কবিতা সমগ্রঃ ৬ 
ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত 

(৪১) তিনি

 

তিনি আমাকে আঁকতে বলেছেন গোলাপ বাগান,

তিনি বলেছেন ঐ যে রুপোলী চাবি তাতে খোলা যায় কোষাগার,

আমি তাই এই বারান্দায় মেঘে চৌকাঠে ছড়িয়ে দিয়েছি শব্দস্নান,

তিনি বলেছেন তাই দীর্ঘতর হয় ছায়া;

ছায়ার মধ্যে আমার আঁকা কৃষ্ণ গোলাপ মরবিড ফোটে।

 

যথা প্রদীপ্তং জ্বলনং পতংগা বিশন্তি নাশায় সমৃদ্ধবেগাঃ ।

তথৈব নাশায় বিশন্তি লোকাস্তবাপি বক্ত্রাণি সমৃদ্ধবেগাঃ   ।

যত কিছু প্রত্যয় যা কিছু ধারক,

গলনাঙ্ক পেরিয়ে যায় তাপ প্রবাহ,

আজানু বিস্তৃত তৃণভূমি,

চেতনা জুড়ে তীব্র শিহরন,

আকণ্ঠ আকাশ নিয়ে প্রান্তর জেগে থাকে,

জেগে থাকে ধূপ ধুনো ইজেল প্যাস্টেল।

 

 

(৪২) ধূসর বেড়াল

 

জেগে ওঠে ধুসর বেড়াল,

বেড়াজাল ছিঁড়ে দ্রুত চলে যায় দূরে,

ঝড়জলে নামছি আমি প্যারাট্রুপার,

নামতেই হবে অন্ধকারে,

ডিঙ্গিয়ে যাব মনখারাপের একশো নালা,

আমার আগে ছুটেছে এক আদিম জানোয়ার।

পিঠ তার টান টান ধনুকের ছিলা,

মুহূর্তে পেরিয়ে যায় যাবতীয় বিষাদের স্তূপ,

চারপাশ শুনশান নগরী ঘুমোয়,

মাঝে মাঝে ঝোড়ো হাওয়া ফিসফাস সনেটের মতো,

গান গায় ধারাপাত বৃষ্টি ফোঁটায়,

জানোয়ার ছুটে চলে সুতীব্র বেগে,

দহিত অনলে বাষ্প শরীর নিয়ে

আমিও পেরোতে থাকি একরাশ মায়া।

 

(৪৩) টেল লাইট লাল

 

একটু সাহস দিলে তোমাকে প্রেম বলতে পারতাম,

একটু তাকাতে যদি আমার চোখে,

সাগর দেখতে পেতে,

এর চেয়ে আর বেশী কিছু বলব না,

বলা ঠিক নয়।

 

একটু ভালবাসা দিলে পেতে শতগুণ,

একটু স্পর্শ দিলে ছড়িয়ে যেত ওম,

তুমি তো আলুলায়িত কুন্তলা,

আলসেতে ঝুঁকে দেখছিলে পাখিদের এ ডাল সে ডাল,

অথচ আমি একনিবিষ্ট আবদ্ধ দেখছি তোমাকে।

 

আমার দৃষ্টিতে তুমি,

আমার মনে তুমি,

আমার ভেতরে তুমি,

বাইরে হাহাকার গরম হাওয়া,

লু বইতে থাকে এ সময়ে।

 

একটু সাহস দিলে না আমাকে,

তাকালে না চোখ তুলে,

আর তো মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা,

চলে যাব দূরে,

বিকেলের ট্রেনে,

প্ল্যাটফর্মে দেখবে টেল লাইট লাল।

 

(৪৪) প্রবাহ

 

আয়নায় তাকালাম কেন জানি না,

এত বৃদ্ধ আমি!

