ভাবানুবাদ - ১
প্রদীপ সরকার
ডালাস, টেক্সাস

জনৈক নিগ্রো দলনেতাকে

(TO CERTAIN NEGRO LEADER by Langston Huge ভাবানুবাদ)

 

বুনো থাবা বাড়িয়ে

শব্দের ক্লেদাক্ত নিনাদেরা উঠে আসে

শ্বেতাঙ্গের সরীসৃপ জিভে –

ওরা প্রত্যেকে তীক্ষ্ণ ও স্বতন্ত্র এক একটি টঙ্কার তোলে -

 

“হে আমার প্রিয় কালো চামড়ার দাসেরা

তোমরা ক্রমশ বিনয়ী ও নম্র হয়ে ওঠো

বেশি চিৎকার কোরোনাকো আর

পুঞ্জীভূত শক্তির মতোন”।       

(সেপ্টেম্বর ১২, ১৯৮১)

প্রাণ তো এমন ভালবাসার হয়

(LIFE IS FINE by Langston Huge ভাবানুবাদ)

 

আমি নদীর কাছে গিয়েছিলাম চলে

বসে ছিলাম স্তব্ধ হয়ে তীরে,

ভাবার চেষ্টা বিফল হয়ে গেলে,

ঝাঁপিয়ে পড়ে ডুব কি দিতাম আমি!

 

একটি মাত্র বার এসেছি হেথা,

বজ্র ভরে তুলেছিলাম গলা,

আবার এলাম, কন্ঠ দিলাম ছাড়ি,

জলটুকু কি একটু ছিল তুহিন!

আমি এখন ডুবতে নাহি পারি।

 

শীতল ছিল জলের নরম হাত, 

তুহিন ছিল বহতা নদীর জল।

 

আমি এখন অনেক উঁচু থেকে

ওপর থেকে নীচের দিকে দেখি

আমার মনে আমার শিশু আসে,

ঝাঁপ দেবো কি? ভাবতে আমি পারি?

 

আমি এখন অনেক উঁচু থেকে

নীচের দিকে আমার স্বপ্ন দেখি।

 

আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি হেথা,

কন্ঠ ভরে শব্দ আছে গাঁথা,  

এটা যদি একটু নীচু হত -

ঝাঁপ কি দিতাম? মৃত্যু হত না কি?

 

আমি ছিলাম খানিক উঁচু হেথা,

স্বপ্ন ছিল উচ্চ রাগে বাঁধা। 

আমি এখন এই কুঁড়েতে থাকি,

আমার এখন এই ঘাসেতে বাস,

আমি একে ভালবেসেই থাকি,

ভালবাসার জন্যে জীবন দেই।

 

যদিও তুমি আমার আওয়াজ শোনো,

যদিও তুমি কাঁদতে দেখো মোরে,

আমি তোমায় ভালবাসি জেনো,

আমার মরণ যদিও দ্যাখো তুমি।   

 

জীবন আমার শস্য ভরা গৃহী,

জীবন আমার রৌদ্র সোনার মদ,

জীবন আমার হালকা বুনোট কথা,  

জীবন আমার দামাল ঝড়ের রাত।       

 

এখন আমি ডুবতে নাহি পারি,

এখন আমি ভাবতে থাকি শুধু,

এখন আমার ভালবেসেই থাকা,  

জীবন আমার হালকা বুনোট কথা।  

(মার্চ ৪, ২০১৬)

পার্ক বেঞ্চ

(PARK BENCH by Langston Huge ভাবানুবাদ)

 

আমি থাকি পার্কের সীটে,   

আর তুমি? তুমি থাকো পার্ক অ্যাভিনিউ -   

কতটুকু দূরত্ব বটে! 

তুমি আর আমিও তো আছি, মাঝখানে দূরত্ব বধির।  

 

আমার ভিখারি হাত চেয়ে নেয় দশ সেন্ট - রাতের খাবার,

তোমার সেবিকা আছে, আর বাটলার।

দেখ - আমিও উঠছি জেগে এই ঘুম ভেঙে!   

