কবিতা সমগ্রঃ  ৮
দেবাশীষ কোনার 

২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৪ 

 

আর তোমাকে, সেই বালুকাবেলার মতো লাগে না;

তুমি শুধু প্রয়াসের নিভৃত ইতিহাস।

 

সেজন্য এখন একা এই নিশীথে ফিরে দেখি

পাপড়ির কারুকাজ, বৃত্তির কর্মকাণ্ড, স্তবকের বিন্যাস

ফুলের রূপ - রস - গন্ধের সাথে প্রতিস্থাপন

 

এখন ঘূর্ণাবর্তে থামে অন্দোলিত ছায়া শরীর

মধুপের ধেয়ে আসা গুঞ্জন

এখন বাতাস চায় প্রত্যাশার গভীরের ঘ্রাণ- - -

শিকড় সমেত গর্ভকোষে পাক খায় রেণুর অমৃত।

 

তবুও রাজপথ ডেকে আনে গভীর রাত্রি, উপেক্ষিত

অন্ধকারের পাতাল, উতরাইয়ের মহাফেজখানা

আর তুমি, তৃণ নও, ঊষাকালের বিভ্রম

তুমি নদীও নও, তুমি এক তারার চমক।

অনু কবিতা

 

এই অদ্ভূৎ কোলাহলে ধানি লঙ্কার ঝাল

ক্ষমা করো হে প্রভু তুমিই সুমহান।

 

আমি পর্বত নাকি পাললিক বলবে সময়

এখন চলছে খেলা ভাঙলেই মহা ভয়।

লবণাক্ত

 

এতদিন ছিলাম হার্মাদ, এবার তলিয়ে যাওয়া পাগল

হয়তো এরপর তোমাদের বিশেষণে খামতি পরলে

বলে ফেলবে ছাগল।

এখন সময় ছলছে নির্বাক চলচিত্র।

প্রতিরোধ থমকে আছে শহরের কলরবে যুবতি সমান

কজের জায়গায় বিচিত্র অভ্যুত্থান সচিত্র পরিচয়পত্র

বামাল ধরা পরে নাজেহাল নিয়ামত চাচা বাকরুদ্ধ

জন্ম যার এই দেশে সে নাকি বাংলাদেশী?

লবণাক্ত জল খেয়ে পেটে মোচড় মারছে কমবেশি ।

হাহাকার করছে মনটা, এই কি তার জন্মভুমি?

কাঁধে কোদাল নিয়ে পরিতক্ত আঙিনায় বসে

ঘাস কাটছে যে সমস্ত জোয়ান, জেনে রেখো

মাতাল জীবন

অসম্ভব দৃঢ় অভিমানে ছিটকে যাই জটিল ও নিঃসঙ্গ জীবনে
বিবাহ-বিচ্ছিন্না নারীর মতো,

পুরুষের সান্নিধ্য থেকে বহু দূরে শূন্য একাকীত্বে নিষ্কাম মনে প্রভাবশালী পুরুষের মতো,

একঘেয়ে মিছিলের ভিড়ে মিশে গিয়ে
উকিল বন্ধুর সাথে বদ্ধ ঘরে বসে পান করি
যত পান করি, তত মাতাল হই

- চারদিকে ছাড়ান থাকে গ্লাস, জগ
মৃদুমন্দ গান বাজে বক্ষ জুড়ে

- খেলা করে ঘুমন্ত অতিথি!

যত পান করি,  তত প্রবেশ করি জনশূন্য দ্বীপে
ব্যর্থ প্রেমিকের বেদনা জমা হয় পরিত্যক্ত,

নির্বাসিত প্রাণীর মতো
ভেসে যায় স্মৃতিগুলো একে একে -------
পার হয়ে সাগর - উপসাগর এবং কাজল চোখের জল

ভালোবাসা কি তাহলে কোনও অবান্তর পক্রিয়া?

মধ্যরাতের নিশি-ডাক?
বুকের খাঁচায় নৈশব্দর সঙ্গ না পাওয়া কড়া নাড়া?
আঙিনার জ্যোৎস্নায় নগ্ন ও গোপন অলংকৃত ক্যানভাস?

