কবিতা সমগ্র - ১৮
মৈনাক দত্ত 


বিকেলের আলো আঁকে ছায়াপথ
ঘুম ঘুম শহরের শরীরে
নিঝুম আধোচেনা জনপদ
আমিও তুলে রাখি কুড়িয়ে,
(তোর সাথে দেখা নেই একযুগ
তবু তোর মুখ খুঁজি রোজ রোজ
 সূর্য তাই দেখে বুঝি দেয় ডুব
মেঘেদের কাছে চলে তোর খোঁজ,)
বিকেলের আলো বড় মায়াবী
শহরও জানে তা আলবাৎ
তাই সে মেখে নেয় যত পারে
আমিও ভরে নিই দুই হাত,
(তোর সাথে কথা নেই আট মাস
তবু তোর কথা শুনি বাতাসে
বিকেলের আলো বড় মায়াময়
ছায়াছবি এঁকে চলে আকাশে)।


রঙ তুলি ক্যানভাসে বেশ হয়
ছবি লিখে কবিতার দেশ হয়,
কিছু কিছু গল্পের রেশ রয়
জল ভেজা দিন যবে শেষ হয়।



অনেক সুখস্মৃতির ভিড়ে
হারিয়ে যাওয়া ছবির মাঝে
হঠাৎ  তোর সিল্হূ্ট পেলাম
এক পুরোনো বইয়ের ভাঁজে, তোর চুলের গন্ধ পেলাম
কাঠগোলাপের ভোর
এক মুখ আকাশ পেলাম
রেশমী সুতোর ডোর,

অনেক ছবির মাঝে
হঠাৎ তোর সিল্হূট পেলাম
এক পুরোনো বইয়ের ভাঁজে।



চল্ হেঁটে যাই বিকেলের পথ
আদুরে আলোয় মাখা
দিনশেষে আরও একবার
তোর সাথে একা
গাছেদের কথা ফিস্ ফিস্ 
ঘাসের জলজ ঘ্রাণ 
চল্ হেঁটে যাই আরও একবার
আদুরে আলোয় করি স্নান।

 

১০
চল যাই তবে আমি আর তুই
আজ সাঁজের আকাশ ভরে রই,
তোর ঠোঁটে আঁকি ময়ূরপঙ্খী গান
আর কপালে এক চুম্বন, ইলিয়ট সমান।


১১
জোনাক আলোয় হোক খাক্
তোমার আমার রাত
তবু এসো রাত্রি বেশে
শুধু আমায় ভালোবেসে


১২
শহর এঁকে যাও জলরঙ 
বিকেলের সাথে হোক
সন্ধ্যের আলাপন।

১৪
ঠিক যেমন জিউকবক্সে পড়লে আধুলি
সেভেন্থ স্ট্রিটের প্রান্তে অফিসারদের ক্লাবে
এরিক ক্লাপটন গাইতেন গান 
রোজ সন্ধ্যেবেলায় , 
ঠিক তেমনি তোর রক্তিম মুখ,
আরশি জুড়ে সলাজ চোখ,
রোদে পোড়া শরীর জুড়ে আমার
আঁকে আনাবেলের ছবি—
তুই যেন রুপালী আলোয়
ডিঙিনৌকোয় দিয়েছিস্ পাড়ি
আর আমি মেঘের ভেলায়। 

 


“এর পর ত ‘বর্ষামঙ্গল’ লিখে ফেলবি”—বলেছিল সে। মুখ টিপে হেসে। সবে মাত্র  তাকে শুনিয়েছি এক শহুরে বর্ষামুখর গান। “তা নয় হল,কিন্তু তাতে কি বরষা আমার প্রেয়সী  হবে? তার কতো প্রেমিক তুই জানিস্? কত যুগ ধরে কত কবি গেয়ে গেল তার গান। কত আঁকিয়ে তুলির টানে তাকে সাজালো। আমি আর কি এমন। ” খানিক অভিমান নিয়ে বলেছিলাম। সে কি বুঝেছিল কে জানে।
“ওই দ্যাখ্!” বলে সে আমায় দেখিয়েছিল এক শ্রাবণ বিকেলের পশ্চিমাকাশ। এক পশলা বৃষ্টির পর অস্তগামী সূর্যের গোলাপী হলুদ গেরুয়া আভা যেন আঁকছিল এক রূপকথা। আর সেই রূপকথার খানিক ছোঁয়াচ  এসে পড়ছিল তার কপালে গালে চিবুকে। আমি আরেকবার ঝিরঝিরে রুপালী জলবিন্দু হতে চাইছিলাম ভীষণ। শুধু তার হয়ে থাকবো বলে। আমার বরষার।


বৃষ্টি ভেজা দিনদুপুরে 
কার লাগে ভালো বল্
ভাঙা ছাতা আর নিঝুম বাসস্টান্ড 
হাঁটুর কাছে জল,

বৃষ্টি ভেজা দিনদুপুরে
কার লাগে ভালো বল্
রেলিং ঘেঁষে গোলাপ ভেজে
চোখের কোণে জল,

বৃষ্টি ভেজা দিনদুপুরে 
কার লাগে ভালো বল্।



জলে ভেজা জানালার কাঁচ
দেখছিল শ্রাবণের সাঁজ
ল্যাম্প পোস্টের হালকা আলোয়
বিন্দু জলের স্বপ্ন ছোঁয়াচ।



হঠাৎ করেই ভাবতে বসি
মুষল ধারে বৃষ্টি হবে
শুকিয়ে যাওয়া আমার শহর
আবার বসে ভিজবে কবে।


