পায়ে পায়ে - ১ 

  • পিংলা

  • ইয়েলবং 

  • টেমি টি গার্ডেন 

  • কাকিনাড়া-হোপ আইল্যান্ড 

  • জুম উপত্যকা 

  • আলগড়া কালিম্পং

  • কুমাই 

  • বরাডিহ

  • ঝিলিমিলি, সুতান

  • শ্রিবাদান

  • সিংগি

  • কোয়েল

সহযোগিতা ঃ সঞ্জয় গোস্বামী

 

পিংলা...

     উইকেন্ড ট্যুর এ 'পিংলা'। যাকে বলা হয় 'The Land of Motifs'। একটু ভিন্ন স্বাদের ভ্রমনের স্বাদ নিতে চলে যান পিংলা। পিংলা বিখ্যাত তার পটচিত্র এর জন্য, যদিও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পটের সাথে অন্যান্য ঘর সাজাবার সামগ্রী ও তৈরি হচ্ছে ঘরে ঘরে। পিংলার নয়াগ্রাম জুড়ে প্রায় ২৫০ পটুয়ার বাস। বংশ পরম্পরাগত ভাবে তারা পটশিল্পী। নভেম্বর মাসে মেলাও বসে পিংলায়, পুরো গ্রাম রঙিন হয়ে যায়, চোখ জুড়ানো তার প্রভাব। ২০১৬ তে ১০-১২ ই নভেম্বর মেলা বসে। পিংলার সাথেই ঘুরে নিতে পারেন সবং, যেখানে মাদুর শিল্প খুবই বিখ্যাত।

কি ভাবে যাবেন...

     হাওড়া থেকে সাউথ ইস্টার্ণ লাইন এ খড়গপুর, মেদিনীপুর বা বালিচক লোকাল ধরে বালিচক নামুন। থেকেই বাস ধরে চলে যান পিংলা, খুব বেশী দুর নয়। গাড়ী নিয়ে গেলে এন-এইচ ৬ ধরুন, ডেবরা থেকে বাম হাতের রাস্তা ধরে বালিচক, সেখান থেকে আরো ২০ কিমি।

কোথায় থাকবেন...

থাকার জন্য Community Resource Center এর দুটো Double bedded non AC rooms আছে। মোটামুটি ছিমছাম। Contact  033-241-78516

ছবি সৌজন্যে: Dreamstime.Com

বড় করার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন...

ইয়েলবং.. 

ঘুরে আসুন ইয়েলবং। পকেট ফ্রেইন্ডলি ট্রাভেলিং এর আদর্শ ঠিকানা ইয়েলবং।সাথে চুইখিমটাও জুড়ে নিতে পারেন। কলেজ স্টুডেন্ট থেকে আন-ইম্পলয়েড অথবা ট্রাভেলার দম্পতিদের জন্য সেরা ঠিকানা ইয়েলবং।আরেকটা তথ্য দিয়ে রাখি ইয়েলবং, চুইখিম এসব জায়গাতে কিন্তু খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। না, ঘাবড়াবেন না। সমস্যা একটাই লোকাল অথরিটি কিন্তু মাতলামি একদম পছন্দ করে না। আপনার আনন্দ এক নিমেষে নিরানন্দে পরিণত করতে এরা সিদ্ধহস্ত।  

অনেকেই শিলিগুড়ির কাছেই দু-তিন দিনের জন্য পাহাড়ি গ্রামে কাটাতে চান।তাদের জন্য ইয়েলবং আদর্শ জায়গা। শিলিগুড়ি থেকে ঘন্টা দু-এক-এ পৌছে যান প্রকৃতির স্বর্গ রাজ্য ইয়েলবং-এ। বাগরাকোট মোড় থেকে বাম দিকে পথ গেছে ইয়েলবং, চুইখিম, নিমবং, চারখোল এর দিকে। এই চারটে-কে নিয়েও এক অনবদ্য সার্কিট ট্রিপও করে নিতে পারেন।ইয়েলবং থেকে বা হয়ে বেশ কয়েকটা ট্রেকিং রুট ও গড়ে তোলা হয়েছে। আরেকটা দারুণ তথ্য হল আমরা অনেকেই আমেরিকার ওকলাহোমাতে রবারস কেভ এর নাম শুনেছি, যা আমাদের দেরাদুনেও একটি আছে। অনেকেই জানেন না, ইয়েলবং-এও আপনি রবারস কেভ এর স্বাদ নিতে পারেন। ইয়েলবং এর সুর্যাস্ত ও মনোগ্রাহী। পীঠে একটা ছোট্ট ব্যাগ ঝুলিয়ে যারা পাহাড়ি গ্রামের জীবন, ছোট্ট ঝোড়া, পাহাড়ের দিনলিপি প্রত্যক্ষ করতে চান, তাদের জন্য ইয়েলবং কিন্তু আদর্শ। ইয়েলবং গড়ে তোলার জন্য 'হেল্প টুরিজিম' এর রাজ বাসুর ভুমিকা অনস্বীকার্য। বেশ কয়েকটা হোম-স্টেও গড়ে উঠেছে ইয়েলবং এ। পকেট ফ্রেইন্ডলি প্রায় সব কটাই।
 

