কবিতা সমগ্র - ১৭
সজল খোরশেদ


অগ্রহায়ণের শরীর
 

কিশোরীর দুটো প্রজাপতি এখন  আমার
পঞ্চতাল লয়ে তুলিতেছে কাল বৈশাখী ঝড়,
বিধি-নিষেধ, ধর্ম- শাস্ত্র,কর্ম পুঞ্জিভূত
আবহ ঘিরে তোমার স্তনে গিরগিটি কাব্য ।

মৃদু মৃদু দুলোনী আর মাদকতা মোড়া তপ্ত
প্রশ্বাস কামিনী গন্ধা শরীর দুটো শুক্রাণুর
চাদরে ছড়ানো ছিটানো  বর্ণমালার মতো
শরীরি ঘ্রাণে যখন তোমার মথিত মতি ।

ভুলগুলো তাই প্রকাণ্ড আঁকড়ে আদিম পোকার
সম্ভাষণ শরীরে তোমার, উন্মত্ত শিল্পীর
অগোছালো  ঢেউ-এর তালে ঊষাদর
এবং নিয়ে গেছো তুমি ঠোঁটের উষ্ণতা আমার ।

স্নান করার রত্ন সম্ভার নিয়ে একা একা
গহিন অরণ্যে  এসো অগ্রহায়ণের শরীর ।।'


নতুন একটা জন্ম

নূপূর বাঁধতে জানেনা কিশোরী
মুঠি চেপে খেলছে ,উপছানো হল্লা
ঘাম ঝরে চেতনার নদী তবুও ক্ষীণ
স্রোতে ভিজছে দূ’কুল সহস্র নব জন্ম
কবিতার কফিনে সাঁতার মগ্ন সভ্যতা
বিবর্তন রোগা ঈশ্বর ; গতকাল শ্রাদ্ধ।
কিশোরী খেলছে ; নূপূর বাঁধতে জানে
মাথায় লাল ফিতার  বেণী,জরাগ্রস্থ মৌনতা
স্বল্প শিহরণ কাশবন দুলছে  নিত্য,
মশারী খাটানো জানালায় পর্দা গুমোট ঘড়
উর্ণনাভের কৌশল ,জোছনায় মেতেছে রাত
ঘেমে উঠছে শব্দ ,ঘেমে উঠছে স্বপ্ন ভেলা
ছন্দ মৃন্ময়ী প্রভাত , একটা নতুন জন্ম ;
দুটো হাত সঠিক কাঠামো প্লাবিত ভ্রূণ

নূপূর বাঁধতে জানে কিশোরী বেণীচুলো

 

 

বেষ্টনী
 

রক্ত মাখা ন্যপকিন ছুঁড়ে ফেলে কিশোরী
বসন্তের প্রথম সূ৲য্যরশ্মি শরীরে  এখন

পৃথিবীর বিস্তর বুকে নারীর ছায়া

রাশি রাশি বাতাসের ঢেউ ভেঙ্গে উড়ছে
মৌমাছি ও মানুষের দল ,মধু – সত্য এবং
সৌন্দ৲য্যের  উদ্দেশে গন্তব্য নিদিষ্ট

গুয়ান্তানামো বে র বন্দি শিবিরে কবি তুমি
মেলে ধর তোমার শ্রেষ্ঠ কবিতাগুচ্ছ তোমার
আত্ম প্রশান্তির রূমালে মুড়িয়ে দাও ওদের

শাদা হয়ে যাচ্ছে বিড়ালের গোঁফ ক্রমাগত
তন্ত্র আর মন্ত্রমুগ্ধ ষড়যন্ত্রের বৈরী শিকার
স্বপ্নের জগৎ আমাদের রঙধনুর বন ।

 

দৃষ্টির পেখম
 

বর্ণমালার পেখম ঝলসে উঠছে
অধরা অবয়বে আনন্দের হাসি
শূন্যের ভারাক্রান্ত অবস্তগত উদাসী
নীল চোখ চোখ দুটো আকাশে দুলছে

আমি- তুমি, তুমি-আমি, স্বরবর্ণের কার্নিশে
হরফ পরিচিতির চৈতন্য মুখরা সভ্যতার শিশু
তোমার আমার প্রেম চন্দ্রবিন্দুর বালিশে

ক্ষুব্ধ নদী না ধরে জল, তো না ধরুক বুকে
পুষ্প কানন বিমুখ হোক না মাধুকরীর দল
পেখম ছায়ায় দুর্ভেদ্য তোমার বল
চেয়ে আছি আমি সে-ই অন্য সুখে।

 

কলান্ধ
কেউ নেই এখানে , একাকী একাত্মবোধ ওখানে

শ্রাবণের মৃদু মেঘ সিক্ত করছে ভূ
শ্রাবণী স্নানে সবুজাভ গালিচায় এক চিলতে রোদ
তোমার হাসির কলধ্বনি গাঁয়ের পাশে আঁকাবাঁকা
নদীটার শিয়রে।

পৃথিবীকে ভালোবেসে কুজ্ঝটিকা শিহরণী উষ্ণতায়
ক্রমাগত ঝাঁক ঝাঁক সুনিপুণ শুভ সকালের ঝড়
শরতের কামিনীগন্ধা স্পর্শে মেতে ওঠে ধী
সিংহের নখরে, রেগে আছো কিন্তু  তুমি তবুও !
প্রেমকিটাক্রান্ত অভিমান।

গাঙচিলের উড়ন্ত গাঙে সহস্র কোটি চিতা তারুণ্য
রঙের আবরণভেদী ঔজ্জ্বল্য পশরা পাটাতনে
ঊর্মির খেলা খেলে পুরুষ নারী কলামুগ্ধ
দাম্পত্য ব্যালকনি।

প্রাণেরা প্রানাবরণে সৃষ্টির শিরা উপশিরায়
সৌন্দর্য সত্য উৎসুক , তোমার শরীরে আমি তাই

 

 

তানপুরা
 

রত্নগর্ভা অনুভূতিগুলো দুলছে শরীরি স্বত্বায়
পানকৌড়ি খুঁজে পেয়েছে মাছ জোৎস্না রাতকে
শৃগালের অভিবাদন, এশিয়ার কোন গাঁয়ে দ্বিপ্রহর
বেলাতে বসেছে নুড়ি কুড়ানোর পশরা

