে, ঢেকে যায় অজস্র তারা।
এখানে কান্নাদেরও কাজ নেই ; নিভে যাওয়া ছাড়া।


এও যে মুক্তি ; বুকের পাথরে সীমাহীন দাগ রেখে।
ফিরে আসি ফের বনানীর দিকে, বদ্ধ আগোল থেকে।

তারপর ফের জানালার গায়ে, শ্যাওলারা দেয় উঁকি।
নিভে আসে যত প্রদীপের ঘ্রাণ ; নিভে আসে গোলাবাড়ি...
মুক্তির ভারে কাতর, তবুও বেঁচে আছি এই টুকি,
অস্তরাগের স্তিমিত আলোতে, আমি ভেসে যেতে পারি।

ভেসে গিয়ে ফের, বেঁচে উঠি কোনো কবিদের কবিতায় ;
এ মুক্তির চেয়ে বড়ো ছিল যেটা - জন্ম নেওয়ার দায়...


সকাল হলেই, ব্যাপক আওয়াজ। চা দোকানি। পেপার বালা।
তোমার কাছে ফেরত যাওয়ার, অপেক্ষা আর, ফুলের মালা।

কিনতে পারি যা যা লাগে, চিনতে পারি ঊষার আলোয়।
যা গেছে যাক; নতুন কিছুর, নেই আশা নেই, ফেরত পাবার...
কেটে গেছে অনেক গুলোই; কেটেও যাবে ভালোয় ভালোয়
বাকি গুলোও, আনতে পোশাক, আনতে ওষুধ, আনতে খাবার।

এমন করেই দিন চলে যায়, রাত চলে যায় ; যায় কী আদেউ?
চুপ করে মেঘ দাঁড়ায় এসে, রাত ঘনালেই, বাড়ির ছাদেও!


মন ভাল নেই। বিরক্তি রাত। কিন্তু ভুলের পশমিনা চাই।
দূরের কোনো দেশ কে নিয়েই, ক্ষুরের ধারে গল্প সাজাই।

তার চে' সহজ কাব্যি করা, তার চে' সহজ রাত কাটানো...
চোখ খুলে ভোর। ক্লান্ত বাতাস। একটু দূরেই ভোরের আজান।
একলা হতে লোক লাগেনা; বাঁচতে হলে রাস্তা জানো।
ভোরের দিকেই গান ভিখারি, হালকা সুরের বেহাগ বাজান।

বেরিয়ে পড়ি, দু'চার কথায়, গল্প শোনায় রবীন্দ্রনাথ...
এমন করে কেটেই যাচ্ছে, বেঁচে থাকার দু'একটা রাত।

*****

 

এ এক কঠিন দিন, পিঠ পেতে সয়ে নিই ঘা,
এসময়ে শিরদাঁড়া বাঁকা, এসময় মাথা তোলে না...

*****

 

সাজানো তোড়ার মত,
ফুঁ দিয়ে ওড়ার মত,
কপালে উঠেছো তুমি,
বেহায়া ফোঁড়ার মত.....

মুখ খুলে দে লাগুক হাওয়া, বুক খুলে তার গন্ধ নে...
কেমন যেন আটকে আছে, অদৃশ্য এক বন্ধনে...

*****

 

যে নদী ফুলের কাছে মেনে নিলো হার,
তাকে ছুঁই অনুভবে দুঃখ ধোয়ার।
একাকি নাউ-এর মত, বুকে তুলে হাল-
ভেঙে যায় ভেঙে যায় লক্ষ দোয়ার।

তবুও স্বপ্ন বাঁধি বাসি আঙিনায়,
তবুও ফুলের রাজি নদী ছুঁতে চায়।
কখনো এলিয়ে দিয়ে, লতা পাতা ডাল-
হবে কী সময় ওগো, আলতো ছোয়ার?

হবে সে সময় বলো সত্যি কখন?
সাজাবে বাসর দিয়ে লতা পাতা বন,
গোধুলি আকাশ হবে নীল থেকে লাল-
বেদনা ভুলিয়ে দিয়ে আনবে জোয়ার।

ফিরবে ফুলের কাছে আজ নয় কাল,
এ নদী আপন ভোলা প্রেমের কাঙাল।

*****

 

দলছুট মেঘ নিজের খাতায় লিখিয়ে নিচ্ছে নাম,
আমি আবার নতুন করেই, বৈরাগী হলাম...
আমি আবার পূবের দিকে ভেসেই যাচ্ছি আর..
একান্তে ফের দীক্ষা নিচ্ছি নতুন দেবতার...

*****

 

মুখ বুঝে নেয় স্পর্শ প্রাচীন, বুক বুঝে নেয় ফন্দিকে,
আমরা কেবল কথার ফাঁকে, বাঁচাই জবানবন্দিকে...
ফেরার পরেও আকাশ হারায়,
পশ্চিমি মেঘ ঘনিয়ে দাঁড়ায়,
তোমার কাছে ফিরতে হবে, রাস্তা বলো কোনদিকে?

*****

 

আকাশে একলা মেঘ। বুক ছুঁয়ে বেচে থাকে স্টেথো...
যে দেশে পালিয়ে গেলি, আমাকে নিয়েও যাওয়া যেতো...

*****

 

কথা দিই, আসবোনা কোনোদিনও ফিরে,
যদি তবু ভেসে উঠি স্মৃতিদের ভিড়ে,
পাগল রাখাল নই,
ক্লান্ত সাগর হই,
আমাকে ডুবিয়ে দিয়ো পাড় ভাঙা তীরে...।

_________ গৌতম

*****

 

আসল সময় অবাধ্য খুব, দু'চোখ জুড়ে কান্নারে...
একলা থাকা তানপুরাটাও হারিয়ে যাওয়া গান নারে..

*****

 

চেতনা খুঁজেছে অশরীরি স্পর্শ
চলতে থাকা সমাজের অভিধানে৷
পালটে গেছে বেশ কিছু নববর্ষ,
পাল্টায়নি তবু চেতনার মানে৷৷

*****

 

সময় শিশুর মত। জানে না সে, ভুল তার কিসে!
তেষট্টি নেমে আসে, আজ এই একলা তেইসে...

*****

 

অনেক ভালোবাসতে পারি তোমায়,
ভালোবাসা কম হয় না দিলে...
তবু তুমি আমার নামের পাশেই
আদর করে দুঃখ লিখেছিলে...

*****

 

অল্প আগুন, তবু পুড়ে যায় সমস্ত রাত,
আমাকে আত্মীয় করো ওগো জলপ্রপাত...

*****

 

সেতু...

হাওয়ায় প্রদীপ ওড়ে,
গন্ধে ভাসে লক্ষ আলোর ফুল...
অজস্র কুড়ুল --
লুকানো থাকে,
এখানে, ওখানে,
যদিও তারা জানে,
কথা রাখা বলে কাকে...
তবুও দোরে দোরে
পাতা থাকে ফাঁসিকাঠ, পাঠাদের হেতু--
এখনো অদৃশ্যমমান অজস্র সেতু....

*****

 

 

জ্বলা নেভা আলো, স্থির হয় কখনও, আবশ্যিক...
নির্বাক রাতের মায়ারা আমাকে কল্পতরু দিক...!

*****

 

জ্যোৎস্না মেখে দাড়িয়ে আছে একলা থাকা রাতও,
তুমিও তাকে দেখবে যদি এবার দু'চোখ পাতো....
দেখতে পেলে? পেলে কি তুমি? কাছে কিংবা দূরে...
এই দেখে নাও ছরিয়ে দিলুম মনের সমুদ্দুরে..

*****

 

জয়ি নই তবু আজও মানিনি তো হার,
এর থেকে বেশি কিছু আসে না আমার....

চেষ্টা করিলাম আপ্রান, কিন্তু হলোই না....

*****

 

যেখানে অভিনয় থামে, সেখানেই নেমে আসে শীত,
অজান্তেই বড় হয়ে ওঠে, আমাদের বিরহ সংগীত...

*****

 

ফেরবার পথ নেই কোনও,
নেই কোনও ভেরবার দল।
প্রকট নিদ্রায় শুয়ে, আসমুদ্র এ হিমাচল...

*****

 

সে এক প্রেমের দেশ, হাত ছুঁতে নেমে আসে তারা।
এখানে বেঁচে থাকে কেবল, স্বাধীনচেতারা...

*****

 

ভাল্লাগেনা তৃষ্ণা আমার ঝাল লাগেনা বেণী..
তোমার দেশে আজো আমি অচ্ছুত এক শ্রেনি...

*****

 

আজ বোশেখে বৃষ্টি দিও, কাল বোশেখে ঝড়,
আমার বুকে বাঁধছে দানা তোমার বালুচর...