কোথায় থাকবেন-ঃ 

Gopal's Homestay: Call 947-596-2535
Nima Lodge:          Call 963-536-3373
Sharam Lodge:      Call 947-575-7621 or 947-621-7303
Bijoy Lodge:          Call 959-399-4347

সব কটাই হোম-স্টে কিন্তু বেশ পরিচ্ছন্ন।

টেমি টি গার্ডেন হোম-স্টে 

সিকিমের টেমি টি গার্ডেন নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। টেমিতে থাকতে হলে লোয়ার টেমিতে 'টেমি কুঠি হোম-স্ট তে থাকুন। দুরন্ত সার্ভিস। দারুণ ফিডব্যাক। লোকেশন ও বেশ। তবে অনস্বীকার্য কোন মতেই  টেমি টি রিসর্ট এর মত নয়। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, বেশ ভাল ব্যবস্থা। লজিং ৮০০/- টাকা প্রতিজন, প্রতিদিন। খাবার ব্যবস্থা - ভিজিটেরিয়ান ৩৫০/- টাকা প্রতিজন (প্রতিদিন)। নন-ভেজ হলে ৪৫০/-। 

যোগাযোগ ঃ আকাশ প্রধান - 08348775543

 
 

কাঁকিনাড়া-হোপ আইল্যান্ড-করিংগা স্যাংচুয়ারী-পুলিকট লেক- নেল্লর

চলুন যাই ডিসেম্বর এ। প্রথমে কাকিনাড়ার Haritha Beach Resort Book করে ফেলুন দু থেকে তিন দিনের জন্য। তার পর Hotel Rishi Garden (09940626560), Nellor দু দিনের জন্য। Kakinara যাওয়ার ট্রেন প্রায় ১৪টি কলকাতা থেকে, আপনার সুবিধামত বুক করে নিন, ফেরার টিকেট হোক চেন্নাই থেকে।

কাকিনাড়া পৌছানোর আগেই AP Tourism এর Coringa forest Trip টা বুক করে ফেলুন, কলকাতা থেকেই 09848040060 / 09440079797।

কাঁকিনাড়া পৌছে Hope Island-টা ঘুরে নিন। অনবদ্য এই হোপ আইল্যান্ড। সেদিনটা ফিরে বিশ্রাম নিন। পরের দিন চলুন Coringa Forest কাঠ দিয়ে বাঁধানো Canopy Walk তাও আবার Mangrove Forest এ। বেশ রোমাঞ্চকর।

তার পরের দিন কাঁকিনাড়া থেকে ট্রেন ধরে চলে আসুন চেন্নাই বা নেল্লোর। যদিন চেন্নাই হয় তাহলে স্টেশন থেকে নেল্লোরগামী বাস ধরুন। হোটেল এ গিয়ে সেদিনটা বিশ্রাম অথবা সেদিনই ঘুরে নিন টাডা ফলস এবং নেল্লোর বিচ। পরের দিন রাখুন পুলিকট লেকের জন্য। ডিসেম্বরে কিন্তু পুলিকট অপরূপা হয়ে ওঠে মুলত Flamingo সহ বিভিন্ন পরিযায়ী পাখিদের জন্য।পরের দিন চেন্নাই ফিরে ফেরার ট্রেন ধরুন, চেন্নাই এজন্যই বল্লাম ট্রেন এর অপশন অনেক বেশী।

