কবিতা সমগ্রঃ ৩ 
প্রদীপ সরকার 

(১)

তোমার প্রতীক্ষায় কেটে গেল

বেশ কিছু বিরহী সময়।

তুমি কেন  সংযত এতো?

কেনো তুমি আমারই মতো

আকুল ও ব্যাকুল হলেনা,

কেনো ভাসালেনা ভেলা, একাকিনী,

জোয়ারের জলে খরস্রোতা!

না কি রেখে দিলে ঢেকে

সে উতরোল জাহ্নবীর ঢেউ

না দেখানো ভাবে

অকূল সে অসীম মনের পাথারে!

একনিষ্ঠ নিজস্বতা একান্ত বাগানে।

 

(২)

।।শূণ্যতা।।

একটা শূণ্যতা ভরে উঠছে ক্রমশঃ,

শূণ্যতা ভরে উঠছে ঝড়ো বাতাস দিয়ে,

ক্রমশঃ ভরে উঠছে শূণ্য ফাঁকা জায়গাগুলি,

করতল, হৃদয়, মন।

ঝড়ো বাতাস কি ভরাতে পারবে শূণ্যতা

পুরোপুরি ভাবে!

ঝড়ো বাতাস কি শূণ্যতায় ঘূর্ণি তুলবে!

না কি আবার অতীত হবে,

বাতাস ফিরে যাবে ঝড়ের কাছে অন্য কোন দিগন্তে উড়বে বলে,

অন্য কোন মোলায়েম শূণ্যে ঢুকে

স্থিত প্রজ্ঞায় চিরকাল আবদ্ধ র’বে!

 

(৩)

এলোমেলো বাতাস সরিয়ে,

তুমি কি গৃহিণী হবে মোর

আশ্চর্য সময়,

তোমাকে আমার ছন্দে, তোমারই প্রিয় নিজস্বতায়

সাজাবো গোধূলি আলোয়

সাতটি মায়াবী বনে আলোকে রেখেছি ধরে

আকাশে উত্তরীয় মেলে।

 

(৪)

এক বিন্দু বিবেকের কাছে

নতজানু তোমার সমাজ

ইচ্ছাপূরণের বেয়াদপ খেলায়।

তুমি কার পূজায় বসেছ?

 

তৎপর নিয়তি জেনো লিখে চলে রোজনামচা

ক্রমাগত নির্ভেজাল স্নায়ু-বিপর্যয়ে।

দাপট ক্ষমতাহীন হবে কবে?

 

(৫)

ব্যাধের শরের মতো

মেঘের পাখালি বেয়ে

তির্যক রোদ পড়ে শায়িত শিশিরে।

কৃপণ আকাশ কেন তুমি অন্তহীন

আলোর কাকলি

আনোনাকো পৃথিবীর জটিল জটায়।

 

(৬)

জীবন দক্ষিণা দিয়ে

চোখে চোখে তাকাবো কখনও,

তখন এ চরাচরে প্রাচুর্য্য তরুণ তৃষা

ডালে ডালে মুখরিত পাখি,

সপ্তবোধ হয়েছে খচিত

অনামী পাহাড়ে।

মাঠে ঘাটে নিরন্নের ফসল তোলে

সফল ধমণী।

(৭)   

।।কবির মগজে।।

কবির মাথার ভিতরে মগজে মগজে

সময় বা অসময়ে,

বেলা যাই হোক 

শব্দেরা খুঁড়ে চলে হাজার খনি।

চকিত বজ্রের মতো

কখনো বা বেয়ে আসে

মসৃণ নরম পায়ে অর্থময় ধ্বনি।

 

(৮)   

।।রৌদ্রের রূপ তুমি দেখছ কি।।

রৌদ্রকে কখনো দেখেছ কি

সমুদ্রের সাদা ঐ ফেনাটির মতো?

নাকি সময়ের কালে

হলুদকন্ঠী সে হয়ে যায়

নীলাদ্রীর দুপুরবেলায়!

না কি সে জোনাকির মতো

সবুজ ও সাদায় ভাসে

নক্ষত্রের অন্য কোন আলোকের সাথে 

কিছুটা সময় নিয়ে হাতে!  