যত পান করি তত পাতালের গহনে প্রবেশ করি
ছিন্ন সাম্পানের মতো ভেসে যাই সুরের তুফানে

কিন্তু কেন করি পান?
পান করলে কি বিস্ফোরিত ঘূর্ণিজলে মুক্তো পাওয়া যায়?
পানে কি কোনও চক্রান্ত থাকে?
যদি তাই ভাবো, তাহলে চাপা স্বরে বলি 
আমি তোমার সান্নিধ্য পেলে সব কিছু ত্যাগ করতে পারি
আমার হাত ছেড়ে যেও না কক্ষনও, কোথাও!

 

 

বাঁচার নির্ঘন্ট

দাঁড়িয়ে আছি বাসস্টপে একা শুনশান কেউ কোথাও নেই
নিশ্চুপে নিরুপদ্রুপে যেন খাঁচায় বন্দী পাখি
দূর থেকে তাক করে আছে কেউ।

লক্ষভেদ করলেই

আমার মাথা থেকে ধর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
আমার জীবন এক সুতোর ওপর নির্ভর করে আছে
একটু এদিক সেদিক হলেই তাল কেটে যাবে
জবাবদিহী করবার কোনও আধিকার নেই আমার
মৃত্যু পরোয়ানা লেখা চিঠিতে শুধু সময় সংক্ষেপ
আমি তবুও দমতে পারি না, মনে হয় ঘুড়ে দাঁড়াই
জানি জীবনে একবার মরতে হবে।

তবে কেন মরার আগে মরব?

বৃষ্টি এসে আমাকে ভেজায় প্রবল ভাবে
এখন আমি বাঁচা মরার সন্ধিক্ষণে অপেক্ষারত
আমার এতদিনের জীবনের সব হিসেব-নিকেশ
চুকিয়ে দিতে হবে।

কোনও গড়মিল খুঁজে পেলেই
জারি হবে আদেশনামা।

সভ্য সমাজের আমি এখন কলঙ্ক
আমার চারপাশে এখন শকুনের দল

ছিঁড়ে খাবে বলে অপেক্ষা করে আছে ।

জীবন বাজি রেখে আমি এখন ডুব সাঁতার দিতে প্রস্তুত
চোরা অভিমানে আমার দেহ থেকে খসে পড়ছে বিদ্যুত
লড়াই করতে করতে আমি এখন ক্লান্ত
আমাকে গ্রাস করে নষ্ট চাঁদ 
পরিযায়ী ক্ষোভে জর্জরিত আমি
মাদক সেবনের উপকারিতার বিজ্ঞাপন দিলেই মুক্তি।

 

 

শত যোযন দূরে 

শত যোযন দূরে মস্ত ভীড়ে
হারিয়ে যাই ডাউন ট্রেনের জবরজংএ
উৎস্য কোথায় জানি না তার তীর
পায়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলে

চলতে গিয়ে খেই হারিয়ে যাই
হাপুস নয়ন কাঁদছে দেখি মা-ই
চুলের ওপর হালকা হাসি ঘ্রাণ
তুমি তখন সাধছ কোনও গান

ঝগড়া ছাড়া এই অবহে আর কি আছে
হতাশ আশায় স্বস্তি যদি বৃষ্টি নামে
পয়সা বাদে নগদ কিছু অর্থ চাই
মুখ লুকিয়ে কে চলে যায় কে জানে?

 

 

লাগামছাড়া 

অসংখ্য যে বাক্যবানে মৃত্যু তুফান ছুট
সহ্য করা সহজ সে কী দূরন্ত অদ্ভূৎ
নরক যেথা গুলজার আর স্বর্গ কলঙ্কিত
বোধের ঘরে মূর্খ থাকে চির অপরিচিত
বিশ্বাস যার মুখ লুকিয়ে আড়াল খোঁজে দ্রুত
প্রভুর কাছে ভিক্ষা মাগে আবেগে আপ্লুত


 

গায়েব কথার ইতিহাস 

রোমন্থন করতে করতে বাঙ্গালি কেবল হাত বাড়ায় অতীতে
সন্ধে থেকে মইপাট টিভির পর্দায় চোখ একের পর এক সিরিয়াল
আজ দূর্ঘটনা সমুদ্র স্নান করতে গিয়ে তিন জনের সলিল সমাধি
চোরা স্রোত বড় বেয়ারা কখন যে কার ওপর বদলা নেবে ...
ব্রেকের সময় এক আধবার খবরের আপডেট