ছড়ানো ছিটানো খেলনা নিয়ে ব্যস্ত কিশোরী
রঙধনুর সাত রঙের একীভূত দ্বিধাহীন চিত্ত
আন্দোলন কী সব বিস্তর মহাশূন্যে ; অতঃপর মোহনীয়
প্রেমাতুর করতে পারো একে অন্যকে অতএব-
টেড হিউয়েজ এর ‘কাক’ পর্দার ওপাশে স্বর্ণালী
আসর জলরাশির বিস্তর ভাঁজে খুন কণিকায় শিহরণ ,
পৃথিবীর ফুসফুসে অগ্নিকাণ্ড – অপরাধী আমরা ;
আমৃ্ত্যু বেঁচে থাকি মৃত্যুতে মৃত্যুকে পরাজিত করে

নূপূরের যে শব্দ এ অনুরণন জানালায়
নিয়ে গেছে তানপুরা কোথায় কে জানায়

 


আক্রান্ত শৈলী
 

কবিতার শরীর ভাঁজে অনেক রাখতে রাখতে
আমার ‘এক’ হারিয়ে গেছে
বহুত্ববাদীর মতো ক্রমাগত শিশির উদ্যান এখন
বেদি মলে উপঢৌকনের নানাবিধ স্থাপত্য শৈলী

কেউ নেই। রয়ে গেছো তুমিই একমাত্র কবিতা
যার শাখা প্রশাখা সালোকসংশ্লেষক শিহরণ
মলয়ানুভুতি মূল কাণ্ড শিরা উপশিরায় একীভূত
আত্মাকে আবিষ্কার করি নতুন সকালের জন্য

গহ্বর ফণীতে বেঁধেছ কিন্তু ; মৃত্যুর অববাহিকায়
বরফ গলা নদী  ক্রমক্ষয়িঞ্চুমান অবয়ব ধূসর
আত্মার রঙে রঙ্গিত চির সবুজেশ্বর ও তুমি
প্রেমাক্রান্ত বাতাসের অগ্নিময়তায় আমাদের বাসর

যদি তোমার একটা শব্দও হতে পারতো আমার শ্বাস
প্রশ্বাস ক্রিয়াতে, তেলাপোকা গিরগিটি পিঁপড়ে মরুক

দ্বৈ -রথ

জোনাকি এসেছে টেবিলে। আরও অনেক হররা
করে আশ্বিনের রাতে দুফোঁটা জল
মথিত মেলায় মাতোয়ারা গিটারে  ধ্বনিত সুর
কূহেলিকা ছায়ার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে ব্রন্মাণ্ড

এমন অবধি স্নানে ‘ তুমি আমি’ র পথ
জানা নেই ,খেই হারিয়ে থৈ থৈ নীলে
চঞ্চুর উষ্ণা ‘ভা গোধূলি রঙে হরণীয়া হে
নগ্নিকাগ্নী শ্মশানে রচিত পুস্তক সাহেব সাহেবা

লিঙ্গান্তর শৈলী অভিভূত নাগেশ্বরীর ঊর্মি,
চরের বালুতে শুয়ে আছে নীলফণী জোৎস্না
বিদ্যুৎ আবরণে শরীরটা দুলছে নূপূরে নূপূরে
নৌকার বৈঠা বেয়ে কাব্যিক পৃথ্বী ইজেলে

চন্দ্রবিন্দু মাখা বর্ণমালাতে রাশি রাশি আস্তিক নাস্তিক
‘ইজম’ ; কিন্তু  তোমাকে পাই নীরবতার শিয়রে

ধ্বনি তরঙ্গ
 

দুলছে পরিপাটি পর্দাটা দুয়ারে, আলোয়  উজ্জ্বল ঘড়
কবির টেবিলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ঝাঁক, ঝাঁক বসন্ত
উচ্ছ্বাস মোল্লতান্ত্রিক প্রেমের, শঙ্কিত এক দল কচি মোরগ
বাতাস ভারি বিরিয়ানির বিকট গন্ধে; বসন্ত কী অপ্রবল !

চন্দ্রবিন্দু উদ্ভাসিত শিশির রাত সহস্র সুরে
গাঁথা নতুনের পদধ্বনি, মাকড়সা ফেলছে
জাল সভ্যতার শিয়রে বেষ্টনী মুক্ত মন
তোমাকে নিয়ে বিভোর তখন স্বপ্নিল ছবি

প্রেমাসক্ত অনুরণনে টেবিলটা আমাদের আত্ম উপকরণ
ছড়িয়ে আছে আল্পস পর্বতমালা, অবর্ণনীয়
সীমাহীন চর ,শুভ্রসীতা এখানে তুমি
ইহজাগতিক চেতনাহীন অবচেতনার মহাশ্বশান

রক্তিম বসন্ত গোধূলি পানকৌড়ির ব্যস্ত ডানা
জলে স্থলে; হৃদয় আমার আজ দুরন্ত উন্মনা ।

কাব্যচর্চা
 

গোধূলির রঙ এখন শিল্পীর তুলিতে, ভাঙল ঘুম
হুতোমপেঁচার,আঁধার চাদরে মোড়া পৃথিবী

কাব্য হয় না আর এসব নিয়ে ,স্বপ্নের আবর্জনা
সুশ্রী সুবাসিত সেও; অবস্তু গত রূপের মাধুরী
পুঁজি করে টিকটিকির চোখ ,বিড়ালের গোঁফ
মশার ভাঙ্গা পা, মাকড়সা জালের কৌশল
হতে পারে যা নতুন কবিতার অনুষঙ্গ একদিন

লাল রক্ত কালো রক্ত - মৃত্যু ইতিহাসের উপাদান
উদার এবং পক্ষহীন কবিদের এসব তাড়াবে কেন!
চিন্তিত করবে পঞ্চাশ উত্তীর্ণ প্রয়শির মেনোপজ,
ক্রেস্টগুলোর  কোন রঙ ধূসর ক্রমশ, বহুমূত্র,
যদি হতো টয়লেটটা টেবিলের কাছেই তবে
বিস্তার ঘটতো কাব্য পরিধির কবর পর্যন্ত ।