ট্রিপটা তে দুজনের প্রায় ২৬,০০০ - ২৮,০০০ খরচ হতে পারে স্লীপার ক্লাস টিকেট ধরলে। গ্রুপ এ গেলে গাড়ি ভাড়া কমে যাবে, সেক্ষেত্রে প্রায় ১০০০০ থেকে ১১০০০ মাথা পিছু খরচ। আরেকটা প্ল্যান পুলিকট ট্রিপ বাদ দিয়ে কাঁকিনাড়া থেকে বিজয়ওয়ারা আসুন, দুদিন সুর্যলংকা বিচ এ কাটান। বাড়ি ফিরুন।

ছবি সৌজন্যে AP tourism এবং Google

 

জুম উপত্যকা - পশ্চিম সিকিম

জোরথাং পার হয়ে, গাড়ী উঠতে থাকে পাকদণ্ডী বেয়ে, আসতে আসতে ভ্যালীটা চোখে ভাসতে থাকে, মিনিট কুড়ি পরেই আসে প্রথম গ্রাম জুম।চারিদিকে ছড়িয়ে সব্জির দোকান। চোখ জুড়ানো রং এর সমাহার। রাই সরষে থেকে গাজর। বাম দিকে একটা ছোট্ট সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসুন। সামনেই জুম ভ্যালী ভিউ হোমেস্ট, ছিমছাম, সাজানো গোছানো। ৩৬০ ডিগ্রী জুড়ে হিমালয়ের অতল আহবান। অসাধারন Sunrise View এর উঠোন এ বসেই স্বাদ নিন। দুরে জোরথাং ভ্যালী চিল দর্শন এ লুটে পুটে নিন। বিকেলে ওই সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসুন, রাস্তা ধরে কিছুটা হাঁটলেই দারুন এক পাহাড়ি ঝরনা। জুম এর সাথেই জুড়ে নিন শ্রিবাদাম। Eshob Homestay পশ্চিম সিকিমকে আবিষ্কার করুন একটু অন্য মাত্রায়।December End এ বা January-1st week এ আসলে জুম হয়ে ওঠে কমলা উদ্যান। চারিদিকে তখন কমলালেবুময়। ১০ই জানুয়ারি Orange Festival-ও হয়। Share এ চলে আসুন জোরথাং অবধি, তারপর হি, বারমিওক, কলুকগামী যে কোন share গাড়ী ধরে নামুন জুম-এ। খুব কম খরচায় হয়ে যাবে। একটা দারুন খবর দেই, পশ্চিম সিকিমের এই অঞ্চলে ই দেখা পাওয়া যায় পিকার, Scientific Name 'Ochotona sikkimaria', খরগোশ আর ইদুরের মিশ্রিত রূপ, ভাগ্য ভাল থাকলে আপনার সাথে আলাপ হতেই পারে। 

Contact করুন এই নং এ - 08170948458

খরচ 1000/day/head including Breakfast and Dinner। 

Lunch এর খরচ আলাদা।

 
 

আলগড়া - মেঘের রাজ্য

মেঘের রাজ্য আলগড়ায় (Algarah, Kalimpong, Tiny Hamlet, cradled in the laps of Eastern Himalayas)।

কালিম্পং এর অনতিদুরেই রামধুরা, মানখিম, সিলেরী, ইচ্ছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও আলগড়া ধীরে ধীরে পর্যটকদের মনে জায়গা করে নিচ্ছে।পাহাড়ের ঢালে মেঘের দোল, ছোট্ট জনপদ, পাহাড়ি Ridges N Furrows এর কোলাকুলি, সংগে যদি চান সিল্ক রুটের ট্রিপ, Delo, Kalimpong Shightseeing সবই সম্ভব এই আলগড়া থেকে। এই হোমেস্ট থেকে খোপ্পিদাড়া ট্রেক (৩০ মিনিটে) করে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং Sunrise এর দৃশ্য মনে দাগ কেটে যাওয়ার মত। ট্রেকিং রুট-টাও কিন্তু বেশ। থাকার জন্য খুব বেশী হোমস্টে এখন ও গড়ে ওঠেনি। তবে তাদের মধ্যেই সেরা দাদুল হোমেস্ট। তবে যদি একটু খরচ কমাতে চান তো সেরা Golay Homestay, Contact Person -  Ritu Golay +91 99334 08667

ভীষন পরিচ্ছন্ন এবং ছিমছাম। খরচ 800/day/ head, থাকা খাওয়া সহ।
NJP থেকে গাড়ী ভাড়া ৩৫০০,কালিম্পং থেকে ১০০০
আলগড়া আরেক সিলেরী, ইচ্ছে হওয়ার আগে ঘুরে নিন।