আয়না ভুল বলে না,

বয়েস বাড়লে বৃদ্ধই হয়।

মাটির বয়েস নেই,

সবুজ বনের বয়েস হয় না,

পাহাড়কে কেউ বৃদ্ধ বলে না,

নদীও চিরন্তন।

 

আমি প্রকৃতি হব,

মিশে যাব মাটিতে ঘাসে সবুজে তারুণ্যে,

বর্ষার ভরা নদী নামলে পাহাড় থেকে,

জেনো আমিই আসলে রয়েছি জলে।

সাগরের ঢেউয়ে আমি,

আমি রোদ্দুরে সুবাতাসে,

যখন দাবানলে পুড়ে যাবে গাছ মাটি ঘাস,

হাওয়ার সঙ্গে আসবে ছুটে আমারই দীর্ঘশ্বাস।

 

কেন ভাব আমি জীবিত কি মৃত,

কেন ভাব না আমি আমি আমিতে নেই আমি,

আমি চলে যায় মহাস্রোতে জীবন প্রবাহে,

অনন্ত পথিকের মত,

থামে না  পথ চলা কথা বলা

প্রবাহ বেঁচে থাকে।

 

চল দাঁড়াই নদীতীরে সাগর পারে,

ছুটে যাই পাহাড়ে ঝরনার কাছে,

প্রবাহ প্রবাহ তোমাকে ধরব হৃদয়ে,

শুনব কলতান সঙ্গীত।

 

 

(৪৫) আমার ঘর

সদরে আমার ঘর –

তুমি দেখলে ভাববে ঝড় বয়ে গেছে,

এতো অগোছালো।

 

এই আমার দেহাতী বাগান,

এখানে পাখিরা গান গায় স্বরলিপি ছাড়া।

 

ওইদিকে পুকুরের ধারে আমার পোড়ামাটি চারুকলা ওয়ার্কশপ,

তার পাশেই শুয়ে আছে লালি ছটি ফুটফুটে বাচ্চার মা,

সপরিবারে দ্বিপ্রাহরিক আধোজাগরণে,

পুকুরে হাঁসেদের ওঠানামা দেখে মিটমিটে চোখে।

প্রাচীন পরিত্যক্ত জৈন দেউলে

আর্কিওলজিকাল সার্ভেকে বিদ্রূপ করে শুকচ্ছে তিলের খড়,

ইকো পার্কের বোটগুলো সার সার রোদ পোহায়,

উঁই ঢিপিতে ছেয়েছে সেগুন বন।

 

আমার ঘর,

তুমি দেখলে ভাববে ঝড় বয়ে গেছে,

এতো অগোছালো।

চিন্তায় আছি,

সত্যিই ঝড় উঠতে পারে,

ঘর ভাঙ্গতে পারে দু’একটি পাখির,

যারা গান গায় স্বরলিপি ছাড়া।

ঝড়ের আগেই পৌঁছতে চাইছি বাগানে,

হে সারথি ওড়াও পঙ্খীরাজ আকাশের নীলে।

 

(৪৬) আবার যদি শুরু করা যায়

 

কি ভাবে জানলে বল আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস

কিভাবে আমার গভীরে তোমার বাস

কিভাবে জানলে আমার না বলা কথা গুলো

 

অনেক দুঃখ তুমি কুড়িয়ে নিয়েছ

আমার হতাশার যত বিষফল

আবার চল যাই নদীর অগভীরে গোড়ালি ডুবে যাওয়া কাদাজলে

আবার যদি শুরু করা যায় বাকী পথ একসাথে চলা

তোমার সঙ্গেই শুরু আর শেষ আমার যত কথা বলা

চাইছি ভুলতে বল কি করে ভোলা যায়

বল কি করে ফেলে আসি জীবন যা হারিয়ে গেছে তারায় তারায়

কেন যে এখনও দেখি তোমাকে

স্মৃতির পর্দা সরে যায়

মনে হয় এই বুঝি ছুঁয়ে ফেলব তোমায়

তোমাকে ভাল না বেসে কি করে থাকি বল

কি করে ভুলি বল

তোমার পিঠ ছুঁয়ে নেমে আসা চুলের জলপ্রপাত

 

আবার যদি শুরু করা যায়

 

(৪৭) নিজের মতো

 

আমার জীবন বাঁচি আমি নিজের মত,

দূরে থাক;

আমার নেশায় মাতাল হয়ো না,

সামলে নিও।

 

আমি বড় আত্মকেন্দ্রিক,

নিজেকে নিয়েই থাকি বেশ;