দুখঃজনক ঘটনা ।

প্রতিদিন এভাবেই আমাদের মোসাহেবি ইতিহাস দোলে
পেন্ডুলামের মতন।

স্মৃতি আঁকড়ে ভাসতে থাকি উথাল-পাতাল
পথ শেষ হয়ে কানাগলি দেওয়ালে পিঠ -

এবার ঘুড়ে না দাঁড়ালে
রক্ষা করতে কেউ আসবে না।

নদীর জল বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলবে
চল নতুন করে ইতিহাস লিখি .........

 

অনার কিলিং


বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকিস রাত্রিদিন
হারিয়ে ফেলিস মখমলের সঙ্ঘা 
দাঁতাল হাতির পায়ে পায়ে খেলিস রাত্রিবাস
খুলিস জঙ্ঘা মধুবাতা রিতায়তে
চলছে ভালই বাঁধাগতে কেমন

ধাং কুর কুর বাদ্যি বাজে আর সাজে
তপস্বিনী বালিকা বধূ হলে মানায়?
দরদ উথলে উঠছে ফেনার মত
সফেন সাঁতার কাটার এমন মোহ
যা হিম্মত থাকে তো এলিট সমাজে


ঢ্যামনা ডোম পাড়ায় কেন?
ধানি লঙ্কায় যদি অত লোভ 
ভুলিয়ে দে না পুত্র শোক
খ্যাতির পাহারে চড়ে এ বিড়ম্বনা
যুতসই একটা জবাব চাই যে

মাতঙ্গিনী গোয়াল ঘরে 
নামাজ পড়ে সাহাদাত 
কে বলেছে মিলমিশ হবে
অনার কিলিং দেখেছেন
আরুশি হত্যা মামলা ঘুম ভাঙাক!

 

 

সন্তানের সাথে ছলনা

 

আমার প্রতিটি চলা বলে দিচ্ছে আমি প্রতারক
মধ্য দুপুর বেলা ভাবছি পাগল সাজিয়ে নিজেই নিজেকে
কেন পাঠিয়ে দিলাম না শলাকার অভ্যন্তরে?
যখন ফুল ফোটার আগে কুঁড়িটিকে লালন করার
প্রয়োজন ছিল, তখন মেতেছিলাম লোভ-লালসায়
অন্ধকার সেই পথের শেষ প্রান্তে এসে উপলব্ধি ---।

সন্তানের সাথে ছলনা আমার নিদারুণ ব্যথার
চোখ থেকে ঝরে পড়ছে জল, তবু অভিমান
সে একটি কথাও বলেনি আমাকে।
তার সমস্ত সম্বল কেড়ে নিয়ে আমি একা
বসে আছি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো।
কে কার আবেগ মেখে সম্মুখে যায়?

ওকে দিশা দেখাতে না পারার জন্য কে দোষী?
ভাবছি নিজেই একটা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার খুলে
সেখানে নিজের চিকিৎসা করাবো।
কেননা আমার মত মানসিক ভারসাম্যহীনকে
সবার আগে পাগলা গারদে পাঠানো উচিৎ।
আমি শঠ শুধু যে তাই নয়, প্রতারণা করেছি সন্তানের সাথে।

 

 


 

চিঠি

 

চোদ্দই ফাল্গুন ঊনিশশো ঊনআশি।

প্রাণ খুলে চিঠি লিখব বলে এক দিস্তা খাতা কিনে ফেললাম। ফাউনটেন পেন খুলে বসলাম মেশ বাড়ির এক চিলতে ঘরে।

এই ঘরই তখন আমার পরাণ বন্ধু।

আগামীর কথা ভেবে শিরায় শিরায় রক্ত নাচে।

প্রহরের পর প্রহর পার হয়ে যায়।

খরস্রোতা নদীর ঢেউয়ে পাড় ভেঙ্গে পড়ে যেন।

সমস্ত খাম পৌঁছে গেলেও কোন উত্তর আসে না

যা অস্বাভাবিক আজ বৃষ্টিঝড়া মেঘলা তোমার মতো নরম দিন। ভোর চারটেয় মধুমেহ রোগ সারাতে হাঁটতে বের হয়েছি