কুমাই

গুরুমারা যখন আরেক দীঘায় পর্যবসিত, ঠিক তখনই অবহেলায় দিন গোণে চাপরামারী।আমার কাছে গরুমারার থেকেও আকর্ষক চাপরামারী। এই চাপরামারীর পাশেই কুমাই।দুরে ভুটান পাহাড়, বহতা তিস্তা, অনবদ্য Sunset এবং Sunrise view। চা বাগানের Trail ধরে ছোট্ট ছোট্ট ট্রেক।পাখির কিচির মিচির সারা দিনভর। আর Bijoy Thapa এবং তার পরিবার এর Hospitality। বিজয় দাজু প্রাক্তন সেনা বাহিনীর কর্মী। অসম্ভব ভাল ব্যবহার। উনিই কুমাইকে প্রথম আমাদের সামনে তুলে ধরেন। কুমাই নিউ ম্যল জংশন থেকে মাত্র ৩৫ কিমি। এখান থেকেই ঘুরে নিতে পারেন ঝলং, বিন্দু, পারেন, গরুমারা, চাপরামারী, সামসিং, সুনতালেখোলা সহ ডুয়ার্সের এর বেশ কিছু জায়গা। দুটো দিন থাকুন, নিরাশ হবেন না। আর হ্যাঁ, তিস্তা কিন্তু কাছেই, সকালে দুটো ঘন্টা ওনাকে কিন্তু দিতেই হবে।

Contact : Bijoy Thapa 9475911125
1300/day/head inclusive of all meals

 

বরাডিহ

চলুন এবার বরাডিহ।

বাঁকুড়া থেকে ৬৬ কিমি এবং ঝাড়্গ্রাম থেকে ৬০ কিমি দুরে গড়ে তোলা হয়ে প্রকৃতি বীক্ষণ এর অনন্য স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।। সামনে বয়ে চলা কংসাবতী, পাথুরে ল্যান্ডস্কেপ, ওপারে ঘন জঙগল, লাল মাটি আর কি চাই??

Baradih village resort এ মোট দশটি কটেজ গড়ে তোলা হয়েছে অসম্ভব সুন্দর অবস্থান এ, Tariff 2500.. শুধু থাকার জন্য।।

Bankura অথবা Jhargram স্টেশন এ নেমে গাড়ি ভাড়া করতে হবে।। সময় লাগবে দেড় ঘন্টা প্রায়।।

যোগাযোগ করুন বুকিং এর জন্য

অরিজিত 89022 32559

ঝিলিমিলি, সুতান

চলুন যাই ঝিলিমিলি, সুতান।

অনেক তো মুকুটমনিপুর হল, এবার চলুন ঝিলিমিলি, সুতান।। বাঁকুড়া থেকে ৩৫-৪০ কিমি দুরে জঙগল মহলের হাতছানি।। অসং্খ্য Elephant corridors, ড্যাম,লেক,লালমাটি র আহবান, সাথে শাল,মহুয়া, পলাশের লুকোচুরি রোদ্দুরের সাথে।।।

বাঁকুড়া চলে যান ট্রেনে, তারপর ওখান থেকে গাড়ি বা বাস।।

ঝিলিমিলি এরকম কেন নাম হল এনিয়ে অনেক তত্ত্ব,কেউ বলে লেক এর জলে চাঁদের আলো তে ঝিলিমিলি করে, কেউ বলেন পাথুরে মাটির অভ্র তে রোদ পড়ে ঝিলিমিলি করে, যাইহোক মনে র কোনে ঝিলিমিলি করলেই যথেষ্ট।।

কোথায় থাকবেন?

রিমিল লজ, "রিমিল " ... কথার মানে জানেন?..... "মেঘ"।।। এই লজ বহু পুরানো।। মাঝে মাওবাদী সমস্যায় বন্ধ ছিল।।। এখন আর ও expansion চলছে।। ডিসেম্বর এর মধ্যে আর ও কটেজ এবং Tree house তৈরী হয়ে যাবে।। Tariff 800-1800.. শুধু থাকার জন্য।।

কোথায় যাবেন?

