কবিতা সমগ্র - ১৯
প্রদীপ চক্রবর্তী

তবু কবিতা লিখি

 

টাটা রোড বোঁবোঁ করে গাড়ি ছোটে,

দূর আব্দি আওয়াজ আসে কানে।

পাশে বাথরুম, প্রবেশ করে কোন আদিবাসি মহীলা,

রাত ১২:০৫ ।

ঝূল বারান্দার একেবারে প্রান্তে দূটি আরামকেদারা,

মাঝে দূটি,আমি আর খাতা।

মসারা আমাকে দোসর ভেবে গান শোনাই।

পায়ের নীচে বিষ,কূন্ডলি পাকিয়ে ধোঁয়া ছারে,

গাড়ির কন্ঠস্বর তখনও বন্ধ হই না।

বেশ কয়েক কিলোমিটার চোখের আন্তরে প্রবেশ করে,

তাতে শুধু গুটি কয়েক জানালা দিয়ে প্রকাসিত আলা দেখা যাই।

কোন মানুস নেই।

সবাই যেন ঘর বন্ধ করে নিরুদ্দেশের পথে।

গাড়ির শব্দ আমার ঘুমকে তাড়িয়ে বেড়াই,

তবু আমি কবিতা লিখি।

 

 

 

এটাই হয়

যে হ্রদয় নদীরমত প্রবাহমান, স্বপ্নের মত বাধাহীন,

যে শরীর মেঘর মত অজগর, ঠাকুর ঘরের মত শূন….

তাকেই আমি বঽন করে চলেছি দীঘ ২৪ বছর.

কোথাও সময়ের পেশি থেকে উদ্ধার করেছি,

কবিতা লেখার নেশা, গল্প বই পড়ার ইচ্ছা আর কত্রব্যকে এড়িয়ে চলতে।

আমি আগনিত তারাদের ভিতর ঢুকে পড়ি

স্বপ্ন দেখার আভিনয়ে, মেকাপ ছাড়াই।

সব সময় কি যেন খুজে বেড়াই ,

যেখানে থাকেনা ছন্দ, রং, গন্ধ কোনকিছুই।

কখনো বা মোবাইলে টাইপ করি-

‘‘সেই তো ঘরে ফেরা’’ আবার কোন সময় আধময়লা চিরকূট

কুরিয়ে লিখে রাখি-‘বাধ্রক্যের বারানসী’।

সব কিছুই সম্প্রসারিত করে ফেলি

সবার আপকেই।

সকাল হতে না হতেই উদবাস্তুর মত

নূতন আবিস্কারের পথ চলা।

 

 

একা

গেস্ট হাউস, ছোটুর রান্না, ন’টা কুড়ি,

হাত ধুয়ে রোজ নিজের চৌকিটে,

সঙ্গে আবৌধ চারমিনার, ট্রেনের টিকিট

বিছানার নীচে গেলাস,

সম্মানিত চপ্পল আর বিড়ি রাখার পাএ,

দেওয়ালে সিডুল, আন্ধকার নীচে,

বিরসা মুণ্ডা, কলের বমি করার শব্দ ও

লুডো গুটির আওয়াজ।

 

 

মাইনে পেলে          

মাইনে পেলে,

হোটেলে মাংস খাই,

বিডির স্থানে গোল্ড ফেলেক।

সে দিন ট্রেনে টিকিট কাটতে ভুলি না,

ভুলিনা রিক্সায় চাপতে।

মাইনে পেলে,

সেলে শার্ট কিনতে ভুলি না,

ভুলিনা বিকালে রেস্টুরেন্ট।

ভুলিনা সুতপা কে ডাকতে,

এক সাথে সিনেমা দেখতে।

মাইনে পেলে,

ফুচকা খাই পেট পুরে

চপ খাই আনেক।

ভুলিনা মিস্টি হাতে বাডি ফেরা

আথবা ভাইঝির চকলেট।

মাইনে পেলে

কিন্তু ইছা মত বৃস্টি নামাতে পারি না।

 

 

দিনের শেষে    

              

পরে কবিতা হবে লিখছি,

তোমার আমার চোখ, আজ্রুন গাছের শেষ প্রান্ত

আর আদ ফলা চাঁদ, সবই পাহারের ধার বরাবর

এক সরলরেখা।

কুইতুকো থেকে বণ্ডি মাইল দুয়েক,

গাছ আর গাছ পাহারের চাদরে।

ক্যামেরা কেনার সফলতা আসত বলে মনে হয়,

সবই বাঁধ বরাবর।

আমি রুমে, চোখ রাখি মোমবাতির দিকে

আর মনে আসে-বাগমারার চার মোরের কথা।

সারি দিয়ে বৃদ্ধ সাঁওতালি মহিলার দল,

কাটুরি হাতে হাঁতে হাঁড়িয়া পিতে মত্ত,

আপন ভাষাই গিজির গিজির শব্দ ও…

আমি মনে করতে চাইছিলাম না।

 

 

 

