বিবিধ

 

পুস্তক আলোচনা

  • তিতাস একটি নদীর নাম, একটি নিবিড় পাঠ /অলোক কুমার সাহা 

  • Haraprasad Shastri, A study on creative works and literary criticism/ অলোক কুমার সাহা 

  • উত্তরবঙ্গের কৃষিজীবন/ডঃ নৃপেন্দ্র লস্কর

  • মেঘ মুলুকের কথা/সুপর্ণা পালচৌধুরী

  • অখিলম্ মধুরম্/লক্ষ্মী নন্দী

  • বসন্তের প্লাটফর্ম/বেলা দাস 

  • আমার রূপনগরে লাল ওড়না/সঞ্জয় সোম

  • আমার দ্রোহ আত্মদ্রোহ ও অন্যান্য/সঞ্জয় সোম

  • বিষন্ন সময়/নীলাদ্রি বিশ্বাস

  • শুধু তোমারই জন্য/সমীর কুমার দাস

  • জলজ‍্যোৎস্নার মেয়ে/মানিক সাহা

  • উত্তরজনপদবৃত্তান্ত/সুবীর সরকার

  • সুরমা কলিং/শৌভিক রায়

মাধুকরীর ইতিকথা...

পাঠকদের কলম নিঃসৃত কিছু শব্দ যখন সবার অগোচরে মাধুকরীর পাতায় ঝরে পড়ে, ঠিক তখনি প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে কোথায় যেন একটা সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটে। ভৌগোলিক দূরত্বের সীমানা ছাড়িয়ে এমন একটা বাতাবরণ তৈরি হয় যে আমরা পাঠকেরা কাছাকাছি আসি, পরিচিতি ঘটে। অনুপম সৃষ্টির পাশাপাশি সাহিত্য রসের অমৃত ধারায় আমরা অবগাহন করি।  

আমরা বাঙালি। তাই বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত আমাদের সত্ত্বা। কর্মসুত্রে আমরা আজ বিচ্ছিন্ন। সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকলেও বাংলা সাহিত্যের রূপ-রস-গন্ধে আমরা কিন্তু একই সুত্রে বাঁধা।

এখনো আমাদের সত্ত্বায় রবীন্দ্রনাথ, মাইকেল, বঙ্কিমচন্দ্র, নজরুল বিরাজমান। সুনীল, শীর্ষেন্দু, সঞ্জীব, সমরেশ, জয়-দের সৃষ্টিধর্মী লেখনীর সঙ্গে আমরা যুক্ত। বর্তমান প্রজন্মের শ্রীজাত বাংলা সাহিত্য জগতে এক নতুন সংযোজন।

আমাদের সকলেরই একটু আধটু লেখার অভ্যাস হয়ত আছে। তাই মাধুকরীর মূল লক্ষ্য সাহিত্যের মাধ্যমে এই লেখকদের সঙ্গে প্রবাসী বাঙালিদের একটা মেলবন্ধন তৈরী করা। মানুষে মানুষে হৃদ্যতা বাড়ানোর মূল মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে মাধুকরীর প্রাণশক্তি নিহিত রয়েছে আপনাদের সৃষ্টি, সদিচ্ছা ও ভালবাসায়। আশা রাখি আপনাদের শুভেচ্ছা ও ভালবাসায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠবে। 

কিভাবে লেখা পাঠাবেন

আপনার লেখা অভ্র ফন্টে লিখে ওয়ার্ড ডকুমেন্টে পাঠিয়ে দিন। পি ডি এফ ফরম্যাটে পাঠাবেন না। পাঠিয়ে দিন নিচের ইমেলেঃ maadhukariarticles@gmail.com

Free Bengali Software Avro

পুজোর পাঁচ দিন

মাধুকরীর এই আড্ডায় রয়েছেন....  