যাওয়ার জায়গা অনেক তবু দু -তিন দিনের ট্রিপ এ যেগুলি ঘুরতে পারেন

তালবেড়িয়া লেক, লালজল হিলস ও ফরেস্ট,ময়ুর ঝরনা ও ফরেস্ট, বেলপাহাড়ী ও কাঁকড়াঝোড়,বিপ্লবী ক্ষুদিরাম এর সমৃতি সম্বলিত ছেঁদা পাহাড়, ভালু ড্যাম, সুতান ফরেস্ট ভিউ,বারো মাইল ফরেস্ট ভিউ পয়েন্ট, খন্ডরানী লেক।।

সব ই ৮-২৫ কিমি র মধ্যে।।

Contact Person

অরুন বাবু 
9434202485
8900605423 ( whatsapp), for more details please call him.

শ্রিবাদাম

শান্তির খোঁজে শ্রিবাদাম।।

নাগরিক ক্লান্তি ভুলতে চান? শরীর ও মনের Rejuvenation দরকার?? দু তিনটে দিন কোলাহলপূর্ণ সভ্যতা থেকে দুরে থাকতে চান? ঘুরে আসুন পশ্চিম সিকিম এর অনাঘ্রাত গ্রাম শ্রিবাদাম।। NJP থেকে ১২৯ কিমি দুরের এই গ্রাম বৌদ্ধ দের কাছে খুব পবিত্র এক জায়গা, জংগল,ঝরনা,Organic farming, Monastery, পাহাড় বেয়ে দিগন্তরেখা, সহজ গ্রাম্য জীবন সবের এক মেলবন্ধন এই শ্রিবাদাম।।।

কি কি করতে পারেন?

শ্রিবাদাম থেকেই ঘুরে নিতে পারেন পশ্চিম সিকিম এর সমস্ত গুরুত্ববাহী স্থান গুলি, Jungle hiking, village hiking তো আছেই এছাড়া ট্রেক করে ৫ ঘন্টায় পৌছে যেতে পারেন রডোডেন্ড্রন স্যাংচুয়ারী ভারসে।। নামুন হিল্লে হয়ে অর্থাৎ আপনি এভাবে প্ল্যান করতে পারেন দুদিন শ্রিবাদাম কাটিয়ে তৃতীয় দিন ভারসে উঠে নেমে ওখরে থাকুন।। ফলে বেশ বৈচিত্র্যময় ট্রিপ হতে পারে।।

থাকার জন্য???

Eshab homestay.. keshang এর hospitality যারা পেয়েছে তারা কোনদিন ভুলতে পারবে না।।Keshang এর বয়স মাত্র ২৪, কিন্তু এই বয়সেই ও শ্রিবাদাম নিয়ে অনেক কিছু ভেবে চলেছে, কিভাবে প্রকৃতি, সংস্কৃতি রক্ষা করা যায় এনিয়ে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।।।একবার গিয়ে নিজে চোখেই দেখে আসুন Keshang এই বয়সেই কি করে চলেছে।।।আপনারাও ওর এই যুদ্ধে সামিল হতে পারেন।।।

খরচ 1200/day/ head.. inclusive of all meals.. contact +91 78728 93020

( একটা কথা জানিয়ে রাখি, সাউন্ড সিস্টেম চালিয়ে নাচ গান, বা মদ্যপান করে চিৎকার, চেঁচামেচি র জায়গা কিন্তু শ্রিবাদাম নয়।।ও কিন্তু এধরনের বুকিং নেয় না)...

চিত্র সৌজন্যে Keshang..

সিংগি

দিপাবলী তে সিংগি ভ্রমন।।( for booking contact samrat +91 70447 91436)