সবুজ পথ ধরে স্নিগ্ধ তোমার চুলের ঘ্রাণের মতো রোদ

মেখেছি সমগ্র শরীরে।

এই ভাবে এক একটা দিনের শুরু প্রবাহ থেকে প্রবাহের গভীরে

ছড়িয়ে পড়ে অনাগত সম্ভাবনার অঙ্কুর।

বাড়ি ফিরে চা আর সস্তার খাবার,

বাজার যাবার তাড়া, গতানুগতিক স্নান সেরে

পাটকরা ট্রাউজার-সার্টে ধোপদুরস্ত অফিস যাত্রা।

মাঊশ-কীবোর্ড আর চোখ থকে মনিটরে।

দিন শেষ হয়ে রাত নামে।

ক্লান্তি এসে জড়িয়ে ধরে সমগ্র চিন্তা চেতনার বাইরের খোলস।

এখনও অপেক্ষা করে আছি যক্ষের মতো

উত্তর লেখা খাম আসবে বলে

মেঘের দীর্ঘ চারণক্ষেত্র ছাড়িয়ে তুমি

মরুভূমির বালিতে ফুল ফোটাবে,

পৃথিবীর আঁধার কাটিয়ে রোদ্দুর আনবে।

আমি হতে চাই পরিপূর্ণ।

আমার ইচ্ছাগুলো সব জমে আছে।

মাঝরাতে জবাবী খাম খুলে

ঠিক আবার একদিন পরিপূর্ণ হবো, হবোই ।

নিঃসঙ্গ তমাল

কখন নিঃসঙ্গ লাগে নিজেকে ভাবতে থাকি
অভিমান আর অহংকার এসে ঘিরে ধরে
সেই জন্য নির্জন তমাল গাছটির উদ্ধত ভঙ্গি
আমাকে প্রবল ভাবে আকর্ষণ করে।

বৈশাখে ভরপুর রসসিক্ত সে
বর্ষায় ভিজে যাওয়া ঔদার্য নিয়ে
সে দাঁড়িয়ে থাকে পুকুরের খুব কাছে
একা আকাশের নিচে
মেখে নেয় রোদ্দুর,বিকালের আলো
কোথাও যাবার নেই ,কোনও ব্যস্ততা থাকে না
শুধু নিজস্ব স্মৃতি নিয়ে ,ভাবনা নিয়ে
নিজস্ব দুঃখ ও ঐশ্বর্যে মত্ত সে।

নিঃসঙ্গ তমাল গাছটি তাই অমোঘ বিকর্ষণে
আমাকে ক্রমাগত তার থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

 

কোলাহল

চঞ্চল বৃষ্টির গন্ধে মন ভরে ওঠে খুব
তবু সেই চাতকের ডাকাডাকি কেন যে 
ভেঙে দেয় জাতকের কাহিনী গুটিকয়
পলাশের গাছে মেঘ সারা দেয়

অনাদর কেড়ে নেয় নাটকের ক্লাইম্যাক্স সহসা
নদীর ওই তীর ধরে চলে খুব পাখিদের বচসা
দূরে তোর বেহালার সুর শুনি প্রতিদিন
কোলাহল কেড়ে নেয় আলাপের বাহাদুরি

দূর ভাই আজ নয় চলো যাই পাগলের গর্ভে
মোরামের রাস্তায় ইঁট পেতে সস্তায় সার্ভে
হানা দেয় মহুয়ার গন্ধ ,আবোল - তাবোলের কুশীলব
বনের ভিতর থেকে আসে ডাক শব্দের জয়ঢাক

শিশিরের চোখে ঘুম শিউলির সাদা রঙ
মিশমিশে কাল রাত বলে দেয় রোগটার বদনাম
বাঁচবে কি মরবে জানা নেই, আশা তাই 
কোলাহলে প্রাণ ওঠে ভরে ভাই 

কোথায় হারাব আমি 

 

বউকে আদর করবার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে
এ যেন ফিরে যাওয়া শৈশবে
কাজ শেষে দিনের ঝটিকা পাহাড় থেকে রাত্রির নৈশব্দে
বারবার শ্রান্ত নিজেকে বিশ্রামে পাঠাবার আয়োজন
সকালে মিছরির সরবত খেয়ে ঠান্ডা হতে চাওয়া 
হারিয়ে ফেলা নিজের মধ্যে সাংবাদ পরিক্রমা
কোথায় হারাব আমি নিজেই জানিনা!

বউকে জড়িয়ে ধারবার চেষ্টা ব্যর্থ হয় প্রতিবার
লোকজনের ভিড়ে বাজারে রম রম করে লাইন
চায়ের দোকানের আড্ডা অথবা টেলিভিশন আমাকে দেখে
আমিও তাদের দেখি,ভাত খেতে খেতে দেখি
সকলে চালের ভিতর থেকে কালোমাছি বেছে ফেলছে
প্রত্যেকেই আমার মতো হারাতে চাইছে।

তবু আমি হারিয়ে যেতে চাই,কিন্তু কোথায়?
যখন দাঁত মাজি,মোটর বাইক চালাই অথবা চুল আঁচড়াই
আর বাজার করি, মাছে হাত ছোঁয়াতে গেলে মনে হয়
হাতে ফোস্কা পরে যাবে-তর্ক করি
খবর শুনে বিরক্ত হয়ে যাই-পত্রিকা পড়ি
কোথাও যেন মগ্ন হয়ে যাই আমি

ছায়ার মধ্যে থেকে দেখি প্রতিদিন প্রতিবিম্বের হার
তারা কোথাও হারিয়ে যেতে পারে না
তারা রাস্তায় হাঁটে।
এক গাছের থেকে অন্য গাছে বিলীন হয়ে যায়
মানুষও তেমন-এক মানুষের শরীর থেকে
অন্য একটি শরীরে মিশে যায়, ফিরে আসে

আমার জন্য নয় 

সব কিছুই আমার জন্য নয়
ঘেরা থাক কাঁচের দেওয়ালে সুশজ্জিত,
সভ্যতার নিদ্ড়শন এবং বাদশাহি তাম্রপত্র৷
কেবল তুমি দেখবে দু'চোখ ভ'রে সবকিছু-
দশ্ড়কের মতো,বিচারকের দৃষ্টিতে।
আর বেশ মজা করে ইচ্ছে হলে মাঝে মাঝে
টিফিন আর প্যাকেজ ড্রিকিং ওয়াটার চাইতে পার।

ঠান্ডা সভাগৃহে শীতের রোদের মতো ঝরে আনন্দফুল,
দীঘ্ড় লাউঞ্জ ভেদ করে অ্যানাউন্সমেন্ট,মেটাল ডিটেক্টার
সিকিউরিটির নজর এড়িয়ে ধূমপান নো স্মোকিং জোন
আর রুফটপ রেস্টুরেন্টে বিন্দাস ভোজ।
এ তো স্পষ্টই দেখা যায়,তাই না?

তোমাক শুধু তার ভিতর থেকে খুঁজে দেখি আর
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি মেট্রো চ্যানেলে ব্যস্ততার মাঝে
ফুচকার দোকানে। হয়তো তখন ফুচকাও
তোমার কাছে মোগলাই-যা কিনতে আমাকে প্রয়োজন .......

অবগাহন

         

শুকনো জল ছিটিয়ে 

মনের উথাল পাথাল বন্ধ করি।

 

চল চলে যাই,

হাত ধরতে পারি আর নাই পারি

চেনা সুরে গুনগুনিয়ে উঠতে 

আমার বাধা নেই বিন্দুমাত্র,

পাশের কেউ কিছু  শুনুক না শুনুক 

কোন উত্তর দিক না দিক

চলার ছন্দে আমরা সামনে এগিয়ে যাবই।

 

যতই মেরুদণ্ড বরাবর শিরশির করা

লাভার স্রোত নামুক 

যুজতে তো হবেই।

 