রাতের নোলক
 

জেগে ওঠো না ! তারা ঝিলমিল রশ্মি রেখায়
কাঁপছে ,কাঁপছে পৃথিবী আর তোমার চোখ ;
ঝিঁ ঝিঁ সংগীতে জোনাকিরা ডাকছে আলোয়
নিউরনের স্নায়ু অবনী ‘সময়’ বৈচিত্র্য শব্দ

গভীর নিশিতে হঠাৎ মুখরা ক্ষণিক প্রেয়সী
অনুরাগের গহীন অন্দরে চুম্বন তুলি,
অতঃপর যুদ্ধ পঞ্চইন্দ্রিয় কোঠায়
দুলে ওঠা অধরার নিরাবরণ রঙের হেরা

কামিনী ঘ্রাণে মৌতানিয়া প্রভাত শুভ্রসীতা এই
ক্ষুদ্রবেদী মলে তোমার আনন্দের বহর
ডিঙি নৌকাতে বৈঠা রূপি ছন্দ নহর
নূপূরের মতো ছন্দম তীর্থে মহাচরণশী ।

বিষাছন্ন বিষে ক্ষয়িষ্ণু গহ্বরে একা
রাতের শরীরে এমনও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রেমানুড়ি।।

 

 

সিক্তস্বীনি
 

চন্দ্রবিন্দুরা অনুভব তটিনীর শিরা-উপশিরার মণিকোঠায়
আবৃত, আনৃত্য উষ্ণতার কুশীলব, খাজুরাহো লীলাবালি
অনাবৃত দেবী দেবালয় যাজকের তাবৎ কাল-ই মৌয়ালী
ভেদী ভুতস্বিনী ঊষা স্পর্শ ইজেলে তুলি আঁকায়

সভ্যতার কৃপাতি আবরণে আত্মহন্তক ঊর্মি রেখার তনুদেহ
মধুভারাক্রান্ত পুষ্পবিথীকায় মথিত মম মন ভোমরা
সৃষ্টির ঘর্ষণ সৃষ্টির বর্ষণ গগণ কী ধর্মচরা
গোলাপ রাঙা দৃষ্টিতে ‘তুমি’ ‘আমি’ র ক্রমজোমসিক্ত দেহ

অনেক শরৎ ; অতঃপর এমন শরৎ আদরে দ্বিজ
প্রাণীরাজ্যের সকল-ই হোক না এমন প্রেমাভুখ
যে মনে জাগে সাধ তোমার স্বেচ্ছাধীন রূপ
প্রতিটি তারুণ্যশিরা মহাকালের নিষাদ বীজ

কেলিমগ্না এমন দুপুর আর একাত্মধীর  শুভ্রসীতা
বৃষ্টিতে ভিজছে বক্ষবন্ধনীর লাল নরম ফিতা।।

তোমার চোখের দিকে
 

তোমার চোখের দিকে তাকিয়েই বৈকুণ্ঠ অবনী
ত্রিত্বে স্বর্ণকরোজ্জলা মহতি রত্নরাজি শিল্পীর ইজেল তুলি
মন মতো ছুঁয়ে যায় কোথাও ধর্ম গজে ঈফিরা ও,
চোখগুলো আরও দুরে আমিব্যা শৈলী ও বিবর্তনি

দর্শনগুহার পোকাগুলো ও ভালবাসা তোমার অনৈক্য
কীটাগ্নিতে দগ্ধ নেত্রী- নেত্র টেবিল
যে জোনাকি ভিজেছে এই মাত্র তাও কিন্তু
তোমার অক্ষকোটে ঘটমান শুধু ঘটমান ঊর্মি ঊর্মির

মৃত্যু তোমার চোখের দিকেই অনিত্য ও দ্রবীভূত
আশ্বিনের গা ভেজা শালিকের ডানার নিম্নাংশের
মৃদউষ্ণ পড়শি স্বপ্নের কাছে গচ্ছিত মৃত্যু আমার
আমার মা আমি আর যে জানে সে অনন্ত সুখ

অতএব তোমার চোখের দিকে সুতরাং ওদিকেই
ধ্রুব, অব্যয় দিকটিতেই রয়েছে লাল ফিতে ঐ ।

নিখোঁজ অবকাশ

জল উপরিভাগে ভাসমান পানকৌড়ি জলছন্দ;

বর্ণনাতীত সুন্দরের রঙ কি ওর গায়ে?

কী নশ্বরীর অবকাঠামোগত পঞ্চশিরায় প্রেম নিয়ে যে

অতসী পীর দেবতার মতো পুজো প্রত্যাশী নয় ইতিহাসের তোষিণী রঙ্গ!

কবিতা আর কবিতার শরীর ঝলসে উঠছে আগ্নেয়গিরি গহ্বরে আমাদের এ স্বপ্নের সারথি বেলাভূমি এথেনীয় নারীত্বে ঢেকে আছে, অজানা কেউ তুমি স্বাগত হতে পারে সভ্যতা আমাদের দোলনার সিঁড়ি।

আমি কি তুমি; নাকি তুমিই আমি?

রচনায় মুখরিত দাম্পত্যরাশির কলাবৈকল্য হেরেম দরবার চিন্তাশীল প্রাণীসব বিমুগ্ধ স্খলন পারাবার সুখ নিয়ে ওরা অসুখী;

কেউ কেউ অনন্ত পায়।

বিশেষণের বৈতরণী কবি ঘরে দুরন্ত বাতাস ঈষৎ ঢুকে পরে যদি, আমি তাই নিখোঁজ অবকাশ ।

 
কবিতা সমগ্র - ১৭
আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ
 

মার্চ মানেই
 
মার্চ মানেই অগ্নিঝরা
রাখি উঁচুতে শির,
মার্চ মানেই জানান দেওয়া
জাতি আমরা বীর।

মার্চ মানেই উতাল হওয়া
করতে প্রতিবাদ,
মার্চ মানেই মুক্তি পাওয়া
স্বাধীনতার স্বাদ।
 

বসন্তের ফুল
 

পলাশ বনে আগুন ঝরে
আগুন মেলায়,
কৃষ্ণচূড়ায় মনে জুড়ায়
ফাগুন খেলায়।

কাঁঠালচাঁপায় গন্ধে ভরায়
সাঁঝের বেলায়,
গাঁদা ফোটে থরে থরে
থেকে হেলায়।

অলি মাতাল বন মহুয়ায়
সন্ধ্যা কালে,
কানন ভরে ফুলে-ফলে
সাত সকালে।

 

বসন্তে লাল বন-বাদাড়ে
শিমুল ডালে,
ছোট্ট সোনা ছবি আঁকে
খুকুর গালে।

মুজিব ভাষণ স্বপ্ন
- আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

মুজিব মানেই  মিষ্টিঝরা
সতেজ ভাষণ,
বাংলা থেকে বিশ্বসভায়
নেয় সে আসন!