*****

 

মনে ছুঁয়ে থাক মন্দির আর কোণ ছুঁয়ে থাক স্পর্শ,
তোমার কাছে ফিরতে পারাই আমার নববর্ষ...

*****

 

ভিড়ের মধ্যে অনেক চেনা, তবুও মন পোশাক খোঁজে,
তোমার মত এমন কে আর আমার কঠিন কাব্য বোঝে..

*****

 

হাওয়ায় পেয়েছি খুঁজে নিজের হারিয়ে যাওয়া নাম,
আহা, এ কোন কালবৈশাখীর দেশে এলাম...

*****

 

ভেবেছে হারিয়ে যাবে, তবু তার পর সে
দেখে ফের বেঁচে থাকে, সব নববর্ষে...

*****

 

অনেক দূরে তাকিয়ে দেখি, তারা...
বৃষ্টি নামায় অজস্র মাস্তুলে...
আমার বাড়ির ছোট্ট গোলাপ চারা,
তোমায় খোঁজে, একান্তে, পথ ভুলে...

*****

 

মনখারাপ।
কেউ দাঁড়াক..
আজ এসে,
জানলাটায়...
একলা চাঁদ,
রাজপ্রাসাদ...
সুর বিহিন, 
রাতকাটায়....

*****

 

মৃত্যু' আসলে একটি দু'অক্ষরের উপন্যাস...

*****

 

সে এক স্মৃতির মত,
একদিন ভুলে যাবে গানও..
তুমি তার ডাকনাম জানো..!

*****

 

যে পাখির উড়ে যাওয়া বারণ, 
বলো তার ডানার কী দায়!
বারবার চলে গেছে চিঠি, ভুল ঠিকানায়...

*****

 

ছোট্ট চায়ের দোকান। আর, না পড়তে পাওয়া পাতা...
দেখতে দেখতে কেমন যেন শুকোচ্ছে কলকাতা..

*****

 

পাঁচ জনেতে দুইপা দোলায় একটা ছোট বেঞ্চিতে...
কারোর মাথায় হেয়ারব্রেন্ড তো কারো মাথায় লাল ফিতে...
দেখেই ব্যাপক ইচ্ছে করে,
ছোট্ট বেলার এই শহরে,
হঠাৎ করেই হারিয়ে যেতে ঘোরেঞ্চু আর কীতকীতে...

*****

 

সূর্য

নিখুঁত শিল্পী তিনি
আলোর আধার,
দায়ভার দিই তাকে
জগৎ বাঁধার।

চাঁদ

চিক চিক আলো ছায়া
সারা বাড়ি ময়,
সে আমার ভালোবাসা
আমি তার নয়।

তারা

দূরে কোনো পরীদের 
ফুলের প্রাসাদ,
হৃদয় প্রকোষ্ঠে তার
সঙ্গিনী চাঁদ।

 

*****

 

কেমন আছো ব্যস্ত শহর,
রঙ বেরঙে ইটের ভাষায়?
কেমন আছো তপ্ত দুপুর,
শুকিয়ে যাওয়া ভালবাসায়?

কেমন আছো রাত প্রহরি,
ভোরের আলো, স্নিগ্ধ হাওয়ায়?
কেমন আছো দিগম্বরী,
চাওয়ার কাছে ফুরিয়ে যাওয়ায়?

কেমন আছো?*****

 

আদতে প্রেমিক নই, সবই তার ভেবে নেওয়া ভুল,
যাকে তুমি মোহ ভাবো, সে নেহাতই মোমের পুতুল...

*****

 

আসলে সবটা পিছোল, পথ বলে কিচ্ছুটি নেই...
কেননা হেরে যাওয়া যায় খুব অল্প দিনেই...

*****

 

আসলে ফেরার পথে ফুটে আছে অজস্র ফুল,
তুমি তাকে ছায়া বলো, আমি বলি গুণের মাসুল...

*****

 

এখনো বানানে ভুল, এখনো কবিতা জুড়ে ক্ষত.. 
কিছুই গড়েনা তবু নিজেকে ভেঙেছি অবিরত...

*****

 

এখনো 
ক্ষুধার্ত মন, বুক জুরে বালিয়ারি বাঁধ,
ক্রমেই বাড়ছে ক্ষতে, ভ্রমের প্রাসাদ...

*****

আসলে তো দুঃখী নই, বুক জুরে খা খা মরুভূমি,
আমার শবের পাশে সেদিন দাঁড়াবে এসে তুমি...

*****

 

আমি হিন্দু নই, মুসলিম নই, নই বৌদ্ধ, শিখ,
ঈশ্বর এসে আজকে আমায় মানব ধর্ম দিক...

*****

 

মন চলে যায় সুদূর নীলে, দিন চলে যায় কেঁদে..
মেঘ চলে যায় একলা একাই, বিচ্ছেদে বিচ্ছেদে...

*****

 

আসলে অপেক্ষা করো, বুকে তার ক্ষত হবে ফের.. 
এনদী ভাঙনের দিকে, এ পৃথিবী যন্ত্রণা দের....

*****

 

কতক রয়েছে দূরে, কতক বা কাছ থেকে ছোঁয়..
এ জীবন অবাধ্য গান, বেঁধেছি পলকা সুতোয়...

*****

 

আসলে মিথ্যে নদী, কুয়াশায় মাঝিদের দল,
পার হওয়া যাবে না এভাবে, পাড়ে ফিরে চল...

*****

 

যেহেতু ভুলে গেছে স্রোতও,
একই নৌকায় করে, 
সবাইকে চলে যেতে হত...!

*****

 

সমস্ত কিছুই খুব দামি...
কেননা, বেঁচে আছি আমি.

*****

 

আষাঢ়ের মেঘ এসে ফাগুনের শেষ হাওয়া ঢাকে,
নিজেকে পেয়েছি খুঁজে তোমাকে হারাবার ফাঁকে...

*****

 

এ বুকে ওঠে ব্যথা হৃদয়ে কাঁপনে,
সে ব্যথা বেঁচে থাকে জীবনযাপনে...

*****

 

এ হাওয়া ভিনদেশী, এ হাওয়া বেদুইন ঝড়,
এ মন নদীই খোঁজে তোমাকে হারাবার পর..

*****

 

কখন জানিনা ঢেউ-এ ভেসে গেছে ক্লান্ত চোখের কোন,
ভালোবাসা ছিলো দাবানল হয়ে, এখন সংক্রমন...

*****

 

স্মৃতিদের ও পা থাকে, গান থাকে দু'চার কলিও,
আমরা সলিড'ই ছিলাম, এখন ক্ষয়ে ক্ষয়ে জলিয়...

*****

 

যতবার ভাঙে প্রান্তর,
আমি ততবার ফিরে আসি,
এখনো বোঝোনি নদীটির নাম, প্রিয়তম বানভাসি...

যতবার ওঠে রোদ্দুর,
আমি ততবার গাই গান,
এখনো মানোনি পাখিটির নাম, চিরতর অভিমান...

আমায় যদি চিন্তে পারো অনেক তারার ভিড়ে,
জন্মালে ফের তোমার কাছেই আসবো আমি ফিরে..

*****

 

আমায় তুমি পর করেছো,
নতুন ইটের ঘর করেছো,
রাগ করিনি আমি,
আমিও তোমায় পর করেছি,
পথের ধুলোয় ঘর করেছি,
ইটের চেয়ে দামি....

*****

 

কত রং রেখেছি গোপনে,
একান্তে, অসমাপ্ত মনে....

*****

 

নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি..

একটা শিশু এক এক করে সবার থেকে শেখে,
আমরা তবু ভাগ হয়ে যাই প্রত্যেকে প্রত্যেকে..

*****

 

আমার বুকে তেপান্তরের বীজ রয়েছে পোঁতা,
তাই নদীটা একলা হয়েও ভীষন খরস্রোতা..

*****

এমন করেই
বদলে যাবে দিন,
এমন করেই 
বদলে যাবে পাড়া,
এমনই এক 
বিশাল গাছের নীচে
ফুটে উঠবে 
হাজার হাজার চারা..

*****

 

দাগের মতই জলের রেখা বুকের ভেতর বাড়ে,
কালও ছিলাম আজও আছি কালও অন্ধকারে
থাকবো আমি রাখবে তুমি থাকবো ততদিনও,
তোমার আঁধার সরলে আমায় নতুন করে চিনো..

*****

 

ছড়া ৫
বাঘা বিড়াল

গিন্নি মারেন বিড়াল ছানা,
লকড়ি দিয়ে খুব জোরে,
হুলো বিড়াল ফন্দি আটে
কি দেবে তার উত্তরে,

শেষ মেশ এক ফন্দি আসে,
বন্দি ঘরের জানলাতে,
একটা বাঘের ছাল রয়েছে,
পাশের বাড়ির আলনাতে,

দামড়া বেড়াল চামড়া ছেড়ে,
গায়ে বাঘের ছাল পড়ে,
বললো এসে মুচকি হেসে,
সামনে আস্ত কাল পড়ে।

*****

 

ছড়া ১
মাটি ঘুমোয় না!