দুদিনের ছুটি, আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম,আবার সিংগি যাব।। এবারের মুল লক্ষ্য ছিল "অট্টহাস এ রাত্রিযাপন"।। গতকাল রাতে কেতুগ্রাম এ এক সংঘর্ষ এর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বেশ মুষরে পড়েছিলাম।। কিন্তু সম্রাট সব বুঝতে পেরে বলে উঠলো "দাদা অট্টহাস আমরা কাল যাবই, তার আগে চল তোমায় খাসপুর ঘুরিয়ে আনি সকালে"...যেমন কথা তেমন ই কাজ, সকালে লুচি, আলু কালোজিরে র তরকারী দিয়ে প্রাতরাশ নামিয়ে একটা টোটো তে চেপে বসলাম।।আসতে আসতে টোটোএগোচ্ছে, মোড়াম বিছানো রাস্তা ধরে... দুদিকে ধান,আখ, বেগুনের ক্ষেত, দিগন্তরেখা জুড়ে কখন ও কালো মেঘের ঘনঘটা তো কখনও বা শরতের নীল আকাশ সাথে পেঁজা তুলোর মত মেঘ, কিছু অংশে ব্রমহানী র জলে প্লাবিত ধান ক্ষেত।। বেশ কিছুটা যাওয়ার পর শুরু হল ব্রমহানী র সংগত, ডান দিকে এঁকে বেঁকে ধাবমান, মাঝে মোড়াম রাস্তা, বামে ধান ক্ষেত....জীবনানন্দ, কুমুদরঞ্জন এর বাংলা র জ্বলন্ত প্রতিচ্ছায়া।। সাপ্তাহান্তিক ভ্রমন মানেই কি শুধু পাহাড় আর সমুদ্দুর?? এক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন আমি।। এর উত্তর পেতে এই খাসপুর এ একবার তো আসতেই হত।। ভ্রমন এই সুজলা সুফলা বাংলার মাঠ ঘাটেও সম্ভব, তা হয়ত কাউকে বোঝাতে পারব না তবে সেই চেষ্টা আর করব না এনিয়ে আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলাম।।। দুপুরে ফিরে এসে কচি পাঁঠার ঝোল দিয়ে গরম ভাত, আর কি চাই?? ভাতঘুম এসে গেল, ছোট্ট করে একটা আরাম ঝিমুনি দিয়ে "অপারেশন অট্টহাস "।।।

বেশ কিছু দুরে গাড়ী রেখে অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা ধরে মন্দির মুখী রাস্তা, বেশ গা ছম ছমে একটা পরিবেশ, তন্ত্রসাধনা র এক অন্যতম পীঠস্থান এই অট্টহাস, মন্দির ছাড়িয়ে আরও আরও গভীরে প্রবেশ করতে লাগলাম,জংগল ক্রমেই ঘন হয়ে আসছে, পঞ্চমুন্ডতলা য় জ্বালানো মোমবাতি শিখা গুলি ক্রমেই ক্ষুদ্র হয়ে আসছে, দুরে চলছে তন্ত্র সাধনা, অমাবস্যা র রাতে সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।।। রাত বাড়ছে, চারিদিকে স্টর্ক দের মলের ঘ্রান, দুর থেকে শিয়ালের ডাক, ক্রমেই কাছে আসছে, নাহ এবার ফেরার পালা, অট্টহাস থেকে, কাল আবার ফিরব ধুলো ধোঁয়ার শহরে।। বিদায় সিংগি, আবার ফিরছি ডিসেম্বর এ, চুপির চর মুল লক্ষ্য, গতবার দেরী হয়ে যাওয়ায় ভাল স্পটিং হয়নি, এবার আর নয়।।।

ধন্যবাদ Samrat Yamaha Banerjee, hospitality কাকে বলে, এটা তোমায় দেখে বাকি Weekend destinations গুলির শেখা উচিত।।

কোয়েল

ঘুরে আসুন কোয়েল,কারো, কোয়নার দেশে।।

#Santoor_guest_house,Manoharpur

হাতে তিন চার দিনের ছুটি, কি করবেন ভাবছেন? কেটে ফেলুন ইস্পাত এর টিকেট, মাত্র ঘন্টা ছয়েক এ পৌছে যান মনোহরপুর।। স্টেশন থেকে কাছেই সন্তুর গেস্ট হাউস।।

কি কি করবেন?

পায়ে হেঁটে পৌছে যান কোয়েলের কাছে, অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ এক।। ব্রিটিশ দের তৈরী চার্চ, নীচ দিয়ে বহতা কোয়েল, পাশ দিয়ে রেল লাইন।। নদীর ওপাশে অনুচ্চ টিলা র ঢেউ, গায়ে তাদের পুঞ্জিভূত মেঘ।। বিকেলে গাড়ী নিয়ে ঘুরে আসুন সমীজ আশ্রম, যেখানে আপনি সাক্ষী থাকবেন কোয়েল, কারোর সঙ্গম এর, লাল কারো এসে মিশেছে কোয়েলের সাথে।। এ যাত্রার পথশোভা আপনি বহুদিন সমৃতি পটে তুলে রাখবেন।। ফেরার পথে আপনি দেখে নেবেন কোয়না, কোয়েলের সঙ্গম।। সন্ধ্যের আগেই ফিরে আসতে পারবেন।।

