যাত্রা পথে

চিরঞ্জীব সর্দার 

 
  • হাওয়াইতে আট দিন - মণিদীপ সেনগুপ্ত

  • যাত্রাপথে - চিরঞ্জীব সর্দার  

  • পেরেম্বানান - স্তুতি বিশ্বাস  

  • মেঘের মুলুকে সুখের পরশ - শ্রীতমা বিশ্বাস 

ভ্রমণ সঙ্গী - ২

                   হাওয়াইতে

       আট দিন 

  .... হাওয়াই থেকে ফিরে আসার আগে একটা মুদ্রা আপনাদের শিখিয়ে দিই। ডান হাতটা মুঠো করুন। এবার বুড়ো আঙুল দুটো যত সম্ভব ফাঁক করুন। অনেকটা শ্রীকৃষ্ণের বাঁশীর মতো। এবার এই মুঠোটা কাউকে দেখান – ভাঁজ করা আঙুলগুলো যাকে দেখাচ্ছেন তার দিকে। এটা হল এক হাওয়াইয়ান মুদ্রা মানে হল হ্যাং লুস ...

লিখেছেন... মণিদীপ সেনগুপ্ত 

(পালো অল্টো, ক্যালিফোর্নিয়া) 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

পার্ল হারবার মেমোরিয়াল, হাওয়াই

  রাস্তায় মাঝে মাঝেই অসাধারণ বীচ। কেউ সার্ফিং করছে, কেউ সূর্যস্নান। অনেকে ছোট ছোট নৌকায় পাল তুলে দিয়ে সমুদ্রে সাইলিং করছে। অনেকেই শিক্ষানবীশ, পাল উলটে পড়ে যায়,আবার তা সোজা করে নেয়। এয়ারপোর্ট থেকেও পশ্চিমের দিকেও আমরা একবার রওনা দিয়েছিলাম। তবে সে রাস্তাটা খুব একটা ভাল নয়। তাছাড়া সন্ধ্যা নেমে আসছিল। তবে সে রাস্তাটাও খুব একটা ভাল নয়। কিছু দূর গিয়ে আমরা ফিরে এসেছিলাম। দক্ষিণ প্রান্তে সুন্দর সুন্দর বেলাভূমি, পার্ক আর ঝর্ণায় ভরা। কোথায় দাঁড়াবে আর কোনটা গাড়ি চালিয়ে ঘুরে নেবো বোঝা মুশকিল। সময় হাতে থাকলে আমরা দিন দুয়েক আরো এখানেই থাকতাম। আরেকদিন কয়েক ঘন্টা সময় করে আমরা যাবো ইয়াও নিডলস দেখতে। দু-পাশে ঘন জঙ্গলে ঢাকা পাহাড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এক চূড়া। হাজার দুয়েক ফুট হবে তাও ঘন গাছপালায় ঢাকা। ভারতবর্ষ হলে লোক শিবলিঙ্গ মনে করে পূজা শুরু করত। ওখানেও পূজা হত তবে আজকাল বোধহয় হয় না। নিডলসের চারিদিকে হাইকিং করার ট্রেল হয়েছে একটা ছোট নদীর ধার ধরে। দু-ঘন্টার ট্রেল সেটাও আমি হাইক করে নিতে পারি।

  অবসর বলে মাউইতে কিছুই নেই, যে কদিনের জন্যই যাই প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যায় কিছু না কিছু করার রয়েছে। ওখানে আমরা প্যারাগ্লাইডিং, সার্ফিং, ক্রুজ… আগে থেকে একটু জেনে গেলে ভাল হয়। আর একটা কথা, মাউই থেকে সরাসরি হেলকপ্টার ট্যুরের ব্যবস্থা আছে বিগ আইল্যান্ডের আগ্নেয়গিরি দেখতে যাওয়ার। কেবল লাভা দেখতে হলে আলাদা প্লেনের টিকিট কেটে ওখানে গেলে সময়  আর  পয়সা  দুইই নষ্ট হয়।  ক’দিন কাটালাম আমরা মাউই-তে? তিনদিন পর প্লেনে করে হনলুলু, সেখান থেকে আর একটা প্লেনে করে কাউই দ্বীপ। এই দ্বীপটা প্রাকৃতিক দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দর। লোকজন খুব বেশী নেই, পাহাড়ি ঝর্ণা চতূর্দিকে। আমাদের হোটেল ঠিক করে দক্ষিণ প্রান্তের হাইওয়ে ধরে যাবো দ্বীপের শেষ কোনায়। ওখানে এক নতুন ধরনের গ্রান্ড ক্যানিয়ন দেখবো – অ্যারিজোনার মতই গভীর কিন্তু সবুজ। ছোট্ট দ্বীপ কিন্তু প্রচুর বৃষ্টি পড়ে। দ্বীপের সমস্ত নদী নালা সারা বছর জলে টইটুম্বুর হয়ে থাকে। ক্যানিয়নের পরে আমরা একটা পার্কে দাঁড়াতে পারি – সমুদ্রে ওপর জলের ফোয়ারা। পাথরের ফাটলে সমুদ্রের ঢেউ ঢুকে এই ফোয়ারা তৈরী করে। সেই পার্ক থেকে বেরিয়ে আমরা গিয়েছিলাম গোলাপের বাহার দেখতে। ওখানকার অনেক বাড়ির বেড়া তৈরী করা হয়েছে গাছের ফুল দিয়ে। অসাধারণ ফুল। কানের ওপর গুঁজে আমার স্ত্রীকেও এক অনন্যা সুন্দরী মনে হচ্ছিল। এই সব দেখতে দেখতে আমার ষষ্ঠ দিনটাও চলে গেল।

  সপ্তম দিন সকালে হোটেল থেকে বেড়িয়ে গাড়ি চালিয়ে উত্তর দিকে। কিলাই –এর সোনা বেলা।শেষ মাথায় একটা লাইট হাউস আছে। ওয়াইকিয়া ফলস মাঝারি সাইজের জলপ্রপাত। ওখান থেকে আর নীচের থেকে দেখার জন্য ভিস্তা পয়েন্ট রয়েছে। জলের কাছে আমরা সেবার যেতে পারিনি, এবার চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। হোটেলের দিকে ফেরার পথে আরেকটা বড় আকর্ষণ একটা বোট রাইড। ওখানকার ছোট্ট নদীতে। আমাদের নিয়ে যাবে একটা গুহা দেখতে। ওখানে অনেক স্বনামধন্য লোকজন নাকি বিয়ে করতে যায়। এই বোট রাইডের আরেকটা আকর্ষণ হল হুলা নাচের প্রদর্শন। ওরা যে কত রকমের মুদ্রা ব্যবহার করে, আর তার মানি কি তা প্রাঞ্জল করে শিখিয়ে দেয়।

  হাওয়াই-এর অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কার, গান বাজনার একটা সুন্দর বিবরণও পাওয়া যায়। দুপুরবেলায় খাওয়া সেরে – আমাদের এক সফরের দ্বিতীয় হেলিকপ্টার রাইড – সারা দ্বীপটা ঘুরিয়ে দেখাবে। আগের দিনের ক্যানিয়নটা আবার দেখবো আকাশ থেকে। ঘুরতে ঘুরতে যাব দ্বীপের উত্তরপূর্ব কোনায়। এমন সব বেলাভূমি আছে যে সেখানে আজও মানুষের পায়ের ছাপ পড়েনি। ঢেউ ঝাঁপিয়ে পড়ছে পাহাড়ের কোলে, আর ওপর থেকে নামছে ঝর্ণা। পাইলট হেডফোনে বিবৃতি দিতে দিতে চলেছে। সারি সারি পাহাড়ের মাঝে আমাদের হেলিকপ্টার উড়ছে, যে দিকে তাকাই ঝর্ণা। একটা নয়, দুটো নয় ডজনে ডজনে। জুরাসিক পার্কের শুটিং হয়েছিল এখানে। যেমনি ঘন সবুজ বন।, তেমনি পাহাড়, নদী আর ঝর্ণা। পৃথিবীর এই চেহারাটা 

একবার দেখলে আর ভোলা যায় না। অদ্যই শেষ রজনী মনে মরে আমরা ঘুমোতে গিয়েছিলাম।

  আবার হয়ত বা কোনদিন এখানে বেড়াতে আসবে। সাত দিন ধরে চারখানা দ্বীপ ঘুরে আমরা তখন ক্লান্ত । ঘুম ভাঙল মোরগের ডাকে। ক’বছর আগে নাকি ঝড়ে এখানে অনেক খামার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে যত মোরগ আর মুরগী নিজেদের থেকেই ঘুরে বেড়ায়। আর হ্যালোজেন লাইট থেকে সূর্‍্য মনের করে চেঁচায়। যাই হোক ভোর রাতে উঠে আমরা একটা স্থানীয় পার্কে গেলাম। সে এক অনবদ্য সূর্যদয়। অনেক ছবিই তুলে রেখেছি কিন্তু চোখে না দেখলে সেই সৌন্দর্‍্য্য অনুভব করা যায় না। সেদিন আমাদের ভ্যাকশন শেষ হবার মুখে। এয়ারপোর্টে গাড়ি ফেরত দিয়ে প্লেনে চেপে হনলুলু। কয়েক ঘন্টা হাতে সময় 