 মুজিব মানেই ছোট্টশিশুর
স্বপ্ন বুনন,
দুলতে থাকা স্বপ্নগুলো
পায় তা গুণন!

মুজিব মানেই শিক্ষা দেওয়া
নৈতিকতার,
অটল মন কুসুম নরম
স্বদেশ যে তার!

স্বাধীনতা আমার
 

স্বাধীনতা আমার মায়ের
খালি করা এক বুক,
ক্লান্ত করে আমার বোনের
কেড়ে নেওয়া সব সুখ।

স্বাধীনতা আমার বাবার
অসহায় করা মুখ,
আমার ভায়ের ভরে যাওয়া
জ্বালা ব্যথা আর দুখ।

স্বাধীনতা আজ অমলিন
উজ্জ্বল করা একদিন,
ভায়ের মায়ের বোনের বাপের
রক্ত লালে রঙিন!

কাঠবেড়ালি
 

কাঠবেড়ালি কাঠবেড়ালি
বাঁকা করে ধরেছো ডাল,
চুপটি মেরে বসে আছো
ফুলিয়ে মুখ করেছো গাল।

গোমড়া মুখে ভাল্লাগেনা
পাতবো না আর কারেন্ট জাল,
বাতাবি  খাও ইচ্ছে মতো


প্রজাপতি
 

প্রজাপতি প্রজাপতি
রঙিন তোমার ডানা,
খোকা-খুকির মন খারাপ
উড়তে তাদের মানা!

দেখতে সুন্দর রঙিন কালার
বাহারি সাজ পরে,
রঙিন পাখে দিয়ে মেলে
প্রজাপতি ওড়ে!

প্রজাপতির রঙিন ডানায়
মন হয় তাদের রঙিন,
রঙিন ডানা পায় না ছঁতে
মাঝপথে হয় সঙিন!

খোকা-খুকি প্রজাপতির
ছুট দেয় পিছে পিছে,
থামে একবার উড়ছে আবার
দৌড় দেয় মিছে মিছে!

সঠিক কাজে নেই লাজ
- আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

ঘোর বিপদে স্বজন দারা
করবে তোমায় ঠাট্টা!
সুসময়ে আসবে ফিরে
নিতে চাবে বাট্টা!

বিপদ তোমার হয় না উদ্ধার
তারা নাকি সাচ্চা!
হাসবে ভেবে মিটমিটিয়ে
তুমি নাকি কাচ্চা!

চিন্তে ভেবে করবে কাজ
বলুক না লোক আন্ডা!
সঠিক কাজে নেইকো লাজ
কিনে খাবে মান্ডা!


মস্ত বড়ো সাপুড়ে

নগেন ওঝার   মিষ্টি কথা   ফোটে
মস্ত বড়ো সে সাপুড়ে!
নাছোড় হরি   মিলে ফরিদ  বলে
খেলা দেখাও বাপুরে!
পুকুর ঘাটে  ঢোঁড়া দেখে  চিল্লায়
বাঁচাও তোমরা কাকুরে!
সামলে নিয়ে  জ্ঞান ফিরে  পালায়
প্রণাম ঠোকে ঠাকুরে!

একুশের জয়

বায়ান্ন সালের ফেব্রুয়ারি
তারিখ ছিল একুশে,
বীর বাঙালি উঠল জেগে
বাংলা ভাষার দাবিতে!
চারদিক স্তব্ধ মিলিটারি যত্রতত্র
গর্জে উঠল বীর বাঙালি
চুয়াল্লিশ ধারা ভেঙে রে!
ঢাকার পিচ লাল হল
শফিক রফিকের রক্ততে!
উঁচু রাখল বাংলা ভাষা
সালাম বরকতের জীবন দানে!
বাংলা ভাষার বিশ্বজয়
এপার ওপার সবখানে!

 


একুশে ফেব্রুয়ারি
 

জিন্নাহর ঘোষণা
মায়ের ভাষা
থাকবে না!
বীর বাঙালি
উঠল গর্জে
জিন্নাহর দাবি
মানবো না!
বীর বাঙালি
করল মিছিল
বাংলা ভাষার
দাবিতে!
কালো পিচ
করল লাল
ফেব্রুয়ারির
একুশে!

 

 

এলো যে বসন্ত
 
মিষ্টি বেশ বেশ আভা আভা শীত
চারিদিকে শুনি কোকিলের গীত!
মৃদু সমীরণ এলোমেলো বায়ু
লাগে শিহরণ দুলে যায় তনু!
আহা বসন্ত যে এসে গেল!
চারিদিক লাল কৃষ্ণচূড়ার রঙ
রক্ত জবা যেন পলাশের বন!
শালিকের খেলা শিমুলের লালে
প্রেম জেগে ওঠে দোলা দেয় মনে!
আহা বসন্ত যে গেল এসে!
দেখি ওড়াউড়ি ভ্রমরের সুর
মিষ্টি সুরে গায় করে সুমধুর!
হলুদের রঙ সরষের ক্ষেতে
মৌমাছির গুন চলে মাঠে মাঠে!
আহা বসন্ত যে গেল এসে!

 

পালাবদল 

 

শীতকালে নাই শীত

মাঝে মধ্যে কনকনিয়ে!

গ্রীষ্মকালে নাই তাপ

মাঝে মাঝে ঘাম ঝরে!