চুপ কেন? তুমিও কি ভীত নও এতে? 

আমিও তো যেতে পারি হয়তো বা -

এইবার নয়তো বা পরের বছর – পার্ক এভিনিউ?

তাই নয় না কি!

 

 

ব্যাথারা চলে গেলে প’রে

(AFTER GREAT PAIN by Emily Dickinson ভাবানুবাদ)
 

ব্যথারা চলে গেলে প’রে,

ফিরে যে আসে অনুভূতি,
স্নায়ুরা বসে থাকে চুপ

নীরব কবরের স্তূপে!
তবুও ব্যাকুল মন খোঁজে,

শুধায় শুধু সেই মন,
“এখানে ছিল নাকি সেই,

সেই কি ছিল প্রিয়জন?
ছিল কি সেও গতকাল,

কিংবা অযুত যুগ আগে?

অলসে কেটে গেছে ক্ষণ

বোঝেনি খোয়ানো এই মন।   

 

পথিক ঘুরেছে তার পথে

নিছকই যান্ত্রিকভাবে

অরণ্য, সমীরণ ছুঁয়ে

কখনও চুমে গেছে মাটি,

স্বচ্ছ স্ফটিকেরও মাঝে  

ধূসর  কঠিনতা থাকে

ব্যথারা শিলায়িত - মূক  -  

ফোটেনা পাথরে কোনও ফুল -

অজানা বাহুপাশে বাঁধা -

প্রাণেতে কাঁপন কেন নাহি!

জানিনা কোথা এ পথ যাবে  

সহজে ছাড়ানো নাহি যাবে

যেমনই হোক সে যে সখা -

চলেছে জীবন ছেড়ে খনি।     

 

দিকচিহ্নহীনা নদী

যতিতে বেঁচে থাকা ধারা

আবার দৃষ্টি ফিরে পাওয়া

          বাতাস ঝলক ফিরে আসা

 

এখনই সময় এগোবার -

স্মৃতিতে চিরায়ত ক্ষণ –

বাতাসে ক্রমশ শাদা হিম -

          ব্যথায় রোদন কেন নেই!

মৃত্যু তুহিন শীতলতা -  

ক্রমশ নিথর হয়ে যাওয়া -   

একেও যেতে দেই শেষে

আঁধারে বোবা ম্লান রই –

দেখিনা কিছু আর আমি –

শান্ত সমাহিত হই।  

 

 

অনস্তিত্বই আমাদের অস্তিত্ব

(I’M NOBODY! WHO ARE YOU? By Emily Dickinson – ভাবানুবাদ)

 

আমি কেউ নই। তুমি কেউ না কি?

না কি তুমিও কেউ নও! 

তা’হলে তো আমরা যুগলবন্দী - বলো না কখনই তুমি –

ওরা যে নির্বাসনে দেবে - যুগলে পাষান হয়ে যাবো!

কেন যে জানোনাকো তুমি!

 

কতটা হতাশ লাগে, বলো! – এমনই একজন হতে –

কতটা জনমত পাবে -  

তোমাকে মান্য যারা করে - তাদের কাছে যদি তুমি

সারাটা দিনরাত ধরে তোমারই নাম যদি বলো?   

যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন তিনি

(HOME THEY BROUGHT HER WARRIOR DEAD – by Lord Tennyson – ভাবানুবাদ)

 

যোদ্ধা যখন তোমার এলো ফিরে

মৃত্যুমাখা ঠান্ডা কফিন-সাজে

মূর্ছা কিংবা কান্না আসেনিকো

মনের গভীর কিংবা নয়নজলে।

যত তোমার বান্ধবীরা ছিল,

দেখেছিলো, বলেছিলো উঠে -

‘একটু তুমি ফুঁপিয়ে উঠে কাঁদো,  

নইলে তোমায় মরণ এসে ছোঁবে’।   

 

‘শৌর্য্যে তোমার যোদ্ধা ছিল মহান,

ঝলসে ছিল উচ্চ বীরগাঁথায় -  

বিপ্লবী সে স্বদেশপ্রেমী ছিল,

দু’চোখ ভরে স্বপ্ন ছিল মাখা,

সত্যিকারের বন্ধু ছিল সখা,

শত্রু এলেও আলিঙ্গনে বাঁধে

দরাজ হৃদয় দরাজ ছিল সেনা’ - 

তবুও নারী বললো নাকো কথা, 

মৌনী থাকে, উহ্য থাকে ভাষা,

নড়লোনা সে, আঁধার শুধু কাঁদে। 

 

তখন তোমার প্রিয়তমা সখি

        আস্তে ওঠায় যোদ্ধা-মুখের ঢাকা -

‘দেখলে না কি! দেখলে না কো তুমি!

তোমার সৈন্য শান্ত মুখমালা   

প্রীতম মুখ ও চিতায় সাজা দেহ !

কোথায় তোমার প্রগাঢ় ভালোবাসা 

এমন তো নয় লুপ্ত ভাষার লিপি’ -

তবুও নারী শব্দহীণা থাকে

চিকচিকে জল আঁখির কোণে নাহি,

স্তব্ধ শরীর, হারালো কোন সুধা!  

ঝঞ্ঝা এবং বাদল এলোনাকো

        চোখ ভাসেনি উজান খরস্রোতে।

 

নয়-দশকি ধাত্রী তখন এসে

        নারীর কোলে নামিয়ে দিল শিশু -

ছোট্টো হাতে ছোট্টো শিশুর খেলা

মায়ের কোলের নরম উষ্ণ ওমে

ছোট্টো শিশুর সরল ডাগর আঁখি

        ঠোঁট খুলে সে “মা” বলেছে না কি! 

ঝড় নিয়ে তাই কালবোশেখি এলো

নয়নজোড়ায় বানভাসি জল খেলা

‘ছোট্টো সোনা তোর জন্যেই বাঁচা,  

তোর মধ্যেই পিতৃপুরুষ বেঁচে

তোকে ঘিরেই আমার নিবিড়তা

বিলাপ ভুলে স্রোতস্বিনী চাঁদা’।  

‘তোর জন্যেই আমার জীবনখানি, 

তোর জন্যেই আমার নয়নপানি,

তোর জন্যেই হাজার জোনাক ছোঁয়া,

আঁধার হলেই মৃত্যুকে আজ ভাঙা,

তোর জন্যেই বাঁচতে শিখি আমি, 

তোর জন্যেই চাঁদপানা মুখ চুমি,

তোর জন্যেই রৌদ্র ঢাকি ডানায়

তোর ও মুখের হাসি দেখি ছায়ায়

তোর জন্যেই পাঞ্চজন্য মুখে

হৃৎপিণ্ডে বাজাই বাঁশি সুখে,

তোর জন্যেই ধ্বংস ছিঁড়ে ফেলি, 

সন্ধ্যা-প্রদীপ আবার নীড়ে জ্বালি, 

তোর জন্যেই রোদ ছড়ানো দানা, 

তোর জন্যেই মাটিতে আলপনা,

তোর জন্যেই ঘুঙুর রাখি বুকে,

ভালবাসার আঁচল ঘিরি শোকে,

তোর জন্যেই রঙ ও তুলির হ্রেষা,

তোর জন্যেই নদীর বুকে ভাসা, 

তোর জন্যেই নিভৃতে ক্রোড় রাখি,  

তোর জন্যেই ভ্রুক্ষেপে নেই উঁকি 

তোকে ঘিরেই সূর্য্যতনয় গড়া -

তোর জন্যেই আবার আমার বাঁচা’। 

 

নৈশগানে চাঁদ ছুঁয়েছে আলো (১) 

