ছবি ঃ সনোজ চক্রবর্তী

ভ্রমণ সঙ্গী - ৫

বতর্মানের

মিশর

চৈতালি পুরকায়স্থ

(ডালাস, টেক্সাস)

স্ফিংস- রাজার মুখ, সিংহের দেহ

  ২০১৪ সালের শেষের দিকে যখন আমাদের মিশর যাবার কথা হচ্ছিল - যে শুনছিল সেই বলছিল কেন যাচ্ছ এমন দেশে, এই সময়ে? প্রাণ হারাতে চাও নাকি? কিন্তু আমার স্বামী সুবীর বদ্ধপরিকর - সে যাবেই যাবে। তার ধারণা এবার না গেলে, আর কোনদিনই যাওয়া হয়ে উঠবে না আমাদের!

  সুতরাং সাহস করে যাত্রা শুরু হল আমাদের ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। মিশরের রাজধানী কায়রো এসে পৌঁছোলাম ৬ তারিখে। এয়ারপোর্টে খুবই বিশৃঙ্খলা দেখলাম, অনেক আগে ভারতবর্ষে যা হত তাই। কোন নিয়ম কানুনের বালাই নেই। ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়াতে স্থানীয় লোকেরা জানালো আমাকে মহিলাদের লাইনে যেতে হবে। গিয়ে দেখি আমাকে আবার আলাদা করে ফর্ম ভরতে হবে - বেশ, করলাম যা বললো তাই।তারপর দেখলাম স্বামী স্ত্রী ছেলে মেয়ে সবাইকে একসঙ্গে নিয়েও যেতে দেয়। কেউ জানে না কোনটা নিয়ম! তারপর মালপত্র খুঁজে বের করা। ভাগ্যিস পোর্টার পাওয়া গেল, আস্তে আস্তে মালপত্র যোগাড় হল।

  বাইরে এসে দেখলাম মেরিওট হোটেল থেকে পাঠানো গাড়ীর ড্রাইভার আমাদের নাম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।বাঁচলাম! তার গাড়ীতে এসে পৌঁছোলাম নীল নদের তীরে মেরিওট হোটেলে। হোটেলের মধ্য অংশে পুরোণো রাজপ্রাসাদ, যা পরিণত হয়েছে হোটেলের লবি ও রেস্টুরেন্টে। এছাড়া দুপাশে নতুন দুটি উঁচু বিলডিং, সেখানে অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা।

  আমরা ঘর পেলাম নয় তলায়। ঘরের বারান্দা থেকে নীল নদ এবং শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য। লোকেদের চেহারা বেশ হৃষ্টপুষ্ট। মহিলাদের অনেকের মাথা ঢাকা, তবে অল্পবয়িসীদের নয়। শুনলাম আমার মত বিদেশিনীদের কাছে ওরা আশা করে না মাথায় ঢাকা দেওয়া! তবে আমি তো বিদেশিনী নই ওদের কাছে।  কুয়েত থেকে প্লেনে কায়রো আসার পথে এয়ার হোসটেস জানতে চেয়েছিল আমি মিশরীয় কিনা। শুনে অবাক হয়েছিলাম আমি!

  বারান্দা থেকে দেখতে পেলাম নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাড়ীর মত দেখতে একটি বড় জাহাজ, তার নাম ম্যাকসিম। শুনলাম ঐ জাহাজ যাত্রীদের নিয়ে সন্ধ্যাবেলা নৌকাবিহারে যায়। হোটেলের রেস্টুরেন্ট খুবই রাজকীয় ভাবে সাজানো - সেখানেই রাতের আহার হল আমাদের।

  পরের দিন সকালে আমরা প্রথমেই এলাম শহরের কেন্দ্রস্থলে মিউজিয়াম দেখতে। গিয়ে দেখি সামনে অনেক মিলিটারি এবং মিলিটারি ট্যাঙ্ক। ভেতরেও অনেক মিলিটারি। শুনলাম মিলিটারিই এদেশে রাজত্ব চালাচ্ছে এখন। হয়তো দ্রষ্টব্য বস্তুর যাতে ক্ষতি না হয় তাই এই ব্যবস্থা।