ছিল হাতে, ওখানকার লাউঞ্জে ঘুরে ঘুরে আরো কয়েকটা ছবি তুলে ফেললাম। প্লেনের সময় হয়ে গেল, আট ঘন্টা পরে ডালাস।

  তাহলে পরের বার কি রকম প্ল্যানিং হবে? আমাদের এই আট দিনের সফরটা বেশ একটা ঝটিকা সফর হয়ে গিয়েছিল। এই দ্বীপগুলোর কোনটিতে তিন বা চার দিন না থাকলে ঠিক সুবিচার হয় না। হোটেল, প্লেন, আর গাড়ি ভাড়া ডালাস থেকেই করবো। আর বাকি সব কিছুই ওখানে পৌঁছে। খরচা পাতি কি রকম। হোটেল, গাড়িভাড়া, পেট্রল আর খাওয়াদাওয়ার খরচ এখানকার মতোই, হয়তো বা সামান্যই বেশী। প্রধান খরচা হচ্ছে প্লেনের টিকিট। দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে যেতে হলে হাওয়াইতে প্লেন ছাড়া গতি নেই। তাছাড়া রয়েছে ওখানে যা যা করবেন তার খরচা। হেলি-ট্যুরগুলো শ-দুয়েক ডলার। আর লুয়া ভোজন, স্নরকেলিং বা ক্রুজ নিলে এক একটা প্রায় পঞ্চাশ ডলার। আমার মতে দশ বারো দিনের জন্য গেলে পয়সা উশুল হয়ে আসে। যাওয়ার সব থেকে ভাল সময় হল শীতকাল। সমস্ত বুকিং আগে থেকে করা ঠিক নয়, ওখানকার স্থানীয় কাগজে অনেক কুপন পাওয়া যায়।

  হাওয়াই থেকে ফিরে আসার আগে একটা মুদ্রা আপনাদের শিখিয়ে দিই। ডান হাতটা মুঠো করুন। এবার বুড়ো আঙুল দুটো যত সম্ভব ফাঁক করুন। অনেকটা শ্রীকৃষ্ণের বাঁশীর মতো। এবার এই মুঠোটা কাউকে দেখান – ভাঁজ করা আঙুলগুলো যাকে দেখাচ্ছেন তার দিকে। এটা হল এক হাওয়াইয়ান মুদ্রা মানে হল হ্যাং লুস।

  লুন বেড়িয়ে পড়ি কিছুদিনের জন্য প্রকৃতির রূপ দেখতে, ডালাস থেকে মাত্র আট ঘন্টার যাত্রা। সকাল আটটায় প্লেন ছাড়ে ডি এফ ডবলু এয়ারপোর্ট থেকে বিকেল চারটে নাগাদ হাওয়াই এর রাজধানী হনুলুলু। বছর কয়েক আগে এই পথে আমরা একবার হেঁটেছিলাম। তারই স্মৃতি রোমন্থন করে এই বিবরণ লিখছি পরের বারের জন্য। কি করা যায় না করা যায় তার কিছুটা আন্দাজ আমাদের আগে থেকেই ছিল। কিছু রিজার্ভেশন করা, গাড়ি আর হোটেলের ব্যবস্থা, লুয়া খাওয়ার জায়গা ইত্যাদি ইত্যাদি। আজকাল ইন্টারনেট ঘেঁটে অনেক কিছুর খোঁজ পাওয়া যায়।

  প্লেন থেকে নেমে একটা কনর্ভাটেবল গাড়ি ভাড়া করে প্রথমেই আমরা যাব লুয়া খেতে। বাঙালির ভোজন রসিকতার সুনামটা রাখতে হবে তো। অবশ্য আসল আকর্ষণ হল ওখানকার হুলা নাচ। ঘাসে ঢাকা সুন্দরীদের কোমর দুলিয়ে মনোরঞ্জন। একদিকে দামামা বাজছে, পিছনে সমুদ্রের গর্জন। খাবারটা তেমন কিছু নয়, শুয়োর মেরে বালিতে পুঁতে রেখে কিছু একটা ওরা রান্না করে। খেতে ভাল না লাগলে কোন অসুবিধা নেই, টেবিলে সাজানো থাকে থরে থরে বুফে। নাচের সাথে সাথে জলন্ত লাঠি নিয়ে নানা ভোজবাজি আর জাগলারির খেলা। অনেক সময় মনে হয় সার্কাস দেখছি। যাইহোক সন্ধ্যেবেলা মানচিত্র দেখে হোটেল খুঁজে ঘুমোনোর পালা, সেই হুলা নাচের স্বপ্ন দেখতে দেখতে। ঐ নাচ দেখেই হাওয়াই আসা সার্থক মনে হয়। ওরা সব দর্শকদের নাচতেও শিখিয়ে দেয়। নাচের জন্য পার্টনারের দরকার হতে পারে। আপনি নিজের সঙ্গিনী নিয়ে নাচতে পারেন, অনেকে নিজের ছেলেমেয়েদের নিয়েও নাচের প্র্যাকটিস করেন। আবার অনেকে ওখানকার কোন ঘাসের পাতায় মোড়া স্থানীয় শিল্পীকেও পেয়ে যান। আপনি কাকে নিয়ে নাচবেন আর নাচাবেন?

  ঘুম থেকে উঠে বাসে করে আমরা যাব পার্ল হার্বর দেখতে। বাসের ব্যবস্থা হোটেল থেকেই করা যায়। প্রথমে সেই বাস নিয়ে যায় পার্ল হার্বর মেমোরিয়াল। বেশ জনপ্রিয় জায়গা, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হয়। ইউ-এস-এস অ্যারিজনা কিভাবে জলের নিচে ডুবে রয়েছে তা ঐ মেমোরিয়াল থেকে দেখা যায়, ফোঁটা ফোঁটা করে তেল বেরিয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ১৬০০ নাবিক সমেত এই যুদ্ধ জাহাজটি জাপানী বোমার ঘায়ে ডুবে গিয়েছিল। ঘন্টা দুয়েক লাগে সেখানে। তারপর ঐ বাস আমাদের নিয়ে যাবে হনলুলু শহর দেখাতে। কন্ডাক্টর ভারী মজার লোক, নানা রকমের চুটকি বলতে বলতে হাওয়াই এর ইতিহাস বুঝিয়ে দেয়। হনলুলু শহরে রয়েছে হাওয়াই এর রাণীর প্রাসাদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র রাজসিক স্থাপত্য।বাস খালি বাইরের থেকে দেখিয়ে দেবে। আমরা সময় করে জায়গাটা ঘুরে ঘুরে দেখতে পারি।

  হনলুলু শহরটা ওয়াহ শহরের দক্ষিণ প্রান্তে। দুটো হাইওয়ে দু-দিক থেকে দ্বীপটাকে ঘিরে রেখেছে। আমরা সেবার রওনা দিয়েছিলাম পূর্বদিকে মাকাপু পয়েন্ট নামের একটা জায়গা দেখতে। পাহাড়ে নিচে ছোট ছোট বিচ ওপর থেকে দেখা যায়। কাছেই সমুদ্রের মধ্যে থেকে উঠেছে কিছু ছোট ছোট দ্বীপ। নৌকা করে যাওয়া যায় তবে জনবসতি নেই। ছবি তোলার অনবদ্য জায়গা। হাইওয়ে ধরে ঘুরতে ঘুরতে এবার আমরা যাব ‘পালী স্টেট পার্কে’ ওয়াহ দ্বীপের মাঝামাঝা জায়গায়। মেইল মাইল খানেক একটা হাইক আছে পালী লুক আউটে যাবার জন্য। সেখান থেকে পুরো দ্বীপটার ভূগোল চোখের সামনে দেখা যায়।

  দুপুরের দিকে হাইকিং করার একটা ভাল জায়গা হল ডায়মন্ড হেড। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়কার মার্কিন কামান কোথায় কিভাবে তাক করা থাকতো তা একটা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘন্টা লাগে পার্কিং লট থেকে উপরে উঠতে। ভাল জুতো থাকাটা বেশ জরুরী। এই হাইকিং এর পরে বিকেল বেলায় যাব আমরা বিখ্যাত ওয়াইকিকি বীচে হাঁটতে। সন্ধ্যায় হনলুলু ইন্টারন্যাশেনাল মার্কেট। কিছু স্যুভেনিয়ার তো কিনতে হবে।চব্বিশ ঘন্টা হয়ে গেল আমাদের এই বেড়ানো এর পরেও শরীর দিলে গাড়ি নিয়ে পাহাড়ের ওপর থেকে দেখবো আলো ঝলমলে হনলুলু শহর। ফিরে এসে কোন নাইট ক্লাবেও যেতে পারি – ওখানকার নৈশ জীবন দেখতে। একটা সতর্কতা – হনলুলু শহরের অনেক রাস্তা ওয়ান ওয়ে আর রাস্তাগুলো সমান্তরাল নয়। আমাদের সাথে জি পি এস ছিল না তাই রাস্তা খুঁজতে অনেক জায়গায় বেগ পেতে হয়েছিল