কাছে এলে দুঃখ পেতে পার,

সেটাও আমার সয় না,

আমি চাই না আমার জন্য কাঁদুক বনলতা।

 

এই আমার পাতার কুটির,

ওদিকে গান গায় পাহাড়ি ঝর্ণা;

ঝর্নাও নিজের মত।

 

আমি ছুটে বেড়াচ্ছি ইউক্যালিপটাসে সোনাঝুরিতে,

আমি দেখছি নদীতে স্নান করা ললনা,

মাথায় বোঝা নিয়ে চলে যাওয়া অরণ্য রমণী,

ফসলের ক্ষেত,

চাষিবৌ,

কৃষকের মাঠ ভরা ধান নীল নীল আকাশ,

আকাশভরা মেঘের ছবি,

আমি নেশাগ্রস্ত যুবক

ইহকাল পরকাল বিসর্জিত।

তুমিও কি মাতাল হবে?

হয়ো না।

দুঃখ পাবে।

 

 

(৪৮) নিশ্চিন্ততার অলীক

 

আমার না বলা কথারা জমে থাকে রাতের নীরবতায়,

এই নির্জনতায়

সাম্প্রতিকতম স্বপ্ন দেখছি দু’টো হলুদ প্রজাপতির চিত্রিত শরীর,

বনপথ

আর হঠাৎ থমকে যাওয়া দ্রুতপদ কাঠবেরালি,

এছাড়া চেনা শালিকের অচেনা চাউনি।

 

আমার রাত ভাল লাগে,

দ্রুততার সারাদিন এক চলচ্চিত্র ছবি হয়ে উঠে আসে চোখের পর্দায়।

 

ভাঙ্গা মন ছেঁড়া সুখের আফিং ঘোর,

অজস্র ধর্ষিত মৃত শিশুর মুখ,

কাজ খুঁজে ক্লান্ত ঘরে ফেরা হাজার সবল হাত,

সুখী সচ্ছল গৃহবাসীর কন্ট্রাস্ট,

সব সব দেখি আধো ঘুমে!

একটা সর্পিল অন্ধকার মাঝে মাঝে নেমে আসে,

মনে হয় তলিয়ে যাচ্ছি,

টুকরো হয়ে যায় কাঁচের মেঝে নিশ্চিন্ততার অলীক,

মাথা ঠুকে যায় সমুদ্র অতলে,

চিৎকারে জেগে উঠি,

নিজের শব্দ কি এতই কর্কশ।

 

(৪৯) মার্জিনাল ম্যান

 

এই দেখ সরসিজ ফুটেছে,

সায়াহ্নের ছায়া বনানীতে,

আকাশে নীল ক্যানভাসে কেবল মেঘের নানা ছবি

এটা কি কল্পনার জাল না সত্যি?

 

ভাল লাগে না,

যায় আসে না কিছুই,

থাকুক অথবা চলে যাক ঝড়।

 

আমি তো হত্যা করেছি নিজেকে,

আমার জীবন শুরু করেছি,

নাকি শেষ?

যায় আসে না কিছুই থাকুক না ঝড়।

 

যদি আগামীকাল আমাকে না দেখতে পাও?

আমি তো মার্জিনাল ম্যান

একটা ল্যান্ডস্লাইড ধরে নামছি পাহাড় থেকে।

আকাশ দেখ শুধু ,

আমাকে দেখ না,

বেঁচে থাকতে আমার কোন দয়া লাগবে না।

না, কিছুই হয় নি, থেকো নিজের মত।

 

(৫০) দেরী করে

সেই তুমি এলে এলে বড় দেরী করে দিলে

কেন চলে গেলে মাতিয়ে তাতিয়ে তোমাকে কেড়ে নিলো কে কেন

কেন কেড়ে নেয় তাদের কারা যেন যাদের থাকার কথা ছিল

কাদের থাকার কথা থাকে আর কে থেকে যায় শেষ পর্যন্ত

কে জানে

 

কে জানে কখন মন উচাটন কোন স্বপ্ন সন্ধানী তার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়

কেন ভেঙ্গে যায় অতঃপর এক একটা তাসের ঘর

কে কি চালায় সমাজ সংসার

হাহাকার শুধু হাহাকার

 