আকাশ ঘুমোয় মাটির ভেতর,
মাটি কোথায় মা,
সে কি তবে জেগেই থাকে,
কোথাও ঘুমোয় না?

মা বলেছে জানি না রে,
বলতে পারি কি,
আমিও তাকে সারাজীবন
জাগতে দেখেছি!

*****

 

ছড়া ২
ভোট এসেছে!

অনেক কদিন ক্ষুধায় ছিলাম,
পেট ভরেনি, মাগো
আজকে শুনি বস্তা বস্তা 
চাল দিয়েছে, জাগো..

এবার ওঠো ভাত খেয়ে নাও,
আসবে খুশির দিনও,
আসছে পুজোয় মাগো তুমি
নতুন শাড়ি কিনো..

আর দিয়েছে কিরিং কিরিং,
আর দিয়েছে জুতো,
নগেনরা তো ঘরও পাবে,
রাস্তা ঘাটে শুতো..

মা বলেছে ঢের বকেছিস,
এবার তবে ঘুমো,
এখন অনেক কিছুই দেবে,
দেবেও টাটা সুমো..

জানিস কিসের কিরিং কিরিং,
জানিস কিসের জুতো,
ওসব কথায় কান দিতে নেই
ভোট হাতাবার ছুঁতো...

*****

 

জেনো, অন্ধকারেও আলো,
লুকিয়ে ছিলো, আজকে ছিলো,
থাকবে কিন্তু কালও...
*****

.

যদি, একলা একাই হাসো,
জেনো কাছেই থাক বা দূরে, তাকে
অনেক ভালোবাসো।

*****

 

যদি, একলা কাটে রাত,
জেনো অপেক্ষাতে জেগেই আছে,
সহস্র প্রভাত।

*****

 

যদি, মেঘলা করে মন,
ভেবেই নিও দূরে কোথাও
কাঁদছে আপনজন!
*****

.

 

যদি, বৃষ্টি আসে কাঁদো।
তোমার সাথে ভিজবে তোমার,
পাশের বাড়ির ছাদও।

*****

 

আমার মনে ফাগুন তো নেই। রং চেনে কী আহাম্মকে?
আমার হয়েও আদর দিও তোমার দেশের বসন্তকে...

*****

হ্যাপ্পি হোলি

হামার বাড়ি তেতুল তলা
উহার বাড়ির পাশে,
মনে মুর লাগছে দোলা
আইজগে ফাগুন মাসে৷

কাইলকে জুলির হ্যাপ্পি হোলি
রঙ মাইখবে কত,
দফায় দফায় লাইন পরে
রেশন দুকান মত৷

হামার রঙ-ই মাইখবে জুলি
বুল্লে দিছে মুরে,
কাল বিকেলে কইরবে দেখা
মদনমোহনপুরে৷

হামিই জুলির একাই প্রেমিক
যতই লাইন থাক্কে,
বে কইরলে করবো উরেই
বুল্লে দিছি মাক্কে৷

জুলি হামার সোন্টা মনা
নরম পানা মন,
তাইতো হামি পয়শা ঝেরে
গিফ্ট করিছি ফোন৷

*****

উপায় ছিল হাজার, শুধু পথ চিনিনি তাই,
তোমার আমার বাড়ির দিকের রাস্তা আলাদাই...

*****

রাতপ্রহরী
----------
রাতের শেষে রাত প্রহরী ভাবে,
আর একটু পরে সকাল হয়ে যাবে,
রাত প্রহরী ভাবে।

সকাল হবে সূর্য ওঠার সাথে,
সকাল হবে সন্ধ্যে নামা রাতে,
সকাল হবে সকল পাড়া গাঁ'তে,
মিষ্টি মেয়ে ভৈরবী গান গা'বে,
রাত প্রহরী ভাবে।

দোকান পসার জুটবে এসে হাটে,
পায়রাতে ধান খুঁটবে এসে মাঠে,
একটু পরে তিনটে উনোষাটে,
সকাল হয়ে যাবে-
রাত প্রহরী ভাবে।

পাখির দলে বাঁধবে এসে জুটি,
চায়ের সাথে ভিজবে যে পাউরুটি,
একটু পরে মিলবে তবে ছুটি,
আর এক নতুন দিনের দেখা পাবে,
রাত প্রহরী ভাবে।

সকাল হবে সকল পাড়ায় পাড়ায়,
বিদায় দেবে হাজার তারায় তারায়,
ফুটবে রে ফুল সকল ফুলের চাড়ায়,
তার দুটো চোখ একটু বিরাম পাবে,
রাত প্রহরী ভাবে।

কই!
বল্লেনা তো সই!
আমি যদি অনেক দূরের রাতের তারা হই!
কেমন হবে তবে?

তুমি আমায় খুঁজবে তখন
তোমার অনুভবে?

কই!
বল্লেনা তো সই!
বল্লেনা তো কথা?
এ কেমন তোমার চুপটি থাকা ক্লান্ত নীরবতা!

কই!
বল্লেনা তো সই!
বল্লে না তো কিছু?
আমি তবে চলেই যাবো আলোর পিছু পিছু।

আজকে মনের সঙ্গী তো নেই, ব্যাপক অবসর,
তোমার দিকে উড়িয়ে দিচ্ছে আমার দিকের ঝড়।
গোপন ব্যাথা লুকোই কোথায়,
ভাঙছে পলি খরস্রোতায়,
ঘিরছে আকাশ বিষন্নতায়
অনেক দিনের পর...
আজকে মনের সঙ্গী তো নেই, দারুণ অবসর।

*****

 

খরস্রোতায় গভীর হচ্ছে মেঘ,
বুকের কাছের সমস্ত ঢেউ নোনা,
হতেও পারে হঠাৎ যাচ্ছি থেমে,
কিন্তু তোমায় হারাতে পারবোনা...

*****

 

খেলার পুতুল...

খেলার পুতুল আমি যে তোর
বর-বউ তুই খেললি,
স্বাদ মিটেছে যেই না
ওমনি ছুঁড়ে ফেললি!

আবার যখন ইচ্ছে হবে
সাজাবি তুই বর,
আমি আবার সবটা ভুলে
বাঁধব খেলাঘর!

তখন যে তুই যত্ন করে 
স্বপ্ন দিবি ছুঁড়ে,
আঘাত পাব জেনেও তবু
থাকব না আর দূরে!

আমি মাতি আনন্দেতে
তবুও মনে ভয়,
কখন জানি এ খেলাঘর
ভাঙতে ইচ্ছা হয়!

আমি যে তোর খেলার পুতুল
সাজাস নিজের হাতে,
ভাঙা-গড়াই চলতে থাকে
অবুঝ ধারাপাতে!

*****

 

 

অনেক বছর পর আজ আবার বাসের পেছনের সিটে বসে সেইদিনটির কথা মনে পড়ছে...
সেই সেইদিনটির কথা...

যেদিন আলাপ হয়েছিলো কলেজ ফিরতি সাবানার সাথে,
সাবানা আমার বাড়ি থেকে মাত্র কয়েকটা বাড়ি দূরে থাকতো... অথচ তার আগে কোনোদিন দেখিনি তাকে,
সত্যিই দেখিনি তাকে... 
দেখলে অনেক দিন আগেই প্রেমে পড়তাম নিশ্চই ! 
যাইহোক,
তারপর প্রেম হয়... 
ঘনিষ্ঠতা বাড়ে...
সে প্রেম শুধুই বাসেই আটকে থাকেনি,
বাস থেকে পার্ক, পার্ক থেকে সিনেমাহল, সিনেমাহল থেকে কোচিংক্লাস, 
ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, সিজেনিং ভাইরাসের মত...

দুজনেই প্রচন্ড ধার্মিক ছিলাম,
তাই প্রতি রোববারে চার্চে থাকতাম সারাটাদিন, 
চার্চ যাওয়ার পথে একটা মসজিদ আর একটা মন্দির পড়তো...
মন্দিরে বা মসজিদে যাই নি কোনোদিন... তার ও কারণ ছিল, 
আমার মন্দির আর সাবানার মসজিদ পছন্দ ছিলো না...
আসলে প্রচন্ড ধার্মিক ছিলাম তো...

তার পর আর কি? 
এক গোধুলিতে সব ভুল ভেঙে গেলো, আমার কিংবা সাবানার কিংবা দুজনের...