  কায়রোর এই বিখ্যাত মিউজিয়াম তৈরী করা সহজ হয়নি। মিশরের ইতিহাস পাঁচ হাজার বছরের পুরোণো।মিশরের শিল্পকলার নিদর্শন প্রাচীন কালের ফারাওরা মুক্ত হস্তে দান করে দিতেন। উনবিংশ শতাব্দীতে প্রথম মিউজিয়াম করার চেষ্টা হয়। তৎকালীন মিশরের রাজা অস্ট্রিয়ার রাজাকে দান করে দিয়েছিলেন যেটুকু শিল্পকলার নিদর্শন প্রথম দিকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত মিউজিয়ামটি তৈরী হয় ১৮৬৩ খৃষ্টাব্দে এক ফরাসী শিল্পীর সহায়তায়। তারপর আজকের অবস্থানে আসে ১৯০২ সালে। 

  এই যাদুঘরে অর্থাৎ মিউজিয়ামে বেশীর ভাগ জিনিষই চার পাঁচ হাজার বছরের পুরোণো। রাজা টুটেন খামেনের সোনার মূর্তি এবং মিশরের মমিই সবচেয়ে বিখ্যাত। রয়েছে পাথরে তৈরী নানান দেবদেবীর মূর্তি। মন্দিরের ভেতর থেকে আনা লাইম স্টোনে তৈরী রাজা, রাণী এবং তিন রাজকন্যার মূর্তি। দেখলাম অনেক সাধারণ কর্মীদের মূর্তি। শিল্প খুবই উন্নত মানের। চার পাঁচ হাজার বছর আগে এত উন্নত ছিল মূর্তি তৈরীর শিল্প, যা আশ্চর্য হবার মত। জানা গেল শিল্পীদের অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হত, যত ইচ্ছে সময় তারা নিতে পারতো।

  রাজারা অনেক গহনা পরতেন। রাজা টুটেন খামেনের গলার হার এবং কানের দুল রয়েছে সেখানে। ছেলেমানুষ রাজা, আয়ু মাত্র ১৯ বছর, তার মমি রাখা হয়েছিল চারটি সোনার জল দিয়ে তৈরী করা বাক্সে। প্রথমে সবচেয়ে ছোট বাক্স - তারপর আর একটু বড় - শেষে সবচেয়ে বড়টি প্রায় ঘরের মত সাইজের। রাণী নামে একটি স্থানীয় গাইড আমাদের সব বুঝিয়ে দিল। অজস্র মূর্তি রয়েছে, কোন কোন দেবদেবী পশুর চেহারার বা মুখ পশুর কিন্তু দেহ মানুষের। দেবতাদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন সূর্যদেবতারা এবং পাতালের দেবতা ওসিরিস। চীন মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল যে মৃত্যুর পর ওসিরিস তাদের দেখাশুনো করেন। 

  সন্ধ্যাবেলা গেলাম নৌকাবিহারে, ম্যাক্সিম নিয়ে, হোটেলের খুব কাছ থেকেই। জাহাজে নীচ তলায় রেসটুরেন্ট, সেখানেই আমাদের বসানো হল। বসে বসে নদীর তীরবর্তি দৃশ্য দেখতে লাগলাম রাতের অন্ধকারে। কত ছোট ছোট নৌকো দেখলাম, আলো দিয়ে সাজানো। তারপর গান শুরু হল, মন্থর গতিতে জাহাজ চলছে। এবার শুরু হল পুরুষদের আরবীয় নাচ - বাজনা চমৎকার - পোষাক ও নাচ অন্যরকম। এরপর শুরু হল বেলি ডান্স, নাচতে এল কয়েকটি অল্পবয়িসী মেয়ে। ভেবেছিলাম নতুন মিলিটারী গভর্ণমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে মেয়েদের নাচ, কিন্তু তা নয়। নর্তকীরা খুবই উৎসাহী, চমৎকার হল নাচ। খাবার অনেক - স্যালাড, মাছ, মিষ্টি কিছু বাদ নেই।ভালোই লাগলো আমাদের।  মনে পড়ল এই সেই নীল নদ, ছোটবেলায় টেন