  • লোপামুদ্রা মিত্র (শিল্পী) 

  • জয় সরকার (সুরকার)

  • মৃণাল বসুচৌধুরী (কবি)

  • রেহান কৌশিক (কবি)

  • বীথি চট্টোপাধ্যায় (কবি ও লেখিকা)

  • বিভাস রায়চৌধুরী (কবি ও সাহিত্যিক)

  • রাজিয়া সুলতানা (কবি) 

  • অমিত গোস্বামী (কবি ও লেখক)

  • সোনালি (কবি)

  • শাশ্বতী নন্দী (গল্পকার ও ঔপন্যাসিক)

  • শ্রীকান্ত আচার্য্য (শিল্পী)

  • উপল সেনগুপ্ত (শিল্পী - চন্দ্রবিন্দু)

  • সৌমিত্র রায় (শিল্পী - ভূমি)

  • অর্চন  চক্রবর্তী (শিল্পী - এ ফাইব),

  • গৌতম-সুস্মিত (গীতিকার)

  • মিস জোজো (শিল্পী)

  • প্রসেনজিত মুখার্জী (প্রসেন) গীতিকার

  • শাশ্বতী সরকার (সঞ্চালিকা, আবৃত্তিকার)

  • কুণাল বিশ্বাস, তিমির বিশ্বাস (শিল্পী - ফকিরা)

Recent Posts

মতামত

আপনার মূল্যবান মতামত জানান।

সাক্ষাৎকার

DSC_0321.JPG

সঙ্গীত শিল্পী

gautam-closeup.jpg

গৌতম সুস্মিত  

গীতিকার

263.JPG

সঙ্গীত শিল্পী

DSC_0354.JPG

 সুরজিত  সেনগুপ্ত

প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার

Aneek.jpg

সঙ্গীত শিল্পী

গৌতম সুস্মিত

গীতিকার

 

প্রায় ১৫০ এর বেশী বাংলা ছবিতে গান লিখেছেন, ১৫টি পুরষ্কার ওনার ঝুলিতে, অসংখ্য বাংলা গানের হিট গানের কথাই গৌতমবাবুর। সেটা তরুণ পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ছবিই হোক বা আর এক সফল বাঙালি সংগীত পরিচালক জিৎ গাঙ্গুলীই হোক। গৌতমবাবুর এই সফলতার কাহিনী শুনতেই হাজির হয়েছিলাম ওনার হাওড়ার ফ্লাটে। অমায়িক গৌতমবাবুর সঙ্গে কথাতেই জানা গেল অনেক অজানা কাহিনী। মাধুকরীর পুরানো সংস্করণে বেশ কয়েক বছর আগে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। নতুন সংস্করণে সাক্ষাৎকারটি আবার প্রকাশিত হল।  

পুজো কেমন কাটল –

বারের পুজোটা আমার খুবই ভাল কেটেছে। পুজোতে যা টুকটাক উদ্বোধন করার থাকে সেগুলো তো করেছি। তাছাড়া পুজো পরিক্রমাতে কলকাতা টি ভি আর কলকাতা কর্পোরেশনের জয়েন্টলি শ্রেষ্ঠ শারদ সম্মানের যে আয়োজন করেছিল তাতে বিচারক হিসাবে পঞ্চমী, ষষ্টী, সপ্তমী মিলিয়ে প্রায় ৩২টা পুজো কভার করেছি। কলকাতা পুজোর বেশীরভাগই এখন থিমের ওপর চলে এসেছে। কিছু কিছু সাবেকি পুজোও আছে। আমরা বিশেষ করে বারোয়ারী পুজো কভার করেছি। থিমের মধ্য পরিবেশ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং কিছু কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর পেয়েছি। ওভারঅল পুজোটা আমার খুব ভালই কেটেছে।

গান লিখছো কত বছর?

গান লেখাটা আমার একটা কো-ইন্সিডেন্ট বলতে পারো। বম্বেতে আমার এক প্রতিবেশী ছিলেন। যদিও ওখানে এখানকার মত পাড়া কালচার নেই। তবুও আমার পাশে এক বাঙালি পরিবার ছিল। কলকাতা থেকে ত্রিদিব চৌধুরী নামে এক ভদ্রলোক সুরকার হতে বম্বে গিয়েছিলেন। ওনাকে আমি আমার গড ফাদার হিসাবেই দেখি। যেহেতু ছোটবেলা থেকে একটু একটু লেখালেখির কাজ করি তাই আমাকে ডেমো তৈরী করার জন্য কিছু গান লিখতে বললেন। তা গান কি করে লিখতে হয় তা আমি জানতাম না। কিছু দিন উনি দেখিয়ে দেবার পর ব্যাপারটা আয়ত্ব করলাম। সেই থেকে শুরু। সালটা ৯৩-৯৪ হবে ।