ছয় নভেম্বর                            

সুট বুট পরা পুরুষ,পাত পেড়ে খাওয়া,

লোভের একটা বড়ো উদাহরন, খেঁকুড়েদের ভয় ।

সংস্ক্রতি যাত্রা, ব্যাপক প্রচার, নাকচ করল আদালত।

ঘরে কিংবা বাইরে, চোখ মুখ ধুয়ে নাও।

দাড়ানোর সীমারেখা, সরকারের টাকা কেক,

আপশে রাজি নন মমতা দী, ডিজেল থেকে গ্যাস,

রান ওয়েতেই থমকে গেলো আমার ভালোবাসা।

কচি বয়সের শকূন্তলা কে বলেই ফেলি এবার কথাটা,

বস্তি বাসী, যেখানে থাকেন পরিবেশমূক্ত বাসগৃহ,

কালীমন্দির থেকে পুলিয়া পাড় হয়ে গেস্ট হাউস,

চাকা ঘোরাতে ঘোরাতে ঘরে প্রবেশ,

একটু ফেসওয়াস নিয়ে চাপা কলের পাশে,

গরম জল গিলতে গিলতে বলেই ফেলি এবার কথাটা?

আপসে পিয়ার হো গিয়া।

  

 

স্বচ্ছ প্রেম

মনিকা মাকে বলেনি ঠিকই, টুবাই কে ভালোবাসে।

মেয়েরা যেটা চাই-কোন এক ব্যাক্তি আমাই সব থেকে বেশি ভালো বাসুক,

মা,বাবাকে বলে ফেলে ছিল, পরিনতি সেই . . .

পাড়ার দুটো বন্ধু ও যে এই ঘটনাটা যানে না,

কে বিশ্বাস করবে।

সত্যি কারের প্রেম বলাযেতে পারে।

কিছু দিন আগে পযন্ত, তোমার বাবা আমার বাবা দোসর ছিল,

আজ সেটা রবিবারের গেস্ট হাউস।

ছেলের সাথে যোগাযোগ বলতে-

ওই নোকিয়ার একটা সাদাকালো মোবাইল।

আনুমানিক তিন বছর পেরিয়ে. . .

মাস্টার ডিগ্রী করে ফেলেছে,

চাকরির জন্য ছটফট করছে,মেট্রো বাসি ছেলেটা।

হটাত করে শুনলাম, ‘মনিকার’ বিয়ে হয়ে গেছে

বড়ো লোক বাপের এক মাত্র ছেলের সাথে।

 

আমার কিছু করার ছিল না,

তুই চাকরি পেতে আনেক দেরী করে দিলি।

 

 

 

ধ্বংস

১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী ধ্বংস হলে

আমার উচিত ছিল গুরুজনদের প্রণাম করে নেওয়ার

কিন্তু করিনি।

আমার উচিত ছিল এ.টি.এম এর ব্যালান্স শূন্য করে রাখার

কিন্তু করিনি।

আমার উচিত ছিল পেট ভত্রি গাঁজা খেয়ে নেওয়ার

কিন্তু তাও করিনি।

আমার উচিত ছিল সমস্ত বন্ধুদের সাথে দেখা করার

কিন্তু তাও করিনি।

ঐই গুলো কেন করিনি, জানতে চাও?

আমি চাই,

পৃথিবী আরও ১০০০ বছর পরে ধ্বংস হোক।

 

 

বসন্ত

সকালের ঘুম ঠেলে, রবিবারে ন’টাই,

শীত ঠেলে দিয়েছে বসন্তের দিকে।

কোকিল গুলোও ডাকতে শুরু করেছে,

আর আমের মুকুল ঝড়তে লেগেছে,

আম বাগিচার সমস্ত আমগাছে।

এই মাত্র শোযনের ফুল ঝড়া শেষ,

তারা আকুল কখন হবো উপযোগি।

বসন্ত মেনেই বসন্তোৎসব,

আলঙ্গার, পলাশ ফুলের পাপড়ি।

চাদর মুড়ি দিয়েও কোন বিদেশিনী

শান্তিনিকেতন এসেছিল সেদিন।

দেশ বিদের ক্যামেরাও. . .

পড়ন্ত বিকালের মত কোনদিন,

বসন্তও ঠেলে আন্য কারোর দিকে।

 

একাকিত্ত্ব

ইংরাজি টিউশন টা নিয়ে,

সকাল ৫:৩০ প্রত্যেক দিন এলাম দিলাম।

প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন ক্লাসেও গেলাম,

আবার সেই একাকিত্ত্ব।

সকালের স্নান, দুগ্রাজির ৫ টাকার এক পেকেট আমুল,

আর কম দামের কয়েক গেলাস জল।

এবার তো সন্ধ্যা নামে এল,

কে ছাড়বে পয়সা গোনার লোকটাকে;