পিরামিড ও উঠ

কমান্ডমেন্টস সিনেমায় দেখা নীল নদ, যার মধ্যে দেখেছিলাম সেই অলৌকিক দৃশ্য - নদীর জল দুদিকে সরে যাচ্ছে এবং ইহুদীদের ধর্মগুরু মোসেস ইহুদী  ক্রীতদাসদের দলকে নিয়ে নদী পার হয়ে চলে যাচ্ছেন! আজকালকার অনেক ইতিহাস তত্ত্ববিদরা বিশ্বাস করেন না যে খৃষ্টপূর্ব ঐ সময় মোসেস নামে কোন ঐতিহাসিক চরিত্র ছিল।

  পরদিন সকালে আমরা হোটেলের ড্রাইভার হাসানের গাড়ীতে রওনা হলাম গিজার পথে। সে প্রথমেই আমাদের কায়রোর বিখ্যাত মসজিদ আল আজাহার দেখিয়ে নিতে চাইলো। সেখানে এসে দেখলাম একেবারেই কোন লোকজন নেই। মসজিদের ভেতরের অংশ দেখে ফিরে আসার পর দ্বাররক্ষী দুঃখ করে জানালো - আজকাল বিদেশ থেকে লোকজন একেবারেই আসে না।সবাই বর্জন করেছে আমাদের দেশ, পিকচার পোস্টকার্ড কেনারও কোন লোক পাই না। শুনে দুঃখ হল আমাদের, আমরা কিছু পিকচার পোস্টকার্ড কিনলাম।

  এবার এসে পৌঁছোলাম কায়রোর উওর দিকে গিজা অঞ্চলে যেখানে রয়েছে পিরামিড ও স্ফিংস। পিরামিডের কাছে এসে বোঝা গেল মিশর সত্যিই মরুভূমির দেশ। চারিদিকে শুধু বালি আর বালি। বালির ঝড়ে ঢাকা পড়েছিল এখানকার এই তিন পিরামিড, হাজার হাজার বছর ধরে। আবিষ্কার করা হয়েছে অনেক পরে। প্রথম  পিরামিড রাজা খুফার। দ্বিতীয়টি রাজা খাফ্রের আর তৃতীয়টি রাজা মেনটুরার। রাজারা নিজেরাই নিজেদের  পিরামিড তৈরী করে রাখতেন বেঁচে থাকাকালীন, যাতে মৃত্যুর পর তাদের মৃতদেহ রাখা হয় ত্রিকোণাকৃতি এই  বিরাট স্তম্ভের মধ্যে। পিরামিড তৈরী হত বড় বড় পাথরের টুকরো দিয়ে। কেমন করে  দুটো পাথরকে জোড়া  দিয়ে একসঙ্গে রাখা হত তা দেখিয়ে, বুঝিয়ে দিলেন আমাদের ইংরিজি জানা গাইড আলি।  প্রথম পিরামিডটি  তৈরী হয়েছিল বছরে ১ হাজার কর্মীর সাহায্য নিয়ে, মোট ৩০ বছর ধরে।

  আমার শুধু মনে হল কী স্বার্থপর এই রাজারা! এত বড় পিরামিড কিনা একটি মাত্র মৃতদেহের জন্যে! পরিবারের অন্যদেরও তো স্থান দিতে পারা যেত সেখানে? আর সেই যুগে এত বড় পিরামিড তৈরী করতে গিয়ে, এত পাথর তুলতে গিয়ে, না জানি কত লোক প্রাণ হারিয়েছে! রাজারা কি নিষ্ঠূর! পিরামিড দেখার আনন্দটা অনেক কমে গেল আমার।