  দ্বিতীয় দিন – ভোরবেলা ওয়াইকিকি বীচে প্রার্তভ্রমণ। সে এক দর্শনীয় বেলাভূমি। কাতারে কাতারে লোক, কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ হাঁটছে, আবার অনেকে জলে নেমে পড়ছে। জলের তাপমাত্রা ৮২ ডিগ্রী – যেন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল। গতকাল ঐ জলে না নেমে থাকলে আজ নামতে হবে। আকণ্ঠ জলে দাঁড়িয়ে সূর্‍্যপ্রমাণ করার আদর্শ জায়গা।

  ও জবা কুসুম সংকাশন...। তাড়াতাড়ি করতে হবে। তারপরই স্নান সেরে হোটেল ছেড়ে দিয়ে সোজা এয়ারপোর্ট। গাড়ি জমা দিয়ে প্লেন করে বিগ আইল্যান্ড। নতুন গাড়ি নিয়ে জায়গাটা ঘুড়ে বেড়াবো, ওখানকার স্থানীয় খাবার চেখে দেখবো। বেশী সময় হাতে থাকবে না ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে

হেলিকপ্টার ট্যুর আগ্নেয়গিরি দেখবো। মাটির নিয়ে গনগনে লাভা জ্বলছে। সেই লাভা কি ভাবে গড়িয়ে চলছে সমুদ্রের দিকে, সমুদ্রে পৌঁছে তা কতটা বাষ্প তৈরী করতে পারে। ভাল পাইলট পেলে হাওয়াই-এর দেবদেবীর গল্প শোনাবে। জানিয়ে দেবে যে হাওয়াইতে কোন সাপ নেই, লাভা কি ভাবে পাহাড়ের কোলে একটা মাত্র বাড়ি বাঁচিয়ে রেখেছে ইত্যাদি... ইত্যাদি...। হেলি-ট্যুর সেরে আরেকটা প্লেনে করে হনলুলু, সেখানে থেকে মাউই দ্বীপ। এয়ারপোর্টে আমাদের তৃতীয় গাড়ি। চালিয়ে যাব দ্বীপের অন্য প্রান্তে সান সেট ক্রুইজ নিতে। নীল সমুদ্রের মধ্য সেই ক্রুইজ নিয়ে যায়। অনেক রকম রীফ দেখায়, সঙ্গে নানা ধরনের গান আর খানা পিনার আয়োজন।

  নীল সাগরের মধ্যে থেকে থেকে উঠছে সবুজ রঙের হাওয়াই এর বিভিন্ন দ্বীপ, সূর্‍্যাস্থের সাথে সাথে তা কালচে হয়ে আসে। ডেকের পাশে ডলফিন লাফিয়ে বেড়ায়, ডেকের ওপর সান্ধ্য নাচ। ঘন্টা তিনেকের ক্রুজ সেরে আবার হোটেল খোঁজার পালা। বেশী রাত হয়ে গেলে রাস্তা কি রকম থমথমে হয়ে যায়। রাস্তায় বেশী আলো নেই। মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন নাইটক্লাবে গান বাজনার আওয়াজ আর পিছনে সমুদ্রের গর্জন। এই দ্বিতীয় দিনের শেষে আবার মনে হবে হাওয়াইতে আসা কতটা সার্থক।

  মাউই দ্বীপটা অত্যন্ত সুন্দর। এখানে অন্তত আরো কয়েকটা দিন থাকলে ভাল হত। এদিন সকালে আমার যাব স্নরকেলিং করতে। এর জন্য খুব ভাল সাঁতার জানারও দরকার নেই। স্নরকেলিং এর সমস্ত সামগ্রী বোটের লোকেরাই জোগাড় করে রাখে। বিভিন্ন জায়গায় জলে বোট দাঁড় করিয়ে সবাইকে জলে নামায়। কত রকম রং বেরঙের মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন, কোরাল রিফ – সব দেখায়। এখানে কেউ গেলে ভাল ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া উচিত। বোটের ওপর থাকে নানা ধরনের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। ঘন্টা পাঁচেকের প্রোগ্রাম এটা। আর একদিন যাব হালিয়াকালা ন্যাশেনাল পার্কের পাহাড় চুড়ায়। ক্রেটারের কাছেই রয়েছে ওখানকার অবজার্ভেটরি। গাড়ি চালিয়ে একেবারে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছান যায়। ওখানকার ঘাস পাতা আর নতুন ধরনের মাটি দেখার জন্য। সমুদ্র থেকে ১০,০০০ ফুট, ত্রিশ মাইলের মধ্যে। কোথাও ফুল গাছের বাহার কোথাও রুক্ষ জমি। পথে পড়ে দু-একটা ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম। সেখানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কফি খাবো। স্থানীয় দোকানে ফুলের বাহার। কোনটা পছন্দ হলে সেই ফুলের বাহার ওরা আপনাকে ডালাসে পাঠিয়ে দেবে। সাইকেল ভাড়া করারও ব্যবস্থা আছে ওখানে। আপনাকে আর আপনার সাইকেলকে বাসে করে হালিয়াকালা ক্রেটারের মাথায় ছেড়ে দেবে। আপনি সাইকেল চালিয়ে গড়গড়িয়ে নেমে আসবেন ১০,০০০ ফুট।মাউই সম্ভবত হাওয়াই এর সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্বীপ। এয়ারপোর্টটা উত্তর প্রান্তে। সেখান থেকে পূর্ব দিকে যায় হানা হাইওয়ে। রাস্তায় ৭২টা জলপ্রপাত আর শ-দেড়েক হেয়ার পিন বেল্ড। প্রত্যেক জলপ্রপাতেই মনে হয় দাঁড়িয়ে 

কিছু ছবি তুলি। তাই ২৫ মাইল রাস্তা ঘুড়ে আসতে ছয় থেকে দশ ঘন্টা সময় লাগে।

এয়ারপোর্টে ফিরে আসতে হবে। এখানে আমরা প্রথম হেলিকপ্টার ট্যুর আগ্নেয়গিরি দেখবো। মাটির নিয়ে গনগনে লাভা জ্বলছে। সেই লাভা কি ভাবে গড়িয়ে চলছে সমুদ্রের দিকে, সমুদ্রে  পৌঁছে  তা  কতটা বাষ্প তৈরী করতে পারে। ভাল পাইলট পেলে হাওয়াই-এর দেবদেবীর গল্প শোনাবে। জানিয়ে দেবে যে হাওয়াইতে কোন সাপ নেই, লাভা কি ভাবে পাহাড়ের কোলে একটা মাত্র বাড়ি বাঁচিয়ে রেখেছে ইত্যাদি... ইত্যাদি...। হেলি-ট্যুর সেরে আরেকটা প্লেনে করে হনলুলু, সেখানে থেকে মাউই দ্বীপ। এয়ারপোর্টে আমাদের তৃতীয় গাড়ি। চালিয়ে যাব দ্বীপের অন্য প্রান্তে সান সেট ক্রুইজ নিতে। নীল সমুদ্রের মধ্য সেই ক্রুইজ নিয়ে যায়। অনেক রকম রীফ দেখায়, সঙ্গে নানা ধরনের গান আর খানা পিনার আয়োজন। নীল সাগরের মধ্যে থেকে থেকে উঠছে সবুজ রঙের হাওয়াই এর বিভিন্ন দ্বীপ, সূর্‍্যাস্থের সাথে সাথে তা কালচে হয়ে আসে। ডেকের পাশে ডলফিন লাফিয়ে বেড়ায়, ডেকের ওপর সান্ধ্য নাচ। ঘন্টা তিনেকের ক্রুজ সেরে আবার হোটেল খোঁজার পালা। বেশী রাত হয়ে গেলে রাস্তা কি রকম থমথমে হয়ে যায়। রাস্তায় বেশী আলো নেই। মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন নাইটক্লাবে গান বাজনার আওয়াজ আর পিছনে সমুদ্রের গর্জন। এই দ্বিতীয় দিনের শেষে আবার মনে হবে হাওয়াইতে আসা কতটা সার্থক। 

  ও জবা কুসুম সংকাশন...। তাড়াতাড়ি করতে হবে। তারপরই স্নান সেরে হোটেল ছেড়ে দিয়ে সোজা এয়ারপোর্ট। গাড়ি জমা দিয়ে প্লেন করে বিগ আইল্যান্ড। নতুন গাড়ি নিয়ে জায়গাটা ঘুড়ে বেড়াবো, ওখানকার স্থানীয় খাবার চেখে দেখবো। বেশী সময় হাতে থাকবে না ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফিরে আসতে হবে। এখানে আমরা প্রথম

হনলুলু বিচ, হাওয়াই

ওয়াইকিকি বিচ, হাওয়াই

ডায়মন্ড হেড ট্রেইল, হাওয়াই

ওয়াইকিকি বিচ , হাওয়াই

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ওয়াইলুয়া ফলস, হাওয়াই

 

      যাত্রাপথে 

  .... সানসেট পয়েন্ট এ তখন গিজগিজ করছে ভিড়। এটাই টুরিস্টদের কাছে মাউন্ট আবুর সবচেয়ে দর্শনীয় জায়গা। নানা দেশের নানা বর্ণের মানুষের হট্টমেলা সেখানে। সবার হাতে ক্যামেরা, খচাখচ ছবি উঠছে। ওরাও একটা জায়গা দেখে বসে পড়ল। সূর্য পাটে বসেছে, পশ্চিম আকাশে কে আবির ঢেলে দিয়েছে। ...