বৃষ্টির সাথে ভাব  না করে  উপায়  আছে ?একটু কথা  কাটাকাটি  হল কি হল না,অমনি সে জুড়বে কান্না , আর সে যদি একবার উল্টিয়ে ঠোঁট  ধরে মেঘমল্লার তাহলে আর দেখতে হবে না। বাড়ির উঠোন  ছাপিয়ে  তার কান্না পৌঁছোবে এক্কেবারে বাগানে। সেখানে  জল থই  থই ।  তারপর আম ,জাম,কাঁঠাল  গাছেদের কাছে নালিশ  শেষে সোজা রাজপথ ।  তারপর রাস্তা ধরে এপাড়া ওপাড়া ঘুরে শেষ মেষ নদীর সাথে দেখা করে সব রাগ  অভিমানের উপযুক্ত  বহিঃপ্রকাশ। বৃষ্টি আর  নদী ।  দুই মহাঅভিমানি মেয়ে। এদের যারা কাছ থেকে দেখেছে, হাজার ভয় সত্ত্বে ত্ত এদের ভালোবেসেছে। এক দুর্নিবার আকর্ষণে ছুটে গেছে ওদের কাছে। জলে ভিজে একাকার ।  জলের স্পর্শে কেঁপেছে। তবু জলকেই ভালোবেসেছে আর গেয়েছে প্রাণ ভরে বরষার গান। জলমগ্ন শহরে নৌকার  দাঁড় হাতে সেজেছে মাঝি। জলের ওপর আলোর ছবি আঁকা দৃশ্য তখন হয়েছে তার স্বপনের চাবিকাঠি যা দিয়ে সে দিয়েছে পাড়ি তার ভালোলাগার জগতে।বৃষ্টির সাথে ভাব না করে উপায় আছে?

১৩
ভেবেছিলাম একটা প্রেমের কবিতা লিখব।  বেশ আটপৌরে ।

লম্বা এক ঝুলবারান্দা আর তার ঠিক গা ঘেঁষে একটা ছিপছিপে তেঁতুল গাছ।  বারান্দায় উড়তে দেখা যাবে এক লাল টুকটুকে সোনালি  পাড়ের শাড়ি। কোনো এক বসন্তের সকালে সেই বাড়ীর পরম আদরের মেয়ে বারান্দায় আসবে আনমনে গানের কলি গাইতে গাইতে। ওই বাড়ীরই একতলায় সেই অষ্টাদশী মেয়ের কাকার ঘর থেকে ভেসে আসবে আকাশবাণী কলকাতার প্রাত্যহিকী। মেয়েটি হঠাৎ ই দেখবে ঢোলা  পাজামা পাঞ্জাবি পরিহিত এক যুবক চলেছে দ্রুত সাইকেল চালিয়ে রাস্তা দিয়ে। সকাল আটটা আটের ট্রেন তার মানে এখনো যায়নি,ভাববে মেয়েটি। আর নিজের মনেই বলবে ‘কবে যে একটু কায়দার পোশাক পরতে শিখবে বকুরাম’। বলেই সে মুখ ঘুরিয়ে বারান্দায় ঝোলানো দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাবে আর বলবে ‘দুগ্গা দুগ্গা’। ছেলেটিও একটিবারের জন্যে ওপরের দিকে তাকিয়ে চাপ বাড়াবে সাইকেলের প্যাডেলে। ‘আজ বিকেলে ফেরার সময় চৌরঙ্গীর এম বিশ্বাস এ্যান্ড সিম্ফনি থেকে এলপিটা কিনতে হবে। সেই এলপিটা যাতে আছে বড়ে গোলাম আলীর গান। ’ ছেলেটা ভাবতে ভাবতে পৌঁছোবে স্টেশনে। ‘ইস্ সেদিন রুম্পাদের বাড়ীতে কি সুন্দর গেয়েছিল বকুরাম। ’মেয়েটা ছেলেটির চলে যাওয়া অবয়ব দেখতে দেখতে ভাববে। ছোট্ট শহরটায় বসন্তের সকাল তার শান্ত স্নিগ্ধ আলোর পশরা নিয়ে বসবে। ভেবেছিলাম এমনই এক প্রেমের কবিতা লিখব।
 

 
কবিতা সমগ্র - ১৮
সজল খোরশেদ 

ইচ্ছামতি

 

ইচ্ছেগুলো একেঁ বেকেঁ গেলেও কেমন তোমাকে ধরি

আসলে-ই ধরিনা হয়তো, এসে ধরা দাও

স্বপ্ন ও প্লাবনের গাঁও, কন্ঠ তুমি ধাও

এ নাঠাইয়ে কেমন ছায়াটা পড়ছে নড়ছে,

 কবির তীরতনূ প্রগতিতে কেউ ক্ষোভ স্মরি

 বেকনের মৌমাছি উত্তরসূরী

তাই এ ইচ্ছের কোন বর্ন নেই- চে’গুয়েভারার

প্রশ্বাস; জাতীয়তাবাদের কথাও ভুলছিনা

বেমালুম । এবং আমার দরজার হুকও দৃঢ়

হাতে বন্ধ করি কিন্তু ;

প্রিয়তমা আধফালি চাঁদ স্বর্ণকরোজ্জলা সিন্ধু

কোনই বৈচিত্র নেই- শুধু জন্মৌৎকর্ষে

ওভেনের শিখা জ্বলছিলো প্রেমও বিমর্ষ

ঝলসে উঠছে সিল্ভীয়া প্লাথ

 

যেনো ধ্বংসের মাঝেই অন্কূরোদ্গম ঘটে

এ যেনো ইচ্ছের সাথে ইচ্ছের সংঘর্ষ তটে ।

 

নতুন বাজার

 

তিন শতাব্দীর কালো রাত তাড়ালাম আমরা

আধফালী চাঁদে তিন দশকের সুবহে কাযিব- অতঃপর

মস্তক অবনত করে তারাও ফিরলো ঘড়ে

রঙধনূ সূর্য উঠলো আমাদের আকাশে

                          গর্ববোধেরভ্রূণ

 

সরাইখানার শুন্য কলসীকে ঘিরে

মাছিদের এক দর্শণীয় পালাগান সে,

গতকালও যারা এসেছিলো এখানে- এখন

চোখ ধাঁধাঁনো আলোয় কাচে মোড়া বারে

ভিন্ন আলোতে অনন্য স্বাদে মত্ত তারা

 

রাষ্ট্রীয় স্বল্পমূল্যের বাজারে সারি বেঁধে

দাড়িয়েছে সহস্র হাড্ডিসার দেহগুলো,

চামড়ার প্রলেপযুক্ত হাড়গুলোর মাঝে আমি

খুঁজতে থাকি হয়তো স্বাধীনতাকে হয়তো জাতীয়তাবাদকেও

কিন্তু দেখি এই সারিতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

বৃদ্ধ কৃষক মাতাঙ্গিণী হাজড়া মাষ্টার দা সূর্যসেন

এবং সাত বীরশ্রেষ্ঠ’র সাথে তারামন বিবি

দেখি স্মৃতিসৌধের কবর থেকে সব মুক্তিযোদ্ধারাও

এই লাইনে—সাবাস কাকাতুয়া সাবাস ।

 

প্রকরণ

 

ওরা সবাই অতিথি অনেক চায় ভূ-তটে

সভ্যতার অন্কূরোদ্গম ঘটেছিলো – ঘটছে

প্রতিনিয়ত; সবাইকে হাসিখুশি সুন্দর রাখতে

কী প্রানান্ত উচ্ছাস – মাতোয়ারা আমি

 

নব্য নব্য ঊপকরণ সত্য এবং বণ্টনরীতির চৌকশে

কৃষ্টি কিরণ, কুয়াশা এলে তুমিও হয়ে যাও

অচেনা এর মতো; জাতীয়তাবাদী মৃত্যুগুলো নৃশংস

অপচয় তবু কী বীভৎস পেয়ালা মুখে ন্যাটোদল

 

পরিবর্তন শব্দটাকে খুব বেশি নাড়া চাড়া করছো তুমি

হে ষড়যন্ত্র গনতন্ত্র মোড়ল কুমার ‘সময়’ এবং ‘ইতিহাস’

কারো পূজোর অর্ঘ লিস্পা রাখেনা, আদ্যোন্ত

ক্লান্তির অবসাদে মৃত্যু তোমাদের মৃতই করবে বৈ কী

 

দোলনার শিশুই নির্দিষ্ট সাজে সজ্জিত করবে – করছে

আপনার রঙ সুর এবাদৎ ও জীবন প্রনালী

 

নবো’দয়

 

পরিভ্রমনের দৃষ্টিবলয়ে রাশি রাশি অববাহিকা

নোঙর প্রবণা মনভোমরা প্রতাশ্রয় প্রয়াশি

রাত ও দিনের কাছে ধর্ম ও কর্ম উদাসী

প্রেমবেষ্টনী অনূভবের তটিনী ঘেঁসে প্রলয়বিভা

 

বক্ষবন্ধনীর হুক থেকে নির্দিষ্ট দূরের দুটো হাত

রেলিঙের বাতাসে দুলছে প্রজাতী প্রকরণ শৈলী

গত প্রহরে যে সব ছন্দে ও রঙে মৌয়ালী

শুধুমাত্র একটা সুন্দর সকালের অবগুন্ঠিত স্নান

 

দ্বি-প্রহরের স্বর্ণকরোজ্জলা রশ্মিতে অনূজের নবোদয়

ঠিক সেই রকম দূটো অতলান্ত চোখের গুহায়

সোমপুর, খাজুরাহো,অজান্তা,ইলোরা,আফ্রোদিতি পার্থেনন প্রভায়

নিঃষ্কণ্ঠক অব্যয় অপভ্রংশে পঞ্চসতির বিছা-মল ময়

 

গ্রীক সুরাপাত্রের জন্মভূমী নিদিষ্ট সীমার জেলি

আমাদের কাছে আমাদের এসো পাঁপড়ী মেলি ।

 

প্রভাকরণ

 

পাপ আমাদের কাছে আমাদের নয় কোন

রন্ধন প্রক্রিয়ার শৈলজ ‘আমি’ একটা প্রজাতী

দ্রুতিতরুর অনন্য প্রানাবরণ সীমাহীন কল্প-ধী

ফেনিল আত্নরতিকায় প্রবাশী  এক একটা অবয়ব তোমার

 

নির্বাণের গূঢ় নিরবতা এঁকে যাওয়া ‘ইমন’ ‘রা’

নিঃষ্কন্ঠক যাতা কৈলাশী অব্যয়টুকু জোড়া

শালিকের পাখায় রৌদ্রস্নান ও ঘাম

প্রজাতী প্রকরণে দূরাবিভূত জলি তন্ত্র ও এথেন্স

 

একজোড়া খয়েরী চোখ তখন সবুজ নীলিমা

স্বপ্নরা যখন ছূঁয়ে আসে তোমায়- নাব্যতা

নাইয়রে কলম সুর ছন্দ র তনূদেহে ঔজ্জল্য

জ্বলছে সাঁতারের বিম্বিত রঙ- আর কী ঈশ্বরে

 

আত্নগন্ধা বলয় প্রভাতিচরে কাব্য উপকরণ

রত্নস্বী প্রেম অন্ধত্ব দোলনার কাছে শুঁয়ে আছে প্রভাকরণ ।

 

কিশোরীর প্রেম

 

তোমার উষ্ণ আহ্বান তোমার উষাদর

প্রেমৌষ্ণ রতিকায় দুলছে তোমার ভগবান ঈশ্বর

আল্লাহ্ ,তোমার কিন্নরী তনূদেহ তটে

মনভোমরা ঝেঁকে বসেছে যৌবণাফুলে

 

বলিরেখা ধূসর মত্ত্বতায় মেতে আছে মতি

আপাততঃ তুলে রাখো ভাষার নিয়ম রেখা যতি

সৌন্দর্যের প্রনালীতে আত্নহন্তকদল আমি অবিভূত

তোমার উষ্ণতাকে ঘিরে স্পর্শরা একীভূত

 

আমাদের কাছে আমাদের উষ্ণতাকে পোড়াতে হয়

মেলে ধরতে হয় রোদে, পৃথিবীর প্রিয়তম রোদ

সে না হোক ,তবুও তোমার উনূণ এখানে এই

আমার কাছে, আমারটা তোমার দেহে নিত্য প্রদাহমান

 

তোমার আদরের কলা নৈবদ্য পথ্যের শুক্রাণুতে

আমাকে খুঁজে নাও তুমি, তোমাতে ছড়ায় আমায়

 

বৈভব

       

যখন বভবী হয়ে উঠি তোমাদের রুমালের ভাঁজে

প্রবাহমান বতাসের রেণুতে রোদেলা আমেজ এসে

জেগে তুলে বলে- আমার এ ধারা অব্যয়ী হে

তোমার  জন্য তোমার অনাদি জন্ম ঊষা’কাশের

 

পারফিউমের ফোয়ারায় আদ্রস্ব কিন্নরী তণু

বিশ্বায়নের প্রশ্বাস শৈলীতে নৃত্যরত চার্বাক

ভিন্ন অন্য আরো একটা ভোর চাই তোমাকে

 অনণ্যোপায় হয়ে তোমাকে-ই ভালোবাসতাম শুধু

 

 

এইচ আই ভি  তে ডুবানো থাক আমাদের

প্রনালী প্রেম ;গহ্বরে মৃত্যু নিঃশেষ মৃত্যুকে দিয়ে

ক্ষুদ্রতর নয় আমাদের জীবন, এমন ঘী এ

জ্বালিয়েছে আগুন যে দৈত্যটা শত্রু সে  সভ্যতাদের

 

শুধু তোমার চুম্বনে টেমস্ জেগে উঠলো আর-

শরীরে জড়ালে বহর নহর ওমঃ হর তার

 

 

রঙ

         

পাপেরা – তুমি জানো কী পাপগুলো সব

মরে গেছে, বলেই আমরা আরও বেশি

মেলাতে পারি, যতোটা না নিজে কল্পনা

করা যায় । নিষেধের চক্রবালে ঘেরা রোমকূপ

 

জন্মদিনের ভোরের কাছে সব শিল্পীত শৈল্পীক

সমাহার শৈল্পীক মন  পরাজিত,

মহুয়া মেলায় প্রগতির জন্ম হলো, অনঅভিপ্রেত

দূর্যোগেরা এক একটা নবতর উপ-যাজকীক

 

আগামীর ভোর মোল্লাতান্তিক ভ্রুণ দিয়ে নয়

উপ-অবৈতনিক মতবাদগুলো নয় শুধু প্রেম

ঐ পানশিটার একমাত্র অব্যয়; আর তাই

এ রঙে কোন নেই রঙের নহর; কামুকী শহর

 

খাজুরাহোর কথা বলছি না এমন রঙে মোড়া

যৌবণের আলো গুলো কী সব তীক্ষ্ণ ।

 

ওঝা

          

উঠে এলো বেড কভারের ফুলগুলো সব

জীবন্ত ফুলের রাজ্যে; পৃথিবী ফুলময় এখন

দির্ঘাকৃতির ছায়াটা ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে

 

স্বল্প উৎপাদন ফুল অপেক্ষা ভ্রমরের

পশ্চিমে জ্বলন্ত চীতায় সূর্য যখন জ্বলছে

দরজা ও জানালার পর্দা থেকেও পালিয়েছে ফুল

প্রেমিকদের সারি এখন ফুল বিক্রেতার দোকানে

 

সংকট নয় এ প্রাচূর্য তাও নয় আমার জন্য

যদি না দেখতাম ফুলে ভরে যাচ্ছে দুধের বাটি

দুধগুলোও প্রতিবার হয়ে যাচ্ছে ফুল

 

অন্য খাবারে অনভ্যস্থ চিরকালের বিড়ালটা আমার

মি-ই-ই-ই উ  মি-ই-ই-ই উ ডাকছে, শুষ্ক চোখে কেমন

তাকিয়ে আছে টেবিলের দিকে

 

নেই সামান্যতমও বৃষ্টির লক্ষণ মেঘের ভাঁজে

 

আপন গৃহে ফেরেন এ পথেই সমাধানকারী ওঝা

পথই যার জন্ম শুক্রাণু ,পথ যার গর্ভাশয় -

ধর্মালয় তাও পথ এবং সম্পূর্ণ পথ হবে একদিন

অস্থি মজ্জা ও পরিধেয় পোশাক তার ; আমি বসে আছি

 

চার্বাক

     

অমোঘনীতি বাতাসের সাথে দুলছে – আর শরীরে

অনূভব তটিনী ঘেঁষে জন্মেছে প্রেম আমার

দিনের আলোয় নিঃষ্কণ্ঠক ছিলো না এমন

তোমার রত্নস্বী প্রজাপতি ছন্দে মাতম আমর গাঁ

 

দুটো অবয়ব অধরা ধূসর কিছুটা স্পর্শাতীত

আমাকে নিয়ে আমার মাতঙ্গি মনহরা অনুরণ

যুদ্ধ নেই এমনটা হতো যদি একবারও ; তোমার

নিরব শ্রান্তিভেজা দোলনাটা দোদুল্যমান নিত্য

 

 

তরুণ টগবগে খুনলহরী প্রবাহিত আমার চত্তর

প্রাচীন বঙ্গ তো দ্বিধান্বিতা রমণীর মতো

চেয়ে আছে; শুধু দেশের মাটিতে কাকাতুয়া ঠোঁট

শকুণের মতো ছিঁড়ছে মৃত গো-মাংশ সাধে

 

দুটো আস্তিন ঠিক আছে পোশাকে অতি

একবারও এমন ভোগবাদী হতে পারতাম যদি

শাব্দিক

 

শব্দগুলো

শব্দমুলো

শব্দধুলো

শব্দছুলো

               আঁতুড় ঘড়ে

                               শব্দ ঢিলে

                             শব্দ চিলে

                           শব্দ নীলে

                           শব্দ মিলে

                                            কবির চরে ।।

শব্দ খাই

শব্দ গাই

শব্দ পাই

শব্দ নাই

               স্বপ্ন ভরে

                                                                      শব্দ ভোরে

                                  শব্দ ঘোরে

                                  শব্দ ওড়ে

                                   শব্দ  পোড়ে

                                                                                    ওঝা ঝরে  ।।

শব্দ করে

শব্দ নড়ে

শব্দ মরে

শব্দ ধরে

                তন্ত্র লড়ে

শব্দ আমি

শব্দে নামি

শব্দে ঘামি

শব্দে থামি

               মন্ত্র ছেড়ে  ।।

শব্দ শাওয়ার

শব্দ পাওয়ার

শব্দ হাওয়ার

শব্দ চাওয়ার

                         শব্দে শব্দে শাহওয়াৎ ।

ক্যূ- স্বপ্ন

                  

প্রার্থনার পূর্ব রাত

        আগামীকালও ঐরূপ হবে

         হয়েছিলো যা

গতকাল

গতশতাব্দী

৫৭০ খৃষ্টাব্দ অবধী ।

 

ঈশ্বর ইতিহাসের ভাড়াটে খুনী

     আল্লাহ্’র রসে

        মেসোপটেমীয় ধ্বসে

         ঈশ্বর বসে

       ভগবানের পৈত্যে যায় ছিঁড়ে

 

ডারউইন অতঃপর

কুমারিত্ব খোয়া যায় ডব্লিউ এইচ হকিং এ

 

আমাদের এ গ্রহ যু্দ্ধের নয় কোন

মৃত্যুর নয় ধ্বংসের নয়, নয় আণবিক চুল্লীর

 

মসজিদ মন্দির গির্জা প্যাগোড়া সব

একীভূত হবে আগামিকাল কাব্যনিলয় এ

কাব্যধর্মে লীন হবো

আর তাই  করি পালন আমরা

কাব্যতিথী ।

 

 

শিল্প

                         

টুকরো টুকরো মৃত্যু এসে ছুয়ে

যেতে পারে আমায়

মরণশীল তাই আমি

এমনই বিশ্বাস তোমার প্রিয়তমা

সৌন্দর্য্য অবগাহনের দৃষ্টি

সত্যের মৃদূ তান  লয় ঝংকার

ভয়ঙ্কর দূর্বল মৃত্যু

 

টিকটিকি গতরাতে পোকায় মিটিয়েছে ক্ষুধা

নিভে গেলে দিনের আলো আবারও সে

 

বাঁশি, কৃষ্ণ, বৃন্দাবন, রাধা, ওখানে ।

প্রেমারণ্য

 

বাতাসের প্রবল ঝাপটে

কাকের পালক

                          ডাষ্টবিনের নোংরা আবর্জনা উড়ছে

মিউনিসিপার্লিটির গাড়ি আসে

                      নিয়ে যায় ময়লার অরণ্যে

                           পরিবর্তনকে ভালোবাসো তাই

গোপাল রাজা হয়েছিলো

এবং বঙ্গের স্বর্ণালী মূখ

স্বর্ণোকরৌজ্জলা তরুণ

তোমার ওড়নাতে বাতাসের

প্রকট আধিপত্য

আমিও উন্মাদ

আদ্র বক্ষবন্ধনী ঘিরে

 ঝাঁক ঝাঁক মক্ষীরাজ

আমি তুমির বৃন্দাবন

সুরের মাঝি ও নৌকা

তট ছেয়ে আছে

শুভ্রসিতার অধরা দেহ

নুপূরের পাটাতনে

আসতে হয় এখানে,  এখানেই আসে

প্রেম ও প্রিয়া, প্রিয়া প্রেমিক প্রেমারণ্যে ।

 

 

বিপক্ষ               

 

কবিতা  আর তুমি

মরুভূমি

হয়ে যাই

তৃতীয় পক্ষ এসে যাবে

তুমি আর কবিতা

নয়ণাভিরামে প্রেম অত্যাসন্ন

নুপূরের বর্ষাতে

                                                                          নুপূরের বর্ষাতে ভেসেছে

গুগরী কেচোঁ

প্রাগঐতিহাসিক মেছো

আমাদের মনূষ্য প্রজাতি

হাতে সভ্যতার ছাতি

তুমি আর তুমিতে

প্রকৃতির ষড়কলা

ষড়নৈবদ্য

মত্ত মত্ত

পৌষের পিঠা

কবিতার মিঠা

 

আর তোমার ঐশীস্মিতা

উষ্ণ পরশ

মহৎ-ই স্বরস 

                                                                        শরীর ছড়ায় শরীরে

কবিতা ও মৃত্যুকে ঘিরে ।

 

 

হাড়

গর্তে পরে গেছি ফণীমনসার ঝাড়

কূসংস্কারের হুকে সেটে আছে দু’চোখ

লালা ঝড়ছে ক্রমাগত ঝড়ছে লালা মুখে,উৎসুক

দু একজন এ  পথে এখন মরার হাড়

 

প্রেম নামক পেলবতা মসৃন অনূভুতিরা নিঃস্ক্রিয়

কলিঙ্গ যুদ্ধে নিহত যোদ্ধার মূড় মূড়ে হাড়ে

দৈত্যটা এসে দাড়িয়েছে এহাড়ের উদিয়

আলোকচ্ছটায় ; লড়াইয়ে সভ্যতা কী হারে

 

বাবার জায়নামাজ তসবীহ্ ই যুদ্ধের কারন

ধ্বংসের আঁকড় মৃত্যুর বিশাল সারি

১৭৫৭ এর কাকাতুয়া উঠোনে এখনো আমারি

ঠোঁটে স্বর্গের নূড়ি পালকে রত্নের প্লাবন

লাউয়ের মাচায় টিয়া হলো কাকাতুয়া

ভবিষ্যৎ আমাদের শিখছে নব নব সুরা

 

আমার দেহের পশ্চিম খন্ডে ওড়ে যা

 মেলেনা পূর্ব খন্ডের সাথে- আমারই

 পূর্ণাঙ্গ অবয়ব তবু একত্রে দেখা যায়

হাড়ে হাড়ে হাড্ডাহাড্ডি করে হাড়ে রা

আকঁড়

 

হাঁসেরা  জলউপরিভাগে  ভাঁসছে  তাই-

বন্ধু নেই আমার, স্বরস্বতির বেদীমল

উপঢৌকনাকীর্ণ চন্দ্রশেখর কোন ধর্মের গাঁয়ে

নিজেকে ভেসে দিই;  পাগলের এক চিলেকোঠা

 

সকল দৃষ্টির গোচরীভূত পুষ্পের প্রেমনাথ বীশি

নচৎ এগ্রহ আবরণ স্পন্দনহীনা কী বিভৎস চৌপাশ

ভূ-প্রানচরা, জোনাকীর আলো ঊষাকাশের সাথে

রোদেলা আমেজে মেতে আছে বঙ্গের উপকরণ

 

রঙধনু তোমার রঙের শিঁয়রে মিটিমিটি স্মিত হাস্য

প্রেম নেই তবুও রাঙিত হতে হয় মনরাগিণী বহ্নি

আত্নহরা আত্নাতে আত্নারা, এমনই আমার জন্ম

মর্তের কাছে- স্বর্গেরা ; দর্শনেও সেই একই রকম

 

শরীরে বাতাস লাগছে না-  সে মতও নয় ঠিক

চৌদিকে ঊষাস্মরনীয়া  প্রেমতি প্রেমমগ্না আকঁড় ।

 

বঙ্গরাজ

 

খেলারাম খেলে

প্রেমের গর্ভের জলে

                               এই মাস শ্রাবণ

                                  বাজে অধরা কাঁকণ

ঐ সজনে গাছের পাখি

আজও উঠছে ডাকি

                          খেলা-রাম খেলে

                          পঞ্চ পেখম মেলে

চোখে আসে জল

স্বপ্নের পায়ে মল

                              অজড় অমর অক্ষর

                             কবি ও কবির কর

এই আমার খেলারাম

নাগেশ্বরীর জলে আরাম

                              আজন্ম চলছে খেলে

                            আত্না আত্নায় এলে

আর কী নিস্তার যাওয়ায়

এসে পরো শ্রাবণী হাওয়ায়

                                    অক্ষর শব্দ এই

                                     তুলছে স্বপ্নের খেই

আর তাই তোমাকেই

‘কবিতা’ তুমি সেই

                                     নামহীন তুমি কবি

                                  শব্দ ও শব্দের ছবি

প্রেমের গর্ভের জলে

খেলারাম খেলে চলে

                                   এই শ্রাবণের আকাশে

                                  ‘শর্করা’ সবুজ ঘাসে

ষড়ঋতুর বারো মাসে

চাষী আর চাষে

                                   আছো তুমি প্রতিদিনই

                                   কাব্য নয় কবি-ই ঋনী

   এই প্রেমের গর্ভের জল

আমার এ স্বপ্নের দল

                                    খেলারাম এখন আমার ঘড়ে

                                ওড়ে, এ শ্রাবণ ওড়ে

তোমার শব্দে

তোমার ছন্দে

                      উঠি আমি গেয়ে

                        বঙ্গরাজ কবি বেয়ে  ।।

 

 

** শ্রদ্ধেয় কবি লেখক নাট্যকার সৈয়দ শামছুল হক মহীরুহ কে উৎসর্গ

তাঁর মহাপ্রয়াণে ।   

                                                                                                                               

নৌ-মাছি

           

আমার নদি

নামো যদি

                   জল ধরেনা গায়

                   কাদা ভরেনা পায় 

ঢেউ খেলে

দেখো মেলে

                      মাছ কাঁকড়া বক

                      প্রচুর থক্ বগ্ ।।

আমার নদি

থামো যদি

                      ওকূলে কাশবন

                       ওকূলে সবুজবন

                                   শরৎ ছাওয়া

                                 গ্রাম্য হাওয়া

                                                  সিক্তস্বিনী রমণী দেহ

                                                 পোপ ও পাপ সেও ।।

আমার নদি

অনন্ত অব্দি

                           ঢেউ বন্যা ক্ষরা

                            কাব্য ছন্দ অন্তরা

                                                    কবি ধরা

                                                     গীতি গড়া

                                                                           কালে জ্বালে মহাকালে

                                            দর্শন ধর্ম এপালে

আমার নদি

চিরন্তন গতি

                                         শ্রোতের ধারায় বৃক্ষ গজে

                                         বিজ্ঞান শৈবাল নিত্য মজে

                                                                         ভূগোলে স্তূপ

                                                                রেখারা চুপ

                                                          ওরা সীমা টানে

                                                        রাজা রাজ্য আনে

নদি নদে

নদি ‘ম’তে

                    ‘ম’তে মা

                      ‘ম’তে মায়া

                     ‘ম’তে মধূ

                         ‘ম’তে মৌমাছি

নদিতে আছি

নৌ-মাছি ।।

কাব্যতেষ্ঠা

          

তেলাপোকা, ইদুর, টিকটিকি, গুগরী পোকা

তুমি জানো না এসব এখানে- ওরে বোকা

কবিতা যে নেই এঘড়ে

বাঘে ধরে

কুমিরে গায় জাতীয় সংগীত

চৈত্রের কুয়াশা জৈষ্ঠের শীত

 

প্রভাতের পেটে হজম হলো বর্ণমালা

স্বরচিহ্নগুলি সাঝেঁর জোস্নাতে নালা

 বেয়ে তিমিরে

হাওয়া শিরশিরে

এই বুঝি কবিতা এলো

রাত শরীর খুলে দিলো ;

শুঁয়ে আছে কংকাল মরার খুলি

কুমিরের মুখ বিস্তর খুলি

 

কবিতার জন্য দেই ভোট

গুগরি পোকা ডাকে, টিকটিকির ঠোঁট

বর্ণ খায়, তেলাপোকা চাটে চিহ্ন

সাদা পাতা ইদুরে ছিন্ন ভিন্ন

কবিতা নেই তাই যুদ্ধ

রক্ত মৃত্যু স্বর্গ নরক বুদ্ধ

 

কবিতার মন্ডু নিয়ে স্তব্দ কবি

সিংহাসনে সভাসদ নিয়ে হাম্বুরাবি,

 কে দেবে কবিতা আমায়

কে সময় বানায়

 

কাব্যরাগ

 

যামিনির কামিণী

রাখিনি

গাঁথিনি

         ওখানে নামিনি

 

আকাশে বাতাসে

           এপাশে

          ঐপাশে

            ছায়াটা ওপাশে

শিশিরে শিশিরে

          মিশিরে

          পিষিরে

               বর্ণের তিশিরে

 

রুয়েছি নুয়েছি

      খুয়েছি

      ধুয়েছি

            শব্দেই শুঁ’য়েছি

 

সকালে অকালে

          কপালে

          ঠকালে

             রৌদ্রেই শুকালে

 

আঁকিনি মাখিনি

          আনিনি

          চাপিনি

স্বপ্ন শানিনি

তাই জানিনি

তুমিই পানিণী

কাব্যের রাগিণী  ।।

 

 

শাহবাগ

 

শাহবাগের মোড়ে

ধুলি নেই ধোঁয়া ওড়ে

ক্ষুদ্র মুদ্রা নয় ডলার ঘোরে

কোকিল নয় কাক ভোরে-

রাতেও ডাকে, কদম জোরে

ফেলে চলে সূদর্শনা রোবট মুড়ে

এক একটা মানুষের মতো;

  শাহবাগে গর্ত কতো

ছিলো- নগরবীদদের নকশায় সেতো

খুজে পাবেনা তুমি, এতো

অন্য নক্ষত্র

আজব ক্ষেত্র

মেলো চুপে নেত্র

হাঁটে একই পথে শত্রু মিত্র,

এ মোড় সত্যে মিথ্যে মেলানো

পাশ্চাত্যে হেলানো

সুরা পাত্রে গেলানো

বেজে চলে পিঁয়ানো

হারিকেল রাঢ় পূণ্ডর্ধনে হারানো

একটি শব্দ খুজি এখনো

এখানে, এ শাহবাগে

ডাকে আমাকে

মেঠোপথ ধানক্ষেত ভাঁটফুল যাকে

স্বাগত জানায় বৈশাখে

 পাতা ঝরা, মাঘে খেজুর রসপিঠার ঘ্রাণ মাখে

যে গাঁ,শিমের মাচায় পূঁইশাকে

ডগায় দোয়েল ছবি আঁকে

 

শাহবাগে

 

   ছন্দ সাঁতরায়

বর্ণ  হাতরায়

শব্দ খায় খায়

স্বপ্ন যা –ই পায়

ডাষ্টবিনে যায়

পরিচ্ছন্নকর্মী গাড়িতে ওঠায়

এরপর বুড়িঙ্গায়

 

আসে নতুনে আঁকায়

কালের পাখায়

মহাকালের শাখায়

চূর্ণ –বিচূর্ণ যাঁতায়

শাহবাগ কবিতা খায়

শাহবাগ কবিতা চায়

শাহবাগ কবিতা পায়

শাহবাগ কবিতার নায়

বৈঠা হাতে কবিরা শাহবাগ বায়

 

ডাকে আমায়  ।।

দৃষ্টিভঙ্গিমা

                

তোমাদের ঘৃণার কোল ঘেঁসে অবজ্ঞার লালায় তিরস্কারের জেলিতে

স্বপ্নের এ্যামাজন আমার ; একঘড়ে থেকেও দেখনা কেমন

উচ্ছসিত দৃষ্টি আমার । তোমাদের ঈর্ষার আকস্মিক  সমাপন

কাংখিত নয় তাই , জীবন আমার সহস্র বর্ষের হর্ষ গীতে

 

রূপকুমারীর রূপ আর স্বরস্বতির আঁচল

 

ঝাঁক ঝাঁক কাব্যকৌড়ি এখন নিউরণের কোষে কোষে

পেলবতা মুড়িয়ে থাকে তুলি; একাধিক মুদ্রাদোষে

মানুষ হয়ে উঠতে হয় আমাকেও প্রতূষ্যে খাদ্য সন্ধানরত

বিহঙ্গের মতো, গ্রহ ‘পরে প্রজাতি এক এই অবনত

 

বিশেষণের পশরা কাঁধে ভারাক্রান্ত নীতিনর্ধারক সমাজ

 

নচেৎ গোত্রভূক্ত হয়ে যেতাম আমিও আবাবিলের ঠোঁট

অতঃএব  ঘাসফুল । দলে পৃষ্ট করো তুমি-পথিক

প্রতি পদে পদে পূণঃ পূণ আসব নিয়ম অনিয়ম মাফিক

ঈদহর্ষ এখন চৌদিকে নমঃ নমঃ গনতান্ত্রিক ভোট

কাব্যগ্রন্থি

                        

তোমার বক্ষবন্ধনির হুক

            আলগা হয়ে গেলে

               কবিতার শরীর মেলে

ন্যাপকিনের সাথে

কবিতার তরুত্তাপে

গৃষ্মের বর্ষা দেখা

বহুমত্রিক সরল রেখা

 

মেনোপজ আক্রান্ত শরীর ধোঁয়া জল

               দাম্পত্য শিঁয়রে

              প্রজাতি ভিরে

একীভূত তুমি ও আমিতে

ক্রমজোমের নাভীতে

কাব্যিক শিশু

         বৃন্দাবণ

           তরঙ্গরণ ।

 

কালে মহাকালে

         এভাবই তরঙ্গঢালে

           এ নয়নভিরাম দ্বিজ ;

 

ততক্ষনে অনেক সভ্যতার

         স্বর্ণালী আঁকড়

       আমিও

       তুমিও ।

 

মন

ঘর্মাক্ত নাভীমূলে নিয়মের বলিরেখা ধূসর

কেমন আবর্তিত হতে থাকি তোমার নিতম্ভকূলে

চঞ্চুর ঊষ্ণাভ প্রকৃতি মলয়ে একীভূত আমরা;দুলে

ওঠে স্বর্গ- নরক, ঈশ্বর যিহোভা ভগবান আল্লাহ্ মূখর

দক্ষিন এশিয়ার আকাশে সেই কখন থেকে

নক্ষত্র ঘেমে ওঠে - ওড়নার প্রজাপতি এঁকে

চলে সবুজ অরণ্যানী ; শব্দ ছড়ানো হাতে

তোমার দেওয়া রংধনূ আর হেমন্তের রাত

 

কাব্যর গুহা গহ্বরে দূর্ভেদ্য তিমির স্বজন

এক আঁজলা ফুলের সুবাস পৃথিবীর বাতাসে

 বাতাসে যা কীনা আমারই প্রশ্বাসে

এসে তুমি যা দেখলে এখন

কোন উচ্চাশাতে দুলছেনা কাশবণ

শিহরীত করে শুভ্রসিতা এখনো তোমার মন ।

 

 

 কেশবিন্যাশ

 

তোমার এখন্ড লম্বাচুল আজ অব্দি বেঁধে রেখেছি

অবাঞ্চিত বর্ধিষ্ণু মাংশ খন্ডে, তবে কী অক্ষমতা

নাকী ক্রমবর্ধমান শক্তির কাছে শাওয়ার সভ্যতার  শরীর

ভিজছে ক্রমশ গড়িয়ে যিচ্ছে জল রাতের গর্ভে ঊষাভ্রূণ

 

যা কিছুই শরীরের অংশ ভাষার ব্যাকরণ নৈবদ্য

কেশবিন্যাশ পরিপাটি একগুচ্ছ স্পার্টাকাস এথেন্স

অতঃপর যমজ হলো এ গ্রহ- শৈবালে যুদ্ধ

আমার কৃষ্টির নুপূরগুলোর ভগ্নাবশেষে চন্দ্রমাভা

 

 

চন্দ্রকরোজ্জলা এঘড়ে আমার ও চন্দ্রের একই রূপ

মনোহরা নাবিকের ধূপধোঁয়া আর পরিবর্তনে মজ্জা মাশ

বড় বড় বৃষ্টি ফোটায় আরক্তিম জেগে ওঠে বিপ্লব

কচি হাতগুলো নিড়াণী সাথে সিলেবাসে উঠছে ভেসে

 

 

উঠোনের শালিক শিল্পের নুড়ি করছে খেলা

এমন দিনে শুভ্রসিতা কী আর এমন কেশ মেলা ।

নবো’দয়

                                

পরিভ্রমনের দৃষ্টিবলয়ে রাশি রাশি অববাহিকা

নোঙর প্রবণা মনভোমরা প্রতাশ্রয় প্রয়াশি

রাত ও দিনের কাছে ধর্ম ও কর্ম উদাসী

প্রেমবেষ্টনী অনূভবের তটিনী ঘেঁসে প্রলয়বিভা

 

বক্ষবন্ধনীর হুক থেকে নির্দিষ্ট দূরের দুটো হাত

রেলিঙের বাতাসে দুলছে প্রজাতী প্রকরণ শৈলী

গত প্রহরে যে সব ছন্দে ও রঙে মৌয়ালী

শুধুমাত্র একটা সুন্দর সকালের অবগুন্ঠিত স্নান

 

দ্বি-প্রহরের স্বর্ণকরোজ্জলা রশ্মিতে অনূজের নবোদয়

ঠিক সেই রকম দূটো অতলান্ত চোখের গুহায়

সোমপুর, খাজুরাহো,অজান্তা,ইলোরা,আফ্রোদিতি পার্থেনন প্রভায়

নিঃষ্কণ্ঠক অব্যয় অপভ্রংশে পঞ্চসতির বিছা-মল ময়

 

গ্রীক সুরাপাত্রের জন্মভূমী নিদিষ্ট সীমার জেলি

আমাদের কাছে আমাদের এসো পাঁপড়ী মেলি ।

 

 

 প্রবৃত্তি

বেঁচে থাকার প্রবনতাগুলোই আমাকে আমার মতো

করে গড়ে রেখেছে উপকরণ শৈলীর ক্ষুদ্রাংশ

প্রতিবিম্বে বৃহদাংশের যা তোমার চুম্বনের উষ্ণতার

পাটাতনে যা সভ্যতার শিঁয়রে স্বল্প স্বল্প গাঁথুনি

 

ঝলসানো আরক্তিম জানালায় নিতম্ভমূলে স্বপ্নের

প্রেম আর কাকাতুয়া,মৃত্যু আর উদ্ভাবনী অস্ত্র কৈলাস

বিন্দু সমারোহের বরেণ্য কোল্ললে সুন্দরীতমা

উপঢৌকনের নোলক বসন্ত বাঁশরী দ্বী চরা

 

দৈব্য অদৈব্য আনন্দ পরাভূত ব্যবস্থা প্রবন রাষ্ট্র

ঘোড়ায় বিস্কুট খায়, ঘোড়ায় কবিতা খায়

মিছিলে মিছিলে দ্রোহের রঙ পাল্টাতে,

কিশোরী সাজ ঘরে খুলছে বিছা মল বন্ধনি

 

আদিম প্রবৃত্তি প্রবণ নারী নাচে ঠোঁটের ডগায়

ছন্দ ও গন্ধ মহতি কাব্য আলয় নিঙরে নেয় ।

 

 

প্রেমমাখা

 

মেঘ জমানো শরীর কামগন্ধা চৈতন্য শুভ্রসিতা

রক্তগুলো উঠে আসছে উপরিভাগে ,

ঠোঁটে নাভীর অববাহিকায় জন্ম আঁকে

প্রবাল পেলবতা ও গণতন্ত্র; ইউরোপ আস্ফালনচেতা

 

সাক্ষর ঈশ্বর সম সাক্ষর পড়ছেনা –বেকার

া-কার ও নিরাকার সেতুতে ক্লান্ত পথিক

মহত্তম আঁচড়টা ফিদা হুসেনের রঙের বাটিতে

এলিয়ে পরে আছে সৌন্দর্য ও সত্য -জ্বলছে নেত্র

 

ছাতিমের ঘ্রাণ এসে হুমড়িয়ে আপামদস্তক

আবর্তিত আর তুমি , প্রেম শিখে নেয় আত্না

অতপর সুরেলা আত্নজ হলো পৃথ্বি, ভুলেরা

এসে পাটাতনে তোমার মৃদু মৃদু দুলুনি –আর

 

বহুরূপি বিচিত্র সভ্যতা হন্তক ইউরেনিয়াম ও শিশু

খেলনাতে একাগ্র; আরও একটা চুমু বেশি তাই

Please mention the "name of the articles and the authors" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Maadhukari explores Bengali Literature Around The World