বর্ষাকালে নাই বৃষ্টি

অতি বৃষ্টি, ফ্লাড আসে!

বিশেষজ্ঞগণ বলছেন আবহাওয়া খুব চেঞ্জ রে!

আম জনতা আমরাও বুঝি

চাতক চেয়ে পাই অসময়ে!

 

 

রাজধানীর ফাঁদ
   

চশমা পরা মেয়েগুলো
শুধু শুধুই ভাব মারে!
রাজধানীর ফুটপাতে
প্রতারণার ফাঁদ পেতে!
সরল-সাদা যুবা বুড়া
পড়ে তাদের খপ্পরে!
বুঝে ওঠার আগে আগে
সর্বনাশটা ডেকে আনে!
 

ফাগুন ইচ্ছে

আমি তো প্রজাপতিই হব
চারিদিক শুধু রঙ বেরঙ
সাজবে প্রিয়া আগুন রঙে
অন্য ঢঙ!
আমি তো হালকা শিশির হব
জড়িয়ে যাব প্রিয়ার পায়ে,
আলতা পায়ে রাঙবে সঙ! 
আমি তো প্রিয়ার আঁচল হব
ঢেকে রাখব স্তন যুগল,
ছড়িয়ে দেবো বুকের ঘ্রাণ!
আমি তো সুগন্ধিই হব 
প্রিয়ার মাথায় ছড়াবো বাস,
ঝুমকো জবায় দুলবে দুল!
আমি তো রঙ বেরঙ বেলুন হব
প্রিয়ার খোঁপায় গুঁজব ফুল,
নাকফুল!
ফাগুন দিনে উড়াবো ঘুড়ি,
ফাটাবো বেলুন, পরাবো ফুল!
আমি তো ভ্রমরই হব
প্রিয়ার হাতে ফুটাবো হুল,
চারিদিক হুলস্থূল!


একুশের রক্ত
 
একুশ মানেই
বঞ্চিত আর
কষ্ট!
কালো পিচে
ছোপ ছোপ
রক্ত!
রক্ত লাগে
ক্ষমতা আর
যুদ্ধে!
রক্ত ঝরে
প্রতিবাদে 
বিগ্রহে!
রক্ত লাগে
করতে জয়
ভূখন্ড!
রক্ত লাগে
রাখতে দেশ
অখন্ড!
রক্ত লাগে
মুমূর্ষু রোগীর
জন্য!

ভাষার জন্য
লাগে রক্ত?
বিশ্ব দেখেনি
আজো!

 

একুশের বই মেলা

বই মেলায় সবই আছে
ক্রেতার সাথে বিক্রেতাও,
শিশু আর শিল্পীরাও! 
মিলে মিশে একাকার
কবি প্রাবন্ধিক গল্পকার!
মাস্তি চলে উন্মোচনে
বিপুল শ্রোতার করতালে!
গান ঘোষণা বিনোদন
ফুসকা খাওয়ার আয়োজন!
বাদ যায়নি কোনটার
আয়োজন বড়ই চমৎকার!

 


প্রিয়ার ফুল
   

প্রিয়ার মাথাতে গুঁজে ফুল 
বুঝতে পারি নিজের ভুল!
যখন দেখি সিঁথির কানে
কালুর দেয়া দুলছে দুল!

প্রিয়া যখন আদর দিয়ে
বলে পাগল, লাভ বকুল!
পুরাই মাথা গন্ডগোল!
ভেবে না পাই কোনই কুল!

বলি যখন, দুল সে কার?
বলে তখন, ছোট্ট বেলার!
তাজ্জব তো! ব্যাপার একি!
চোখখে দেখি সরষে ফুল! 

 
 

ঋষি সৌরকের ৫ টি নিবেদন

 

(১)

(অতন্দ্র )

অবশেষে কবি চাকরি পেলেন
জেগে থাকার চাকরি ;
দিন-রাত জেগে থাকতে হবে -
বিনিময়ে তিনি পাবেন 
"সময়মত যশ-খ্যাতি এবং মৃত্যু" 

বেশ ,খুশির খবর ...

প্রথম দিনেই কবির পা'দুটো গ্যালো 
ট্রেনিং পিরিয়ডে হাত -
চাকরি যখন তুঙ্গে 
মাথাটা খেলো নিলামে 
তারপর,ধীরে ধীরে চিন্তা-ভাবনা-মন-ইচ্ছে-অনুভুতি সঅব সঅব ...

শুধু চোখগুলো ঝুলিয়ে দেওয়া হোলো 
ভ্রু এবং উপপল্লব হীন
কারণ,চাকরি টা জেগে থাকার -

তন্দ্রা-মৃত্যু-পুনর্জন্মহীন কবি 
জেগে আছেন তো আছেন-ই 

দুটো চোখ এখন শাশ্বত আইকন ... 

(২)
(মধ্যমা)

নিভে যেতে যেতেও
জ্বলে আছি
ফসকে যাওয়া দেশলাইয়ের
একবিন্দু
তেজি বারুদে !

ফুসফুসে আমার
চাপা দুঃখের হুমকার
আর
শিরায় শিরায়
কালোপেট্রোল-গুঞ্জন...
প্রতিশোধের বার্তা স্নায়ুতন্ত্রে,
মেরুদন্ডে...
একাকিত্বের উদ্ভ্রান্ত ফ্ল্যাগ

আমি নিজের মাঝেই
খনির খোঁজ ....হতাশ স্বপ্ন নির্বিকার ....গিটার আরসততার
পর্ণমোচী পদধ্বনি...
আদি অব্দের কোনো খ্রিস্টে
ছায়াহীন আঁধারে আষ্টে-পৃষ্ঠে
আমার অন্ধ কান...অবসান....চায়...
ছিড়তে
মস্তিস্ক আর অনুভবের সংযোগ....

বিছিন্ন এসব পরিচয়
ঘেন্না করি তোর উপহার .....
আমায় দেওয়া চেহারা
আর কেড়ে নেওয়া আকুতি ...
কেয়ার করি না........ব্ল্যাআআআআঅ....