লিখেছেন... চিরঞ্জীব সর্দার 

(ডালাস, টেক্সাস) 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

নিক্কি লেক, মাউন্ট আবু, রাজস্থান

  সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে, তবু রোদের তেজ আছে ভালই। ঘড়িতে বিকেল ৪টে। মাউন্ট আবু বাস স্ট্যান্ডে দুই বন্ধু নামলো বাস থেকে। পিঠে দুটো রুকস্যাক, আর কোনও মাল পত্র নেই। এরা দুজন প্রায় এক মাস ধরে রাজস্থান ঘুরছে। চোখে মুখে বেশ ক্লান্তির ছাপ, তবু নতুন জায়গা দেখার আনন্দে, নতুন লোক চেনার আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুজনেই স্টুডেন্ট, কলেজে পুজর ছুটি চলছে, তাই ওরা বেরিয়ে পড়েছে। পকেটে টাকা পয়সাও শেষের দিকে, আর কিছু দিনের মধ্যেই ঘরে ফিরতে হবে। মাউন্ট আবু রাজস্থানের একমাত্র হিল স্টেশন, অন্য জায়গা গুলোর চেয়ে খরচা বেশি, তাই আসবে কি আসবে না দোনামোনা করছিল। কিন্তু উদয়পুরে একজন বলল অবশ্যই যেন দেখে যায় বাড়ি ফেরার আগে। সস্তার জৈন ধর্মশালার খোঁজ ও দিয়েছিল। সেখানে ফ্রি খাবারও দেয়। এসব শুনে চেপে পড়েছিল বাসে। কিন্তু এখানে পৌঁছে তাদের মাথায় হাত। রাজস্থান ট্যুরিজ্‌ম এর অফিস থেকে ওদের বলল যে এখন জৈনদের একটা বিরাট অনুষ্ঠান চলছে এক সপ্তাহ ধরে। সমস্ত ধর্মশালা ভর্তি, হোটেলগুলো সুযোগ বুঝে ১০০ টাকার ঘর ৩০০/৪০০ যা পারছে চাইছে (এটা ২০০৪ সালের ঘটনা, তাই ঘর ভাড়া ২০১৫ এর হিসাব অনুযায়ী কম মনে হলেও তখন অনেক টাকা)। টাকা ফেললেও ঘর পাওয়া যাচ্ছে না। এখন উপায়? যা অবস্থা বাস স্ট্যান্ড-এই রাত কাটাতে হবে মনে হয়। কিন্তু এটা হিল স্টেশন, রাতের বেলা জমিয়ে ঠাণ্ডা পড়ে । গরমের দেশে আসছে বলে তেমন জুতসই ঠাণ্ডার জামা কাপড়ও নেই। ওদের অবস্থা দেখে মনে হয় ট্যুরিজ্‌ম অফিসের লোকটার মায়া হল, জিগ্যেস করল কত টাকা আছে? দুজনের কাছে কুড়িয়ে বাড়িয়ে যা আছে তার থেকে খাওয়া দাওয়া, এখানে ঘোরাঘুরি আর যোধপুর অবধি বাস ভাড়া রেখে ১০০ টাকাও হচ্ছে না। যোধপুরে একজনের পিসির বাড়ি, ওখানে পৌঁছাতে পারলে আবার হাতে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। হিসাব নিকাশ করে ওরা ৮০ টাকা বার করতে পারল। তাই দেখে লোকটা খুব একটা ভরসা দিতে না পারলেও কয়েকটা জায়গায় ফোন করল। কোন হোটেলই রাজি হচ্ছে না। শেষমেশ কেউ একজন সদয় হল, ওরা সেই হোটেল এর ঠিকানা আর ডিরেকশন নিয়ে অনেক ধন্যবাদ দিয়ে বেরল।

  বাস স্ট্যান্ড থেকে ১৫ মিনিট মত হাঁটাপথ - নাম শান্তিভিলা। ঠিকানা মিলিয়ে যেখানে এল সেটা সাদা রং এর ছোট একটা দোতলা বাড়ি, ঠিক হোটেলের মত নয়। তবে একটা রিসেপশন কাউন্টার আছে, সেখানে একজন পেপার পড়ছিল, ওদের দুজনকে দেখে পেপার রেখে উঠে দাঁড়াল। ঘরের কথা বলতে হাঁক দিয়ে একটা ছেলেকে ডাকল,

গাইড। ওদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে চাইল, কিন্তু ওদের গাইডের দরকার নেই। তখন সে বলল ওর একটা ছোট ছেলে আছে, সে সারাদিন এমনি ঘুরে বেরায় নানা জায়গায়, সে ওদের সাথে যেতে পারে, দুপুরের খাওয়া আর যা পারবে দিলেই হবে। ওদের পকেট গড়ের মাঠ, কিন্তু এই গাইডের আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ, তাই ওরা নিমরাজি হয়ে গেল।পরদিন সকাল সকাল আবার ঘরে চা, গরম জল তার সাথে ব্রেকফাস্টও। ওরা অবাক হওয়ার জায়গায় এবার রেগে গেল। না চাইতেই এসব দিয়ে পকেট কাটার তাল। তাড়াতাড়ি স্নান টান সেরে ওরা তৈরি হয়ে নিল। ব্যাগ দুটো রিসেপশনে রেখে ওরা  ঘুরে আসবে।  সন্ধেবেলা যখন এখান থেকে ফেরার বাস ধরবে তখন আবার নিয়ে যাবে। টাকা পয়সা মেটাতে গিয়ে আবার অবাক। ঘর ভাড়ার ৮০ টাকা ছাড়া আর কোনও বিল নেই। চা, জলখাবার, গরম জল সব ফ্রি। ওরা রিসেপশনের লোকটাকে জিগ্যেস করল ব্যাপারটা কি। যা শুনল তাতে ওদের মনটা খারাপ হয়ে গেল। আগেরদিন যে বয়স্ক ভদ্রলোক ওদের ঘর দিয়ে দিতে বলেছিল, সেই এই হোটেলের মালিক শেঠজী। ওনার ছোট ছেলে খুব ঘুরতে ভালবাসত, হুটহাট বেরিয়ে যেত কাউকে কিছু না বলে। বেশ কিছুদিন পর ফিরে আসত আর নিজের ঘোরার অদ্ভুত সব গল্প শোনাত বাবাকে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

একবার নাকি এরকম বেড়াতে গিয়ে একটা অ্যাকসিডেন্টে সে মারা যায়। তারপর থেকে শেঠজী যখন দেখে ওদের মত অল্পবয়স্ক কেউ ঘুরতে এসেছে, টাকাপয়সার টানাটানি, তাদের কম ভাড়ায় ঘর দিয়েছে। চা জলখাবারের পয়সা নেয় নি। ওদের দেখেও হয়ত নিজের ছেলের কথাই মনে পড়েছিল ওনার। পৃথিবীতে কত এরকম মানুষ নিজের কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে, চুপ করে - বাইরে থেকে দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই।

  ওদের গাইড বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াবে কথা হয়েছে। পৌঁছে দেখল একজন না দুজন গাইড। দশ বছরের ছেলেটা তার পাঁচ বছরের বোনকেও নিয়ে এসেছে। সেও নাকি যাবে ওদের সাথে। ওরা জিগ্যেস করল সারাদিন ওদের সাথে ঘুরতে কষ্ট হবে না? বলল ওরা তো নানা জায়গায় ঘুরে বেরায়, ঘর থেকে মাইলের পর মাইল চলে যায়। স্কুল যাওয়ার টাকা নেই। সারাদিন ঘুরে ঘুরে যদি কিছু কাজ জোটে তাহলে খেতে পায়, নইলে কিছু ঠিক নেই। বাবা তো রোজগার করে। ওরা বলল মায়ের নাকি খুব অসুখ, তাই সব টাকা ওষুধ কিনতে বেরিয়ে যায়। পরপর মন খারাপ করা কথা। আর দেরি না করে ওরা বেরিয়ে পড়ল আধার দেবী মন্দির যাবে বলে। আধার দেবীর মন্দির পৌঁছাতে হলে ৩৬০ টা সিঁড়ি ভাঙ্গতে হবে। ওরা তো একটু ওঠে একটু বসে একটু জিরোয় আবার সিঁড়ি ভাঙ্গে। বাচ্চাদুটো তরতর করে উঠে যাচ্ছে আর ওদের বলছে এইটুকু করে উঠেই বসে পড়লে সারাদিন লেগে যাবে উপরে পৌঁছাতে। অবশেষে উপরে পৌঁছে দুজনেই ধপ করে বসে পড়ল  একটা পাথরের উপর । ওখান থেকে সুন্দর ভিউ, চুপ করে বসে থাকতেও ভাল লাগে। মন্দিরে দর্শনার্থী আসছে সমানে কিন্তু তেমন চিৎকার চেঁচামেচি নেই। আর এতো উঁচুতে শহরের আওয়াজও পৌঁছায় না। চারপাশে একটা শান্তি আছে। মন্দিরের ভেতরটা আহামরি কিছু না, যেমন আর পাঁচটা মন্দির হয়। কিন্তু লোকেশনটার জন্যই বারবার আসা যায়। বেশ কিছুক্ষন দুজনে বসে থাকল, তারপর নামতে যাবে ওদের গাইড জিগ্যেস করল ওরা পুজ দেবে না। ওরা মাথা নেড়ে নামতে শুরু করল। কি হবে পূজা দিয়ে, পূজা উপচার আর দক্ষিণার টাকায় বরং ওই বাচ্চাদুটোর আর একবেলা খাওয়া হয়ে যাবে।

  ওখান থেকে ওরা গেল নাক্কি লেক। শহরের মাঝে বেশ ভালই সাজানো গোছান লেকটা, চারপাশে পাহাড় ঘেরা। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী কে নাকি নখ দিয়ে এই লেক খুঁড়ে বানিয়েছিল, তাই নাম নাক্কি। লেক এর জলটা বেশ নোংরা, তবে প্রচুর মাছ খেলা করছে। নাক্কি লেক থেকে একটা টিলার উপর একটা বিশাল পাথর দেখিয়ে বাচ্চা দুটো বলল ওই পাথরটা দূর থেকে দেখলে একটা ব্যাং এর মত লাগে তাই ওর নাম টোড রক। ওখানে যাবে কিনা জিগ্যেস করতে দুজনেই একসাথে বলল আবার পাহাড়ে চড়তে হলেই হয়েছে। গাইড ওদের ভরসা দিল সে নাকি শর্টকাট রাস্তা চেনে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে, সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। ওরা রাজি হল যাওয়ার জন্য। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই টের

পেল রাজি হয়ে ভুল করেছে । জঙ্গল পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে সরু পায়ে চলা পথ, কোথাও কোথাও সেটাও নেই। কখনও পাথর বেয়ে উপরে ওঠা, তো কখনও পাথরের গা বেয়ে স্লিপ খেয়ে নামা। জিভ বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড়। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারটাও ভাল লাগছে। আর যতটা চলে এসেছে এখন তো ফিরে যাওয়ারও উপায় নেই। পথে একটা গুহা দেখিয়ে বাচ্চাটা বলল ওটায় নাকি ভালুক থাকে ওরা দেখেছে। জঙ্গলে নাকি চিতাও আছে, তারা রাতের দিকে লোকালয়ে চলে আসে। আবার কিছুক্ষন পরে আরেকটা গুহার মুখে দাঁড়িয়ে বলল তার মধ্যে নাকি একটা মন্দির আছে আর এক সাধুবাবা থাকে। আর আছে এক আশ্চর্য কুয়ো ।এরকম শুনলে তো কৌতূহল তো হবেই। ওরাও গুটি গুটি পায়ে ঢুকল গুহার মধ্যে, অবশ্য প্রায় হামাগুড়ি দিয়েই ঢুকতে হল, গুহার মুখটা এতো নিচু। ভেতরে গিয়ে একটা হলের মত, তার একপ্রান্তে ছোট্ট মন্দির। সেখানে গুহার ছাদ বেশ উঁচু। ওরা চারজন ঢোকার পর জায়গাটা প্রায় ভরে গেল এতটাই ছোট জায়গা। এদিক ওদিক তাকাচ্ছে, কোথা থেকে যেন মাটি ফুঁড়ে এক সাধু বাবা হাজির হল। বয়েসের গাছ পাথর নেই, মাথায় একরাশ জটা।

  সাধুবাবা ওদের কোনও পূজা আচ্চা দিতে বলল না, সাধারণ পূজারিরা যেমন ব্যাবসায়িক কথা বলে সেরকম কিছুই বলল না। বরং ইতিহাস, পুরাণ, রামায়ান, মহাভারতের অনেক গল্প শোনাল। বাচ্চা দুটোকে অনেক দিন চেনে বোঝা গেল। ওদের বাড়ির খবর, মার শরীরের খবর নিল। ওদের সবাইকে একটা লাড্ডু থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রসাদ দিল। ওরা কুয়োর কথা জিগ্যেস করতে একটা লন্ঠন নিয়ে ওদের বলল পেছন পেছন আসতে। একটা অন্ধকার সুড়ঙ্গ দিয়ে কিছুটা গিয়ে আরেকটা অন্ধকার ঘরে পৌঁছালো। লন্ঠনের হালকা আলোয় একটা কুয়ো দেখতে পেল ওরা। সাধুবাবা বলল পুরাণ মতে যে সাপের নামে মাউন্ট আবুর নাম সেই অর্বুদা নাকি এই গুহায় থাকত। সেই প্রায়ান্ধকার গুহায়, লন্ঠনের টিমটিমে আলোয় এই কাহিনির সত্যি মিথ্যে যাচাই করতে যাওয়া বৃথা। ওই কুয়োর জল নাকি এখনও খাওয়া যায় ।  গুহার  ছাদে  দুটো  বড়  গর্ত  আছে,  সেখান থেকে সকাল আর বিকেলের কয়েক ঘণ্টা নাকি সূর্যের আলো এসে সোজা কুয়োর মধ্যে পড়ে, তাতেই নাকি কুয়োর জল খারাপ হয় না। ওদের বিশ্বাস হচ্ছিল না ওই কুয়োর জল সত্যি খাওয়া যায়, সাধুবাবা বালতি করে তুলে ওদের দিল। ভীষণ ঠাণ্ডা জল, খাওয়ার পর ওদের মনে হল সকাল থেকে এতো দৌড়ঝাঁপ করে শরীরে যত ক্লান্তি জমেছিল সব নিমেষে উবে গেল।

  সাধুবাবাকে বিদায় জানিয়ে ওরা আবার এগিয়ে চলল। সাধুবাবার দিন চলে কি করে জিগ্যেস করার ইচ্ছা ছিল, কারণ ওই গুহায় কোনও ভ্রমণকারী সহজে পৌঁছাতে পারবে না, আর তারা না পৌঁছালে দক্ষিনাও তেমন জুটবে না।  কিন্তু সবকিছু দেখে শুনে ওদের মনে হল যে এই সাধুবাবা দক্ষিনার খুব একটা ধার ধারে না। টোড রকে পৌঁছে দেখল সেখানে বেশ কিছু লোকজন। তারাও ট্রেক করে এসেছে। তবে অন্য পথে। সেখানে বসে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিল ওরা। জায়গাটা এমনিতে ভালই, তবে বারটা বাজিয়ে রেখেছে উঠতি যুবক যুবতীর প্রেম অমর করে 

রাখার দুর্নিবার বাসনা। চারিদিকে পাথরে X + Y এর ছড়াছড়ি।  এতো প্রেমিক প্রেমিকা এখানে এতো সহজে পৌঁছে যায় যখন তাহলে নিশ্চয়ই সহজ পথ আছে, বাচ্চা দুটো ওদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এনেছে।  কিন্তু ওদের উপর রাগ হল না, ওদের জন্যই তো এমন সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে ওদের । দুপুর পেরিয়ে গেছে অনেক্ষণ, সবার পেটেই ছুঁচো ডন দিচ্ছে। চারজন একসাথে খাওয়া দাওয়া করল। ওদের পুঁচকে গাইডদের পেট ভরে যা ইচ্ছা করছে খাওয়াল, আবার কোনদিন ওদের সাথে দেখা হবে কিনা জানা নেই, না হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। ওদের সাথে ছবি তুলল। ওদের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে বলল ছবি পাঠিয়ে দেবে।  তারপর ওদের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে ছেড়ে দিল ওদের। খুশি মনে হাত নাড়তে নাড়তে চলে গেল ওরা। শহরটা ওরা নিজেরাই ঘুরে নেবে, বিকালে যাবে সানসেট পয়েন্ট।ঘুরতে ঘুরতে ঘড়ির দিকে খেয়াল ছিল না ওদের, সূর্য ডোবার বেশি দেরি নেই।  ওরা তখন যেখানে সেখান থেকে সান সেট পয়েন্ট পৌঁছাতে হেঁটে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট। বাস যায় না, ট্রেকার এ গেলে ১০ মিনিট মত। কিন্তু বাচ্চাগুলোকে দেওয়ার পর আর ট্রেকার ভাড়া নেই। শহরে ঘোরার সামায় শুনেছে দিলওয়াড়ার অসাধারন কারুকার্য করা মন্দিরের কথা।  সেখানে যেতেই হবে যোধপুর ফেরার আগে। পাথেয় যথেষ্ট নেই, তাই যতটা সম্ভব খরচ বাঁচাতে হবে। ওরা প্রায় দৌড়াতে শুরু করল। তখন একটা ট্রেকার ওদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে দাঁড়িয়ে গেল। ড্রাইভার মুখ বাড়িয়ে জিগ্যেস করল সানসেট পয়েন্ট যেতে হলে উঠে পড়তে নইলে মিস করবে। ওরা যখন বলল ভাড়া নেই, তখন ড্রাইভার বলল ছাদে বসে যেতে পারলে ভাড়া দিতে হবে না। আর কি চাই, লাফ দিয়ে দুজন উঠে পড়ল ট্রেকারের ছাদে। তখন ওই ট্রেকার ড্রাইভারকেই ওদের ভগবান বলে মনে হচ্ছিল। চারপাশের অসাধারণ সব দৃশ্য দেখতে দেখতে আর হাওয়া খেতে খেতে ওরা পৌঁছে গেল গন্তব্যে।

