কবিতা সমগ্র - ২০
অভিজিৎ দাশগুপ্ত দে 

কবি অভিজিৎ দাশগুপ্তের জন্ম ১৯৭৬ সালে কলকাতায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। এখন কবি কলকাতাতেই বসবাস করছেন। পিতা  অরুণ কান্তি দাশগুপ্ত পেশায় শিক্ষক ছিলেন। পিতার অনুপ্রেরণায় বর্তমানে কবি শিক্ষকতার মহানব্রতে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।কবি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ।এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর একে একে  বি.এড , এম.ফিল শেষ করে শিক্ষাবিজ্ঞান এ দ্বিতীয় বার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।বর্তমানে তিনি বিভিন্ন শিক্ষামূলক গবেষণায় রত এবং সমাজ কল্যাণের বিভিন্ন কাজে লিপ্ত। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'Whirligig Of Life' ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। ঠিক তার পরের বছর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'শূন্য এ বুকে' প্রকাশিত হয়। তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায়।

অভিন্ন হৃদয়                 ----

 

খো, কথা বলো না

আমার চোখ তোমার শব্দহীনতায়

মুগ্ধতা খোঁজে।

দেখো, স্মৃতি নিও না

আমার হৃদয়ে তোমার সুখস্মৃতি

চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে।

দেখো, ওভাবে তাকিয়ে না

তোমার নরম দৃষ্টিপাতে

এন্টার্কটিকার কঠিন বরফে

গভীর গিরিখাত তৈরি করে।

দেখো, আমার গহন

তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতির

রাসায়নিক বিক্রিয়ায়,

বৈপ্লবিক অভিযোজন ঘটিয়েছে।।

সাদা পাতায় অদৃশ্য অক্ষর    

        

বইয়ের সবকটা পাতা সাদা

একটা শব্দেরও অস্তিত্ব নেই----

অদৃশ্য অক্ষরগুলোর

নির্বাক চিৎকার জানান দিতে ব্যর্থ।

সাদা রঙের ভিড়ে

কালো কালো অক্ষরগুলো

হারিয়ে যেতে বসেছে;

অক্ষরগুলোর অব্যক্ত ব্যথা,

কালো কালো চোখের জল,

অসহায় আত্মসমর্পণ,

হৃদয়বিদারক আর্তনাদ

যেন সাদা ক্যানভাসে রক্ত ঝরাচ্ছে।

এ রক্ত নিশ্চয়ই একদিন কথা বলবে,

শিরদাঁড়া সোজা করে বলবে----

এবার প্রতিরোধের সময়;

তোমার সাদা ক্যানভাসে

বলিষ্ঠ কালো কালো অক্ষর

শব্দ হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলবে।

তখন সেই তুফান সামলাতে পারবে তো????

 

 

আজও আমরা একা                        

 

সমাজ সমাজ খেলা খেলতে

আমাদের দারুন পছন্দ;----

অথচ খেলার শর্ত আমাদের অজানা।

কি খেলছি, কেন খেলছি, প্রতিপক্ষ কে---

সবই কালো ধোঁয়ার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

কতো আর খেলার অভিনয় করা যায়!!!

সবাই বুঝি, জানি-----

খেলার চেয়ে খেলার অভিনয় আরো কঠিন।

তবুও খেলতে তো হবেই

না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে।

সমাজের অংশীদারী কারবারে পুঁজি লাগিয়েও ব্যবসায়ে মতি নেই;

আমাদের মস্তিস্কে সমাজের জোরালো প্রতিচ্ছবি মননে সামাজিকতা নেই।

প্রাগৈতিহাসিক সময় আমরা একা ছিলাম,

এখনো ঠিক একই রকম একা আছি।

একা থাকা আমাদের রক্তে,

সমাজ চেতনা তো খোলস মাত্র।।

 

 

ক'জন আঁধারে আলো হতে পারে              

 

ভাবছি আজ সারা রাত জাগবো;

রাতের কালনিদ্রাকে নদীর ওপারেই

পরাজিত করবো।

অন্ধকার আমার ভালো লাগে না।

নিজেকে চিনতে ভুল হয় বারংবার।

নতুন সূর্যের অপেক্ষায় আছি----

প্রত্যুষের আলো গায়ে মেখে

আবার চলা শুরু করতে চাই।

এবার আমার হাতে চাই তোমার হাত,

শব্দহীন কথোপকথনে

তুমি আমার পাশে থেকো।

পাশে থাকতে পারা বড় দরকার।

ক'জন অন্ধকারে হাত ধরতে পারে,

ক'জন আঁধারে আলো হতে পারে।।

জীবনকথন              

শুকনো মাটির বিছানায়

গরম পিচের মোটা আস্তরণ,

কালো পিচের কবরে চাপা

শতশত কণিকার ফুঁপিয়ে কান্না,

প্রাচীন হাহাকারে

সজীবতার তির্যক ছোঁয়া।

নির্বাক মাটির নির্বাক ইতিহাস,

কান পেতে শোনা যায়

হারিয়ে যাওয়া গল্পকথা।

এ গল্পকথা

তোমার আমার,

আমজনতার।

এর মধ্যে বাঁচা, এর মধ্যেই মরণ,

বাঁচা মরার দোলাচলে জীবনকথন।।

 

 

অন্তর্জলি যাত্রা

মৃতদেহগুলো শুয়ে আছে মাটিতে,

পচন ধরে নি, মৃত্যঘ্রানে বাতাস ভাসে নি;

জানি কিছুক্ষনের মধ্যেই

জেগে উঠবে লাশগুলো,

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অবিকল 

জ্যান্ত মানুষের মতো বলবে----

তোমরা যা শিখিয়েছিলে

সব আত্মস্থ করেছিলাম আমরা।

এখনো মরা কোষে সে শিক্ষা বেঁচে আছে।

শেখানো যতটা সহজ,

শেখা আরো অনেক বেশি কঠিন ছিল।

তবে তোমরা ভুল শিখিয়েছিলে,

আর আমরাও ভুল শিখেছিলাম।

মৃত্যু-চিতার কাঠে শিক্ষার অন্তর্জলি যাত্রা।।

প্রতীক্ষা          

 

বাতিস্তম্ভের নীচে তুমি দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ, আমার জন্য প্রহর গুনছো,

লজ্জা,ভয়কে অন্ধকারের চাদরে ঢেকে।

তুমি ফিরে গেলে আমায় না দেখতে পেয়ে। আবারও তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে

অন্য কোনোদিন অন্য কোনো বাতিস্তম্ভের নীচে; সে দিনও হয়তো কথা রাখতে পারবো না আমি। তবুও তুমি তোমার বিশ্বাসকে

কালো মেঘের কাছে পরাজিত হতে দেবে না। জানি তোমার বিশ্বাস তোমার অলংকার।

বারংবার আমার জন্য তোমার প্রতীক্ষা

বহু দূরে থাকা দুটি ছিন্ন শিকড়কে

একদিন ঠিক বটবৃক্ষের মূল শিকড় রূপে

মাটির গহনে প্রবেশ করাবে।।

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?