এই প্রফেশনে এলে কি এইভাবেই –

ঠিক তাই। ঐ লিখতে লিখতে। উনি সুর করতেন আর আমি লিখতাম। এইভাবেই কেটে যেত।

গানের কথা নিয়ে আজকাল একটু চর্চা হচ্ছে – তোমার কি মতামত

আসলের গানের কথা তো কিছুটা সময়ের ওপর নির্ভর করে। তুমি তো দেখছ এখনকার কথাগুলো কত আলাদা। যে সব কথা আগেকার সময় ছিল না এই যুগের কাছে আছে। বলতে গেলে অনেক কিছুই তো নেই। সেই শিল্পী কোথায়, সেই উত্তম কুমার নেই। এমন তো নয় শুধু গানের কথার মান নেমে গেছে আর সব ঠিক আছে। সেই পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌরিপ্রসন্ন –রা নেই। একটু খেয়াল করে দেখ ইংরাজী গানের ক্ষেত্রেও হয়েছে। পুরোন দিনের কথায় যে ডেপথ ছিল এখন তা নেই। আমার তো মনে হয় যুগ অনুযায়ী গানের কথা ঠিক আছে।

জিৎ গাঙুলীর সুরে তোমার বেশ কিছু হিট গান। তুমি থাক হাওড়ায় আর জিৎ বম্বে, কর্ডিনেট করো কি করে?

হ্যটস অফ জিৎ। স্যালুট করা উচিত। জিৎ একটা মরা গাঙে জোয়ার এনেছে। একটা ট্রেন্ড সেট করেছে। মাঝখানে বাংলা ছবির গান শ্রোতারা শুনতেন না । জিৎ আসাতে এই ব্যাপারটা অনেকটার পরিবর্তন ঘটেছে। জিৎ বম্বে থাকলেও আমি কলকাতায় ওর সঙ্গে বসি। আমার লেখা নিয়ে ও বম্বে গিয়ে ট্র্যাক তৈরি করে। যখন বম্বে যাই ওর সঙ্গে রোজই কন্ট্যাক্ট থাকে। কোন পরিবর্তন করতে হলে একসঙ্গে করতে এক সঙ্গে করে ফেলি।

কাজ করতে করতে এমন কোন সিচুয়েশন এসেছে যে তোমাকে ইমিডিয়েট কিছু একটা করতে হবে, আর পুরো প্রজেক্ট তো তোমার জন্য অপেক্ষা করছে – একবার তো শুনেছিলাম...

পুজোর একটা অ্যালবামে এরকম একটা সিচুয়েশন হয়েছিল। এই অবস্থা আগেকার দিনের মানুষ ভাবতেই পারতেন না। আমার কাছে একটা বম্বের মিউজিক কম্পানির ফোন এসেছিল। দু-ঘন্টার মধ্যে ১২টা গান চেয়েছিল। ভেবে দেখ তুমি মাত্র!!! ২ ঘন্টা ... গান গাইবেন কুমার শানু, সুরকার বাবুল বোস।

"সুর করেছিলেন বাবুলদা, বাবুল বোস। উনি বাবুলদাকে বললেন – ‘কেমন লাগছে তোর’? বাবুলদা বলল – ‘না তো দিদি ঠিকই তো আছে’। আশাজী বলে উঠলেন – ‘যাঃ তোদের সব কান খারাপ হয়ে গেছে। আমি ভুল গেয়েছি আমি আবার গাইব’। উনি আবার ফ্লোরে গেলেন, বাবুলদা আমাকে বলল – দেখলি কি ডেডিকেশন। এর যদি শতকরা পাঁচ ভাগও আজকালকার শিল্পীদের থাকে না সে উতরে যাবে। গানটা যা ভুল আছে বলে দিদি বলছিলো না, সেটা কোন ভুলই না"

অ্যালবামটা নাম কি?