দ্বিতীয় দিন আপনি প্রথমে আপনি যাবেন,কোয়না নদীর কাছে, জংগলাকীর্ণ পথ ধরে, বেশ থ্রিলিং সে পথ, কুলু কুলু রবে কোয়না বয়ে চলেছে, ওপারে পাহাড়, নদী তীর ধরে রং বেরং এর পাথর।।এরপর যাবেন নাগাড়া মন্দির, যেখানে প্রায় 17 th century থেকে নাগাড়া কে দেবতা রূপে পূজা করা হয়।। মন্দির দেখে এবার চলে যান ঝিংরী জলপ্রপাত, অসাধারণ সে যাত্রাপথ, ঝিংরী জলপ্রপাত এর রূপ ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব, বন্য মায়াবী পরিবেশ ওরকম জলপ্রপাত এই দেশে আর নেই।। ঝিংরী দেখে ঘুরে আসুন কিরিবুরু, মাঘাতুবুরু।।

তৃতীয় দিন, আপনি যাবেন মোহময়ী থলকোবাদ, সারান্ডা র gateway... জংগল, ঝরনায় মনোহরা সারান্ডা

চতুর্থ দিন ঘুরে আসুন রোয়াম, অসাধারন এক জায়গা রোয়াম, নদীর ধারে কোয়ার্টজ পাথর দেখে মন নেচে উঠবেই।।

কিভাবে যাবেন?

সকালে হাওড়া থেকে ইস্পাত ধরুন, অথবা রাতে সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেস যেটা পৌছে যায় ভোর চারটে তে।।

সন্তুর গেস্ট হাউসে ঘর গুলি" বেসিক" কিন্তু ভীষন পরিচ্ছন্ন, চাদর থেকে পিলো কভার বেশ পরিষ্কার।। খাওয়া দাওয়া heavenly.. তবে সনাতনী বং রান্না বান্না।। অন্ন রকমের চাহিদা থাকলে কিন্তু এখানে পাবেন।।।আর আতিথেয়তা যা পাবেন তা Unparalleled..

খরচ - 1800/head/ day..inclusive of all meals..

গাড়ী ভাড়া - 2500/day, scorpio..

ছোট ট্রিপ - 1200/day, magic van..

contact person - S. Bhattacharya 9820128389

Sanat sarkar - 8521111016

Durgapur expressway ধরে যেতেই সিংগুর পার হতেই মোরাম পথের ধারে সাজানো সারিবদ্ধ তাল গাছ, প্রতিবার ই পাশ কেটে যাওয়ার সময় ভাবি যে নেমে একটু দাড়াবো, এবার সেই ইচ্ছাপূরণ হল।।।

কালনা অভিযান

যেখানেই যাই কালনার উপর দিয়ে ফেরার সময় ১০৮ শিব মন্দির চত্ত্বর না গিয়ে ফিরতে মন চায় না।।।তাই আজ ও যথারীতি.....

Dovan

চলুন যাই Dovan। অনেক তো হল রেশিখোলা সিল্ক রুট থেকে ফেরার পথে অনেকেই রেশিখোলা হয়ে ফেরেন, এবার আর নয়, এবার থাকুন রোরাথাং এর Kannan valley homestay তে।।। রেশি আর রংপো র conflunce এ পাহাড়ের ঢালে গড়ে উঠেছে এই হোমস্টে।। শুধু সিল্ক রুট গেলেই কেন, শুধু দোভান এই তিন চার দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়, নদী র জলে গা ভাসিয়ে,হাল্কা ট্রেকিং, মাছ ধরে, নদীর চরে আড্ডা মেরে।।। এছাড়াও আছে বহুবিধ Activities...