যারা উপহাস করেছিল
পিষে গেছি তাদের
তিক্ষনতম দৃষ্টান্তে
প্রগতি আর সভ্যতার মুখে
ওয়াক বা মধ্যমা.

আর ক্ষমা নয়
শাস্তি চাই
প্রতারক দের কর হালাল.....

অজুহাত নির্বিশেষে
সমর্পিত যত ঠুনকো বিশ্বাসের ঘাড়
ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে
যার নির্মম কামড়ে,
তার নখ-থাবা-হাত-পা কেটে
সারা শরীরে ঘষে দাও শিশু বিপ্লবের টোটকা ,
আর উল্টো টাঙ্গিয়ে সেই শয়তান-শরীর
ঝুলতে দাও অভিকর্ষ হীন প্রজাতন্ত্রে
তির্যক পেন্ডুলামের মত.....
এক-দুই-তিন ........
যতক্ষণ না ধীরে ধীরে যবনিকা নেমে আসে,
তার কেটে ফেলা হোক চোখের পাতা......
চোখ ঠিকরে আসুক ......সে চেয়ে দেখুক .....
পৃথিবীর উল্টো প্রতিচ্ছবি.....
কতটা
বিভত্স
হতে
পারে!
আর ভিজে দেশলাই ও
মাঝে মাঝে
মশালের
মত গর্জে ওঠে.......দৃষ্টান্ত হযে

(৩)
(থুহহহহ)

 

আকাশে থুতু দিলে 
গায়ে লাগে। বাজে কথা

জীবন হজম স্লিপিং পিলে 
সেক্সচ্যাট-অনায়াস নীরবতা 

গুঢ় কথা।ছদ্মনাম।বয়স গিয়েছে ধসে

আসল মা-বাবার সুদে আমরা কষেছি

সময়ের স্বাদুটান ...চলি ভেসে ভেসে 
মুখচোরা।একা-বোকা।পসেসিভ ...

 

বাজে কথা।গায়ে লাগে 
থুতু লাগে অপরের গালে

সোজা শ্ল্যাংগ বাতাসে বেঁকে
গ্র্যাভিটি এনেছে নাগালে 


(৪)

(খুন একটা আর্ট)

কাউকে মেরে ফ্যালা অত সোজা না-
ইনফ্যাক্ট কোনো শিল্পের মজা সেখানেই
যখন সেটাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করা যায়
স্বাদের ইপ্সা ঝোলে অতৃপ্ত রসনায়

ধরো তোমাকে সোজা মৃত্যু দিলাম না

একটু ভেঙ্গেচুরে দেখালাম

ডানহাতের জায়গায় বা পা টা
জুড়লাম-দুই আঁচড়ানো খোব্লানো স্তনে
দুদু’টো কান ।হিম-শীতল রোমকূপ এফোঁড়-ওফোঁড়
পায়ূ দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে এলাম গলায় -
ছিঁড়ে ফেললাম যত স্নায়বিক সংযোগ
ইচ্ছেমতন হর্মোন দিলাম ঢেলে
জ্যান্ত হার্ট তুলে নিলাম বুকের গভীরতা ভেঙ্গে
আর নাভি উপড়ে চেটালাম কপালে
দুগালে অজস্র চুম্বন-ছোয়াচে রোগ আর নি;শব্দক্ষত

ঠিক য্যালো সাবলীল অ্যাবস্ট্রাক্ট
যেভাবে ভালোবাসা আসে
কি ভীষণ যন্ত্রনা -
তবু ভালোবাসি,কারণ

খুন একটা আর্ট -

খুব কাছাকাছি মৃত্যু ও আমি
বিরামহীন কোলাজ কোলাজ

 

অ-মৃতা

ইদানিং তোকে ছুঁলে তড়িদাহত হই না আগের মত .গল্পবিহীন রং-চঙে বায়স্কোপের মতই প্রতিক্রিয়াহীনমনে হয় ...জোলো...তিক্ত...থিতু অথচ তুই ভীষণ নিষ্পাপ এখনো,আমি জানি শেষ এবং শুরুর মাত্রাগুলো বৈচিত্রহীন-ঈর্ষান্বিত-বৈমাত্রেয় . বারবার-বারবার একই ডেনজার জোনে চুমু খেয়ে খেয়ে বিধ্বস্ত আমি-মৃত ...ও ঠোঁটে-চিবুকে-কোমরে-বুকে-জঙ্ঘায় জাহান্নামের বিষ, অথচ কি এক জাদুকরী সম্মোহনে নেমে চলেছি আমি...নেমেই চলেছি....আরো নীচে...নেশাতীত ...আপাদমস্তক অসুখের চারু কারুকাজ কিলবিলিয়ে ওঠে...নরমভোগ-চরম ভোগ-পরম ভোগ-দেহের সব ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসছে চটচটে অনুতাপ। ভীষণ সাবধানে নামি রোজ, অমৃত খনির ভার্জিন নীচু ছাদ আমাকেপিষে ফেলতে চায়, মিশিয়ে দিতে চায় মাটিতে। অতল পাতালে প্রেম প্রেম মেহেফিল ওড়ে-আতর-ধুপ-ধূনো-অগুরু ...গা গুলিয়ে ওঠে...আমিখুড়তে থাকি ...উলঙ্গ তাকতে ...উঠে আসে রাতুলের ফ্যাকাশে মুখ, হাজার হাজার বছর আগে এখানেইওর প্রতিটা দেহ আলাদা আলাদা করে সমাধিস্থ করেছিলাম ছেনাল ঔদ্ধত্যে; আমার গার্হস্থ্য শেষ,চৌকাঠে প্রেত-চক্রের বিকৃত শিল্যুট। তুই বরং রাতুলের প্রেমিকাই থাক, আর আমি এভাবেই ধর্ষণ করি তোর অশরীরি চেতনা-শোষণ করি জলবততরলং অহং -লুটে-পুটে-খুঁটে নি ডায়েন-যৌবন-নজর্লাগা স্বাদু মাংস খুবলে খুবলে সেদ্ধ করি খুনে যন্ত্রণার জান্তব উত্তাপে-থাক তুই রাতুলের প্রেমিকা-একটু একটু করে আমাকেও নিয়ে চলেছে সময়ের কাল্গর্ভো ... গভীরে ...আরোও গভীরে পিছলে যাচ্ছেনেশা ... 