‘উল্টোপুরাণ’। এটা টি সিরিজ থেকে বেরিয়েছিল। যে সময় ফোনটা এসেছিল তখন আমি কলকাতায়, বাবুলদা ছিলেন বম্বেতে আর শানুদা ছিলেন মিডিল ইষ্টে, কাতারে। শুধু তাই নয় শানুদা আরো কয়েকটা দিন কাতারে থাকবেন। ভাবতে পারো দু-দিনের মধ্যেই আমাদের প্রজেক্টটা শেষ হয়। শানুদা কলকাতায় এসে ডাব করেন আর সেই অ্যালবাম ‘উল্টোপুরাণ’ পুজোতে রিলিজ করে। পরে কলকাতায় প্রেস কনফারেন্সে শানুদার পাশে বসে এই কথা বলেছিলাম। আজকালকার দিনে সিস্টেমটা এত ডেভালপ্ট হওয়াতে এটা সম্ভব।

এ তো গেল তোমার বাংলা আধুনিক গানের কথা, শুনেছি বাংলা সিনেমার গানের ক্ষেত্রেও তাই হয়...

হয় তো প্রচুর হয়। আমি একটা ঘটনার কথা বলছি। এই বছরেই রিলিজড ছবি ‘বল না তুমি আমার’ ছবির টাইটেল সং ‘মানে না মানে না, মানে না কোন বারণ’ এর গল্পটা বলি। গানটার ডাবিং হয়ে গেছে। পুরো ইউনিট সিংগাপুরে শুটিং এ চলে গেছে। দেব হল ছবির নায়ক। রাত্রি বারোটা নাগাদ সুরকার জিৎ গাঙুলী ফোন করে জানালো – পুরো মুখরাটাই চেঞ্জ করতে হবে। আমি লিখে ওকে ফোনে জানালাম। ও শিল্পী ডেকে আনলো। রাত তিনটের সময় সেই গান চলে গেল শুটিং এর জন্য। পরেরদিন শুটিং হল। মাঝে মধ্যেই এই ধরনের চাপে কাজ করতে হয়।

এখন কি করছ?

কিছু কিছু ছবির কাজ চলছে। নামগুলো বলতে পারছি না। কারণ সবগুলো আন টাইটেল্ড অবস্থায় রয়েছে। পরপর প্রায় দশ বারোটা ছবি বেরবার কথা। তামিল ছবি ‘পকিজম’ এ আমার একটা বাংলা গান আছে। বাঙালি মেয়ে একটা তামিল ছেলেকে ভালবাসে। ছবিতে ঐ নায়িকা একটা বাংলাতে গান গাইবে। সুর করেছেন সাবেশ মুরলি বলে একজন।

বাংলা গান লিখছ তো বেশ কয়েক বছর – ভবিষ্যৎ কেমন?

আমার তো মনে হয় বেশ ভাল। কিছু কিছু গান মানে জীবনমুখী এসেছিল আবার চলেও গেছে। ব্যান্ডের বাজার চললেও সেই ভাল বাংলা মেলোডি গান, মিষ্টি মিষ্টি গানের কথা কিন্তু সারাজীবন থেকে যাবে।

বাংলা গীতিকারদের মধ্যে কার লেখা তোমাকে অনুপ্রাণিত করে? হিন্দীতে কাকে গুরু মানো?

কিছু কিছু লেখা সবারই তো ভাল। গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার আই লাইক মোস্ট। হিন্দীতে বলতে পারো আনন্দ বক্সী।

"পুজোর একটা অ্যালবামে এরকম একটা সিচুয়েশন হয়েছিল। এই অবস্থা আগেকার দিনের মানুষ ভাবতেই পারতেন না। আমার কাছে একটা বম্বের মিউজিক কম্পানির ফোন এসেছিল। দু-ঘন্টার মধ্যে ১২টা গান চেয়েছিল। ভেবে দেখ তুমি মাত্র!!! ২ ঘন্টা ... গান গাইবেন কুমার শানু, সুরকার বাবুল বোস

গান লেখার বাইরে কিছু করো?

ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই রে ভাই। অনেকটা সময় গানের পিছনেই চলে যায়। ছবির স্ক্রিপ্টের অফার এলেও হাতে সময় থাকে না।

তোমার লেখা কয়েকটা অ্যালবামের নাম বল?

