কবিতা সমগ্রঃ ৭ 
ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত 

(৬১) সে

 

সে কখনো আসে নিদ্রায় কখনো জাগরণে।

কাল্পনিক নয় বাস্তব ও নয়।

বড় কাছের।

রোজ তার সাড়া পাই।

নিদ্রায় বা জাগরণে।

 

সে তার কথা বলে যায়।

সাদা এক দোতলা বাড়ির কথা।

পড়াশুনোর কথা ভবিষ্যতের কথা।

 

একটা প্রান্তর দেখতে পাই।

তাকে দেখতে পাই।

উজ্জ্বল বুদ্ধিদীপ্ত চোখ সারল্যে ভরা।

সামনা সামনি হলে অনেক কিছু ভেঙ্গে যায়।

ভাঙ্গতে চাই না।

 

(৬২) নদীর চরে

 

একলা নদীর চরে বিষাদ জেগে ওঠে ভোরের বাতাসে

কেটেছে আরও একটা নির্ঘুম রাত গত রাত

চাঁদের হলুদ আলোয় ছড়ানো ছিল একরাশ মায়া

গ্রীষ্মের দিন জিটি রোড দুপুরের বটগাছ

এখনো চোখের পাতায় এখনো অজস্র চলচ্চিত্র দেখে যাই

একলা নদীর ধারে চর জেগে ওঠে

হাওয়াতে দুলতে থাকে অজস্র বিষাদের কাশফুল

 

(৬৩) না বোল না

 

আবছা চাঁদের আলোয় যে মানুষটা তোমাকে সঙ্গ দেয়

তাকে না বোল না

তার জন্য জমিয়ে রাখ তোমার সেই বিখ্যাত হাসি

যে হাসির জন্য ছুটেছি বহু মাইল

সে চাইলে তুমি নাচতে পার যুগলবন্দী

 

মন রেখে দিও আমার জন্য কেবল

রেখে দিও শেষ নাচ

বনের পথে তার সঙ্গে বাড়ি ফিরো না

তাকে বলে দিও

আমার বাহুলগ্না হবে তুমি

তুমি আমার তুমি আমার তুমি আমার

এই কথা বলে দিও

 

বলে দিও শেষ নৃত্য তুমি নাচবে না তার সাথে

ওটা আমার জন্য তুলে রেখেছ তুমি

বলে দিও

বলে দিও সব হবে তার সাথে নাচ গান

শুধু আমার সঙ্গে ফিরবে তুমি একই ঘোড়ায় একসাথে

 

(৬৪) যাচ্ছি ডুয়ার্স

 

বনভূমি নদী আর পাখিদের এক আশ্চর্য দুপুর

ডুয়ার্সে অপেক্ষায় ছিল আমার

কালিমাটি নদীর বেডই রাস্তা

আগে জানতাম না পাহাড় থেকে যেখানে নামে নদী

সুনসান এই দুপুরে

 

কিষাণগঞ্জ এক অদ্ভুত সঙ্গম

পাশাপাশি এন এইচ থার্টিফোর ও শতাব্দী

রাতের রাস্তা জুড়ে ট্রাকেরা মালবাহী

আর এই এক ঘর চলমান লোক

কলকল কলকল

ক্রমাগত মোবাইলে বাজে রিংটোন

হঠাৎ চমকে উঠি সশব্দে পেরিয়ে যায় বিপরীত ট্রেন

 

কলকাতার প্রবল দুপুরে চড়েছি বাতানুকূলে

ছিমছাম এই যান্ত্রিক

একে একে পার হয় কালভার্ট লেভেলক্রসিং

আর না থামা ষ্টেশনে প্ল্যাটফর্মের সারি সারি মুখ

 

আলো জ্বলে জনপদে

যদিও নির্জন পথঘাট

কালো কাঁচের আড়ালে আমার সমস্ত বিকেল দুপুর দেখে যায়

চলমান মায়াবী বায়স্কোপ

 

মাঠের কোথাও ধান

জড়ো করা খড়ের  গাদা

গবাদি পশুর ভিড়ে একলা রাখাল

আর কত নদী  

বাঁশলোই গঙ্গা অজয় ময়ূরাক্ষী মহানন্দা

একরাশ রেল সেতু কালভার্ট ঝনঝন

 