  সানসেট পয়েন্ট এ তখন গিজগিজ করছে ভিড়। এটাই টুরিস্টদের কাছে মাউন্ট আবুর সবচেয়ে দর্শনীয় জায়গা। নানা দেশের নানা বর্ণের মানুষের হট্টমেলা সেখানে। সবার হাতে ক্যামেরা, খচাখচ ছবি উঠছে। ওরাও একটা জায়গা দেখে বসে পড়ল। সূর্য পাটে বসেছে, পশ্চিম আকাশে কে আবির ঢেলে দিয়েছে। লাল হলুদ কমলার সাথে আকাশের নীল মিলে মিশে একাকার। সামনে দিগন্ত বিস্তৃত উপত্যকা সবুজ জঙ্গলে ঢাকা। বহুদূর দিগন্ত রেখায় অল্প অল্প মেঘ। সব মিলিয়ে এক মায়াবী পরিবেশ।  চুপ করে শুধু বসে থাকতে হয়। পার্থিব জগতের সুখ দুঃখ হাসি কান্না অভাব প্রাচুর্য সব কিছু থেকে দূরে, অনেক দূরে এই সময়টা। দুহাত ভরে তাকে শুধু গ্রহন করতে হয় আর সে এসে পূর্ণ করে জীবনকে। ধীরে ধীরে সূর্য নেমে গেল দিগন্তরেখার নীচে, অন্য কোনও এক দেশে ভোরের আলো ফোটাতে। অন্ধকার গ্রাস করতে শুরু করল ওরা যেখানে ছিল সেই জায়গাটাকে। বেড়াতে এসেছিল যারা তারা এক এক করে ফিরতে শুরু করল। ওরা দুজন বসে রইল স্থবিরের মত। সামনেই অমাবস্যা, তাই চাঁদ উঠবে না এখনি। তবে অসংখ্য তারা আকাশটাকে দখল করে নিল, এক অপার্থিব মায়াজালের চাঁদোয়া বিছিয়ে দিল যেন জঙ্গলের উপর। সেই মায়াজাল একটু একটু করে ওদেরকেও ঘিরে ফেলল, ওরাও ডুবে গেল মায়াবী সেই নীল আলোয়।

সানসেট পয়েন্ট, মাউন্ট আবু, রাজস্থান

নিক্কি লেক, মাউন্ট আবু, রাজস্থান

টড রক, মাউন্ট আবু, রাজস্থান

সে গিয়ে দোতলার একটা ঘর দেখাল ওদের। ছিমছাম সুন্দর ঘর, সাদা মার্বেল দেওয়া মেঝে, লাগোয়া বাথরুম। গরমজল লাগলে এনে দেবে বালতি করে। ঘর দেখে তো ভীষণ পছন্দ হল, আর বাস স্ট্যান্ডে রাত কটানোর তুলনায় এই হোটেল তো রাজপ্রাসাদ। কিন্তু ৮০ টাকায় এরকম ঘর কি করে দিচ্ছে,যখন এতো চাহিদা। রিসেপশনে ফিরে গিয়ে ঘর পছন্দ হয়েছে বলতে বলল ৩০০ টাকা ভাড়া আর ১০০ টাকা ডিপোজিট। বলে কি? ওরা নিজেদের অবস্থা জানিয়ে বলল ওদেরকে তো এখানে পাঠাল সব জেনেশুনে। কোথা থেকে দেবে এতো টাকা? তখন সে বলে আমি তো কিছু জানি না কে পাঠিয়েছে তোমাদের। রীতিমতো তর্কাতর্কি বেঁধে যায়, তখন ভেতর থেকে কেউ একজন বলল 'ঘর দে দো'। আরও একজন বয়স্ক লোক ছিল ঘরে ওরা খেয়াল করে নি আগে। ওনার কথা শুনে রিসেপশনের লোকটা আর কথা বাড়াল না, ঘরের চাবি দিয়ে দিল। ওরা দুজন তো মহা খুশি। ঘরে গিয়ে ব্যাগ পত্র ছুঁড়ে দিয়ে খাটে টান টান হয়ে শুয়ে পড়ল। ৪ ঘণ্টার উপর বাস জার্নি করে এসেছে। তারপর এসে এতো ঝামেলা। কিছুক্ষন পর দরজায় টোকা, খুলতেই দেখল যে ছেলেটা ঘর দেখিয়েছিল সে পটে করে চা এনেছে সেই সাথে গরম জল। ওরা তো অবাক, বলে নি তো এসব দিতে। হোটেলের চা-এর চেয়ে রাস্তার ধারের দোকানে অনেক কমে হত। কিন্তু তখন শরীরের যা অবস্থা একটু চা আর স্নানের গরম জল পেয়ে ওরা বর্তে গেল। হিসাব করে দেখল এগুলোর টাকা ওরা দিতে পারবে। তাই আর দেরি না করে চা'টা শেষ করে গরম জলে স্নান সেরে বেরিয়ে পড়ল আশপাশটা ঘুরে দেখতে।  

  শহরটা সুন্দর, তবে রাজস্থানের অন্য শহরগুলোর থেকে একটু আলাদা। ওরা ঘুরে ঘুরে লোকজনদের সাথে কথা বলে পরদিন কোথায় কোথায় যেতে পারে তার একটা লিস্ট বানিয়ে নিল। দেখার অনেক জায়গা আছে কিন্তু ওরা পায়ে হেঁটে ঘুরবে আর যেখানে ঢুকতে টাকা লাগবে না সেখানে সেখানে যাবে। রাতের খাওয়া ঘি মাখানো রুটি আর আচার। খেতে খেতে একজনের সাথে আলাপ হল, সে লোকাল

নিক্কি লেক, মাউন্ট আবু, রাজস্থান

নিক্কি লেক, মাউন্ট আবু, রাজস্থান

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

ছবিঃ সংগ্রহীত 

      পেরেম্বানান

  .... ছোটবেলায়  ইতিহাসের  পাতায়  পরে একটু বড় হলে রবীন্দ্রনাথের কবিতায় সুমাত্রা, যবদ্বীপ, বালি ও বোরনিওর উল্লেখ পেয়েছি। অন্য দ্বীপগুলির নাম এক থাকলেও যবদ্বীপ এখন জাভা। জাভার বরোবুদুর পৃথিবী বিখ্যাত। কিছুদিন আগে নেট ঘাটতে ঘাটতে খোঁজ পেলাম পেরাম্বানেনের। নবম শতাব্দীর হিন্দু মন্দির।

লিখেছেন... স্তুতি বিশ্বাস 

অধিকারী। জনসংখ্যার আশি শতাংশ মুসলিম বাকী অন্য। তবে কট্টরবাদীতা সেরকম নজরে এল না। বেশভূষায় বেশ খোলামেলা। প্রকৃতি ও মানুষের আন্তরিকতায় মনে হয় গ্রাম বাংলার কোথাও ঘুরছি। সকলেই দুইহাত জোর করে নমস্কারের মাধ্যমে অভিবাদন করে। যোজিয়াকারতা খুব একটা বড় শহর নয়। প্রতি পদক্ষেপে কলকাতাকে মনে করিয়ে দেয়। রাস্তায় বাস ট্যাক্সির সাথে পাল্লা দিয়ে রিক্সা ও ঘোড়ার গাড়ী চলছে। ফুটপাথ দখল করে খাবার স্টল। শহরের প্রধান শপিং স্থল মালিবু রোড। মালিবু রোডের ফুটপাথ মার্কেট সারারাত ধরে চলে। ফুটপাথের ভিড় ঠেলতে ঠেলতে বার বারই গড়িয়াহাটের কথা মনে পরে যাচ্ছিল। 

    হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেস হয়ে আমরা তুফানের সাথে বেড়িয়ে পড়লাম পেরেম্বানেনের উদ্দেশ্যে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্ট্রাল  জাভা প্রদেশে অবস্থিত  পেরাম্বানান। নবম শতাব্দীতে একাধিক হিন্দু মন্দির স্থাপন করা হয়েছিল এখানে। যোজিয়াকারতা থেকে দূরত্ব ১৭ কিমি।

    একটু ইতিহাস দেখেনি। সপ্তম শতাব্দী থেকে দশম শতাব্দী পর্যন্ত মধ্য জাভা অঞ্চলে ছিল মাতারাম রাজ্য। এই রাজ্যে রাজত্ব করতেন প্রথমে শৈলেন্দ্র বংশ পরে সঞ্জয় বংশ। শৈলেন্দ্র ছিলেন বৌদ্ধ। সঞ্জয় ছিলেন হিন্দু। সেই সময় জাভা সহ সমস্ত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সামাজিক, বাণিজ্যিক ও সংস্কৃতিতে এই দুই ধর্মের বিস্তর প্রভাব পড়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার হিন্দুরা ত্রিমূর্তির (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব) উপাসক। আনুমানিক অষ্টম শতাব্দীতে সঞ্জয় বংশের এক রাজা এখানে প্রথম শিবগৃহ স্থাপনা করেন। পরবর্তী কালে অন্যান্য রাজারা পাশে পাশে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও অন্যান্য  মন্দির  তৈরী করেন। পেরেম্বানান মাতারাম রাজ্যের রাজ মন্দির ছিল। পুরো মন্দির চত্বরটি প্রায় ১০০ বছর ধরে তৈরি করা হয়েছিল। চত্বরে প্রধান ছয়টি মন্দির ছাড়াও আরো ২৩৫টী ছোট ছোট মন্দির ছিল। নবম শতাব্দীর শেষের দিকে মধ্য জাভা থেকে রাজ্য সরে যায় পূর্ব দিকে। স্থানান্তরের আসল কারণ জানা যায় না। অনেকে মনে করেন কাছেই মাউন্ট মেরাপী  জীবন্ত আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে ঐ অঞ্চল লাভা ও ছাইয়ে ঢেকে যায়। তাই রাজ্য স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়েছিল। তারপর থেকেই পেরেম্বানান পরিত্যক্ত হয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। ষোড়শ শতাব্দীতে এক ভয়ংকর ভূমিকম্পে মন্দির কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

    স্থানীয় গ্রামের লোকজন লুপ্তপ্রায় মন্দিরগুলির কথা জানলেও ইতিহাস জানত না। তাই তারা মন্দিরগুলি নিয়ে নিজেদের মত করে দৈত্য ও  রাজকুমারীর গল্প বানিয়ে ছিল। পরম্পরা ধরে তাই চলে আসছিল। 
   উনবিংশ শতাব্দীতে প্রথম বিশ্বের নজরে আসে পেরেম্বানান। ১৯১৮ সালে ডাচরা প্রথম কম্পাউন্ড পুনরুদ্ধার শুরু করে। ঠিকঠাক ভাবে ১৯৩০ সালে কাজ শুরু হয়। ১৯৫৩ সালে প্রাচীন শিব মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। পরে  ব্রহ্মা ও বিষ্ণু মন্দিরের সংস্কার হয়। তুফানের মুখে ইতিহাস শুনতে শুনতে কখন পৌঁছে গেছি পেরেম্বানানের গেটে খেয়াল নেই। গাড়ী পারকিং করে টিকিট ঘরের কাছে যেতেই দেখি লম্বা লাইন।

মনটা দমে গেল। তুফান জানাল আমরা এসেছি রামাদান (ঈদ )ছুটির মরসুমে। এখন এখানে সাত দিন ধরে ছুটি চলছে তাই এত ভীড়। যাইহোক বিদেশীদের জন্য আলাদা গেট। ফাঁকা। টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকলাম।
    চোখ  জুড়িয়ে গেল। আগ্নেয়গিরির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তারই পদতলে সবুজের ভাসাভাসি। নিকটেই মাউন্ট মেরাপি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। শেষ ২০১০এ জ্বলন্ত লাভা ও ছাই উগড়ে দিয়েছিল। সবুজের বাগানে নীল আকাশের নীচে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দী প্রাচীন ব্রহ্মা, বিষ্ণু মহেশ্বর মন্দির। ভাবতে অবাক লাগে সেই প্রাচীনকালে ঝড়ঝঞ্জা জয় করে সাতসমুদ্র তেরো নদী অতিক্রম করে হিন্দুধর্ম পৌছে গেছিল ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ পুঞ্জে। আর আজ আমরা হিন্দুধর্মের উৎসতেই তাকে বজায় রাখার জন্য নানা ছলছুতো করতে থাকি।
    ইন্দোনেশিয়ার হিসাব মহা ঝকমারি। মুদ্রার নাম রুপয়া। শুরু ১০০০ নোট থেকে। হোটেল থেকে মালিবু রোড রিক্সা ভাড়া চাইল ৩৫০০০ রুপয়া। আকাশ থেকে পড়লাম।একিরে ভাই … কোন দেশে এলাম রিক্সাওয়ালা হাজার ছাড়া কথা বলে না। ডাব খেলাম। এত জল, এত জল যে পেট ফুলে জয়ঢাক হবার জোগাড়। দাম চাইল ১৫০০০ রুপয়া।কোন কিছু হিসাব করতে গেলেই শূন্যরা  মাথার মধ্যে সব লম্ফঝম্ফ শুরু করে দিচ্ছিল। শূন্যের আধিক্যে মাঝে মাঝে মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছিলাম। আচ্ছা এই লক্ষ , কোটিপতি রিক্সাওলা, ডাবওলা এরপর কি পতি হবে !!!!!!!!!!!! এই দেশের জন্যই মনে হয় ক্যাল্কুলেটর বেঁচে আছে। 
    কমপ্লেক্সে ঢুকতেই আমাদের স্বাগত জানাল বল্লমধারী সান্ত্রীরা। এগোতে গিয়েও পিছিয়ে এলাম দেখি রাক্ষস খোক্কস ঘোরাফেরা করছে। ক্যামেরা হাতে নিতেই তারা পাশে এসে দাঁড়াল। চললো নানা ভঙ্গিমায় ফটো সেশন।পেরেম্বানানে ছয়টি মূল মন্দির ছাড়াও আরো ছোট ছোট ২৩৫টি মন্দির ছিল। বেশীরভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকেরা পরিত্যক্ত পাথর নিয়ে কাজে লাগিয়েছে। এখন অবশ্য সবই সংরক্ষিত। মন্দিরগুলি ধূসর কালচে রঙের আগ্নেয়গিরির পাথর দিয়ে তৈরি। সংস্কারের পর কয়েকটি মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে বড় শিবগৃহ। তার দুইপাশে অপেক্ষাকৃত ছোট ব্রহ্মা ও বিষ্ণু মন্দির। এই তিন মন্দিরের সামনে বাহন নন্দী, গারুদা ও হংস  মন্দির। এ ছাড়া দুর্গা ও গণেশের আলাদা মন্দির।
    ব্রহ্মা ও শিব মন্দিরের গায়ে পাথরের ব্লকে খোদাই করা রামায়ণ গাথা। বিষ্ণু মন্দিরের গায়ে খচিত শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা কাহিনী। অন্যান্য মন্দিরের গায়ে  ভগবৎ পুরাণের কাহিনী  বর্ণনা করা আছে।
প্রত্যেক মন্দিরে উঠতে হল পাথরের উঁচু উঁচু সিঁড়ি ভেঙে। মন্দিরের কারুকার্য সত্যি দেখার মত। সংরক্ষণের এত বন্দোবস্ত করলেও আশ্চর্য লাগল দেখে যে মন্দিরের ভিতরে কোন আলোর বন্দোবস্ত নেই। ভিতরে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভিড়ে দম বন্ধ হবার যোগার। আলো না থাকায় পাথরের মূর্তির ভাল করে ফটো তোলা গেল না। পাথরের গায়ে খোদাই করা কারুকার্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেছিলাম সেই অষ্টাদশ শতাব্দীতে। খেয়াল করি নি কখন সূর্য পশ্চিম গগনে হেলে গেছে। কমপ্লেক্সটি বিরাট বড়। ভাল করে দেখতে হলে পুরোদিন হাতে করে যেতে হবে। ছুটির মরসুম হওয়ায় বেশ ভীড় ছিল। তবে প্রায় সবই লোকাল লোকজন। বিদেশী খুব একটা নজরে এল না।