আর খুব খুব তেষ্টা পেলেই 

তোমার কাছে বসে  

তোমার দেওয়া জলে 

আমার প্রাণের তৃষ্ণা মিটিয়ে নেব 

আর আবার চলব।

বিষয় যখন বিষ

গঙ্গা স্নানের মজাটাই আলাদা বুঝলেন দাদা
মরাকে পুড়িয়ে নাভিটাকে কৌটোয় পুরে
যখন আপনি অঙ্গার কি রূপ খতরনাক ভাবছেন
শান্ত করে দেবে আপনাকে হিমশীতল হিমবাহের মত
ভাই, বিষ পান করে মরে গেল অথচ দাদা
বিষয় নিয়ে ভাবতে একটুও বিলম্ব করল না।
আমাদের মাতঙ্গিনী, জহ্লাদের আর্তনাদ শুনে কাতর
বনময়ুরীর কর্কষ কণ্ঠস্বর তাকে অসহ্য লাগে
লাগাটাই তো স্বাভাবিক, কেননা শের কি কিমত
হিসাব সে নেহি হোতা। অস্ত্রগুলি সব ভোঁতা
এমনকি কাস্তে - তাতেও ধার নেই। তোতাপাখি।
যখন যা শেখে তাই বলে এরাও তেমন।
নিরুপদ্রব একটি ডুবসাঁতারের প্রয়োজন যে কতটা
সেটা তো বুঝেছিল ভাই - সে তো চলেই গেল।

 

 

কামোফ্লেজ 

আমি এক নান্দনিক চাবিকাঠি আবিষ্কার করেছি, যা দিয়ে
খুলে ফেলা যায় গুটিয়ে থাকা শরীরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 
ভাবছি কিভাবে এটা কাজে লাগাবো? ছড়িয়ে দেব
জনে জনে! বৃদ্ধ বাউল সন্ন্যাসী যেমন গান শোনায়
বাস্তবের ঘুণ ধরা শরীর নিয়ে বালিয়াড়ি টপকানো?
আমার পক্ষে তো সহজ নয়, তাই ভেবে চিন্তে এগোতে চাই।
কামোফ্লেজের মতো সটান আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে যাবে,
নাকি মরুভূমির ধূলায় ছুটিয়ে মারবে, তা জানি না।
তবে আজ এতদিন পর মনে হচ্ছে আমার সবকিছু
আবার ফিরে আসছে। যৌবন হাসছে।

পাদপ্রদীপের আলোয় দেখতে পাচ্ছি

সমুদ্র খেলছে জলতরঙ্গ হোলি।
অনুগ্রহ করে, এই সময়ে আমাকে আর বিরক্ত করো না!
আমি এবার সমুদ্রে যাব পাল তোলা নৌকায় - - - ।

নক্ষত্র পতন

 

কামড়ে খাবার মতো এতো জিনিস থাকতে তোমাদের

পছন্দ যাকে, ---
যা, ফুস করে উড়ে গেল সেই 
নাকানি চোবানি খেল

মাতব্বর যত পথের ধূলায় কাঁদে গ্লিসারিন চোখ।
ওরা আহাম্মক পাগলের প্রায়।

আয় আয় ক'রে ডাকছে তবু
প্রলোভনে পা দেবার ফাঁদে কখনও পরবে না -
জেনে গেছে ঘিন ঘিন করা সারমেয় শাবক।
#
এবার এস্কেপিসট পালা, কানে তালা ধরে যায় 
হাজার চিৎকার পৌঁছায় না কর্ণকুহরে
নক্ষত্র পতনে কাঁপে আকাশ - বাতাস।
গায়ের জোরে কেড়ে নেবে ইজ্জত?
এতোই তুচ্ছ নাকি ধেড়ে ইঁদুর তাই
না বলা কথা ভাসে প্লাবনের জলে।
#
চুষে নেওয়া মাধুর্য রস নোংরা ঘাঁটে আকণ্ঠ পাঁকে
জবু থবু বসে নান পরোটা খায় অহংকারী রানী
জানি, আমি সব জানি, কারা আলোর জ্যোৎস্না ভেঙ্গে
নামিয়ে এনেছে আঁধার এই বিষ্ণুপুরে।
এই খেলায় যুদ্ধ জয় অথবা মুছে যাওয়া কালির আঁচড় 
#
জহ্লাদের অভিপ্রায় শাসকের জানা, তাই পালা শেষ- - -

 
 
 

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?