হাওয়া খেতে, আমিই গেলাম মধুবাজারে।

সন্ধ্যার রুটিন, বিদ্যুত যখন মেনে চলে,

তখন আমি স্বপ্নের জাবর কাটি।

আবার সেই একাকিত্ত্ব।

বেডের উপর যে ছাদ টা রয়েছে, সেটার চাবি

ওদের কাছে নেই।

তাই, আজকের চাঁদের ঝড়া জল দেখা হলো না।

ছোটুর ছয় টা রুটি দিয়ে-বেড টাকে ঝেরে,

শীতের চাদর টা’ পায়ের নীচে রেখে,

ঘুমতে যাওয়ার চেস্টা করি।

একাকিত্ত্বই আমাকে প্রশ্ন করে হাজার।

 

 

কাব্য

 

সেই তো আবার পথ গোনা,

প্রতিক্ষার দিন।

সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে,

পায়ের নখ ছোট।

দিনার পর দিন পেনের কালি শেষ হয়,

ভত্রি হয় কাগজ,

পাইখানার চেম্বারও।

যে দিন টাই আন্ধকার নামে এল

তারই শুধু মনখারাপ।

আর যে উঁকিঝুকি মারছে,

সেই তো সৃস্টি করবে কাব্য।

 

 

 

 পূর্ণিমার রাতে 

 

জল শূন্য ড্রাম, নিজার ছায়া,

লম্বা লম্বা বাঁশ, আর তিনটে টাওয়ারের আলা,

আমার চোখ আকষরন করছে।

পুন্রিমার রাতে।

কবি ফোন রিসিভ না করাই,

কানে আসলো এম্বুল্যান্সের শব্দ।

কাল সুকান্ত দার চাইবাসা বিদাই,

পাহারের মাঝে মদ।

আর স্টোরে লেবারদের সাথে ঝামেলা,

পুন্রিমার রাতে।

কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ-এখনো কতো ঘরে,

মানুষের আনাগোনা।

এই পূর্ণিমার রাতে।

 

 

স্বপ্ন

                          

মানুষ, নেশা করলেই মনে হয়,

নিজেকে দেখতে ইচ্ছা করে খুব।

দেখতে তো পেলে না নিশ্চয়;

দেখতে দেখতে কখন যেন ঘুমিয়ে গেলাম।

ঘুমের ঘোরে

আপিস যাওয়া, ১ টা বাজলেই পেট,

৬ টা বাজার সাথে সাথেই গেস্ট হাউস এর কথা মনে পড়ে।

রাত্রী ৯ টা ছোটুর চারটে রুটি,

গামছা দিয়ে বেড টাকে ঝেড়ে,

আবার ঘুমিয়ে গেলাম।

এ ঘুম আর সেই ঘুমের টানাপোড়ানেই,

আমরা নকশা আঁকতে শুরু করলাম।

সন্ধ্যার পড়ে বিদ্যুত চলে গেলো,

আমরা কবে শেষ করবো গো. . .

সে দিন, হইত আমার বয়স কম থাকবে।

 

 

রসি   

 

মেরা বিশ, বলে একশত তাকার একটা নোট

দুভাঁজ করে ফেলে দিল,

হরতনের উপর।

মাঝে বগ্রাকৃত এক বড়ো ডালা।

তখনই নাকে এসেছিল

হাঁড়িয়া আর কাঁচা মাছের সুবাস।

সেদিনই আবিস্কার করেছিলাম,

মানুষ পিঁপড়ে খাই।

এদেশেরই মানুষ আবাক হবার কিছু নেই,

যাকে বলে চিটা চাঁটনি।

তবু মেয়েরা হাঁড়িয়া বেচে, পকোড়ি আর টাটকা সব্জি,

বড়ো বড়ো মুলো, পোনকা শাক, রংবিহীন পটল।

বৃহদাকার সন্ধ্যা নেমে আসে দেরিতে,

তবু জুটি মেলেনা যোদ্ধা লোকের মুরগির।

বগলের মধ্যে আঁটকে রাখে,

পরের রবিবারের জন্য।

দু গেলাস রসি।

 

 

তবু আমি 

 

সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে সপ্তষী মেষ,

কোন দিনও ভুলতে চাইব না, সেই সব দিনের কথা।

যেখানে ভাই আর আমি এক সাথে. . .

পথে ভাগনে কোথাই হারিয়ে গেলো,

নূতন বন্ধু পেয়ে।

তবু মনে পড়ে সেই মামা ডাক,

ফদনা বিলীন হয়ে গেলো, হাট জমবার আগেই,

তবু আমি ছিলাম নায়েক পাড়ার মেষে।

মাঝে কত বাবু সেন এলো আর গেলো,

মেষ চালাতে এসেছিল মোদক দা।

তবু আমার প্যান কার্ড করা হলো না।

সুপ্ত কবিও হাড়িয়ে গেলো কোনো সময়,

ঘর ভাঙ্গা পরিবার ও আশ্রয় নিয়েছিল সেদিন।

তবেই তো আমি ইউনিলিভার।

সে তো এক দূঘ্রটনা,

শান্তিনিকেতনে কাঁঠাল আর কূল খাওয়া

চাদর মুড়ি দিয়ে।

তবু আমি নায়েক পাড়ার মেষে।

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Maadhukari explores Bengali Literature Around The World