আসছে অন্য জনপদেরা

অন্য এক আত্মীয়তা গায়ে মেখে

অপেক্ষায় উত্তরবঙ্গের কিছু মানুষজন

কবি পুণ্যশ্লোক তাঁদের একজন

যারা জানে তারা বোঝে

এই সব মনের আকুতি

এক পশলা বৃষ্টির পর বনস্থলী নিস্তব্ধ

পাখির ডাকের সকাল ক্রমশ প্রকাশ্য বলা ভুল

সে যেন দাঁড়িয়ে আছে

এখন কি সত্যি সকাল

এক ভাবে ডেকে যাচ্ছে পাখিরা পালা করে

ছন্দোবদ্ধ টুইটকার

(৬৫) শরীর মাপছিলো

 

মনে কোন পাপ ছিল না শরীর মাপছিল দুটো চোখ

শরীরের মাপ ছিল চোখে

শরীরে উত্তাপ ছিল

উত্তাপ ছিল বুকে

গলে যাচ্ছিল বরফ চূড়া

টানেলে টানেলে পাহাড় পেরিয়ে বরফ

পেরিয়ে ছুটেছে ট্রান্স সাইবেরিয়ান এক্সপ্রেস

কোথা থেকে কোথায় চলে গেল কল্পনা এবং ট্রেন 

জিভের লাগাম দিলাম ছেড়ে

 

মনে কোন পাপ ছিল না

শরীর তবু কাঁপছিল তিরতির

মাপছিল দুটো চোখ

চোখের আয়নায় কম্পমান আলম্বিত রেখা

শরীর রেখার মত নাকি আগুনের ছায়া

আগুন নড়ে চড়ে

আগুনের পাপ থাকে না

খাদ গালিয়ে বের করে নেয় পাকা সোনা

 

আগুন পরীক্ষা করে শরীরে

শরীরে পাপ ছিল কিনা

শরীর আগুনের রেখা নড়ে চড়ে কম্পমান

শরীর ধরা পড়ে যায় চোখে

চোখে চোখ পড়লে চোখ তাকায় নির্জনে

মনে মনে  খুঁজে বেড়ায় মুখ শরীর

চেনা বালিয়াড়ি ক্যাম্প ফায়ার

 

(৬৬) জন্মদিন

 

এলোমেলো হাওয়াতে ঈশ্বরের বাগানে পেকে যায় গ্রীষ্মের আমেরা

বালিকারা যুবতী হন

এই প্রৌঢ় ক্রমশ নারী দর্শন দিক দর্শন সমাজ দর্শন ও

নাবালিকা ধর্ষণের কাহিনীর প্রেক্ষাপটে

বৃদ্ধ হতে থাকে

কি আশ্চর্য মুদ্রিত হয় বর্ণমালা কি বোর্ডে

 

তিনশো চৌষট্টি দিন আলাদা নয় জন্মদিনের চেয়ে

প্রত্যর্পণের কিছু সৈনিক

তাঁদের দৈনিক বক্তব্য এখানে কেন ভুল মণ্ডপে

আমি কি দিয়েছি বল প্রত্যর্পণ কেন

সোনালি রেলিং আমি পাতি নি হ্রদের ধারে

এই সুবিশাল হাওয়া জাহাজ আমার তৈরি নয়

নদীর ধারের প্রস্তর খণ্ডে বসে থাকি অকর্মণ্য এক

 

তিনশো পঁয়ষট্টিতম দিনে তার কি কার কি

কেন জন্মদিন

জান আমার মরণ হলে কোন এপিটাফ লিখবে না কেউ

এমনও কি শরীর কর্তিত ঊর্ধ্বাংশও

যাকে আবক্ষ বলে

বসবে না

 

তবুও মণ্ডপে বক্তব্য রাখছে কেউ

গালে হাত দিয়ে শুনছি

ভুল ভাঙ্গাবো না

তিনশ পঁয়ষট্টিতম দিনে

কারা যেন কেক প্যাস্ট্রির ক্রিম মাখিয়ে দেয় সর্বাঙ্গে

 

(৬৭) নতুন সকাল

 

যদি ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি নতুন সকালে

কোলাহল থেমে গেছে সমস্ত আস্তাবলে

প্রভাত সমীরে সূর্যালোকে উজ্জ্বল নগরী গ্রাম

বিশাল শক্তিতে জেগে উঠছে আমার দেশ

 

সমস্ত ভয় ভীতি বাধা দূর করে মানুষ

ডিঙ্গিয়ে যায় সব সীমানা

বুকে জড়িয়ে ধরে একটাই পরিচয়ে

জাত নয় ধর্ম নয় রং নয় বর্ণ নয়

সে পরিচয় ঈশ্বরের সন্তান

 