দুই বাড়িতে সব জানতে পারলো... তার পর খুনো খুনি... 
তবে কোনো মানুষের নয়.. দুটো মনুষত্বের...

আমরা দুজোনেই প্রচন্ড ধার্মিক ছিলাম
তাই বাকি অধার্মিক পৃথিবীকে আর বোঝাতে যাই নি...

সেদিনের পর থেকে আমাদের ধর্মকে বিলিয়ে দিয়েছি আমার মন্দির আর ওদের মসজিদের হাতে....

তবে আজও একটা অতৃপ্ত ধর্ম নিয়ে বেঁচে আছি, মানব ধর্ম...
*****

 

পুরনো ঋণের মত বাজো,
লুকনো দিনের মত বাজো,
বেহাগী সুরের কাছে এসে,
হৃদয়ে বীণের মত বাজো..

সহসা ভোরের মত তুমি,
ভেজানো দোরের মত খোলা,
দমকা হাওয়ার কাছে এসে, 
বৃষ্টি -টিনের মত বাজো...

*****

আমিও একার কাছে একা, দু'হাতে বুকের কাছে দৃঢ়,
আমাকে মোমের মত এসে, বেহায়া মেঘের মত ঘিরো...

*****

যে পথে ছড়ানো ফুল কাঁটা হয়ে আছে,
সে পথে ফিরে যাব তারাদের কাছে...

*****

 

হৃদয়ে চোরাবালি ভাঙছে বাঁধ,
কে আর পুষে রাখে লুকানো ঢেউ...
তোমাকে ছুঁতে চাওয়া চোখের সাধ,
ফাগুন ধরা দেয় দূর থেকেও...

*****

তোমাকে চাওয়ার মত ভুলে,
নিজেকে পাওয়ার কাছে ক্ষমা..
যদিও বিষের মত লাগে,
যাকিছু হৃদয়ে আছে জমা...

*****

গির্জার গেটে পড়ে পড়ে শুকোচ্ছে
একগোছা লাল গোলাপের পাপড়ি,
তবুও আকাশ পাঠাচ্ছে ম্রিয়মান ভালোবাসার নৈবেদ্য...
এখনো ছয় ঋতু নিয়ম করে আসে,
দিন এবং রাতের সময়ও স্থির..

বিকেলের ফুচকাওয়ালা ফিরে ফিরে তাকায়,
যেন সাহস হয় না তার, কিছু বলার..
ওরো তো হৃদয় আছে,
স্রোত আসে, পলিজমে, বালিয়াড়ি মিশে যায় দিগন্তে...
যাক গে, একাই বসে আছি মন খারাপ করে...

এখনো ইতিহাস ঘাটলে, 
পাওয়া যায়--
জীবাশ্মের হৃদয়ে ছোপ ছোপ হলুদের দাগ...

আর তুমি আমাকে ভুলে যেতে বলো!

*****

 

একটুকরো কাগজে, 
কবেই মন রেখে দিয়েছিলাম...

নরম স্পর্শ গুলো, যাদের আঁচ তুমিও পাওনি কোনোদিন,
ও সব জানে,
গোপনে বেড়ে ওঠা ঝড় কিংবা সহসা নিভে যাওয়া হারিকেনের আলো,
ও সবার খবর জানে...

সে কখন নৌকা হয়ে ভেসে গেছে জলে,
তাকে বারণ করিনি আমিও...
শুধু বলেছি ফিরে এসো...

*****

কখন খাবার পাতে অজান্তে ফুরিয়েছে নুন,
আমাকে প্রদীপ ভেবো কিংবা গ্যাসের বেলুন...

*****

আরেকটা পুরনো কবিতা...

তোমাকে খুঁজেছি ছায়াপথ হয়ে
চাঁদের পাহাড় ধরে
তোমাকে খুঁজেছি ধূসর সকালে
ঘুম ঘুম ঘুম ভোরে

তোমাকে খুঁজেছি অট্টালিকায়
অলি গলি কুঁড়ে ঘরে
তোমাকে খুঁজেছি কৃষ্ণচূড়ায়
গুন গুন গুন স্বরে

তোমাকে খুঁজেছি স্বপ্ন শয়নে
আকাশের নীলিমায়
তোমাকে খুঁজেছি দিগন্ত জোড়া
পৃথিবীর কিনারায়

তোমাকে খুঁজেছি দুকুল হারানো
একলা নদীর চড়ে
তোমাকে খুঁজেছি প্রবল বরষে
কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে

তোমাকে খুঁজেছি সুদুর আকাশে
দিশেহারা পাখি হয়ে
তোমাকে খুঁজেছি রোদে তাপে পুড়ে
বৃষ্টিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে

তোমাকে খুঁজেছি একলা দুপুরে
অবসন্নতা ঘিরে
তোমাকে খুঁজেছি ব্যস্ত মিছিলে
মানুষের ভীড়ে ভীড়ে....

*****

 

 

পুরনো কবিতা...

বসন্ত লেগে আছে খামে,
সেই চিঠি আজও তোর নামে
পাঠিয়েছি কই ?

সারা পথে চিক চিক বালি,
কেন শেষ বেলা খালি খালি,
জল থৈ থৈ?

মরুভূমি জলে গেছে ভিজে,
ভিজেছি আমিও নিজে নিজে,
জানলোনা কেউ,

মোহনার চোরাবালি স্রোতে,
মিশে গেছে শেষ হতে হতে,
সাগরের ঢেউ...

*****

 

রাত ছুঁতে চায় চোখের পাতা, চাঁদ ছুঁতে চায় হাতে,
এমন সময় কে আর তোমার থাকছে অপেক্ষাতে..

*****

পরতের পর পরত জমে জমে
স্পষ্ট যখন চোখের জলের দাগ....
তোমার দুঃখ তোমারই থেকে যাবে
কেউ নেবেনা হৃদয়রেখার ভাগ....

 

বিছানার কোণে চাঁদ লেগে আছে,
দাগ লেগে আছে গায়..
এখনো আমার বুকের বালিশে
ভালোবাসা হেঁটে যায়...

*****

 

একাকী ভ্রমের মত, কত ভুল ফুল হয়ে ওরে,
এখনো আদিখ্যেতা জাগে, আমাদের শহরে শহরে...

*****

দু-এক কুচি ঠোঁটের কাছে ফুটেও উটছে খই,
আমি যেমন ছিলাম আজও তেমন অবাধ্যই..

*****

সময় বড় দূর্বিসহ, সময় বড় ভয়,
কার কাছে আর হার মেনেছে এমন অবক্ষয়..
তাও যদি যাই তোমার দেশে,
বাঁধভাঙা সব ক্লান্তি শেষে,
দারুণতর নদীর কাছে হারিয়ে যেতে হয়...

*****

হাত ধুয়েছ অনেক বছর তুমি
হাতের সাথে ধুয়েও নিও মন
পায়ের নীচের বিস্তারিত ভূমি
তোমার পায়েই করবো সমর্পণ...

*****

 

 

যেভাবে যাবে না ধরা; তাকে সেভাবে কী ধরে রাখা যায়?
যে আঁধার আলোর অধিক, তাকে খুঁজে পাওয়া দায়....!

*****

তুমিই আমার আগুন কিংবা হারানো মৌমাছি,
এমন দিনেও বৃষ্টি নিয়ে একলা জেগে আছি,
সাজিয়ে রাখা হুলে,
আলতো করে ছুঁলে,
অল্পদিনেও এক এক সময় এক পৃথিবী বাঁচি...

*****

 

অঝরে ঝরে যায় ঝড়-বাদল, কেননা মেঘে মেঘে কাটছে দিন,
কুয়াশা ফিরে গেছে লাস্ট ট্রেনে, তবুও আমি একা সঙ্গিহীন...

*****

আমাকে ভুলে যাও পাখির দল,
আমিও ছুটি চাই মেঘের কোন,
আমার ভেতর জেগে মফঃস্বল,
আমার বুকের মাঝে সম্মোহন..
আমার গল্পটা কেউ লিখুক,
আমার নামেও খুব কাব্য হোক,
আমার পরিচিতি ক্লান্ত মুখ,
আমার পরিচিতি পথের লোক..
যা কিছু বলে গেছি সবটা ভুল,
বাতাসে কেউ ফের রং লাগাক,
আমাকে ফিরিওনা নদীর কূল,
আমার নামেই সব বেদনা থাক..

বুকের ওপর চাপ আর মুখের ওপর ঢেউ,
বনের মত হতেও পারে মনের মত কেউ..!

*****

স্বপ্নেরা প্রান হীন হয়ে পড়ছে,
মিষ্টতা ঘ্রান হীন হয়ে পড়ছে ,
নদীরা বান হীন হয়ে পড়ছে ,
সুরেরা গান হীন হয়ে পড়ছে ,
মানুষ মান হীন হয়ে পড়ছে ,
আর,
সম্পর্ক টান হীন হয়ে পড়ছে ....

