কবি পরিচিতিঃ  সুমন কুমার সাহু পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া শহরে বসবাস করেন। মৎস্য বিঞ্জান শাখায় স্নাতকত্তোর করার পর পেশাগত ভাবে সরকারি আধিকারিক হিসেবে কর্মরত। উনি দুই বাংলার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও অনলাইনে লেখালিখি করেন। প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ “কবিতা তোমাকে”, “পকেট প্রেম”, কবিতা সংকলন “Café কবিতা”, “নক্ষত্রানী”। এছাড়া বাংলা দেশের “বাংলা নামা” সহ বিভিন্ন খবরের কাগজে ওনার কবিতা প্রকাশিত হয়। ওনার কাছে  কবিতা মানে জীবন, মানুষ , প্রকৃতি আর মনের প্রেয়সী। সব কবিতায় যেন প্রেম খুঁজে পান, আর প্রেম করে চলেন ওনার কবিতার প্রেয়সীর সাথে। আর এই প্রেয়সী লুকিয়ে আছে এই মানুষের মাঝে। মানুষের জীবন কথাই ওনার কবিতা। 

কবিতা সমগ্রঃ ৯
সুমন কুমার সাহু
হলদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ 

অদ্ভুদ জীবনের ছবি

আজি এ অদ্ভুদ জীবনের ছবি

আমি এঁকে চলি বারে বারে

জীবনের শত রঙ হাতে

তবুএ রঙে ডোবেনি

               -মোর তুলি 

 

যে ছবি এঁকেছি আগে

সে কবে ধুয়ে মুছে গেছে

তাই এঁকে চলি বারে বারে

জানি এও যাবে মুছে

          -এ জীবনের সাথে 

 

আমার এই অদ্ভুদ  ছবি

কবে গেছে মিশে জীবনের সাথে

শেষ হয়েও রয়ে যাবে সব ই

যদি কোনো দিন হাতে

             -তুলে নাও তুলি

 

শত রঙে রঙিও না

আমি যে শুধু তোমার রঙেতে রঙি

সে রঙ যদি না দাও তুমি

হতে প্রস্তুত আমি

           -অদ্ভুদ জীবনের ছবি।

 

বৃষ্টি ভেজা মন

বৃষ্টি ভেজা মন যে আমার

শুধু তোমাকেই চায়

থমকে দাঁড়ায় জীবন পথে

কখন বৃষ্টি থেমে যায়।

 

জমে ওঠা অভিমানী মেঘ

ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ঝরে

কখন ও আবেগ ঝড়ো হয়ে

মুষল ধারায় কাঁদে।

 

তবু এ বর্ষায় মন

ভরসা রাখে প্রাণে

প্রেমের বন্যা বয়ে

তুমি আবার আসবে ফিরে!

উষা

বহুদিন পর আজ

মিশেছে কলম

সাদা নির্জীব কাগজে

সজীব সতেজ মন

উধাও চোখের ঘুম

-জেগে রোই তন্দ্রা আচ্ছন্নে

 

নির্মম শানিত

কলমের ধার

কেটে চলে বুলি খাতার 'পরে

ওই বুঝি ভোর হলো

ওই বুঝি উঠলো রবি

-মন পড়ে রয় জানালার ধারে

 

রাতের এই অন্ধকারে

মোমবাতি গলে চলেছে

ধীরে ধীরে নিঃশব্দে

ভোরের আলো ওঠার আগে

যদি যায় নিভে

-কলমের নিপিড়ন যাবে বুঝি থেমে

 

মনের এই দ্বন্দ খেলা

কলমের ছুটে চলা

একদিন যাবে থেমে

হয়তো সেদিন ঘুমিয়ে যাবো

মিলিযে যাবো অথৈ জলে

-চোখের বালি মিশে।

তীরের খোঁজে

একলা মনের রাত্রি কাঁদে

হায়েরে ভালবাসা

গভীর চোখের সরোবরে

ঝিলমিল আলেয়া।

 

পলক ফেলে মুক্ত ঝরে

শোকায়ে গভীর নিশ্বাসে

আকাশ কালো ঘন মেঘে

এখনো বুকের মাঝে।

 

কাটছে সময় ভাঙছে ঢেউ

ভালবাসার তীরে

অথেই জলে আমার কেউ

রয়েছে তীরের খোঁজে।

 

একলা মনে

তোমার কথা ভাবলে পরে

জল আসে চোখে

বুকের ভেতর শুন্য লাগে

একলা মনের মাঝে।

 

রয়েছো তুমি তোমায় নিয়ে

আমার থেকে দুরে

নেমে আসো দুগাল বেয়ে

তোমায় ভাবলে পরে।

 

বুকের মাঝে মেঘ হয়ে

থেকো চিরতরে

ভালোলাগার স্বপ্ন ধুয়ে

বৃষ্টি নামাও চোখে।

 

 

তুমি

তুমি আমার ভোরের আকাশ

স্বপ্ন মাখা দিন

তুমি আমার ঘুম ভাঙা চোখ

অনুভুতি দূরবিন।

তুমি আমার মেঘলা হাওয়া

বিদ্যুত ঝলকানি

তুমি আমার দুরন্ত রোদ্দুর

আলোক সন্ধানী।

তুমি আমার গোধূলির সুর

সন্ধ্যা রজনী

তুমি আমার রাতের তারা

মিটিমিটি লজ্জবতী।

তুমি আমার হৃদয়ের স্পন্দন

শব্দ সৃজনে

তুমি আমার জীবন কথা

কবিতা তোমাকে।

 
কবিতা সমগ্রঃ ৯
ঈপ্সিতা মন্ডল 
ওয়াটারলু, অন্টারিও, কানাডা

মাটির টানে


বাদল ঝরা দিনের শেষে মেঘবালিকা এসে,
বললে আমার কানে কানে, বললে আমায় হেসে,
`আসো যদি আমার সাথে ওই পাহাড়ের চূড়ায়,
তোমায় নিয়ে উধাও হব পাগল মেঘের ভেলায়;
রামধনুকের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে শেষে,
হাজির হব আমরা দু'জন ইন্দ্রদেবের দেশে;
শোক-দুঃখ-আঘাত-ব্যথা নেই তো সেথায় কিছু,
সারাটা দিন কাটিয়ে দেব মেঘের পিছু পিছু!
সূর্যদেবের রথে চড়ে ঘুরব সারা আকাশ;
কিংবা নেব মনের সুখে পারিজাতের সুবাস।
তোমার তরে নদীর তীরে রইব অপেক্ষায় –
পক্ষীরাজে উডিয়ে নেব একটি লহমায়!'
মেঘবালিকার কথা শুনে সইল না আর তর, –
রাঙামাটির পথটি বেয়ে চললেম নদী-চর।

গোধূলিবেলার আকাশ তখন খেলছে রাঙা সিঁদুর; –
এমন সময় শুনতে পেলেম করুণ বাঁশির সুর!
সে যে আমার রাখাল ছেলে – ডাক দিয়েছে আমায়, –
তারে ছেড়ে যাচ্ছি আমি কোন সে সুখের আশায়?
সেই তো আমার ইন্দ্রধনু, সেই তো আমার পারিজাত,
তারই স্পর্শে ভুলব সকল শোক-দুঃখ-আঘাত;
তার মধুর হাসি ভাসাবে মোর জগৎ-পারাবার,
তার বাঁশির সুরে দেব পাড়ি তিন-ভুবনের-পার!
ছুটব দু'জন হাওয়ার সাথে তেপান্তরের মাঠে;
সাঁঝের বেলা কাটবে মোদের কাজলাদিঘির ঘাটে; –
কাজলাদিঘির কালো জলে দেবে তখন ধরা,
স্বর্গলোকে আছে যত চন্দ্র-গ্রহ-তারা! 

তুষারদেশে


বৃষ্টির টুপটাপ নয়,
শুধুই নিঃশব্দে ঝরে যাওয়া,
প্রকৃতি যেন সাদা-কালো ক্যানভাস --
সূর্য-মেঘ আঁকে আলো-ছায়া।
মেতে যখন ওঠে পাগল হাওয়া
সে স্তব্ধতা হঠাৎ ভেঙে যায়;
ধূসর কালির আবছায়াতে মুড়ে,
সব কিছু সে উড়িয়ে নিতে চায়! 

তারই মধ্যে দুর্দমনীয় মানুষ,
চলেছে তার দৈনন্দিন কাজে;
শৈত্য প্রবাহ হোক না যতই প্রবল
অকর্মণ্য স্থবিরতা কি সাজে ?
অসহায় হয়ে থাকেনি সে বন্দী,
হিমেল হাওয়ার কঠোর নাগপাশে;
প্রকৃতিকে তার নিজের করে নিয়ে,
জয় করেছে নিতান্ত অনায়াসে।

সুবিস্তৃত তুষার ক্ষেত্র মাঝে
যন্ত্র পায়ে বরফের বুক চিরে,
দাপিয়ে বেড়ায় প্রবল উল্লাসে
পাখির মত হাওয়ায় ভর করে!
বরফ জমা শীতল ঘেরাটোপ
হয়েছে তার গতির মাধ্যম, --
হার-না-মানা প্রাণশক্তির কাছে
কিছুই যেন নয় আর দুর্গম।

সাদা-কালো


জানালা দিয়ে চাইলেই দেখা যায় --
বিস্তীর্ণ প্রান্তর, সাদা বরফে ঢাকা;
তারই কোণে ক'টি পর্ণমোচী বৃক্ষ,
বরফের পরতে মোড়া তাদের কৃষ্ণবর্ণ শাখা ।

মধ্যেমধ্যে সে প্রলেপ ঝরে পড়ে,
উস্কানি দেয় তীব্র হিমেল হাওয়া;
খামখেয়ালী ভাঙন যেন ছোট্ট সাদা প্রাচীরে;
ভ্রুক্ষেপহীন কাঠবিড়ালীর ক্ষিপ্র আসা-যাওয়া।

মাঠের অন্য প্রান্তে চোখে পড়ে,
সগর্বে মাথা উঁচিয়ে গগনচুম্বী আবাসন;
বেড়ার গায়ে মোটরগাড়ির সারি,
তাদের দেহেও সাদা বরফের পুরু আস্তরণ।

এরই মাঝে আবার শুরু হয়
দমকা হাওয়া,নতুন তুষারপাত;
তুলোর পরতে আবার ভরতে থাকে
সযত্নে সাফ করা আবাসন-ফুটপাথ।  

 

অনুভব

ধূলি-ধূসর আঁধার রাতে,
দেখা হল তোমার সাথে;--
জাদুর কাঠি মনের ছোঁয়ায়
ভেসে গেলেম মাতাল হাওয়ায়;
চেয়ে দেখি, 'একি হল?'
আঁধার রাত মিলিয়ে গেল!”
সপ্তরঙের রামধনু ভোর
এঁকে দিলে দুই চোখে মোর!
তোমার আলোর অমলধারা
ভাঙল বুঝি রুদ্ধ কারা,
শুনতে পেলেম পাখির কূজন,--
ছিঁড়ল শিকল টুটল বাঁধন;
দুঃস্বপনের সুপ্তি শেষে
এলেম যেন হাসির দেশে!
জগৎজোড়া খুশির মাঝে
নিজেকে আজ পেলেম খুঁজে।

আজকে আমায় ডাক দিয়েছে
সাগরপারের দিগন্ত,--
আজকে আমার মনের মাঝে
চিরনবীন বসন্ত;
আজকে আমি মুক্ত পাখি
বাধা-বাঁধন ছাড়া,
আজকে আমায় স্বপ্ন দেখায়
দূর আকাশের তারা;
আজকে আমার মনের কথা
শঙ্খ-চিলের পাখায় পাখায়
নীলাম্বরের বক্ষপটে
মেঘের ভেলায় ভেসে বেড়ায়!
তোমার স্নিগ্ধ করস্পর্শে
সাজল জগৎ নতুন সাজে,
আজকে তোমায় আপন করে
পেলেম আমি নিজের মাঝে।


স্বপ্নের ভোর

দীপ্ত সূর্য বাজাও তূর্য ঘুচাও কুজ্ঝটিকা,--

আর যেন মোরে ডরাতে না পারে আঁধারের বিভীষিকা;
হে প্রভাকর দাও এই বর তব মঙ্গল আলোকে,
অন্ধ-তমসা দুখের অমানিশা না রহে এ ধরালোকে;
হে জ্যোতির্ময় করিবারে জয় মিথ্যার কালরাত্রি,
ঘুচাও মূঢ়তা জাগাও দৃঢ়তা কর সত্যের যাত্রী।


যেদিকে তাকাই ধূসর কালো,
দিকে দিকে শুধু নিবিছে আলো,--
হে দেব, পুনঃ প্রদীপ জ্বালো
অন্ধ হৃদয়-গহ্বরে;
চক্ষু মোদের স্বপ্ন-বিভোর :--
আসবে কি সেই 'স্বপ্নের ভোর'?
গুনগুনিয়ে উঠবে ভ্রমর
রুক্ষ মনের কন্দরে!
উদিত হও হে নবারুণ,
ছড়াক ধরায় অরুণ কিরণ,
ঊষার আলোয় 'সোনার বরণ'
প্লাবিত হোক ধরিত্রী;
হিংসার আজি হোক পরাজয়,
পুষ্পের রঙে রাঙুক হৃদয়,
মানবজীবনে হোক অক্ষয়
প্রেম-ভালবাসা-মৈত্রী।

 

 

স্বপ্ন ছিল

স্বপ্ন ছিল বুকের মাঝে

যত্ন করে গাঁথা;
স্বপ্ন যে হায় পাখির মত
যায় কি তারে বাঁধা?
ভেবেছিলেম সোনার খাঁচায়
শিকল দিয়ে ধরে
রাখব তারে সারাজীবন
কেবল নিজের করে!
মুক্ত পাখি গায়ের জোরে
বন্দী করা যেই
বদ্ধ হলেম নিজেই যেন
সেই কারাগারেই;
'লালন করা স্বপ্ন তুমি
বাঁধন হয়ে শেষে
এলে আমার জীবন জুড়ে
দুঃস্বপনের বেশে?
কেন তবে এমন করে
চেয়েছিলেম তোমায়?
দুলিয়েছিলে হৃদয় কেন
এমনি দুরাশায়?'

উড়িয়ে দিলেম বন্দী পাখি
মুক্তি পাওয়ার আশায়,
কঠিন কঠোর বাস্তবেতেই
যুঝতে হবে আমায়;
থাক না পাখি বনের মাঝে
থাক না অমনি ছাড়া -
জানলা দিয়ে দেখব তারে
নাই বা দিল ধরা?
ভালবেসে নিজেই যদি
আসে আমার তরে,
বরণ করে নেব তখন
নেব আপন করে।

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?