-জড়ভরত অবশেষটুকু না হয় নিয়ম মাফিক পুঁতে যাবো হাজার বছর আগের সেই এপিটাফেরই কাছাকাছি একটা কোথাও 

কবিতা সমগ্র - ১৭
ঋষি সৌরক 
কবিতা সমগ্র - ১৭
কবি নাজমুল হক  

কবি নাজমুল হক নজীর এর  একগুচ্ছ  কবিতা

 ​

তীর্থে চলো সুদর্শন

 

যখনই কিছু বলতে যাই তুমি শুধু রাঙাও চোখ

মনে হয় আজ তাবৎ পৃথিবীর পরিত্রাণের ভাষা

আমার কাঁধে তুলে দিয়েছে সমস্ত লোক।

আমি যেন যীশু, বুদ্ধ কৃষ্ণ মোহাম্মদ কিংবা মুসা

সংস্কারে নামবো ভাঙ্গবো আঁধার সব !

 

আমি তো কবি হাতে দন্ড নেই, দন্ডাদেশ নেই

দেখি লোকালয় জুড়ে কেবলি কোলাহল কলরব

শকুনের পাখার শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই ।

 

আমি বলতে পারবো না নুহের প্লাবন হবে কী, আর

কুরুপান্ডব যুদ্ধ, রুক্ত নামবে কী না ফোরাতের তীরে

তবু বুঝি একটা কিছু হবে এবং হওয়া দরকার

শুদ্ধি অভিযানে সুদর্শন হাসবে ঘরে ঘরে।

 

দীর্ঘকাল অনাবৃষ্টি

 

আজ তো আমার সেই সময় যখন জন্মদাতাকে

মনে হয় পরম শুত্রু

কামুক রমনীর কাছে

মুখোস্ত করতে হয় ভালবাসার পাঠ।

 

এ সময় আমাকে কেউ কবিতা লিখেতে বলো না

আজ তো দেশপ্রেম আনে শ্লোগানের ভাষা

বিদ্যালয় শেখায় শব ব্যবচ্ছেদ

মানুষেরা চোখে দেখে না

রঙিন চশমা ছাড়া

তুচ্ছ আজ সভ্যতা রক্ষায় প্রজনন।

 

এ সময় আমাকে কেউ কবিতা লিখতে বলো না

আমি তো ভুলে গেছি গীতিকবিতায় সন্বোধন

আমি তো ভুলে গেছি বনে বনে পাখির শিস

ঝর্ণা জলের বাঙময়

ভালবাসার মতো ত্রিপল্লীর মাধবীকে

আজ আর মনে পড়ে না একদম মনে পড়ে না।

 

এ সময় কবিতা হবে একেবারে গদ্যময়

শব্দ হবে গ্রেনেড ফাটার মতো সুন্দর

এ সময়ের তাই শ্রেষ্ঠ কবি হিটলার।

 

 

মাছরাঙা

 

মাছরাঙা স্বপ্ন পড়ে আছে নদী তটে

দখিণা বাতাস জায়গা বদল করে

বধ্যভূমে

গুন্ডা ছেলেরা বলে বেড়ায় সুন্দর দিগম্বর।

 

আপনারা হয়তো খবর রাখেন

নেত্রীর আজকের সফর তালিকা

উপদ্রুত অঞ্চলে

কতোবার নামবে উঠবে বাসনার বিমান

ত্রাণসামগ্রী ঘোষণার অনবদ্য পাঠ।

 

অথচ বাংলাদেশ জানে না তৃতীয় বিশ্বে

কেমন আছে

বেহুলা লক্ষ্মীন্দর।

 

 

শহীদ মিনার

 

ভন্ডরা বলে তুই ইট বালি নিকষ পাথর

আমি বলি তোকে অশোক স্তম্ভ

খোদিত ওইখানে বাংলার সিংহ শাবক।

 

আমি বলি শোকের প্রচ- গর্জন

           শকুন তাড়ানো শালগ্রাম শিলা

শুনি অহিংসার পদাবলী, একজন বুদ্ধ দাঁড়িয়ে

           ইতিহাস আর পুরাণ

           আমি বলি আদিম সেই পাঠ।

 

ভ-রা বলে তুই ইট বালি বোবা পাথর

আমি দেখি উনচল্লিশ সওজোয়ান

আমাকে দিয়েছে অনন্ত যৌবন

আমাকে নিয়েছে বহুদুর

            আপন স্বরগ্রাম।

যেখানে আমার যাবার, আজন্ম সাহস।

 

 

সেই নুপুর

 

তোমার জন্য দুঃখ হয় আমার হলে না তুমি

তৃষ্ণার ভেতর  এতো চাষবাস

হৃৎপিন্ডে চড়ালে পেশীর কতো যে কাঁপন

বুকে রাখলে বুক আমার হলে না তবু।

 

যুবকেরা নগ্ন ছবি দেখে মিটিয়েছে সাধ

ঘুম ভেঙ্গে নাবালকেরা বলেছে তোমার নাম,

প্রবীণেরা আফসোসে কেবল ফাটায়েছে বুক

চারিত পাখির মতো বলেছে কতোবার

কোথায় নামই বলো এই বয়সের ভার।

জানি না তবু কোনো শরীর হলে না নুপুর

স্বপ্নের ভেতরে চষে স্বজনের আবাস নিবাস

বুকে রাখল বুক

তবু আমার হলে না তুমি।

 

বন্টন দলিলের শর্তাবলী

 

কেবল কষ্টগুলো পুরোটাই এই ভাগে

সুখগুলো থাক তোমার,

স্বপ্নের পালকি চড়ে আমি আসি যাই

শরীরটা যে তোমার।

 

জোছনার আকাশ সবটুকু তোমার থাক

আমার জানালার গ্রিল,

কদম্ব তলায় তুমিই বীজ পুতে রাখো

আমার সবুজ মিছিল।

 

গোলাপের কানে তুমি বলো সব কথা

আমার জন্য যে ডাল,

চোখ খোলা থাক, চুম্বনে সোহাগে

তুমি হবে শুধু লাল।

 