 

(৯)    

।।ভাষণ।।

এই নদী আমার,

এ পাহাড় আমার,

এই আকাশ, বাতাস, সবুজ,

প্রাণ, ঝড়-ঝঞ্ঝা

সবইতো আমার

এই মাটি আমার শপথভূমি

আমি এই মাটিতে লালিত-পালিত

আমি তোমাদের,

এ আমার আজন্ম শৈশব ও  কৈশোরের বেলাভূমি,

তারুণ্যের দিকচক্রবাল,

বার্ধক্য কাটাবো হেথায়’।

 

‘দাদা, আপনি বেশ হাসান কিন্তু’।

(১০)

।।মন।।

মানুষের মন কী ভাবে নাড়া চাড়া করে চিন্তা, 

শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে আসে পরের শতাব্দীতে

অচিরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে সময়ের সাথে

এত দূরে থেকে অহল্যা বাতাস

কী ভাবে দুপুর ছুঁয়ে কানামাছি খেলে আসে বিকেলের হালকা রৌদ্রের দানা,

আমাকে এ কোন তৃষ্ণায় তুমি পেয়েছ কবোষ্ণ মনের আঁধার!

(১১)  

।।তুমি।।

কবে তুমি শিখবে যুবী, ধন্যবাদ দিতে,

কবে বীণে শুনে অক্লান্ত মরমিয়া গান

বেদুইন বুকে আলোড়ন তুলে যাবে,

কবে তুমি ধূলো খেলে উঠে

মাখাবে ধূলায় প্রাণভরা স্মিত হাস্যের কোণায় কোণায়

নীড় বেঁধে তাকাবে আকাশে,

উদ্ভ্রান্ত হবে রাজহংসের ডানার ভিতরে

ভেজাবে বুকের আগুন পাপবোধ ভুলে গিয়ে।  

ইতস্তত কিছু রাজহংস প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

 

(১২)

গল্পেরা সব দ্রুত হেঁটে সরে যাচ্ছে,

একাকী আয়না নিজের ছবিতে মগ্ন,

অক্ষরগুলি মন্ত্রের মত জপছে

অজানা কুমারী কন্যা

আপন গোপন পত্রে,

অতি চেনা এক নিবিড় বিকেল

ক্রমে জনপথে নামছে

বিদূষী বিধূর আলোকিত অরুবর্ণা।  

 

(১৩)

এই কুয়াশায় সূর্য্য উদয়

ধোঁয়ায় ঢাকা থাকছে,  

মনে জমে ওঠা দোলের আবীর

শিশুর মতো খেলছে,

স্পষ্ট এবং অস্পষ্ট প্রিয়ার কাহন, 

রোদ উঠে গেলে এলোমেলো মনে হচ্ছে।    

 

(১৪)   

।।প্রবাসী হৃদয়।।

শিশিরের গোলার্ধগুলি এইখানে আমার ভিতরে

ভিজিয়েছে প্রবাসী হৃদয়।

ডেকে গেছে সাহসী তরুণী

একতারা দিয়ে

নিজ হাতে এঁকে দিয়ে আত্ম-প্রকৃতি

ব্যাকুল বিচ্ছেদে

“কান্দো কেনে!” বলেছে গোপনে।

(১৫) 

।।ছত্রাকার।।

ছত্রাকার সত্যিকার বৃত্তাকার,

আসবে ফিরে সন্দ নেই, বারংবার,

গুছিয়ে রাখ্ বন্ধ গৃহে, যত্ন কা’র? 

 

কাব্য রাখ্, স্বপ্ন রাখ্, গদ্য থাক্।  

পরীর ডানায় রঙ-বেরঙ লুকিয়ে রাখ্,

আসলে ফিরে দেখবি সবি ফুড়ুতকার।

 

স্বপ্ন থাক, কাব্য থাক, মুক্ত দ্বার। 

(১৬)     

।।তুমি কি জানো?।।

তুমি  কি জানো? আবার কোনদিন দেখা হবে কি না আমাদের?

তুমি কি জানো? হঠাত কোন একদিন

আকাশের বজ্রের মেঘ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে

উদ্দাম বাতাসে, উড়ে যাবে সব কিছু মেঘের রাজ্য ছেড়ে

খোলা মনে নীলের সাম্রাজ্যে?

নারীর অলীক গল্প রোদে সেঁকে আরো উষ্ণ আরো অনড় হবে?

ঝলসানো জলদস্যুর তরোয়ালের মতো চাহনিরা

ডুব দিয়ে চলে যাবে সমুদ্রের খাঁড়ি আর জলাভূমি ছেড়ে

আলেয়াকে ছুঁয়ে উপমা প্রাচীন পাথরে?

 

(১৭)  

।।বর্ষা।।

ঘুরছ ফিরছ বনের ভিতর,

এক পশলা বৃষ্টি হবে ভাবছো।

দুলছে লতা, কাঁপছে পাতা,

জলের কিছু ঝাপটা গায়ে লাগছে।

‘জ্যোৎস্না রাতে আষাঢ় আকাশ!’,

হরিণগুলি ভাবছে!

‘মত্ত ভাবে দুরন্ত ঝড়, বর্ষা কি আজ আসছে!’

 

(১৮) 

।।সৃজন।।

প্রিয়তম সুন্দর, দীক্ষা নিও বাসনার মন্ত্রে তুমি

লিপ্ত হ’য়ো প্রজনন লিপ্সায়,

নান্দনিক, এ তোমার জৈবিক যৌবনের প্রয়োজন নয়,

গভীর গভীরতর জ্ঞানের ভিতর এ এক অণূঢ়া রাগিনী

মিতভাষী সৃষ্টির সৃজন, 

এ জন্ম মনীষার, অহল্যা প্রতীক্ষার,

মৌলিকতা দিয়ে এ সুন্দর গাঁথিও বিন্যাসে।

 

(১৯) 

।।আমার সময়।।

আমার পৌষের শীত কাটেনি এখনও,

মাঘের নিশুতি রাত নিশির কন্যার মতো অস্ফূটে ডাকে।

বুকের এ প্রকোষ্ঠে হাঁসফাঁস বাতাসের মেঘ।

এই তো দিন যাপন। এই তো সুতীক্ষ্ণ কাঁটা।

নিদ্রাহীন তুমি, এই তো তোমার ঐ অভিমান ছোঁয়া

আড়ালে একক স্বপ্ন অন্তরালে রাখা

চোখে জলবিন্দু পরাণের, 

সংসার বেদনার যুদ্ধ সাজ, পাগলের অনর্গল হাসি।

 

(২০)

দুঃখগুলি হারিয়ে গিয়েছে।

গেছে কি? সত্যি বলেছো?

না কি গালে ঠেশে ঠোঁট ধরে আছে

কোণা জোড়া শূণ্যতার অবলুপ্ত হাসি!  

আমার হাতের করতলে জমে ওঠে 

সভ্যতার স্তব্ধ অবয়ব।

অরণ্যে পায়রাগুলি ওড়েনা

আচ্ছন্ন রাতের চাঁদেতে। 

অতিন্দ্রীয়া, ঘুমিও না তুমি।

তোমার ঘুম পেলে

বিষন্ন জলের ফোঁটা না পেয়ে 

এসে ফিরে যাবে রাতের হরিণ।

(২১)  

।।সাঁঝ আসে।।

এ এক অনন্য মেদিনী,

শীতের এ পৃথিবীতে বিকেলের মোহময়ী আলো চলে গেলে

অন্য সব কলরব ফেলে

কোন এক নামহীনা পাখি উড়ে এসে বসে

নিকট পাহাড়ে

ক্ষীণ এক স্রোতস্বীনি ঝর্ণার জলে ভেজা প্রস্তরের ‘পরে

অজানা সময়ে গেয়ে যায় গান আবেগে সোহাগী পাখি আনমনে।

সাঁঝকাল নুয়ে ধীরে নেমে আসে, 

সীমান্তে ডানার ঝাপটায় ডুব দেয়, 

বেয়ে পড়ে প্রগাঢ় রূপসীর বুঁদ হয়ে থাকা জাফরানি তনিমা সুন্দর।

 

(২২)  

।।দ্রাব্য ভালবাসা।।

গলিত দ্রবণের মত ভালবাসা মিশে যায়

গোধূলির লাজুক হাসিতে।

আকাশে দ্বাদশীর চাঁদ তখনও ভরেনি পুরো

সূর্যাস্ত তখনও ছিল বাকি মধ্যমাঠে।

আমার আর্দ্র হাতে গন্ধরাজ ফুল,

আলে শুয়ে আজ আমি উদ্দালক হয়েছি দ্রাবিতা।

 

(২৩)    

।।আরুণি, প্রশ্ন তোমাকে।।

তুমি কি দুর্বোধ্য? তুমি কি অবুঝ আরুণি? 