  আর স্ফিংস এর যে মূর্তি দেখলাম - রাজা খাফ্রের মুখ এবং দেহ সিংহের। তার অর্থ হল - রাজা মানুষ হতে পারেন কিন্তু তার বিক্রম সিংহ সমান। যত লোক পিরামিড দেখতে এসেছিল সেদিন তারা সবাই ছিল স্থানীয় লোক। স্কুলের ছেলের দল নয়তো কলেজে পড়া বড় ছেলে মেয়ে। সমস্ত চত্বরে আমরা ছাড়া আর কোন বিদেশীদের দেখা পাওয়া গেল না সেদিন। বেশ কয়েকটি উট দেখলাম, কিন্তু চড়বার কোন লোক ছিল না।

  এবার গাইড আলি আমাদের নিয়ে গেল নিকটস্থ একটি ছবির দোকানে। সেখানে আমাদের দেখানো হল পপাইরাস গাছের ডাল জলে ভিজিয়ে রেখে কিভাবে কাগজ তৈরী করা হয়। তার ওপর ছবি আঁকা হত প্রাচীনকালে। এখনো হয় দেখলাম।

  পাঁচ হাজার বছর আগে সত্যিই মিশর সভ্যতার শিখরে উঠেছিল। শিল্পকলার সবচেয়ে বেশী উন্নতি তখনই হয়েছিল। মিশরীয়রা লিখতে শিখে গিয়েছিল তখন থেকে। মন্দিরের পুরোহিতরা পর পর প্রতিটি রাজার নাম  লিখে রেখেছিলেন। এই সভ্যতা চলেছিল ৫০০ বছর। এই সভ্যতার পতনের পর যে  উন্নত সভ্যতা আসে, সেই  সময় মিশরে চাষবাস এবং বানিজ্যের খুব উন্নতি হয়। নদীপথে জাহাজে করে মালপত্র নিয়ে  গিয়ে ব্যবসা শুরু  হয়। আর শেষে যে সভ্যতা আসে তাদের ছিল যুদ্ধবিদ্যায় নিপুনতা। মিশরের উওরে ভূমধ্যসাগর এবং পশ্চিমে  ও পূর্বে দুদিকেই মরুভূমি। তাই বহিঃশত্রুর আক্রমণ এদেশে অনেক কম হয়েছিল। তাছাড়া আবহাওয়া ছিল বেশ সুন্দর। দিনে গরম এবং রাতে বেশ ঠান্ডা। তাই চার পাঁচ হাজার বছর আগে তৈরী শিল্পকলা নষ্ট হতে  পারে নি ।

  প্রাচীন মিশরীয়দের জীবনের প্রতি ছিল গভীর ভালবাসা। তারা মনে করতো দৈহিক মৃত্যুর পরও অন্য কোনো  জীবন আছে। তাই তারা মৃতদেহকে মমি তৈরী করে রেখে দেবার চেষ্টা করতো।

  শেষের দিনে আমরা গেলাম পুরোণো কায়রোতে। সেখানে আছে একটি বিখ্যাত মসজিদ, শুনলাম এ মসজিদ আফ্রিকার সবচেয়ে পুরোণো মসজিদ। তার খুব কাছেই রয়েছে খৃস্টানদের পুরোণো চার্চ এবং ঠিক পাশেই ইহুদীদের মন্দির। দেখে মনে হল এই তিন ধর্মের মানুষ এদেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতো। তবে কেন এমন  হয়ে গেল মিশর? মারামারি হানাহানি কেন কেড়ে নিল সব শান্তি? বোধহয় রাজনীতি আর ইতিহাস নিয়ে যারা  গবেষনা করেন তারাই এই প্রশ্নের উওর দিতে পারবেন।

কায়রোতে আফ্রিকার সবচেয়ে পুরনো মসজিদ

 