শব্দেরা জড় হত নিজেকে বোঝাবো বলে ফের,
ভালোবাসা চোরা বালি। এ পৃথিবী শান্তনাদের..

*****

তোর ঠিকানায় প্রেম পাঠাবো
অনেক দিনের সখ্ ছিলো৷

তাই পোষ্ট খামে বড় বড় করে লিখেছিলাম---
টু, অন্তরের অন্তরা
ঠিকানায় - মনজুরে৷

অার চিঠি ভরিয়েছিলাম
অামার সব মানে সব কিছু দিয়ে৷

পৌছুই নি জানিস !

বাড়ি যখন চিঠি ফেরত ত্রলো , পিত্তন অামাকে বুঝিয়েছিলো,
'মন' কারো ঠিকানা হয়না, অার নাম কারো 'অন্তরের অন্তরা' হয় না৷৷

সত্যি বলতে সেদিন অামার ভুল ভেঙেছিলো৷

তবু অাজ ত্ত তোর ঠিকানার পরিবর্তন হয়নি৷ 
তোর নাম 'অন্তরের অন্তরা' অার তোর ঠিকানা 'অামার মনজুরে' ৷৷

তাতে যদি অামার প্রেমপত্র বারবার ফেরত অাসে
তবু ত্ত....................৷৷

*****

আমি ফুটিয়ে খাচ্ছি হাওয়া,
আমি গুটিয়ে যাচ্ছি মেঘে,
আমি হাটতে হাটতে হাপিয়ে উটছি একান্তে উদ্বেগে...
আমি একলা থাকছি একা,
আমি একাই মাখছি আলো,
আমি পাল্টে পাল্টে ভেবেই যাচ্ছি না পাল্টানোই ভালো...
যদি বৃষ্টি নামে, আবার
যদি দৃষ্টি টিষ্টি হারায়,
যদি বলার পরেও, না বলা কথারা বারবার এসে দাড়ায়....
তবে ফিরিয়ে আমাকে দিও,
আমি ভিরিয়ে নিয়েছি তরী,
একাকিত্ব এখনো আমারি, প্রিয়তম... সহচরী...!

*****

 

অনেক মেঘ'ই উড়ছে এদিক ওদিক,
কোন মেঘ আর আমার কথা বলে!
তবুও কোনো দলছুট মেঘ যদি....
ভুল বসত আমায় ডাকে দলে..!
তাই ভেবে রোজ আকাশ পেতে বসি.....

*****

প্রেম মানে,
" এই জানো তোমার নিশ্বাসের শব্দে আমার সারা শরীর শিহরিত হয়...."

*****

তুমি দিলে দেবো, না দিলে দেবো না, শর্তে
তারা বেচে আছে আজও জীবনের পরিবর্তে...

*****

বুকের কাছে প্রবল কলরব;
আড়াল করে দেখতে গেলাম যেই,
পোড়ে শুধু একান্তে শৈশব,
আমি,তুমি, কোথাও কিছু নেই....

*****

আমাদের সমস্ত কিছু আছে, না থাকার মধ্যে শুধু এই,
মমতাকে দেওয়ার মত, আর কোনো গালাগাল নেই....

*****

মনখারাপ নিয়মিত আসে; ভালোবাসা আকষ্মিক হয়,
চোখের জলের চেয়ে বেশি, কিছু আর পরিচিত নয়...

*****

তোর জন্য হাজার বছর আয়ু,
তোর জন্য স্বপ্ন পরীর দেশ,
তোর জন্য সব কিছু এক থাকে,
না পাল্টানোর নাম'ই তো অভ্যেস।
তোর জন্য সমস্ত ভুল নিয়ম,
তোর জন্য অনেক দূরের পথ,
তোর জন্য দেখতে চাওয়া শুধু,
চিরকালীন সবুজ ভবিষ্যত।।

*****

 

যারা ইস্টিশানে,
আজো বৃষ্টি আনে,
তাকে দেখবো ছুঁয়ে
যদি হৃদয় টানে....

*****

যদিও মুঠো খালি, 
তবুওতো সব
আছে, তাই জেগে আছে, 
আজো বিপ্লব...

*****

যাদের মেঘের মত মন,
তারা আমার আপনজন...

*****

যাদের কষ্টে ভেজা চোখ,
তারা দীর্ঘজীবি হোক...

*****

সব শোধ, বাকি নেই,
অবেলার পাখি নেই...

*****

না টিকে থাকার কোনো মানে নেই। ছিলোও না কোনোদিন।
সিনেমার সব শেষ হয়ে গেছে। পরে আছে শুধু লাস্ট সিন।

*****

শীত বলেছে, আজকে তোমায় ছুঁতে,
মন বলেছে, সে সব না হয় থাক....
রোদ বলেছে, উড়িয়ে দিয়ে ফুঁ তে,
ভালোবাসা ! তফাৎ হয়ে যাক.....!

*****

দূরের থেকেই উরে যাচ্ছে ঘুড়ি, 
আমার বাড়ি মেঘের সয়ম্বর,
একলা হাওয়ার দেমাক বড় বেশি,
বৃষ্টি নামাক শীতের দেশের ঝড়.....

*****

 

সময় অবাধ্য, ওরা স্মৃতিটাও মুছে দিতে চায়,
তবু তোমাকে বাঁচিয়ে রাখি কবিতার পাতায় পাতায়...

*****

কোনোদিনও বুঝবে কী কেউ? কে আর নিজের মত বোঁঝে?
কথাগুলো বেদনার মত, লিখেফেলি খাতার কাগজে।

কোনোদিন বুঝেছিলো যে, সে ও কি বুঝেছিল কিছু?
আলো ভেবে চলে গেছি দূরে ছায়া ঘেরা আলেয়ার পিছু।

এখানে পাইন বনে আছি , পরে আছে সব অবসর...
একাকি চুৃড়াটির পাশে কোন দিন বেধে নেব ঘর...

*****

কত বোঝাপড়া, জীবনের মানে
শৈশব জানে, যৌবন জানে;
তবুও জানোতো এখানে সেখানে-
ছড়িয়ে যাচ্ছে তাস...

তার কাছে লেখা কত কিছু কথা,
ধার করে কেনা বাসি মৌনতা,
মন ভিজে যাওয়া বিকেলের কাছে -
ফেলে রাখা ইতিহাস.....!

তবুও জানোতো এখানে ওখানে ছড়িয়ে যাচ্ছে তাস.....

নাব্যতা চীরকালীন। দিকশূন্য পথিকের মত,
সময়ে শুকিয়ে গেছে ঘা, ব্যাথারা আজও অক্ষত...

*****

সহসা বুক কেঁপে ওঠে,
বুক কেঁপে কেঁপে ওঠে গো রাতে...
কবেই শ্মশান হয়ে গেছি,
নিজেকে পোড়াতে পোড়াতে...

*****

ভুলে ভরা স্মৃতি, ভাঙা বিবৃতি,
একঘেয়ে..., উদ্বেগ নেই,
রাতের আকাশে চাঁদ, তারা আছে,
তুমি ছাড়া কোন মেঘ নেই...

কালির ওপর দাঁড়িয়ে আছে তোতা,
পেনের নীচে মন্ত্রী, সাবক ঢল...
জীবন মানে জীবন্ত সমঝোতা,
লেখার মত হয়না অবিকল.....

*****

যে কথাটাই শুরু। এবং শেষ।
আমার শহর বিতর্কিদের দেশ।

*****

মন ভেঙেছে নদী, আর কাঁধ ভেঙেছে শোক,
আমি এখন নিজের ঘরেও অন্য পাড়ার লোক..

*****

বরফ গলছে, বরফ গলছে খুব,
মুখের দিকে তাকিয়ে আছে হাওয়া..
দিগন্তে এক রাত প্রহরীর মত,
তোমার চুলে আকাশ ছুঁতে চাওয়া..

*****

আকাশ ছুঁবে উত্তুরে কোন মেঘ,
তোমার কাছে গরম চাওয়া শীতে..
এক পশলা দাড়িয়ে আছি আমি,
রোদের পাশে তুষার ঘাটিটিতে...

*****

আজ যা ছিল, বাদবাকি সুখ...
সব ভেসেছে জলে,
তোমার গল্প বলার ছলে.....

*****

যতটা আকাশ আছে
তার চেয়ে ভালোবাসা বড়?
তবে কেন বলেছিলে 
আঙুলে আঙুল চেপে ধরো...
সবটা মিথ্যে জানি ...

*****

বেমালুম গিলে ফেলে যে যার খুন,
পৃথিবীটা আজ শুধু গ্যাস বেলুন...