তুমি কি শব্দের সাথে পায়ে পা মেলাও? 

অশ্বখুরে না?

দুর্দান্ত সবুজ ঘেঁসে জল ছুঁয়ে থাকো?

শ্বাপদ সূর্য্যের মতো গুঁড়ি মেরে

ললাটে কয়বার আলো নিয়ে হয়েছ প্রহরী

সঙ্গীহারা বিষন্ন আকাশে?

এই সব প্রশ্নগুলি মিথ্যা হ’তে পারে?

ওই দেখ সপ্ত ঋষি চেয়ে দেখে তোমাকে নীরবে।

(২৪)

উড়ে যায় কিছু পাখি, কিছু মৌমাছি, কিছুটা সময়,

কিছু কাব্য, কিছুটা রসদ।

থেকে যায় কিছু দুঃখ, খানিক পাহাড়,

কিছু চিরন্তনী,

আমি আর থাকি না এখানে। 

থাকে কিছু অবসর, উত্থান পতন,

আকাশকে ব্যাখা কোরো তুমি, 

কি করে এ রহস্য মিথ্যা হতে পারে?

(২৫)  

।।বেদনার রূপ।।

বেদনায় এক অনবদ্য শূণ্য ভরে আছে,

বেদনা রাখেনা মনে নিজেকেই,

কখন কেমন ছিল সেটা,

এর আছে আগামী মূর্চ্ছতা

ফিরে দেখা অতীতের।

 

(২৬) 

।।আমাদের মগজের রেখাগুলি।।

আমাদের মগজের রেখাগুলি সাঁতরায়,

নিজস্ব কোঠরে এঁকে বেঁকে খেলে যায়

অনেক অনেক গভীরে,

গভীর সত্তা,

সুতানুটি বেয়ে নামে প্রবাহ স্পর্ধা,

স্নায়ুতে ঈষৎ বিদ্যুৎ 

দ্রুত চিরে বয়ে যায় মনের কোণায়

অসীম মাধুর্য্যে গড়া তুমি।

 

(২৭) 

।।বিশ্বাস।।

 বিশ্বাস

এক সুন্দরতা, এক নির্ভরতা,

এক লাবণ্য, এক ভালবাসা,

এক অনবদ্য শব্দ অনুভব, 

ডেকে নেয় কাছে অতি কাছে,

বিশ্বাস এই সভ্যতার এক বিস্ময়, 

আণুবীক্ষণিক সূক্ষ্ম নির্যাস,

বিশ্বাস এক সমর্পণ,

এক দারুন উল্লাস।  

(২৮)

।।ঘর।।

ঘর যদি ভাব, ঘর ঘিরে থাকে মমতা, উষ্ণতা,

ঘর যদি ভাব, ঘরেতে থাকেনা অশ্রুরা রাশি রাশি,  

থাকেনা মেঘের স্পর্শ, কিংবা উত্তেজনা, পাপের বীজাণু, 

ঘর যদি ভাব, ঘরেতে থাকেনা কোন ঝড়,

ঘরেতে বিশ্বাস থাকে, ঘরেতে আশা থাকে নিবিড় সুজন।

সতেজ কানন।  (জানুয়ারি ৬, ২০১৬)

 

(২৯)

।।জন্মদিন।।

আবিষ্কার ক’রে নাও,

জমাট বেঁধে গেছে, তালগোল গিয়েছে পাকিয়ে 

রূপকের বেড়াজালগুলি।

অবয়বে এসে গেছে স্মৃতি

সহজাত রমণীয় শিলা।

সেদিন ওই ছবি ছিল যৌবনের নীড়ে,

আজ না কি সেটা ছোটবেলা হয়ে গেছে, 

অগণিত প্রান্তরের ভীড়ে,

চোখে ঝাপসা এলোমেলো অতীতের হাওয়া,

শেষবেলা, পরিধিতে কয় বিন্দু দাগ; 

ফিরে এসো এই ক’দিন, তথৈবচ জন্মদিন কেটে গেলে পরে।                         

(৩০)

হারজিৎ সমস্ত তোমারই

সব কিছু তোমারই করতলে

সাজানো বিন্যাস।

মূহুর্তে বর্তমান, ভবিষ্যৎ

একমুঠো মৌসুমি বাতাসের মতো।

খেলাঘর অগোছালো সংসার।

এক স্থির বিন্দু কেঁপে চলে এধার ওধার

আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে ভিটেমাটি, দীর্ঘক্ষণ করে।

 

(৩১)

।।আজান।।

আকাশ এখনো কালো,

আলতো উঁকি দিয়ে উঠে আসে

আলোকের ছায়া একটুক, দেরি নেই,

এখনি শুরু হবে মসজিদ মিনারে

আজানের ডাক।

রাত কেটে ডানা মেলে অবসাদ কেটে

রোদেরা ভ্রমণে এলে পান্ডুলিপি পড়ে নেবে,

মূহুর্তে শায়রী হবে মির্জা গালিব, 

ভালবাসা মুগ্ধতা হলে গজলই খোয়াব।                             

 

(৩২)

।।সন্ধ্যে নামছে।।

সন্ধ্যে নামছে,

টিমটিমে কিছু বাতি জ্বলে ওঠে, 

চেনা গলি, ব্যর্থ পান্ডুলিপি। 

 

চনমনে চাঁদ পুরানো হাভেলির দিকে

যুবতী তারাদের থেকে ধার করে নেয়

রূপালি ঘুঙুর। 

তুলি টেনে বড় ইচ্ছে টুপ করে ডুব দেবে

রাত কেটে গেলে ভোর কিছু উদাসীন হলে।             

(৩৩) 

।।ঠিকানা হারিয়ে গেছে বেমালুম।।

ঠিকানা হারিয়ে ক্লান্ত কেউ ফিরে যায় খালি হাতে,

সন্ধ্যা নিভে আসে, রাত বেড়ে ওঠে ধোঁয়া অবসাদে,

ক্ষমতার পায়ের নিচে খোলামের কুচি, 

ফাঁকি দিয়ে চুপিচুপি শুয়ে পড়ে ফুটফুটে কবরের ছায়া, 

চোখের নিচের কালি ভরা অভিমানে।     

(৩৪) 

।।রহিত।।

মদে আর তেমন কোন নেশা নেই,

গান বন্ধ গানের শহরে,

দীর্ঘশ্বাসে কেঁপে ওঠে কোকিলা বাতাস,

নেশা কাটে এই রাজপথে,

ভারী রাত অনুবাদে মগ্ন হয়ে থাকে।                    

(৩৫) 

।।থাকো তুমি, চললাম।।

থাকো তুমি!

আমি চললাম জোয়ারের কাছে,

ঢেউ এলে দেব পা ডুবিয়ে,

ছিটাবো জল, নোনাজল, জলকণা।

যেদিন যুদ্ধ শেষ হবে

দেখো এতটুকু ঘাস থাকবে না সেদিন,

বললাম, দেখো।

গাঁয়েই ভাল থাকি আমি, 

এখানে যুদ্ধ থেমে থাকে কোনো কোনো দিন।            

 

(৩৬)

।।নিশুতি রাত, বাদামী শ্বাপদ।।

নিশুতি রাত।

হাঁটা পথ শেষ হলে

থমকায় দলছুট বাদামী শ্বাপদ,

অপরূপ উদাত্ত পুরুষ,  

ছুটে যায় পাহাড়িয়া বেজি,

চাঁদনীর রাতে ফেরা পথ,

লেগে যায় ষোড়শীর স্নিগ্ধ কিছু ছোঁয়া, 

নিঃসঙ্গ ছোঁয়া।                                                 

 

  

(৩৭)

সন্ধ্যাও শাড়ি পরে থাকে,

আর থাকে বে ভুল সময়

সময় কি ভুলকরে নাকি

অনেক অনেকক্ষণ?

নদীর শব্দগুলি থামে না কখনো।

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?