ট্রয় ট্রেনে  

শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

(জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা,বাংলাদেশ)

 কুর্শিয়াং ষ্টেশন

  মূলতঃ ইংরেজদের অবকাশকালীন স্থান হিসাবে দার্জিলিং বা হিমালয় পাহাড়ের এলাকা প্রতিষ্ঠিত হয়।নিউজলপাইগুড়ি ষ্টেশন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত ৮৮ কিমি ন্যারো গেজের রেললাইন DARJEELING HIMALAYAN RAILWAY সংক্ষেপে DHR। আর এ রুটের টয় ট্রেন আজ পর্যন্ত সুন্দরতম পাহাড়িয়া ট্রেন যাত্রা বলে আধুনিক এ যুগেও স্বীকৃত। বিখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন ১৮৯৬ সালে।

  DHR ‘টয় ট্রেনে' একদিন ভ্রমণ করেছিলেন এবং সেদিনটাকে তাঁর জীবনে কাটানো অন্যতম উপভোগ্য দিন বলে মন্তব্য করেন। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে টয় ট্রেন’কে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। 

  নিউজলপাইগুড়ি বা এনজেপি ষ্টেশন সংলগ্নে টয় ট্রেনের রেপ্লিকা আছে। বলে রাখা ভাল, পূর্বে  বাষ্পচালিত বা কয়লা চালিত ইঞ্জিনদ্বারা শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে ৯-১০ ঘণ্টা সময় লাগলেও বর্তমানে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন দ্বারা টয় ট্রেনে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। আর ট্যাক্সিতে গেলে (HILL CART ROAD ধরে) সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। বড় বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে - HILL CART ROAD এর পাশাপাশি টয় ট্রেন রুট ও ছোট ছোট ষ্টেশনগুলো অবস্থিত। সুকনা, ঘুম বা দার্জিলিং ষ্টেশন সংলগ্ন মিউজিয়ামে ডি-এইচ-আর’ এর ঐতিহ্য বা ইতিহাস, তথ্যাদি সংরক্ষিত আছে।

  সুকনা ষ্টেশন থেকে বুঝা যায় ক্রমান্বয়ে উচ্চতায় উঠছে ট্রেন। বড় রকমের বাঁক শুরু এ ষ্টেশন থেকে। রান্টং ষ্টেশন বা নিকটবর্তী এলাকা থেকে কুর্শিয়াং পাহাড়ের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ রুটে ৭৪০৭ ফুট উচ্চতায় ‘ঘুম’ ষ্টেশন অবস্থিত। যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় এবং সমগ্র পৃথিবী’র মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত রেল ষ্টেশন। অন্যদিকে এনজিপি মাত্র ৩১৪ ফুট উপরে (সমতল ভূমি থেকে) অবস্থিত। ১৮৮০/১৮৮১ সালের দিকে এ রুটের বেশিরভাগ ষ্টেশনগুলো প্রতিষ্ঠিত। এর মাঝে আছে কুর্শিয়াং ষ্টেশন। যেখান থেকে চা বাগানের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ‘ঘুম’ ষ্টেশন’র আগে ‘জোড় বাংলা’তে সড়কপথ ও রেলপথ ক্রস করেছে। এখানকার বাতাসিয়া’র বাগান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও দার্জিলিং এর অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়। সর্বশেষ ষ্টেশন হচ্ছে দার্জিলিং। এটি ৬৮১২ ফুট উচ্চতায়। ১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত দার্জিলিং ষ্টেশন ধংসপ্রাপ্ত হয় যা ১৯৪৪ সালে পুননির্মিত হয় যা আজ দাড়িয়ে আছে। 

সুকনা ষ্টেশন ও মিউজিয়াম

  ঘুম ষ্টেশনের মিউজিয়াম

বর্তমান কালের টয় ট্রেন

আগের দিনের টয় ট্রেন

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

 
Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Maadhukari explores Bengali Literature Around The World