*****

যে লোকটা মৃতদেহ,
তার কোনও দেশ নেই আর,
রক্তের নদী ভেদ করে চলে যায়
সমস্ত বর্ডার...

*****

ভাবনারা নিছক ভাবনা নয়...
যেহেতু ভাবনারো এক দেশ থাকে,
তাই লুকোনো অভ্যেস থাকে...

সৈন থাকে... বর্ডার থাকে...
সজাক থাকার অর্ডার থাকে।
নইলে হয়তো জঙ্গি হাতে খুন হত...
তারপর হিসেব.. নিকেশ, অংক হত, গুন হত..

না, সৈনরা তো খুন হয় না, শহীদ হয়,
জঙ্গিদেরও ধর্ম একই... সব ভাই ভাই..
কালাম, রফিক, ওহিদ হয়...

আচ্ছা, ওরাই কেন জঙ্গি হবে?
ওদের কী রক্ত স্নানে পূর্ণ হয়?

না.... ওরা গরীব,
ওদের পেটের খিদে চূর্ণ হয়..
অল্প টাকায় যা কাজ পায় তাই করে,
নিজে মরুক ঘরের লোকের পেট ভরে।

বাহ, বেশ ভালো তো..
আচ্ছা যদি এমন হত..
ঠিক জানিনা কেমন হত!
বাদ দাও.... থাক 
রিক্সা চালাক,
কিংবা মাঠে হাল ধরুক,
রাখাল হয়ে বুনো মোষের পাল ধরুক,
যাকগে ওসব, যা ইচ্ছে তাই করুক..

কোথায় যেন ছিলাম?
মানে কোন দেশে?

ছোট্ট বেলার গল্প বলার অভ্যেসে।

ওহ, ভাবনারাও নিছক ভাবনা নয়,
যেহেতু ভাবনাদেরও দেশ থাকে,
তাই অনেক পোশাক, অনেক রঙের ড্রেস থাকে...

কোথাও রঙিন, কোথাও সাদা কালো হয়,
রাত্রি বেলাও অনেক সময় আলো হয়।

কোথায় সে তোর?

মনের ভেতর...
মনের ভেতর মন থাকে, মন্দির থাকে,
সুখ ঘেঁষা এক দারুন নদীর তীর থাকে,
হোক না ছোট, তবুও এক বীর থাকে।

মনের সাথে যুদ্ধ করে, পাল্লা দেয়...

যখন আবার রেশন দোকান মাল না দেয়,
তখন না ঠিক পেট ভরে না,
রাগ করে তাই ভাত খাই নে,
যত্ ক্ষণে বাপ গাল না দেয়...
কী করি বল...

আসলে, ভাবনারা নিছক ভাবনা নয়,
যেহেতু ভাবনাদেরও ঘর থাকে,
তাই নিজের ঘরেও অনেক আপন,
আবার অনেক পর থাকে।

যেমন আমার মাকে,
চিনিস তো তুই তাকে।

ভাই এর বেলা আদর কোরে,
উলের বোনা চাদর কোরে,
দেয় চাপা...

আমার তো সেই খড়কুটো,
ঘরের ভেতর ঘর দুটো,
শীতের ভেতর রাত কাঁপা।

থাক গে সেসব হক কথা,
এখন শুধু মনের সাথে সখ্যতা,
মনই শুধু মনের মত বন্ধু হয়...

আর কেউ কি এই পৃথিবীর বন্ধু নয়?

তা কেন নয়..
কেউ যেন নয়...!
এই বাঁশ ঝাড়, পুকুর পারের শিউলিফুল,
আর... একটা মেয়ের বৃষ্টি ভেজা কানের দুল।

যাক গে সেসব যায় গো বেলা..
জীবন মানে দারুন খেলা,
বিশ্ব ভরা খেলার মাঠ,
একটা মোটে বই পৃথিবী,
কত্ত রকম তার মলাট!

উল্টে দেখো পাল্টে দেখো,
ভাবনাদেরও ঘর থাকে,
এই পৃথিবী গুণের বাজার,
গুণের মনি হাজার হাজার,
সত্যি কারের বাজারে আজ
তাদের ভাবার দর থাকে...

*****

 

একটি মেয়েকে আমি গত জন্মে ভালবাসতাম,
মেয়েটিও আমাকে গত জন্মে ভালবাসতো....
মেয়েটিকে আমি এ জন্মেও ভালবাসি,
মেয়েটি আমাকে এ জন্মেও ভালবাসে....

কিন্তু মেয়েটি এজন্মে বর্ডারের ওপারে জন্মেছে....

আমি দেশদ্রোহী....

*****

 

খাপ ছেড়েছে মনের ভেতর,
চাপ ছেড়েছে বুকে,
তোমার জন্য প্রেম রেখেছি
বন্দুকে বন্দুকে...

*****

বৃষ্টি নেমে আসে দু'কাঁধে তার,
সময় বয়ে চলে ভাঙা সেতার।

মেঘেরা জমে জমে কবিতা হয়,
যা কিছু পুড়ে গেল তা চিতা নয়।

আমারো চোখ দুটো স্বভাবে লাল,
কে কবে জ্বেলে ছিল রঙমশাল।

*****

 

যে পাখিটা গৃহ হারা, যে পাখিটা মন,
যে পাখিটা আকাশেই বেঁধেছে ঠিকানা,
যে পাখিটা মেঘে মেঘে তোলে আলোড়ন,
যে পাখির জুটে যাচ্ছে খাঁচাতেই দানা,

যে পাখিটা মাঠে মাঠে ধান খুঁটে খায়,
যে পাখিটা কথা বলে, বাঁধা নেই যার,
যে পাখিটা সীমাহীন নীলে ভেসে যায়,
যে পাখিটা একা থাকে ছোট সংসার,

যে পাখিটা গান গায়, যে পাখিটা নাচে,
যে পাখিটা পথ ভোলা খুঁজে ফেরে ঘর,
যে পাখিটা জেগে থাকে আনাচে কানাচে,
যে পাখিটা ভালবেসে মনে পোষে জ্বর,

সব পাখি ভাল থাক সব দেশে দেশে,
সীমাহীন আবেগের বুদবুদে ভেসে

*****

 

যত বৃষ্টি ডুবিয়ে দেয় অফুরন্ত গ্রাম,
তত কান্না আজ আমি কেঁদে ফেললাম..

*****

বুক ভর্তি চওড়া ভাষন। নমনীয় শিরা।
আসলে কোনও কাজেই লাগেনা কবিরা।

*****

এখনো রক্ত হিমঘরে দিকে দিকে,
পুড়ছে পুড়ুক তোমার আমার দেশ,
কবেই মরেছে, লাল হয়ে গেছে ফিকে,
আমার খিদেকে লুকোনোই অভ্যেস...
আসলে জীবতো উড়ে আসা এক পাখি,
নিজেকে ছাড়া কিছুই বোঝেনি আর,
অল্প খাবার যা রয়েছে বাদবাকি,
তাদেরও তো আছে অনেক অংশীদার..

*****

কী কী চাই? কত চাই? কী বা তার দাম?
এসব প্রশ্ন গুলো অধুনা , অতীত ;
এখানে পাওয়া যায় খাস্তা বাদাম
দিয়ে মাখানো হৃদয়। খেলে কী ক্ষতি?

আসুন আসুন, নিন দেখে বারবার
দামে আর নামে আছে রকমারি রূপ,
মুচকি পাঁজর ভাজা, টাটকা লিভার,
বারো মেসে শিশুটির রক্তের সুপ...

আহারে দারুন স্বাদ, ফেলে দিয়ে নুন
চেখে যান ফুসফুস, শাসালো নীলয়;
না খেলে যে মিস হবে এত তার গুন,
এহেন আহার ও কী রোজ রোজ হয় ?

সরু মাথা, মোটা ঘিলু, আর যা যা চান,
রক্ত নদীর তীরে..... দিয়েছি দোকান !

*****

 

চিঠি

অস্ত্র বাড়ছে দেশে দেশে সীমাহীন,
অস্রু বাড়ছে বেদনার দিকে দিকে,
ভাঙার গল্প শেষ হলে কোনদিন,
গড়ার কথাটা চিঠিতে জানাবো লিখে..

হাজার মায়ের চোখের জলের নদী,
দিশাহারা উদ্ভ্রান্ত খালি কোলও,
কখনো সহসা জ্ঞান ফিরে আসে যদি,
আমাকে সে কথা চিঠিতে লিখতে বোলো..

কত দিন কোনো ফসলও ফলেনি মাঠে,
কত পুরু আজ হৃদয়ের সীমারেখা,
কত পিপিলিকা শোকের রক্ত চাটে,
সেসব কথাতো চিঠিতে যায় না লেখা..