শানুদার ‘উল্টোপুরাণ’, কবিতার ‘অনুরাগী আমি’। তাছাড়া নতুন কিছু শিল্পীদের আছে। তাছাড়া ‘পালটে গেল দিন’ বলে একটা অ্যালবাম করেছি। শিল্পী তাপসী চৌধুরী। উনি অভিনেত্রী হিসাবে পুরোনো। গানটা ওনার একটা ট্যলেন্ট বলতে পারো। ওনার সঙ্গে অনেক বড় শিল্পীই গেয়েছেন। শানুদাও আছেন।

সুরকার জিৎ গাঙুলী সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা –

ওকে আমি সুরকার জিৎ গাঙুলী হওয়ার আগে থেকেই চিনি। আমরা খুবই ফ্রেন্ডলি পরিবেশে মধ্যেই কাজ করি। আর ওর সঙ্গে সিটিং করতে গেলে ও এত খাওয়ায় যে কি বলবো। পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বলে গৌতম এটা খাবে ওটা খাবে। গুড হিউম্যান বিং।

আর পরিচালক ‘রাজ চক্রবর্তী’..

রাজের প্রথম তিনটে ছবিতে আমি কাজ করেছি। ও খুব ভাল পরিচালক। ওর মধ্যে একটা ভাল কিছু করার খিদে আছে। ও কি করতে চাইছে সেটা ওর কাছে খুবই পরিষ্কার। কয়েকটা ছবির সিটিং এ ওকে দেখেছি, ও খুবই ভাল ছেলে। ওর মধ্যে কোন কনফিউশন দেখিনি।

আশা ভোঁসলের সঙ্গে ও তো কাজ করেছ, তোমার লেখা গানও তো উনি গেয়েছেন...

আশাজীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভালই। ওনার সঙ্গে আমি প্রথম কাজ করি প্রসেঞ্জিত আর রচনার ‘অন্ধ প্রেম’ ছবিতে। উনি দুটি গান গেয়েছিলেন। শানুদার স্টুডিও তে রেকর্ডিং হচ্ছিল। তা আশাজী আসবেন বলে অন্য শিল্পীদের ডাকা হয় নি। উনি আসার পরই সবার সঙ্গে আলাপ করে দিলেন। আমার প্রথম গানের কথা ছিল – ‘ভালবাসি কথাটা সোনা মুখে বলতে নেই, চোখে চোখে যা দেখা, মনে মনে যা বোঝা বুঝে নিলে যেই, ভালবাসি কথাটা সোনা মুখে বলতে নেই’। শানুদার সঙ্গে ডুয়েট। গানটা রেকর্ড হওয়ার পর আশাজী গানটা পুরোটা শুনলেন। তারপর উঠে স্টুডিওর দরজাটা একটু ফাঁক করে বাইরে গিয়ে বললেন আবার চালাও গানটা। ফিরে এসে সুরকারকে বললেন –

সুরকার কে ছিলেন –

সুর করেছিলেন বাবুলদা, বাবুল বোস। উনি বাবুলদাকে বললেন – ‘কেমন লাগছে তোর’?

বাবুলদা বলল – ‘না তো দিদি ঠিকই তো আছে’। আশাজী বলে উঠলেন – ‘যাঃ তোদের সব কান খারাপ হয়ে গেছে। আমি ভুল গেয়েছি আমি আবার গাইব’। উনি আবার ফ্লোরে গেলেন, বাবুলদা আমাকে বলল – দেখলি কি ডেডিকেশন। এর যদি শতকরা পাঁচ ভাগও

"আসলের গানের কথা তো কিছুটা সময়ের ওপর নির্ভর করে। তুমি তো দেখছ এখনকার কথাগুলো কত আলাদা। যে সব কথা আগেকার সময় ছিল না এই যুগের কাছে আছে। বলতে গেলে অনেক কিছুই তো নেই। সেই শিল্পী কোথায়, সেই উত্তমকুমার নেই। এমন তো নয় শুধু গানের কথার মান নেমে গেছে আর সব ঠিক আছে"

আজকালকার শিল্পীদের থাকে না সে উতরে যাবে। গানটা যা ভুল আছে বলে দিদি বলছিলো না, সেটা কোন ভুলই না।‘ সত্যি কথা বলতে কি আশাজী নিজের ওপর এতটাই নির্মম ছিলেন যে তিনি আবার সেটা গাইলেন। তবে আমাদের একটা ভয় ছিল। আশাজী ধূপের গন্ধ একদম সহ্য করতে পারতেন না। আমরা সেদিন ফ্লোরে কোনরকম রুম ফ্রেসনার ব্যবহার করি নি। শানুদার স্টুডিওটা নতুন হওয়াতে একটা নতুন কাঠের গন্ধ ছিল। শানুদারও এটা নিয়ে একটু দ্বিধা ছিল যে আশাজী আবার চলে না যান। তবে তেমন কিছু ঘটে নি।

শানুদাকে নিয়ে কিছু বল?