কে কোথায় জ্বালাবে দীপশিখা

সৃষ্টিকর্তা কোন আগুনে পোড়ান কোন খাঁটি সোনা

নাকি সীতাকেই বারবার পরীক্ষা

 

তুমি এলে কেন এলে এ তোমার সময় নয়

আরও আগে অথবা কিছু পরে তোমাকে মানিয়ে যেত বেশ

(৫১) এখানে কেন

 

আমি কেন এখানে কেন ঘুরছি ভাবনার সীমানায়;

আমি কেন এখানে থাকতে পারতাম ওখানেও;

এ পাশে বসছি কেন ওপাশে কেন নয়?

আমি বরাবর কেন এপাশেই থাকি?

কেন বাঁধা থাকি নাগপাশে, কেন দাদা লাগে;

কেন ধাঁধা লাগে, কেন গুরু লাগে;

কেন নতজানু সবকটা পাথরের কাছে;

কেন দেবতা দিয়েছ এত চাহিদা এত হাহাকার।

 

(৫২) কে তুমি?

 

তুমি কি কবি?

যদি তাই ভাব, তবে কেন ভাব?

তুমি তো কশাই হয়ে পারতে,

অথবা চাষা হয়ে ফসল ফলাতে খাসা,

কিম্বা মালী অথবা ফুল বিক্রেতা।

তবু কেন কবি?

হতাশ প্রেমিক নাকি?

চাইছ প্রেমিকা পরুক কবিতা,

হা হুতাশ করুক সে করেছে ভুল,

তোমার মত হীরে ফেলে তুলেছে কাঁচ,

জড়িয়ে ধরেছে কাঁটাগাছ,

আর তুমি ছিলে এক মহতী সুললিত ফুলের বাগান।

 

কেন তুমি কবি হতে গেলে?

হবার জন্য অপেক্ষায় ছিল অনেককিছু,

রাইস মিল শাঁসালো মনসবদারি, বাগিচা।

হবার জন্য অপেক্ষায় ছিল অনেককিছু,

কেন তুমি ছুঁলে না সেসব কিছু,

আচ্ছন্ন থেকে গেলে কবিতায়।

 

(৫৩) জনপদে

জনপদে থেমে যাওয়া শান্ত বিকেলের মত

লঘুপায়ে নেমে এলো ক্ষোভ

ভালবাসার গণ্ডী ঘুচে গেছে

টাকা আনা পাই গোনে আনমনা উদাস বালক

হিসেবের খাতায় জমা খরচের দাগ সদর্থক তো নয়ই

চোখে তার আগুণ

প্রতারিত নিঃশেষিত স্বাধীনতার সন্তানেরা ক্রমশ

দেশে দেশে হারিয়ে ফেলে একাকীত্বে।

জনপদে থেমে যাওয়া শান্ত বিকেলের মত

লঘুপায়ে নেমে এলো ক্ষোভ

প্রান্তিক মাতা শুষ্ক স্তন তার কোলে মৃত শিশু

তাঁর কোন জাত নেই দেশ নেই

কোন জাত দেশ থাকে না গোলাতে গুঁড়িয়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের আর হাসপাতালের।

অসাম্যের কোন জাত থাকে না,

অত্যাচারের কোন দেশ ভাগ নেই,

আমি জানি না কোনটা দেশ কোনটা বিদেশ,

আমি জানি না

ভিন্ন বেড়ার মানুষেরা কেন গায় একই সুরে গান।

 

 

(৫৪) নীরা এবং

 

লঘু মরালীর মতো নারীটিকে নিয়ে গেলে বিদেশী বাতাস

আকস্মিক ভূমিকম্পে ভেঙ্গে গেলে সবগুলো সিঁড়ি

বড়ই প্রাসঙ্গিক হয়ে যান তিনি

অন্দরের বাগানে তখন অনায়াসী সুবাস

আশ্চর্য অর্বাচীন নক্ষত্র

দীর্ঘ অপরাহ্ণের ছায়া তাকে কাঁদাতে তো পারেই না

বরং ঠিক বিপরীত

আকাশের আয়নায় মুখ দেখে

নিক্ষেপ করেন অতি দীর্ঘ বল্লম

দেশান্তরী রোদ্দুর

তাঁর সাহসী  চুম্বনে

বেলাশেষের জলজ পাপড়ি অবনতা হয় আশ্লেষে।

 

থমকে দাঁড়িয়ে তিনি নীরার চোখের দিকে....

ভালোবাসা এক তীব্র অঙ্গীকার, যেন মায়াপাশ

সত্যবদ্ধ অভিমানে চোখ জ্বালা করে ওঠে

সেই অমোঘ মুহূর্তে আমারও পৃথিবী তখন নির্ঘুম জ্যোৎস্না আলোকে

ঘুমিয়ে পড়ে শুনশান চারপাশ

নদী থেকে তুলে এনে যাবতীয় দীর্ঘশ্বাস

ইতিহাস প্রাণ ফিরে পায় অলীক উল্লাসে

অতীত জীবিত হয় আমার যাদুঘরে

পৌরাণিক প্রাগৈতিহাসিক থেকে শুরু করে নিকট অতীত

অপেক্ষায় থাকে সেই অমোঘ মুহূর্তের

যখন রাত গভীর হয়

আর

নিখুঁত গোল চাঁদ কে হঠাৎ সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়

এক ফালি মেঘ।

 

চাঁদের নীলাভ রং এ লেগে আছে নীরার বিষাদ

আমি ছুটে যাই ঐরাবতের কাছে

তাকে শোনাই নীরার কথা

আন্তরিক জীবনবোধের গান।

 

ঐরাবত ভাবেনি সেভাবে কোনদিন নীরা এবং মানুষের দৈনন্দিন,

একদিন সেও আসবে শুঁকবে মাটীর ঘ্রাণ বুনো গন্ধ

ভাববে নীরাকে নিয়ে

বকুলমালার তীব্র গন্ধ এসে বলে তাকে বলে দেবে নীরা আজ খুশি

হঠাৎ উদাস হাওয়া এলোমেলো পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে আকাশ জুড়ে

খেলা শুরু করলে

ঐরাবতও জেনে নেবে নীরা আজ বেড়াতে গিয়েছে।

আমিও পৌঁছে যাই নীরার কাছে

যাই যাই করেও শীত যায় না

উদাসী সকালে মেঘেরা নানা ছবি আঁকে

অনায়াস ফর্মেশনে ভেসে ওঠে অসংখ্য মুখ

ভাবনার খেই কেটে পূব আকাশের সূর্য ছুঁয়ে

বাঁদিকে ঘুরে যায় নিঃসঙ্গ বিমান

ঠিক সেই পুরনো মুখ 

সেই ভঙ্গী সেই গ্রীবা সেই চকিত চাহনি

আমার মনে আমার কাব্যে আবার সেই তুমি নীরা।

 

যদিও জানি এ সত্যি নয়

এই প্রৌঢ়

সায়াহ্নে হাতড়ে বেড়াচ্ছে হারানো অধ্যায়

সে সব বলার কথা নয়

কিছু কিছু ক্ষত জমাট রক্ত ক্ষরণ

মনিমুক্তো জমাই থাকে মনের গভীর সিন্দুকে

সমুদ্রের ঢেউ ভাঙে বালিতে

আমার  পা স্পর্শ করে ফিসফাস বলে যায়

অজস্র একান্ত এমন কথা আমি ভাবি গর্জন

ছুঁয়ে থাকি ভাঙা ঢেউ –

আগামী বসন্তের পতনোন্মুখ বৃক্ষদের

আগামী বর্ষার ক্রন্দসী ধানক্ষেতদের

সমুদ্রের তরঙ্গ বালুকণাদের কান্না কথা গান শুনব

উদাসী আকাশকে বলব তাদের কথা

চাঁদ ডুবে গেলে

বলব নীরার কথা।

 

(৫৫) দেখি কেমন পারো

 

ধর একটা টেস্ট কেস

ছড়াতে হবে স্পেল

গিনিপিগ খুঁজছ তুমি

এই তো আমি

কর হিপ্নটাইজ

দেখি কেমন পারো

 

আমি ঠিক করেছি

আমার চোখের পলক পড়বে না

আমি ঠিক করেছি

আমার চোখের মুখের একটা মাংসপেশিও কাঁপবে না

 

দেখি তুমি কেমন নাড়াও রূমাল জাদুকাঠি

আমি না নড়লে কেউ আমাকে নাড়াতে পারবে না

 

(৫৬) নিকষিত হেম

 

এই আমার কলুষিত প্রেম নিকষিত হেম

প্রেম কাকে বলে আমি জানি না জানি মোহ

মোহ টেনেছিল তোমার দিকে

তোমার হিসেবের বাইরে আমার ঘুরপাক

 

তোমার মোহে ডুবলে কি ভাল হতো

কে জানে

কেটে গেল সুতো ঘুড়ির ভোকাট্টা দেখলাম আমি

তুমি ও দেখলে

জানি না হাততালি দিয়েছিলে কিনা

জানি না কেন দেখালে তোমার ক্লিভেজ

সমস্তটাই কি অকারণ?

ক্লিভেজ দেখ অনেক রকম হতে পারে

বুকের পিঠের মনের

তুমি কোন ক্লিভেজ দেখিয়েছিলে মনে রাখতে বল

এত দিন বাদেও?

 

হা হতোস্মি আমার কি এতই স্মৃতিশক্তি

বড় বেশি আকাঙ্ক্ষা তোমার আমকে নিয়ে

আগেই বলেছি কি না জানি না

এ তোমার বড় দোষ

দু’রকম মানে

এমন কথা বললে কেন

খেলতে হয় খেল না এক্কা দোক্কা

মানুষ নিয়ে খেলার কি কারণ!

 

(৫৭) চলো

 

চল আমরা থাকি আপন আপন

যে যার ঘ্যামে

গরমে ঘেমে

এবং নিজের পা বাঁচিয়ে

ল্যাং মারি

একে অপরকে নির্বিশেষে

 

সকলে মিলে অবশেষে

পতিত হই

তোর ভাল আমার কি

আমার ভাল তোর কি

আমাদের ভাল কার কি

কারো ভাল দেখতে নেই

দেখতে পেলেও বলতে নেই

আমি আমি আমিই সব

আমার জন্য রাজপ্রাসাদ তন্বী নারী

হীরের আংটি সোনার ফুল

আমিই সঠিক বেবাক ভুল

 

 

(৫৮) শৈত্য-প্রবাহে

শৈত্য প্রবাহে সব রং ঢাকা পড়ে যায়

বৃত্তের ভেতরে চাঁদের গোল আকার

পৃথিবী অক্ষরেখায় ঘুরে যায়

ঘোরে কক্ষের সীমানায়

প্রবল ঘোরে কাঁটা

দ্রুত মুছে ফেলে সময়

কবজার ওপর দরজা ঘুরে যায়    

ফিরে আসি পুরনো টানেলে

একা এক খুঁজতে থাকি পুরনো সময়

সূত্রপাতে ফিরতে থাকে

আসি মূল প্রসঙ্গে

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দেখি মুখ

 

(৫৯) কবিতার শাসন

 

মানুষ কবে পৌঁছে যাবে নির্বিবাদী কবিতার ভোরে?

কবিতা চালাবে শাসন ভাঙ্গবে হাহাকার

অনুলিপি পৌঁছে যাবে সব অনুশাসনে।

জলছবিতে ঢেকে যাবে সমস্ত বিজ্ঞাপন

গান আর কবিতাই হবে রাষ্ট্রভাষা,

সংবিধান প্রণেতার আবশ্যিক হবে কাব্যতীর্থ উপাধি।

 

কবে যে ভালবাসা জুড়বে সব ছন্নছাড়া হৃদয়,

হবে সমস্ত পাঠক্রমের আবশ্যিক বিষয়।

 

(৬০) মেয়ে

মেয়ে সে একজন দুঃখ চেনে নি

তাকে চেনাবে এই ভাবে?

এত কষ্ট দেবে তাকে?

 

মেয়ে একজন গড়ে উঠছিল ধীরে ধীরে

সে মা হতে পারত ধারণ করত জীবন

তার দেবার অনেক কিছু ছিল পৃথিবীকে।

 

থামিয়ে দিলে?

এভাবে!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?