যেমন ইচ্ছে রাখো ওই শাড়ির আঁচল

শুধু দক্ষিণে আমি,

নুপুর বাজিয়ে যতো ইচ্ছে নাচো গাও

নাটাই ঘোরাবো আমি।

শোক বয়ে যাই

 

বুকের পাঁজর খুলে দিচ্ছি

বানাও তরবারি,

অনেক শোকের ভেতর থেকেও

একটু যদি হাসতে পারি।

 

চোখ দু’টো তো লাল হয়েছে

হাজার চোখেল জন্য,

এই তো হৃদয় বিলিয়ে দিলাম

তোমার পাবার জন্য।

 

আমি জানি বুকের আগুন

ব্যথার আগুন বড়,

সেই আগুনের অগ্নিদাহে

দেশের মানুষ জড়ো।

 

ক্রোধের মানুষ কান্নার মানুষ

নির্যাতিত উল্লাস করে,

রাজপথে দাবীর মিছিল

কে ঠেকাতে পারে!

মানুষের ছায়া পেলে

 

একদা গোলাপকে বললাম বড়ো হবো

বললো সে-

দু’হাতে ছুঁয়ে যাও মাধবীর শরীর।

 

একদা মাকে বললাম বড় হবো

বললো সে-

মানচিত্র আগলে নাও বুকের ভেতর।

 

একদা নদীকে বললাম বড় হবো

বললো সে-

আবাদ করো এই উত্তাল জনপদ।

 

এই ভাবে পাখি আকাশ চাঁদ

শুধাই যতোবার

ততোবার-ই বলে

মানুষের ছায়া পেলে তুমি বড় হবে।

 

 

যদি ফিরে আসে

 

যদি সে ফিরে আসে ঠিকানায়

ভেঙ্গে ভুল

কিম্বা একান্ত ভালবাসায়

এমন কি খেয়ালের বশে।

 

তাহলে তারে ডেকে বলে দিওঃ মিলন

এই নাও কাস্তে শাবল

                প্রয়োজনীয় খড়কুটো

রাস্তার দু’ধারে গড়ো দেবলায়।

 

আত্মকাহিনী ও সুসংবাদ

 

অন্ধের কাছে ক্লিওপেট্রাও অন্ধকার

মাধবীর বেণী গোখরো সাপ

রোদে ভিজে ভিজে যতেই করুক স্নান,

রাজপুত্তুর  আনে  নোনা জল

মধ্যাহ্নের সূর্য তাই বয়ে যায় পাপ।

অতএব বিনীত প্রার্থনা আর অন্ধ কোরো না

মাধবী কে দেখি চাঁদ সভায়

আর এই বাঙলায়

          দিবালোকে দেখি অজস্র মানুষ

কেবলি শংকাহীন।

 

 

প্রেম বিজ্ঞাপ্তি

 

প্রেম দেবে না শ্রীমতি

রাঙাও কেনো চোখ,

চোখ টিপে জড়ো করবো

সাত গাঁয়ের লোক।

 

কসমেটিকে যতোই সাজে

যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ,

মুখ থেকে যায়নি মুছে

আমার চুমুর দাগ।

 

আবার ছাড়পত্র

 

একদিন ভালবেসে কমলা গলায় দিয়েছিলো বকুল

এখনো সেই আমিরুল

              বকুল ঘ্রাণে

              তাই চুমু খায় বার বার।

 

মাতৃগর্ভের দশ মাস দশ দিন

এখনো সেই কমলা

কোনো মা এলো

স্বদেশের মতো নতজানু করে তার মাথা।

 

তুমি দিলে লাল সূর্য খচিত প্রিয় পতাকা

তুমি দিলে প্রিয়তম স্বাধীনতা

আরো দিলে

জন্মে জন্মে কাঁধে রাখার কঠিন গুরুভার।

 

অথচ অদ্ভূত অন্ধকারে আজ মগ্ন এই দেশ

দিয়াশলই কাঠি জ্বালাতে তাই

ডজন ডজন সুকান্ত চাই

শেকল ভাংতে চাই

আরো আরো বিদ্রোহী নজরুল।

 

 

নোনা জলের বাসিন্দা

 

ফুল ফুটেছে, জোছনায় ফর্সা আকাশ

কোকিল গাইছে গান

তবু আমি বলতে পারিনা আজ বসন্ত

           বলতে পারি না এখন যৌবনকাল।

 

শকুন দৃষ্টিতে আজও প্রচ- খরা

কসাইয়ের পদচারণায় লন্ডভন্ড বাগান

রাজপথে হট্টগোল

            সংসদে সভায় হাতাহাতি,

একমাত্র এফডিসি ছাড়া

কোথাও শুনি না ভালবাসার কোনো গান।

 

ফুল ফুটেছে জোসনায় কতো ফর্সা আকাশ

তবু আমি বলতে পারিনা আজ বসন্ত

           বলতে পারিনা এখন যৌবনকাল।

 

কারাগারের গোলাপে উদোম শরীর ছাড়া

কোনো ছন্দ নেই।

ঘণিকা জোননায় উজ্জ্বলতা ছাড়া

গৃহপালিত হয় না।

কোলাহলের ভেতর মরমী কন্ঠের ভাটিয়ালী

কেবলি যন্ত্রণা ধ্বনিত হয়।

 

ফুল ফুটেছে জোসনা ভরা আকাশ

কোকিল গাইছে গলা ছেড়ে গান

তবু আামি বলতে পারি না বসন্ত,

এই দেশে কী শুধু প্রেমিকার আকাল!

 

 

কথা ছিলো

 

কথা ছিলো রাত পোহালে ডাকবো

ঘুম ভাঙ্গলো

মানুষের কোলাহলে।

 

কথা ছিলো গান গাইবো

মিছিলের কথাগুলি

গান হয়ে ফিরে  আসে।

 

কথা ছিলো জোয়ার এলো ভাসাবো নাও

প্লাবনে ভেসে গেল ঘর

হাতের বৈঠা মুড়ো ঝাড়ন।

 

কথা ছিলো ফুল দেবো

তুমি আসোনি পাখি ডাকেনি

 ফোটেনি কোনো গোলাপ।

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?