NJP নেমে SNT Bus stand থেকে Rungpo র গাড়ী ধরুন।। Rungpo নেমে এবার Rorathang এর shared vehicle dhorun, ২৫-৩০ মিনিটে পৌছে যান দোভান।।।

খরচ? 900/day/head inclusive of all meals...

contact Joyce Rachel Tamang or Lazarus Tamang

9932386689/7076697449/9609953859

pic courtesy Santanu Banerjee and Joyce Rachel Tamang

বেলুন এর দিন রাত্রি।।

কালো পিচ রাস্তা দুই ধারে সবুজ ধানের ক্ষেত ধরে ছুটে চলেছি।। গন্তব্য বেলুন ইকো ভিলেজ।।দুপুর গড়িয়ে প্রাক বিকেল এ পৌছে গেলাম স্বপ্নের Weekend spot বেলুন ইকো ভিলেজ।।। ছোট্ট ছোট জলাধার তাতে ভেসে বেড়াচ্ছে শৈবাল থেকে ভেটকি, রক্তিম আলো আর মাথা তুলে থাকা তালের সারি আল্পনা কেটে যাচ্ছে জলাধারে।। ঘরে ঢুকতেই মনে দাগ কেটে গেল।।চমকে গেলাম বাথরুম এ ঢুকে।। একটা কচু গাছ কলাবউ এর মত দাঁড়িয়ে।। জগদীশ বাবু প্রান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাই একটু লজ্জা ই হল অবলা কচু গাছ দর্শনে।। বাথরুম তো যেন ইকো স্টুডিও।। রির্সট এ প্রবেশের সাথে সাথে অজয় হাসি মুখে নেমে এসে আমাদের ওয়েলকাম জানাল।।। ভীষন বিনয়ী এই যুবক ও Biodiversity conservation এর সাথে যুক্ত।। চা দিয়ে শুরু হল দীন যাপন।। চা খেয়ে অজয় এর কাছে শুরু হল বেলুন এর Biodiversity র পাঠ।। বিভিন্ন ধরনের পাখি র সাথে পরিচয় এর সাথে Fishing cat,Jungle cat দের Habitats নিয়েও পর্যালোচনা।।। অজয় এবার বলে উঠলে "চলুন দাদা নদীর ধারে "।। শিবাই বয়ে চলেছে আপন খেয়ালে, জল একটু কম কিন্তু তাতেও তার আন্তরিকতার অভাব নেই।। নদী খাতে নেমে ভাবছিলাম বর্ষার সেই ভয়াবহতা কে একবার চ্যালেঞ্জ জানাব কিনা।। দিন শেষ হচ্ছে, পশ্চিম কোন এ রক্তক্ষরণ হতে শুরু করেছে, শিবাই ও রক্তাক্ত, সে কি রূপ ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব।। নামছে সন্ধ্যা, আকাশ ভরে তারামণ্ডল, গাছের ফাঁকে জোনাকি দের নাচ।। "আমি একটু আসছি" বলে অজয় ভিতরে চলে গেল।।। ফিরে এসে প্রবেশ পথ ধরে রাখা প্রদীপ গুলি জ্বালিয়ে দিতেই এক লহমায় চিত্র বদলে গেল।। কি কনসেপ্ট আহা।।। কি সুন্দর ভাবে সব কিছু maintained হচ্ছে না দেখলে বোঝা যাবে না।।রিসর্ট ওপারেই ঘন জঙগল, grassland ধরে Biodiversity র অনন্য উদাহরণ।।

এবার আসি খাওয়া দাওয়া।। এখানে খাওয়ানোর নামে অত্যাচার করা হয়।। দুদিন থাকলে কথা দিচ্ছি কিলো দশেক যোগ হবেই।। যেমন সুস্বাদু তেমন স্বাস্থ্যকর।।

যাবেন কিভাবে?

ট্রেনে করে নামুন কাটোয়া।। তারপর আজিমগঞ্জ শাখার ট্রেন ধরে নামুন শিবলুন হল্ট।। স্টেশন থেকে বেলুন এক কিমি।। এছাড়া কাটোয়া থেকে সরাসরি এলে ১৯ কিমি, গাড়ি ভাড়া ৯০০ টাকা মত।।এছাড়াও শিয়ালদা থেকে ভোর ৫ টায় জংগিপুরের ট্রেন ধরেও চলে আসতে পারেন সরাসরি শিবলুন হল্ট।।

খরচ 2240/day/head inclusive of all meals..

কারা আসবেন??

প্রকৃতি প্রেমী না হলে নিরাশ হতে হবে, যারা প্রকৃতি বীক্ষণ করতে চান তাদের জন্য আদর্শ।।


কোথায় কোথায় যাবেন?

ওদের ওয়েবসাইট আছে, সব বিস্তারিত পেয়ে যাবেন।।এছাড়া অজয় ও আপনাকে সাহায্য করবে এই ব্যাপারে।।

যোগাযোগ করুন

Samir Saha 90512 12226

Subhash Saha+91 99032 28000

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine