

পুজো বার্ষিকী
১৪২৮

কবিতা
গ্যালোপিং সাহিত্য
জিষ্ণু সেনগুপ্ত
প্রচ্ছদ - সুরজিৎ সিনহা
প্রচ্ছদ - সুরজিৎ সিনহা
প্রচ্ছদ - সুরজিৎ সিনহা

শিয়ালদহ
ক্লান্তির কবিতা
আমি তো কিছুই পারি না, আমার না পারা সংলাপের, ভৌতিক বাস্তবতা আমাকেই অবাক করে। ঠিক যেমন অবাক করে বর্ষণ-বিহীন ধূসর মেঘ-পুঞ্জকে। মালিনী আমায় বলেছে, আমরা চরকের মেলায় যাব। আমার এখন ররবীন্দ্রনাথ পড়তে ভালো লাগে না। তাক ভর্তি সমগ্র ভাসিয়ে দিয়েছি, সামুদ্রিক শূন্যতায়। মালিনী আবার এনে দেবে, একটা বেশি আনবে, আমি জানি।
শাশ্বত বলেছে সবুজ দেখতে, বয়স হচ্ছে, আরাম হবে। আমার দুঃখ হয় না, মালিনীর হয়।মালিনী বলেছে কবিদের দুঃখ হয় না। সাধারণের হয়, কারণ ওরা স্বপ্ন দেখে কবিতার মত, আর আমরা কবিতা লিখি স্বপ্নের মত। আমি দুঃখ-বিহীন, দুঃখ-অভিমান আর না পারার কান্না পুড়িয়ে দিয়েছি অশোক-আগুনে। রিতর্ণা সিগারেট ছাড়তে বলেছিল, আমি ছেড়েছি আর রিতর্ণা আমায়। এখন পকেটে সিগারেট নেই, ক্লান্তি আছে।
দমদম
দুঃখের কবি
শাশ্বত বলেছে আমি কবিদের মতন দুঃখ নিয়ে নেশা করি। সকালে মালিনী ফোন করেছিল, আজ রাতে আমরা বৃষ্টি দেখতে যাব। যখন কংসাবতীর জলে জেগে উঠবে উন্মত্ত ইউনিকর্ন, তখন আমরা বসব, হিজিলের সংসারে, আকাশের প্রতিবেশী হয়ে।
মালিনী আমার বুকে মাথা রেখে প্রশ্ন করে, ”ভালোবাসো?!”, আমি মালিনীকে ভালোবাসি না, মালিনী বলেছে কবিদের ভালোবাসতে নেই, কারণ আমার না পারার কান্নায় আফিমের কারবার।
আকাশে সপ্তর্ষি, মালিনী তাকিয়ে থাকে এক জীবন উল্লাস নিয়ে। আমার ঈর্ষা হয়, আমার কিছু না পারা বোকা পেন্সিলকে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে বলে, ”পারবে, পারবে, পারলে তুমিই একমাত্র পারবে”।
মালিনী গোলাপ বেশি পছন্দ করে। আমি শিউলি দিয়েছি, ওকে চন্দ্রমল্লিকা বেশি মানায়। মালিনী খোপা করে না। ওর গন্ধটা কৃষ্ণচূড়ার মত, আমার প্রিয় ফুল।
সোদপুর
মন্দবাসার কবিতা
কাল শাশ্বত এসেছিল। শাশ্বত বলে আমার কবিতা দুর্বোধ্য, সাধারণ বর্জিত। তাই আমার কবিতায় রডোডেন্ড্রন, ওর স্বপ্নে উষ্ণতম বনরাজী।
শাশ্বত রাতে আসে। ও জানে আমি রাত্রি পছন্দ করি। শাশ্বত কাল নেরুদা দিয়েছে, আমি পড়িনি। আজ পড়ছি, কুড়িটি প্রেমের কবিতা। আমি ভালোবাসতে ভালোবাসি না, ভালোবাসাকে ভালোবাসি। মালিনী বলেছে ভালোবাসলে কবিতা লেখা যায় না। ভাঙলেই প্রকৃত কবি। শাশ্বত বলেছে প্রেমের কবিতা লিখতে। আমি লিখি না। ওতে সুখ হয়। মালিনী বৃষ্টি ভালোবাসে, আমি রোদ্দুর। মালিনী চলে যাবে, আমি জানি।
ব্যারাকপুর
প্রশ্ন কবি
আমি, মালিনীকে নিয়ে সুজাউদ্দিনের দরগায় যাই। আমি ঈশ্বর মানি না, মালিনী মানে। সেখানে পুরুষ ও নারীর নিরঙ্কুশ ঘনিষ্ঠতার অধিকার আছে। তাই বিদ্রোহ নেই। আমি মহাকাশে রটিয়ে দিয়েছি, স্পর্শহীন রাতের ইশতেহার। সেখান থেকেই চরকের মাঠে যাই, আকাশ দেখতে।
আকাশের বিক্ষিপ্ত কল্পনার সাহিত্যিক বাস্তবতায়, কবিতার পুষ্পবৃষ্টি। মালিনীর হলুদ ওড়নায় বৈশাখী বিশ্বাস। আমার বুকের দুটো বোতাম মালিনীর বাধ্য। আমরা চুমু খাই। মালিনীর বুকে, আমার পরিচিত ব্যর্থতার আঁচিল। আমি উর্যাকে ভালোবাসি। মালিনী আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ”তোমাকে পারতেই হবে...”।
আমি প্রশ্ন করি,
“আচ্ছা মালিনী আমরা কি পালটে যাচ্ছি? এই যে তেপান্তরের মাঠ, শরতের কাশবন, আকাশ ছোঁয়া শঙ্খচিল, উড়োজাহাজ, পক্ষীরাজ, মেঘ প্রাসাদের রাজকন্যা। ওদের ধর্ম কি মালিনী?”
মালিনীঃ- উদযাপন!!! জীবনের নান্দনিক উদযাপন!
~বনে-বনান্তরে
মন্দবাসার শহরে
জোৎস্নায়, অশোক ছায়ায়
মালিনীকে, দুঃখের কবিতা
বসন্ত উদ্যমে,
জীবনের নান্দনিক উদযাপন।
মালিনী-ধ্যাত!!
নৈহাটি
প্রজাপতির কবিতা
শাশ্বত বলেছে আমার গল্পে কোনো ন্যারেটিভ নেই, বড় প্রাণের অভাব। আমার কিছু বলার নেই, আমার কোনো গল্প নেই, দুঃখ আছে। আমার হয়তো জন্মই হয়নি এখনো কিংবা মৃত্যু হয়েছে ইতিহাসে। আমার নিরুত্তাপ শব্দ, বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারার সংজ্ঞাহীন পংক্তি ”পারিবার নয় দেখিবার”।
ব্যান্ডেল(অন্তিম স্টেশন)
শেষের কবিতা
ঘুম ভেঙেছে, নামতে হবে। শাশ্বত পরে বলবে, ঘন্টাখানেক গ্যালোপিং সাহিত্যা, মিনিট ১৫ সময় নষ্ট। আমি কবিতা বিক্রি করি না, কিনতেও বলি না, ৭০৪৪৭৬৭৭১৪ এই নম্বরে ক্রয় মূল্য ফেরত দেওয়া হয়। মালিনী বলেছে আমরা চরকের মেলায় যাব আজ। আমি পৌছে গেছি। অন্তিম স্টেশন, গাড়ি থামছে। হয়তো চিরকালই মালিনীকে ভালোবেসেছি। গদ্যের প্রশয়ে বেড়ে উঠেছে কবিতার ম্যানগ্রোভ। মালিনীর আবদার, শেষ কবিতা। সময় শেষ, লোডশেডিং।
কার শেড
“একা বেঁচে থাকতে শেখো প্রিয়
তোমার নামে শিরনি দিয়েছি, তারার মাজারে।
আমায় নিয়ে আর ভেবো না, আরাম প্রিয়
মনে স্বস্তি জেনো, শুধুই ফূর্তি মেনো
দোলন-চাঁপার মৌসুমে আমি টানছি ইতি এবার,
তোমার বন্ধ ঘরে শোবার স্বভাব না করেছি কবার?!
তোমার মনের গতি
তোমার মনের গতি রাতের দুরপাল্লার গাড়ি,
আমি ধরতেও না পারি, আমি ক্যামনে যাব বাড়ি।
টিকিট কেটে রেখেছিলাম যাত্রা সময় ভুলে
এখন ইস্টিশনে বেজায় অন্ধকার।“ -আসির আমান

দলনেতা
দাদা ওরা সমাজকর্মী, দলকর্মী বললে রাগ
যেহেতু আমরা সাধারণ মানুষ তাই, সবাই ভাগ-
দাদা ওরা সমাজকর্মী সমাজ নিয়ে ভাবে- জনগণের সেবা টাকা, নিজের পকেটে ভরে
দেশের সেবায় ঘুম আসে না, ঘরের মধ্যে পায়চারি,
যত দেশের সেবা করে ততোই গাড়ি- বাড়ি।
গরিব মানুষের ঘর দেবে, মধ্যবিত্তের লোন - জনসেবায় হয়ে উঠবে, ওরাই আপনজন।
দুর্যোগ ও ত্রাণ দেবে, দেবে তাদের অর্থ -
ভিতরে ভিতরে চুক্তি থাকে, গোপন কিছু শর্ত।
জ্ঞানীগুণী ধার ধারে না, "ওরা" কোন ছা-
সুস্থ জীবন বাঁচতে হলে, "দাদার" কাছে যা।
দাদা ওরা সমাজকর্মী দেশের কথা ভাবে -
যেমন কথা তেমন কাজ, যে কোনো উপায়ে।
গিরগিটির মতো রং পাল্টায় সময়ের ব্যবধানে। জনগণের ঘুরতে হয়, তাদেরই টানে টানে-
দ্বিমত হলে এক ঘরে, জীবন সংশয়।
বোমা পড়বে, না গুলি চলবে, সেটা নিয়ে ভয়!
প্রচ্ছদ - সুরজিৎ সিনহা
প্রচ্ছদ - সুরজিৎ সিনহা
প্রচ্ছদ - সুরজিৎ সিনহা
কবিতা
সুপ্রভাত মেট্যা
তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর
রূপনারায়ণের চরে আমরা
রূপনারায়ণের চরে আমরা।
দুপুর ছায়াহীন সেই চর জেগে আছে।
হোগলা বনের সারি।
অদূরতম নদীর স্বরে কথা বলছে মেয়েরা....
শীত --
ক্রমশ মৃদু হয়ে ভালো লাগছে আমাদের গায়ে।
চড়ুইভাতির ছেলেরা, অল্প হাওয়ায় পায়ে বল নিয়ে খেলা করছে।
রন্ধনের গন্ধ আসছে নাকে।
খোলা মনে উড়ে বেড়াচ্ছে কবিতারা
আমার হৃদয় থেকে উঠে এসে
নদীর ঠিক উপরে পাখিদের ডানার স্রোতে
রোদলাগা পঙ্ ক্তির
কী খুশির হাওয়ায় হাওয়ায়....