(NOCTURNES AT THE WINDOW  1# - by Frederico Garcia Lorca ভাবানুবাদ)

 

চন্দ্র যখন উঠছে ক্রঃমে - আকাশ সোনার মাঠ -  

নীচের পানে বইতে থাকে বায়ু -

আমার সুদূর দৃষ্টি তখন ব্যস্ত 

       আনমনা ওই আকাশ আবিষ্কারে। 

নৈশগানে চাঁদ ছুঁয়েছে আলো।                

 

চন্দ্র  যখন জলের কোলে ভাসে,

বায়ুর নীচে চাঁদ - 

মাটির সে ঘ্রাণ আবিষ্কারেই মগ্ন আমি,  

মত্ত আমার প্রাণ -  

ঠিক তখনই দুই তরুনীর মিষ্টি সুরেল সুর  

বাজলো কানে – উতল আমার মন –

খুঁজতে থাকি গোপন রাখা মানস খরস্রোত -  

উন্মাদনায় জ্যোৎস্না আনি মনে।

নৈশগানে চাঁদ চুঁয়ানো আলো।

 

সহজভাবেই ছাড়ি তখন জলের চন্দ্রলোক –

আকাশভরা জ্যোৎস্না ছুঁয়ে চাঁদের দিকে যাই।

(অক্টোবর ১৩, ২০১৭) 

 

 

নিশীথের বাহুডোরে 

(NOCTURNES AT THE WINDOW 2# - by Frederico Garcia Lorca ভাবানুবাদ)

 

আমার জানালা দিয়ে রাত্রির বাহু

জলের গহনা পড়ে গাঢ় নৈশরাতে  

খেলে গেছে নীল স্বচ্ছ স্ফটিক-সংগমে 

অস্পষ্ট নদীটির বুকে  -

মুহূর্তের ক্ষতস্থান দিয়ে বয়ে গেছে সময়ের ঘড়ি

ব্যস্ত ত্রস্তপায়ে -  

 

স্বপ্ন কিছু হয়ে গেছে ফিকে লহমায়।

 

 

 

স্বপ্ন

(DREAM - Langston Huges ভাবানুবাদ)

স্বপ্নের দ্রুতগতি ধরে থাকো হাতে।

স্বপ্নেরা যদি মৃত হয় -

ডানাভাঙা পাখিটির মতো

উচ্ছ্বল প্রাণ - ওড়েনা কখনো ।

 

স্বপ্নের দ্রুতগতি ধরে থাকো হাতে।

স্বপ্নেরা হারালে একবার

প্রাণ তার রসদ ফুরায়

অনুর্বর হিমায়ত তুষারের মাঠ ফসল বোনেনা।  

 

 

 

আজ রাত্রে লিখে যাবো আমি যত সব দুঃখতম লেখা

(TONIGHT I CAN WRITE THE SADDEST LINE – by Pablo Neruda)

 

ধরে নাও আজ রাত্রে আমি লিখে যাবো যত সব দুঃখতম লেখা।

 

লিখে যাবো, ধরে নাও, যেমন –

এ রাত্রি ভরে নক্ষত্রেরা ফুটেছে অস্ফুটে -  

নক্ষত্রেরা নীল -

নক্ষত্রেরা কেঁপে ওঠে কালো অন্ধকারে - অতিদূর থেকে। 

 

রাত্রি ভরে গান গেয়ে বেড়ায় বাতাস, সারাক্ষণ।

 

আজ রাত্রে আমি লিখে যাবো যত সব দুঃখতম লেখা।

আমি তাকে ভালোবাসি –

কখনও সেও কিছু ভালোবেসেছে আমায়।

 

আজকের রাত্রির মতো সারারাত আর সেই রাতে

সেও ছিলো এই বাহুডোরে -

বক্ষলগ্না  -

খোলা এই নির্মেঘ আকাশের নীচে -  

ঠোঁটে ঠোঁট কোলে কোল নিশীথের পাখিদের মতো – ফুরোনো আকাশে।  

 

আমি তাকে ভালোবাসি, কখনও সেও কিছু ভালোবেসেছে আমায়।

অমন অতল আঁখি ভালো না বেসে থেকেছে কি কেউ কোনো গোধূলিবেলায়!  

 

আজ রাত্রে আমি লিখে যেতে পারি যত সব দুঃখতম লেখা।

আমি ভেবে যেতে পারি - আমি যেন হারিয়েছি তাকে  -

সে যে নেই নিকটে আমার –

 

আজ রাত্রে আমি শুধু শুনে যেতে পারি এ গভীর রাত্রির কথা –  

গভীর গভীরভাবে তাকে ছেড়ে –

কবিতার ছন্দোময় স্তবকেরা আত্মার সাথে

এক হয়ে মিশে যায় –

শিশিরের ধ্রুপদী ফোঁটা প্রসারিত প্রান্তরের ঘাসেদের বুকে একসাথে লিখে যায় –

আজ রাত্রে আমি লিখে যেতে পারি যত সব দুঃখতম লেখা -

আমি শুনে যেতে পারি রাত্রির ঘনিষ্ঠ কথোপকথন। 

 

আজ রাত্রে নাই যদি থাকে তার ভালোবাসা, হাসি, ঘন ভ্রূ –

মৃদু অনুযোগ -

মেয়েদের মেয়েলি শরীর -

নিশীথের হরিনীর মতো কালো চোখ - আচমকা হারানো চুম্বন -  

তবুও তো নক্ষত্রেরা আছে – শুধু নেই তুমি – তুমি – শুধু তুমি প্রিয়তমাসু।

 

এটাই তো সব কিছু –

দূর থেকে প্রিয় সেই নারীটির গান –

সেই কবে উড়ে গেছে - দূর থেকে – মসৃণ বাতাসে –

বন্ধ হয়ে আসে চোখ – মন – আয়েশে – নিবিড়ে -

তবুও তৃপ্তিহীন মন – বোঝেনি এখনও - সে যে আর নেই কাছে।

কাছে নেই পিউ কাঁহা – রজনীগন্ধা আর শাদা বৃষ্টিপাত।

 

এই সেই একই রাত, একই জ্যোৎস্না - রাতের বনানী – 

আমরাও সেই রাত, সেই জ্যোৎস্নায় আছি – থেকে যাই -

তবুও একাকী -

 

আমি জানি, আমি আর কখনই ভালোবাসিনাকো তাকে –

নিশ্চিত –

আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম কোনও একদিন

ওই আঁখিপানে চেয়ে –

আমার আখরগুলি কতদিন কতদিন ছুঁয়ে গেছে বাতাসের গতি –

প্রতীক্ষায় থেকেছি কত দীর্ঘশ্বাস নিয়ে -  

আকুল হয়েছি কত কন্ঠস্বর চিনে নিতে তার –

ফিরে আর আসেনি কখনও।     

 

এখন সে অন্য ঘরে যাবে - 

এখন সে অন্য হয়ে যাবে –

এখন সে অন্য কারো – অন্য কারো কন্ঠলগ্না হবে –

আমার চুম্বনের আগে ঠিক সে যেমনটি ছিল –

হারানো কঠিন বড় সেই চোখ – সেই সুর – সেই কন্ঠস্বর –

সেই মৃগনাভি!   

 

আমি আর এখন যে ভালোবাসিনাকো তাকে –

নিশ্চিত –

তবুও যে একদিন আমি ভালোবেসেছি তোমায় –

ভালোবাসি এখনও তোমায়! 

জানিনা কেমন করে – তবুও – অস্থির –

ভালোবাসা! সে তো জানি ক্ষণিকের জন্ম নিয়ে আসে –

কিন্তু ভুলে যাওয়া? সেও কেন দীর্ঘস্থায়ী হয়!    

 

আজকের রাতের মতো সেই রাতে সেও ছিল বাহুলগ্না – ঘনিষ্ঠ আমার –

তৃপ্তিহীন মন – বোঝেনি এখনও - সে যে আর নেই

আর নেই এত কাছে। 

 

এই মোর শেষ যন্ত্রণা -

এই মোর শেষ কিছু কথা -

আজ রাত্রে এই মোর শেষ কাব্যকথা।

 

আজ রাত্রে আমি লিখে যাবো যত সব দুঃখতম লেখা।

(অক্টোবর ২৯, ২০১৭)

 

 

বৃন্তছেঁড়া গোলাপ

(NOBODY KNOWS THIS LITTLE ROSE - Emily Dickinson)

 

এই যে দেখো ছোট্ট গোলাপ পথের ধারে –

একলা পড়ে অন্ধকারে

কেউ কি চেনে কেউ কি জানে এর কাহিনী?

 

হয়ত -

তীর্থ থেকে ফেরার পথে লুঠতরাজে হারিয়ে গেছে ছোট্ট পথের গোলাপখানি –

সঙ্গীহারা বৃন্তচ্যুত ধূলোয় লুটোয় পাপড়িগুলি -  

 

হয়ত –

আমিই সেদিন সন্ধ্যেবেলায় ফেরার পথে ঘরের দিকে

গোলাপ কিনে, সুবাস দিয়ে ভরিয়ে দিতে তোমার বাসর

মুগ্ধ হবার খানিক পরেই ছিন্ন বাসরশয্যা শেষে

পথের ধারে রেখেছিলেম আঁধার রাতে – ছোট্ট এমন গোলাপখানি –  

 

কেবল শুধু –

হতাশ হওয়া মৌমাছিটা – যেটা এটার বন্ধু ছিল –

খুঁজবে অনেক সময় নিয়ে –

“কোথায় গেলে বন্ধু আমার – আমায় ফেলে  

বৃন্তচ্যুত গোলাপ তুমি – তোমায় আমি খুঁজছি কত

সোনার রোদের গন্ধ নিয়ে -

ফুল বাগিচায় আর দেখিনা –

হারিয়ে গেলে বন্ধু আমার –

নিষ্ফলা এ জীবন আমার তোমায় ছাড়া”।

 

কেবল শুধু –

নীল-তুঁতে সেই প্রজাপতি – যেটা ব্যস্ত দিনের পরিক্রমার

কর্ম শেষে বসতো এসে ছোট্ট গোলাপফুলের বুকে -

গন্ধ নিত আয়েশ ভরে – ক্লান্তি তখন হারিয়ে যেত

দুপুরবেলা ফুল বাগিচায় – অনেক সময় হারিয়ে যেত –

মৌমাছি আর প্রজাপতি - ছোট্ট গোলাপ আড্ডা দিত

ফুল বাগিচায় -   

 

কেবল শুধু –  

সেই পাখিটা একাই যেটা দেখতো বসে উঁচু তরুশাখার থেকে  

অবাক চোখে ভাববে বসে

কোথায় গেলো সেই গোলাপী ছোট্ট গোলাপ হাল্কা কচি পাতার ফাঁকে

এদিক ওদিক দুলতো যেটা –

বাতাস যাকে আদর করে বুলিয়ে দিত স্নেহের পরশ!

 

কেবল শুধু –

সেই বাতাসই দীর্ঘশ্বাসে কাঁদবে বসে নিথর হয়ে

স্বপ্নে গোলাপ পাপড়ি নিয়ে

“কোথায় গোলাপ নির্বাসিত চৈতি রাতে”।

 

ছোট্ট গোলাপ – মৃত্যুবুকে পথের ধারে অবহেলায় অনাদরে। 

এতই সহজ তোমার মলিন নশ্বরতা।

(অক্টোবর ৩১, ২০১৭)

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?