এখানে যুদ্ধ। খোয়া গেছে কার কী কী?
সে কথা তোমাকে চিঠিতে কী করে লিখি।

*****

 

খনো বলিনি যা কিছু ইচ্ছা করে
এখনো বলিনি দেখবো তোমাকে ছুঁয়ে
এখনো রাত্রি সহসা তুষারে ভরে
এখনো স্বপ্ন একরোখা একগুয়ে

এখনো বুকের পাঁজরে পাঁজরে জ্বর
এখনো রঙীন স্বপ্ন পরীর ডানা
এখনো দুচোখে সন্ধ্যে নামার পর
বেহায়া পিরীতি পথচোরা রাতকানা

এখনো কার্নিশ রোদে পুড়ে পুড়ে লাল
এখনো আগুন ধিকি ধিকি বেড়ে চলে
এখনো কান্না বেঁচে আছে এত কাল
ধামা চাপা দেওয়া বেদনার কোলাহলে

*****

 

ভাগ্যি আমারে যাহা দিইয়াছে ঘটে,
তাহাকেই আমি সুখ মানিয়াছি নিদারুন অকপটে...

*****

এখনও ছোঁয়া যায় আমাকে। ছুঁয়ে তুমি দেখো না তা আর!
বুকের চারপাশে জন্মেছে সারি সারি পাতাবাহার.....।

*****

খাতার ওপর নাকের নোলোক, কাথার ওপর ঝুল,
সারা মেঝেয় বিছিয়ে আছে তোমার কানের দুল,
তুমি আছো অন্য কোথাও,
বুকের ভেতর ক্ষরস্রোতাও,
পাড় ভেঙে আজ একলা নদী রাঙিয়েছে মাস্তুল।

বনের ঘরে মনের কথা, কোনের ঘরে ঝুল,
বারান্দাটা হাতড়ে মরে তোমার খোঁপার ফুল,
দূরে তুমি আপন মনে,
হাসছো বুঝি সন্ধিক্ষণে,
অংকে আমি হয়তো কাঁচা তাই হয়েছে ভুল।

বিষন্নতা আঁকড়ে ধরে একান্তে আঙুল,
চোখের ওপর নাকের নোলোক বুকে কানের দুল...

*****

কথার ভেতর শব্দ অনেক, অন্য গানের সুর...
মেঘের ভেলায় ঘর বেধেছি, উড়ছি অনেক দূর..
ভাবছি কোথাও হারিয়ে যাব,
ইচ্ছে মত রং মেশাবো,
আমার কাছে দেখাও পাবে নতুন রামধনুর...
পাগলা হাওয়া ব্যস্ত ভারি,
নিজের তালে বেশ আনারি,
আর যা কিছু ভাসছে হাওয়ায় উড়ন্ত কর্পূর...
তোমার দিকের আয়ন বায়ু বাষ্প হতে চায়,
আমার লেখা গানের কলি ভাসছে কল্পনায়..
ভাবছি তুমি অসম্ভব'ই,
ভোরের হাওয়ার গল্প সব'ই,
বুকের উপর দিচ্ছে দেখা নতুন সমুদ্দুর,
মেঘের ভেলায় ঘর বেধেছি উড়ছি অনেক দূর...

*****

কত মন্ত্র বিফলে যায়, কত তীর ছুঁয়ে ফেলে তারা,
এ যুদ্ধ কী কী দেয়, গোটা কত মৃত দেহ ছাড়া?

*****

এ জীবন অভিমানি। চলে যায়। রাগ নেই তাও।
আমি মাটিতে মিশে গেলে, জল দেবে রোজ, কথা দাও!

*****

এ পৃথিবী পরাজিতদের। কার নামে লেখা চির জয়?
সময় ফুরিয়ে এলে আলোদেরও নিভে যেতে হয়..

*****

জানালা থেকে শুকিয়ে যাচ্ছে দিন, চুঁইয়ে পরছে কাঠ,
এখানে স্মৃতি বলে কিছু নেই, শুধুই মলাট....

ক্লান্তির দূত,
বড় অদ্ভুত...
শান্তির বাণী কই?
কালো সুতো নিয়ে
কোনো একদিন,
লাল দীঘি পেরোবোই...!
তার পর নয় বিচ্ছেদ হবে....
বিচ্ছেদ হলে হোক..
তুমি তো জানোই 
বরাবরই আমি,
বিচ্ছেদ প্রিয় লোক.....

*****

মোহনা নিঝুম আজ, অপ্রস্তুত ঢেউ,
দূরে কিছু চোরা বালি রাত পাহারায়।
জানি রাখে না কথা, রাখবেনা কেউ,
একা মন ঘিরে আছে তারায় তারায়।
শেষ নৌকা চলে গেছে ঘরে ফেরার,
আর কোনও পথ নেই জলে ও স্থলে।
এমন হাওয়াও নেই, যে একবার
অন্তত একবার থেকে যেতে বলে..!

*****

যারা চাষ করে,
মাঠে বাস করে,
যারা রদ্দুরে পুড়ে ছাই হয়,
যারা আধপেটা খেয়ে বেচে থাকে,
তারা আমার চাস্তো ভাই হয়...

*****

আসমানি মেরুরেখা সহস্র খাঁজ,
এখানে হৃদয় চেনে স্মৃতির কোলাজ..
দীগন্তে মরুভূমি মাঝে দুটো তীর..
সেদিন বন্ধু ছিলাম আজ মুসাফির...

*****

 

যা যা কিছু গোনা গেল, ভালবাসা, বন্ধুত্ব, দিন,
এখনো কথারা এখানে ঠিকানা বিহীন...
পরিখাটা অগোছালো, ঘিরে রাখা সময়ের ঘের,
আবারো সেজে ওঠে যদি, দেখা হবে ফের....

*****

 

এক পৃথিবী অন্ধকারে জাগছো তুমি একলা চাঁদ,
তোমার কাছে বাঁধাই দিলাম যাবতীয় শখ-আহ্লাদ...

*****

জন্মতো হয়, মৃত্যু আসে, সময় কিন্তু একাই হাঁটে;
বিবর্ণতাও বর্ণ খোঁজে লড়াই লড়াই এ তল্লাটে....

*****

ফাগুন পোড়ে আগুন হাসে...
এমন মরণ সবার আসে.....

যে কথাটা অক্ষরে ছোট, ভাবার্থে ঢের,
দেখা হলে সে কথাটা বলে যেও ফের...

*****

ঝোড়ো হাওয়া.....

একপাশে ঝোড়ো হাওয়া, একপাশে শ্রোতা,
মাঝে কিছু অবাধ্য না শোনানো গান;
বুকের গভীর ক্ষত আলগছে পোঁতা,
সারি সারি বসে আছে ফুলের দোকান...

এ দোকানে কে কে আসে? কারা বেঁচে ফুল?
প্রশ্ন অনেক গুলো, উত্তর কোথায়?
এ নদী এখনো একা, একা মাস্তুল,
কথা শুধু ভাঙে গড়ে ক্ষরস্রোতায়...

ফিরে দেখো ডায়েরিতে শ্যাওলার দাগ,
জমে আছে এক কোণে ভুলে যাওয়া নাম;
'ভালোবাসা গুনে বাড়ে, হয় নাকি ভাগ'
যে কথাটা শেষ খামে লিখেছিলাম.....

সময় বদলে গেছে মূহুর্তের সাথে;
বিভেদ এখনো নেই তোমাতে আমাতে..

*****

এযাবৎ কিছু ভালোলাগা ছাড়া কিছুই লিখিনি আমি,
তবু কিছু পাগলামি -
তোমার নামে আরও আরও করে যদি লিখে দিয়ে যাই,
তুমি ভেবে নিও, ছাই...
উড়িয়ে দিও কোনো অবেলায় তুষার ঝড়ের দেশে,
জলের ছদ্মবেশে...
মেঘেদের দলে ভিড়ে যাবো দেখো, ফিরে আসবার হেতু,
এখনো ভালোবাসি যেহেতু....

*****

তোমার কাছে আমার অগাধ ঋণ,
এই যে এখনো ভালো আছি, এতদিন।

*****

দুই দিকে দুটো সীমারেখা,
আবার আরেক মেয়ে 'কেকা'
বাড়িয়েছে হাত...
কাকে দেবো বসন্ত বেলা,
কার নামে দেবো অবহেলা,
বেদনার রাত!
তার চেয়ে একা যদি থাকি,
অচেনা কোনো বৈশাখী,
সঙ্গিনী হয়...
বেশ হবে নতুন কে চেনা,
বিদ্রোহ কেউ করবেনা,
থাকবেনা ভয়।
কই কিছু বলছো না তো, যে-
কেউ কী তোমার মত বোঝে,
পাগলের মন...
আরে নানা, রাগালাম তোমায়
কথা দিয়ে মিছরির বোমায়,
বেশ কিছুক্ষন।
যদি তুমি করো এতে রাগ,
তবে নেবো হৃদয়ের ভাগ-
পথে এগোবার...
তখন বুঝিয়ে দেবো আমি,
ভালোবাসা করে বদনামি-
তুমি কে আমার

*****

 

জেহাদের দেশ থেকে.