    ফিরতে মন চায় না। দেখার তৃষ্ণা মেটে না। কিন্তু ফিরতে হবেই। ফেরার পথে কমপ্লেক্স সংলগ্ন মার্কেট থেকে কিছু কাঠের জিনিষ কেনা হল। ভালই দরাদরি চলে। যখন গাড়ীতে চড়লাম তখন  চারিদিকে গোধূলির কমলা আলোর মায়াময়তা। পাখিরা ডানায় ক্লান্তি মেখে ফিরছে। কমপ্লেক্স পেরিয়ে গ্রামের পথ ধরলাম। ম্লান আলোয় দূরের গ্রামগুলি ছায়াছায়া হয়ে জেগে উঠছে। 
    পেরেম্বানান রহস্যের সীমা নেই। খননের ফলে এখনো বেড়িয়ে আসছে অনেক মন্দিরের নিদর্শন। সম্প্রতি ১৩ মিটার আগ্নেয়গিরির ছাইর নীচে চাপা পরা মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছে। সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রচুর মূল্যবান নিদর্শন লুকিয়ে আছে এখানে।
    বিদায় পেরেম্বানান। আর কোনদিন হয়তো তোমার সাথে দেখা হবে না। এই ভাবেই শতাব্দী ধরে ইতিহাসের পাতায় তুমি বেঁচে থাকবে।  
 

    ছোটবেলায়  ইতিহাসের  পাতায়  পরে  একটু বড় হলে রবীন্দ্রনাথের কবিতায় সুমাত্রা, যবদ্বীপ, বালি ও বোরনিওর উল্লেখ পেয়েছি। অন্য দ্বীপগুলির নাম এক থাকলেও যবদ্বীপ এখন জাভা। জাভার বরোবুদুর পৃথিবী বিখ্যাত। কিছুদিন আগে নেট ঘাটতে ঘাটতে খোঁজ পেলাম পেরাম্বানেনের। নবম শতাব্দীর হিন্দু মন্দির। স্বল্প খ্যাত। ছবি দেখে ও বিবরণ পড়ে চাক্ষুষ দেখার প্রবল ইচ্ছা জাগল। তাই এবার বালি বেড়ানোর কথা উঠতেই পেরাম্বানান যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম। মঞ্জুর হয়ে গেল। প্রোগ্রাম হল দুইদিন যোজিয়াকারতা তারপর বালি। ছোট্ট শহর যোজিয়াকরতা। ওখান থেকে বরোবুদুর, পেরেম্বানেন দুই জায়গায় যাওয়া যায়। 

    সিংগাপুর থেকে দুই ঘন্টার ফ্লাইট যোজিয়াকারতা। ছোট্ট এয়ারপোর্ট। রানওয়ের ওপাশে ঘন সবুজের সমারহ। সকালের মিষ্টি রোদ মুচকি হেসে আমাদের অভ্যর্থনা করল । প্লেন থেকে লোহার সিঁড়ি বেয়ে নেমে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম এয়ারপোর্ট বিল্ডিংএ। বড় হল ঘরের একপাশে কাঠের পার্টিশন করা ইমিগ্রেশন। ইন্দোনেশিয়া ভারতের বন্ধু দেশ তাই ভিসা লাগে না। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এখন অ্যারাইভেল ভিসা ফি ও মকুব করে দেওয়া হয়েছে। মালপত্র নিয়ে বাইরে বেড়তেই দেখি আমাদের গাইড বোর্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 

    প্রাথমিক আলাপচারিতায় জানলাম গাইডের নাম তোউফান। ইন্দোনেশিয়ার ভাষার নাম বাহাসা। আমাদের সংস্কৃত থেকে অনেক শব্দ  নেওয়া হয়েছে। তাই বাঙলার সাথে কিছু কিছু শব্দ কমন পাওয়া যায়। গাইড জানাল তোউফান আসলে আমাদের তুফান। ওর জন্মের সময় নাকি ইন্দোনেশিয়ায় প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল তাই নাম রাখা হয়েছে তুফান। ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিতে রামায়ণ , মহাভারতের প্রভাব প্রচুর। তুফান জানাল যোজিয়াকারতা নামটি এসেছে রামায়ণের অযোধ্যা থেকে। ওখানকার রাজা রামের মত রাজা হতে চেয়েছিলেন তাই রাজ্যের নাম রেখেছিলেন অযোধ্যাকারতা। পরে লোকের মুখে মুখে সেটা যোজিয়াকারতা হয়ে গেছে।

    ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগ স্থলে সতেরো হাজার দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ দেশ ইন্দোনেশিয়া। জনগণনায় পৃথিবীতে চতুর্থ স্থান
 

 

মেঘের মুলুকে

সুখের পরশ

  .... ঝিরঝিরে বৃষ্টিটা একনাগাড়ে হয়েই চলেছে। রাস্তার দু’পাশে সবুজে ধোওয়া পাইনের সমারোহ। মাঝেমধ্যেই কোথা থেকে একরাশ কুয়াশার জাল এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে গাড়ির কাঁচ। আর দৃশ্যমান জগত নিমেষেই নিরুদ্দেশ! পাইন গাছগুলোর গা বেয়ে ঝরছে সেই কুয়াশা মাখা বারিধারা। বর্ষাস্নাত পাহাড়ে জলনুপূরের রিনিঝিনি।

লিখেছেন... শ্রীতমা বিশ্বাস 

মনের গভীরে ‘শেষের কবিতা’র গল্পলিপি। মেঘবালিকার আপন ঘরে প্রেম এতটাই গাঢ়।

   ঝিরঝিরে বৃষ্টিটা একনাগাড়ে হয়েই চলেছে। রাস্তার দু’পাশে সবুজে ধোওয়া পাইনের সমারোহ। মাঝেমধ্যেই কোথা থেকে একরাশ কুয়াশার জাল এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে গাড়ির কাঁচ। আর দৃশ্যমান জগত নিমেষেই নিরুদ্দেশ! পাইন গাছগুলোর গা বেয়ে ঝরছে সেই কুয়াশা মাখা বারিধারা। বর্ষাস্নাত পাহাড়ে জলনুপূরের রিনিঝিনি। আবছা জানলার ওপাশে পাহাড়ী অর্কিড, ফার্ন আর রঙ বেরঙের বুনো ফুল। একদল কিশোরীর প্রাণখোলা হাসির মতই যেন তাদের রূপের স্নিগ্ধতা। মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে আঁকাবাঁকা পথে

এগিয়ে চলেছি। গন্তব্য শিলং পিক। চলা শুরু হলে আর উদ্দেশ্যের কথা মনেই থাকেনা। পু্রো পথটা প্রকৃতির নিরাভরণ সৌন্দর্যের মায়াজালে মোড়া। বাঙালি ড্রাইভারের গাড়ির মিউজিক সিস্টেমে হঠাৎই বেজে উঠলো - “এই পথ যদি না শেষ হয়...।” দূরে পাহাড়ের বুক চিরে নেমে এসেছে ঝর্নার চপল, চঞ্চল স্রোত। চলন্ত গাড়ি থেকেই সেই দৃশ্য একের পর এক ক্যামেরা বন্দী করছি।
     মেঘালয়ের উচ্চতম চূড়া শিলং পিকে পা রাখলাম। পাইন-বারচ-দেওদারে ছাওয়া ভিউ-পয়েন্ট থেকে ছবির মত দেখায় পাহাড়ের কোলে গোটা শিলং শহরটাকে। ততক্ষণে

 

মেঘ সম্পূর্ণ কেটে গিয়েছে। ঝকঝকে রোদ্দুরে আকাশের নীল শামিয়ানার আঙিনায় যেদিকেই দুচোখ পড়ে, শুধুই বাকশূন্যতা ঘিরে ধরে। খোলা আকাশের নীচে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ গালিচায় মোড়া শহরের মাঝে ছোট ছোট বাড়ীঘর- যেন কোনও দক্ষ শিল্পীর তুলির টানে আঁকা নানা রঙের জলছবি। নয়ন সম্মুখে উদ্ভাসিত রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য আদন্ত্যরোমান্টিকতায় জড়ানো শৈলশহরটি। অদ্ভুত এক ভালোলাগার আবেশে মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে চিরনূতন ‘শেষের কবিতা’- অমিত লাবণ্যের একান্ত প্রাণের কথা।

     সূর্যের পড়ন্ত যৌবনে গোধূলির শেষ লগ্নে যখন আঁধার ঘনায়, দূরে আলোর চুমকিতে শিলং তখন সেজে ওঠে রাতপরীর বেশে। কলকাতার রিয়ালিজমের থেকে অনেক যোজন পেরিয়ে এ এক ফ্যান্টাসির জগত; যেখানে মেঘবালিকার মেখলার আলতো স্পর্শ, কুহেলিকার ধূসর পালকি মনকে শুধু মুগ্ধই করে না, ধীরে ধীরে গ্রাস করে; যেখানে আড়ামোড়া ভাঙা ভোর আসে নাম না জানা অচিন পাখির ডাকে; কুয়াশা মাখা নির্জন পাইন বনের আলো আঁধারিতে প্রজাপতিরা পাখা মেলে একে একে; রোদ আর ছায়া স্বপ্নে হাত ধরাধরি করে অমিত আর লাবন্যরা ডুবে যায় জীবনের সুর খোঁজার সাধনাতে।    

 

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?