আমাকে বোল না কেউ এ দুরাশা বাস্তব নয়

সত্যি বলছি বাঁচব না তবে

 

হানাহানি শেষ কর নীতি একটাই ধর্মনীতি মানবধর্ম

নীতি একটাই অর্থনীতি

(৬৮) শেষ দেশলাই

বুকের মধ্যে জমে থাকা প্রেম

নীল কার্ডিগানের সর্বত্র সাদা লবঙ্গছাপ বুটি

মুহূর্তে হাউয়ের মত উড়ে যায় সবটুকু বারুদের একরাশ ধোঁয়া

ধোঁকাদারি দুনিয়ায়

আজকাল প্রেম কেনাবেচা হয়

না কি হতো বরাবর

হা হতোস্মি প্রাগৈতিহাসিকেও

 

মেঘের মিনার সরিয়ে ক্রমশ দুরের পাহাড়ে উজ্জ্বল হয়

এক নির্জন বাতিঘরের মত দুঃখ জমানো সিন্দুক

আবার ঢাকা পড়ে মেঘে

অতি শীতল হাওয়ার সাথে ভেসে আসে বরফের কুচি

আজানুলম্বিত ঘাসের ফাঁকে

হঠাৎ হারিয়ে যায় শেষ দেশলাই

 

(৬৯) বৃষ্টি নামে

বুকের মধ্যে রাস্তাঘাট সালটা সত্তর

কলেজ স্ট্রীট বিবেকানন্দ রোড

বৃষ্টি নামে

তরুণীর চুলে ট্রামের শরীরে

কৃষ্ণচূড়া গাছ বেয়ে

 

বৃষ্টি বরফ সমস্ত শিকাগো জুড়ে

স্টারবাক আর পারফিউমের সুঘ্রাণে

ভেসে যায় বিদেশী এয়ারপোর্ট

উড়ানের এখনও  কিছুটা দেরী

 

(৭০) স্বাধীনতা

 

আজো মার খায় অর্ধমৃত

ভরা জোছনাতেও তাদের হাতের তালুতে দোল খায় না

স্বপ্ন

আজো মরে যায় পুড়ে ধর্ষণে গুলিতে ছুরিতে

এখানে ওখানে মানুষ আহা তোমার দেশের

সহনাগরিক

জাঁকিয়ে বসেছে পাপ

 

আমার লজ্জা সফেদ জামার আস্তিনে গুটিয়ে

আমার লজ্জা ইংরেজিতে বলি লিখি

আমার লজ্জা ভাল খাওয়া থাকা

 

আমার লজ্জা

অকাম্য ব্যবস্থাপনা অভাব দুর্বলতা

সীমাহীন লোভ লোভ লোভ

আর আত্মকেন্দ্রিকতা

সোনায় মুড়িয়ে দেয়া যেত

প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেয়া যেত সুখ

 

রোল মডেলের মৃত্যুতে সুদীর্ঘকাল নৃত্যরত

চুহাগন দৃষ্টি দূষণ

(৭১) সারসেরা

 

কাগজের সারস বসেছিল সেন্টার টেবিলে

হাওয়াতে নড়ে

নড়ে তার পাখা

দুবলা পাতলা সে এক সারস

 

সারস ভেঙ্গেছে অহমিকা বোধ

তার ক্ষোভ ভেসেছে জলে

আকাশ ছুঁয়ে নেমেছে বাতাসে ভেসে অবশেষে

সেন্টার টেবিলে

কাগজের সারসেরা সার সার টেবিলে বসে

চক্রবৃদ্ধি বাড়ে

হাজার হাজার সারস বসে থাকে

হাজার হাজার চেয়ারে টেবিলে

একই রকম তারা একই মুখ চোখ

হাওয়াতে নড়ে কাগজের ডানা

সারসের শরীর নড়ে

(৭২) ঘুমপরী পতঙ্গ

 

ঘুমপরী পতঙ্গ অনেক উড়ে উড়ে চলে স্বাধিকার বোধ

অন্যায় অনেক উড়ে যায় সীমানায় অপরাধ

ভালবাসাটাসা ছেঁদো কথা

প্রতিশ্রুতিগুলো বহুশ্রুত

থামাও গল্পগাছা

এরপরে কি বলবে তুমি কাঠপুতুলি

সবটাই জানা

বাজাও শুধু তাকধিনাধিন

টেবিল বাজনা

 

(৭৩) সেরা

মান্যবর রেখেছি ডাবের জল

আচমন  আহ্নিক সমাপনে হয়ে উঠুন দুর্দম

 

সুবিশাল উপত্যকার সব কটি ধানের শীষ

এই পাহাড়ি ঝর্ণার সুশীতল

ওই আকাশের ক্যানভাসে মেঘের চারুকলা

গাছের আড়ালে কোটরে  পাখিদের ডাকাডাকি কথা বলা

আপনার অপেক্ষায় রয়েছে

 

আসুন প্রকৃতির কোলে

ভ্রু যুগল বেয়ে শরীর বেয়ে

নেমে আসুক শান্তি স্রোত

 

আপনি বড় একলা জানি

সাথী তাই থাক প্রকৃতি 

 

 

(৭৪) প্রেম

 

গ্লাসে রয়েছে পুনর্নবীকরণ নির্যাস

তলানিতে ভীরু প্রেম

প্রেম না ছাই চোখের মোহ

প্রেম কবার হয়

পুরুষ নারীর ভাল লাগাই প্রেম না কি

প্রেম হলেই শুতে হবে

 

প্রেম এক শিরশিরানি ভাল লাগা রাত জাগা

সাত পাঁচ ভাবা

ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে যাওয়া

 

প্রেম মানে কোথা দিয়ে বয়ে যায় ভরা দুপুর বেলা

প্রেম মানে প্রতিটা কথা চলন বলন অর্থ খোঁজা

প্রেম মানে ছেড়ে না যাওয়া

প্রেম এক আবদ্ধতা

 

যাও ছেড়ে দিলাম তোমাকে

খেলো না প্রেম প্রেম খেলা

অভিনয় জমছে না

না তোমার না আমার

ছুঁড়ে দিলাম গ্লাস সমেত পুনর্নবীকরণ

রিচার্জ করছি না ভালবাসা

হলে হবে এমনি

থাকলে থাক এমনি

গেলে চলে যাক

নিজের সঙ্গেই অতঃপর খেলব প্রেম প্রেম খেলা

দিন রাত সারা বেলা

 

(৭৫) কথা

 

কথা কি বলতেই হয়

এলোমেলো কথা ব্যথা

ব্যথা কি পেতেই হয়

 

দৃষ্টি কি দিতেই হবে

দৃষ্টিহীন চোখ কি ঈশ্বরের দান নয়

আমরা কেউ রাতের আকাশকে ব্ল্যাকবোর্ড ভাবি না

আর্মিলারি স্ফিয়ার ধরতে চায় আকাশ

আমরা জানি চন্দ্রগ্রহণ

রাতফুল ও পাখিদের বিভ্রান্ত করে

 

কথা কি বলতেই হয়

ব্যথা কি পেতেই হয়

 

 

(৭৬) শান্ত নদীতীর

তুমি শান্ত নদীতীর  ঝোপের আড়ালে

তরঙ্গহীন কেন

কোন নারী কি দেখবে তার মুখ

করবে শৃঙ্গার

প্রসাধন চর্চিত রূপ লাবণীর তৃষ্ণায় অধীর

নাকি নিষ্কম্প জলরাশি

বুকে ধরেছে আকাশের নীল সংলগ্ন মেঘেদের

আসা যাওয়া সাগর স্রোতে ভাসে ভেলা

 

চল বসলাম না হয় তোমার তীরে

আমরা দু’জনেই তো একাকীত্বের গুনছি প্রহর

আসুক কিছু হাওয়া

ছোট ছোট ঢেউ কিছু ছুঁয়ে যাক কিনারার মাটি

আমার ভাবনারা যত

সমতুল তরঙ্গ রাশি

 

 

(৭৭) ডুয়েল

 

ঘোড়া থেকে নেমেছি স্টিরাপে ছিল আলতো পা

চল ধরো হাতিয়ার শেষ লড়াই হয়ে যাক

হাতে থাক সাঁই সাঁই লিকলিকে তরোয়াল

 

আমরা দুজনেই আলখাল্লায় ঢেকেছি শরীর

মুখোস বর্মে একাকার চোখ মুখ আর দৃশ্যমানতা

আমরা সত্যিই যথাক্রমে তো

নাকি প্রক্সি ওয়ার লড়ছে অন্য কেউ

 

ভোজসভা ব্যাহত এই আকস্মিক ডুয়েলে

আমাদের শিভালরি অসাধারণ

আমরা ভীত নই মৃত্যুতে

হোক না বীর গতি

ক্ষতি নেই তাতে

 

সামলাও আমার আঘাত

তোমার বর্ম ভেদ করে রক্তপাত শুরু

আমিও আহত হব

 

ওই দেখ জনতা পলায়ন মুখী

ওরা শান্তির খোঁজে ব্যাঙ্কোয়েট থেকে অনেক দূরে জমায়েত মাঠে

সন্ত্রস্ত ললনারা চোখে হাত

তোমাকে আমাকে দেখে আঙ্গুলের ফাঁকে

আমরা লড়াই নিয়ে কখনও টেবিলে

কখনও সিঁড়িতে কখনও ব্যালকনি পরিক্রমায়

 

ওই দেখ তোমার তরবারি ফালা ফালা করে দিল পর্দা

ঝনঝন ভেঙ্গে গেল উজ্জ্বল শ্যান্ডেলিয়ার

পালাবার পথ নেই

আমরা নিজেরা নিজেদের বেঁধেছি মৃত্যুতে

হয় তুমি নয়ত আমি

অথবা দুজনেই

লড়ছি শেষ মোলাকাত

 

 

(৭৮) শেষ কথা

কথা কি শেষ হয় শেষ কথা কে বলে

বাতাস নাকি মানুষ

হৃদয় নিংড়ে দিলে উজাড় করে কি আর থাকে

শেওলা পিছল দিঘীর পারে পা রেখেছ সাবধানে

ভেজা কাপড় শুকিয়ে যাচ্ছে গায়ে

তুমি নাকি বাউণ্ডুলে ভবঘুরে

হতেই পারে

 

এমন ভাবে জড়িয়ে যায় শব্দ পাহাড় কিসের নেশায়

বাসায় ফেরার আগে ঝোড়ো হাওয়ায় পাখি ডানা ঝাপটায়

কুলুঙ্গির পিদিম নেভায় হুহু বাতাস

আকাশ মেতেছে ঝড়ের নেশায়

 

ঘরের ভেতর অন্ধকার বাইরে প্রবল বজ্র হুঙ্কার

কোথায় তুমি যাবে এখন

তুমি কার কে তোমার

কবে কথা শেষ হবে

কবে তোমাকে পেরিয়ে যাবে তুমি

 

আমার স্বপ্নের মাঝে কেন ভুল জড়িয়ে দিলে

এমন তো কথা ছিল না

 

(৭৯) অন্য কারও

 

ফুলের সাজ খুলে গেছে প্রবল ঝলসায় বিদ্যুৎ

দমকা হাওয়ায় ওড়ে বসন ওড়ে আঁচল

তুমি নও অন্য কেউ

অন্য কারো

সশব্দে ভেঙ্গে পড়ল ডাল ওপড়াল গাছ

এই তাণ্ডব চলবে কিছুক্ষণ

আকাশের ওপর ছিল রাস্তাঘাট মেঘের মিনার

অথবা দানবের মুখ

ক্রমশ দিগন্তে ঝলকানি

মেঘেরা ক্রমশ কালো হয়ে একাকার

আমার এই ঘর খোলা কপাট

বাইরে এসেছি

 

তুমিও কি হার মান মাঝে মাঝে স্মৃতির কাছে

হয়ে যাও ভাবনার অধীন

তোমারও কি দুর্যোগে গান আসে মনে

যা সম্পূর্ণ বিপরীত

 

কেন যে আমার মত খুঁজি তোমাকে

তুমি তো তুমি

সহজাত বেড়ে ওঠো অনায়াস লতা

 

আমার দুয়ারগুলো নাড়ায় ঝড়ের হাওয়া

আমার রক্তে তখন শান্ত সঙ্গীত

তুমি ভাল থাক ভাল থাক ভাল থাক

 

আমার যা হয় হোক

ঘরে যাব ঝড় থেমে গেলে

(৮০) খুঁজছি

আঁতিপাঁতি খুঁজছি তোমায় মাঝরাতে

খুঁজছি আমার বিছানাতে

খুঁজছি কেন যদিও জানি নেই তুমি

থাকার কোন কথা ছিল না কোনকালে

 

হৃদয় নিংড়ে যাকে দেহ মন সব কিছু দিয়েছিলাম

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?