আমাদের দেশে ফুলেরা ফোটেনা,
পাখিরা গায় না গান,
আমাদের দেশে না বলা কথারা
করে না তো অভিমান।
আমাদের দেশে আমি তুমি বলে
কোথাও কিচ্ছু নেই,
আমাদের দেশে আমিই আমাতে
তুমি থেকো তোমাতেই।
আমাদের দেশ, জেহাদের দেশ
রক্তে রক্তে সুদ,
আমাদের দেশে ভালো থাকা মানে
গুলি বোমা বারুদ।
আমাদের দেশে ননভেজি সব
শুক্তে ভরে না পেট,
আমাদের দেশ, মাংসের দেশ
কচি, বুড়ো সমেত।

*****

চুপকথারা ঘুমের ভেতর, রূপকথারা জেগে..
ইচ্ছে হলেই হারিয়ে যাবো, দূরন্ত এক মেঘে...
খুঁজবে তুমি হয়তো কোথাও, হয়তো কোথাও দূরে,
কিন্তু শুধু থাকবো সেদিন তোমার হৃদয় জুড়ে...

*****

 

দূরত্ব পরিমেয়। ভালোবাসা এখনো কঠিন...
যতটুকু ভালোথাকা আছে ততটুকু জীবনের দিন....

*****

যে ছেলেটি গান ধরেছে, যে মেয়েটির সুরে,
ওরা দুজন ভিজছে এখন আমার অন্তপুরে...
বৃষ্টি থাকুক আর না থাকুক থাকছে প্রবল ধারা...
এবার বলো তাদের সাথে ভিজতে যাবে কারা?

*****

 

হঠাৎ দেখা নদীর পাশে, হয়নি পরিচয়,
পাড় ভেঙেছে আমার দিকে তোমার দিকে নয়...

*****

 

রাতপ্রহরী
----------
রাতের শেষে রাত প্রহরী ভাবে,
আর একটু পরে সকাল হয়ে যাবে,
রাত প্রহরী ভাবে।

সকাল হবে সূর্য ওঠার সাথে,
সকাল হবে সন্ধ্যে নামা রাতে,
সকাল হবে সকল পাড়া গাঁ'তে,
মিষ্টি মেয়ে ভৈরবী গান গা'বে,
রাত প্রহরী ভাবে।

দোকান পসার জুটবে এসে হাটে,
পায়রাতে ধান খুঁটবে এসে মাঠে,
একটু পরে তিনটে উনোষাটে,
সকাল হয়ে যাবে-
রাত প্রহরী ভাবে।

পাখির দলে বাঁধবে এসে জুটি,
চায়ের সাথে ভিজবে যে পাউরুটি,
একটু পরে মিলবে তবে ছুটি,
আর এক নতুন দিনের দেখা পাবে,
রাত প্রহরী ভাবে।

সকাল হবে সকল পাড়ায় পাড়ায়,
বিদায় দেবে হাজার তারায় তারায়,
ফুটবে রে ফুল সকল ফুলের চাড়ায়,
তার দুটো চোখ একটু বিরাম পাবে,
রাত প্রহরী ভাবে।

*****

চাঁদ ওঠেনা। ফুল ফোটেনা। মেঘ ডাকে না। ওই....
তুই কী আলোর ফুলকি নাকি সত্যিকারের, সই....?

*****

আমার ঠিকানা নেই। ওরা জোর করে বেঁধে ছিল তাই..
এখনো বৃষ্টি এলে আমি, মেঘেদের সাথে ভিজে যাই....

*****

কাকে আর কি কি লিখি,
কত কথা আবেগের দায়...
কলমে জব্দ হয় মন, 
কবিতারা পাতায় পাতায়....

*****

যে শিশুটা মেঘ দেখেছে, খুব পেয়েছে ভয়,
সেই শিশুটা মেঘকে আজও ভাবছে অবক্ষয়....

*****

যেখানে দূরত্ব মানে
মুছে যাওয়া দিন,
সেখানে বসন্ত রাখা কিনে,
এখনো ভেসে যাওয়া আছে
বিরহের দিনে....

*****

আজও পাঠালাম কবিতার হাতে বাঁধ ভাঙা কিছু জল,
শুধু জেনে রেখো চিরদিন আমি চিরদিন দুর্বল...

*****

রাত জেগে লিখে রাখা কবিতার মানে,
আমাকে ভিজিয়ে দেওয়া অশ্রুরা জানে...

*****

আমার কোন উত্তর নেই আর,
প্রশ্ন আছে হাজার মেঘে ঢেকে....
ফিরিয়ে দেওয়া বে'বাক হাওয়া জানে,
ঝড় উঠেছিল কোন অচিন পুর থেকে....

*****

ধাক্কা খেতে খেতে একদিন তুমিও
সর্ব শক্তিমানের কাছে হার মেনে নেবে,
তুমিও বিশ্বাস করতে শুরু করবে ভগবান আছে,
সময় তোমার রাশি ফলের সাথে সমান্তরালে ঢেউ পেরোবে...
সমস্ত নক্ষত্র, রাহু, কেতু দের
টান অনুভব করবে......
এক অদ্ভুত মেল বন্ধন...
তুমি বার বার মেনে নেবে ভগবান আছে....
ভগবান ছিল,
ভগবান থাকবে....
ঠিক আমার মতই.....

*****

একটা সময়ের পর আর কোনো শূন্যতা থাকে না,
শূন্যেরা পরিণত হয় অসীমে... 
যেমন করে একটা নীড় হারা পাখি একটা আকাশ খুঁজে পায়,
ঠিক তেমন করে....
আমাকে মুক্তি দিও না , আরো আরো শূন্যতা দাও....
আমি আর বিরহের কবিতা লিখিনা....

বলবো বলবো ভাবি,কিন্তু বলতে পারছি কোথায়?
মনের কথা বনের ভেতর মিলছে খরস্রোতায়...

 

সবকিছু ক্ষণিকের। রাগ ঘৃণা অশান্তি ক্লেশ।
জীবন খাতার মত। মুড়ে দিলে সবটাই শেষ...

 


আমার পেরিয়ে যাচ্ছে বেলা,
তোমার বাড়তি অবহেলা,
জীবন মানে মাঝ দরিয়ায়,
ভাঙা গড়ার খেলা...

আমার সন্ধ্যা নামা দিনে,
তুমি ভেনিলা আইস্ক্রিমে,
ভালোবাসা আটকে আছে
ভোডাফোনের সিমে....

তুমি এসি বাসের সিটে,
আমার জীবন পার্কস্ট্রিটে,
রথের চাকায় পিষছে খা

*****

মন ভাল নেই। বিরক্তি রাত। কিন্তু ভুলের পশমিনা চাই।
দূরের কোনো দেশ কে নিয়েই, ক্ষুরের ধারে গল্প সাজাই।

তার চে' সহজ কাব্যি করা, তার চে' সহজ রাত কাটানো...
চোখ খুলে ভোর। ক্লান্ত বাতাস। একটু দূরেই ভোরের আজান।
একলা হতে লোক লাগেনা; বাঁচতে হলে রাস্তা জানো।
ভোরের দিকেই গান ভিখারি, হালকা সুরের বেহাগ বাজান।

বেরিয়ে পড়ি, দু'চার কথায়, গল্প শোনায় রবীন্দ্রনাথ...
এমন করে কেটেই যাচ্ছে, বেঁচে থাকার দু'একটা রাত।

*****

মুখ বুঝে নেয় স্পর্শ প্রাচীন, বুক বুঝে নেয় ফন্দিকে,
আমরা কেবল কথার ফাঁকে, বাঁচাই জবানবন্দিকে...
ফেরার পরেও আকাশ হারায়,
পশ্চিমি মেঘ ঘনিয়ে দাঁড়ায়,
তোমার কাছে ফিরতে হবে, রাস্তা বলো কোনদিকে?

*****

সরকারি স্কুল
তুমি হিসেব দেখাও নদী, আমি ভাঙছি চোরাবালি-
আমার বইয়ের পাতা ভরাট কিছু অবাধ্য চুনকালি,
আমার ইস্কুলে এক পাল-
বাড়ে জীবন্ত কঙ্কাল,
তোমার মিড্ডেমিলে পেট ভরে যায়, মগজ থাকে খালি

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?