শানুদা আমার খুবই প্রিয় শিল্পী। আমি শানুদাকে ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালভাবেই জানি। শানুদার সুরে ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ ছবিতে আমিই গান লিখেছি। মানুষ হিসাবে শানুদা খুবই ভাল। ভীষণ আবেগ প্রবণ। চট করে সবাইকে ভালবেসে ফেলেন। জীবনে হয়ত অনেক আঘাত পেয়েছেন। ভগবান অন্যদিকে শানুদাকে হাত খুলে দিয়েছেন। শানুদার মধ্যে আমি ‘কুমার শানু’ ব্যাপারটা দেখি নি। যদি তুমি ওনার কাছে যাও তোমার কখনই মনে হবে না যে এত বড় এত সফল একজন শিল্পীর সঙ্গে বসে আছ। গানের ব্যপারে আর কি বলব বল তো, সে তো তুমিও জানো। কথা বলে বোঝানো যাবে না।

আটলান্টায় শানুদা একবার শিল্পী প্রিয়া ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে প্রোগ্রাম করছিল। ‘শাস ভি কভি বহু থি’ সিরিয়ালে গান গেয়ে প্রিয়া বেশ নাম করেছিলেন। উনি বলছিলেন শানুদা যখন স্টেজে গাইছিলেন তখন মনে হচ্ছিল প্রতিটি শব্দেই যেন রোমান্স উথলে পড়ছে। এতটাই আবেগপ্রবণ মানুষ শানুদা।

আর একটা ঘটনার কথা বলছি। বম্বেতে জলাসাঘর বলে শানুদার একটা অ্যালবাম বেরিয়েছিল। অ্যালবামটাতে রতন সাহার লেখা একটা গান ছিল ‘জানি না তোমার সাথে হবে না আর দেখা’। রিলিজের আগে আমি একটা কপি পেয়েছিলাম। এই সময় শানুদাও তার ব্যাক্তিগত জীবনে একটা ঝড় সামলাচ্ছেন। ডিভোর্স চলছে। ছাড়াছাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে। মিডিয়াও এইটা নিয়ে মুখর। শানুদার এই গানটা শুনে মনে হল যে এই মানুষটার চেয়ে দুঃখী বোধহয় আর আর কেউ নেই। শানুদার সামনে দিয়েই যেন সব চলে গেল। মাসিমা মানে আমার বন্ধুর মা ছিলেন একজন কিংবদন্তী নাট্যকারে বোন। গানটা শুনেই মাসিমা বলেই ফেললেন – ‘এই গানটা শুনেও কি ওর বউটা ওর কাছে ফিরে আসতে পারে না? আরে ও তো একটা পাগল”। শানুদা কুমার শানু হয়েছে এই অনুভব, এই আবেগের জন্য। কোথায় নোট কম লেগেছে, কোথায় সুর কম লেগেছে এ তো পৃথিবীর সব শিল্পীরই আছে। একটা সময় যা গেয়েছেন সবই তো হিট। এখন না হয় শানুদার গান নেই। যারা সমালোচনা করেন তাদের বলতে চাই শানুদা যা হিট দিয়েছেন তার শতকরা দশ ভাগ করে দেখান। আগে তো শানুদার দশটা গানের মধ্যেই দশটা গানই হিট হত, এখন তো শিল্পীদের দু-তিনটে গান হিট করলেই মাটিতে পা পড়ে না।

শানু-অলকা ইয়াগ্নিকের জুটি তো বেশ হিট...

একদম ঠিক। ওদের দুজনের একটা অদ্ভুত ভয়েস পেয়ার ছিল। যেটা অসম্ভব হিট করেছে। ঐ সময় ওই রকম একটা জুটি খুব কমই এসেছে। দে আর মেড ফর ইচ আদার।

 

বাংলার নতুন হিরো দেবকে কেমন লাগল – তোমার গানে তো দেব ভালই করছে দেখলাম ।

দেবের আসল নাম দীপক অধিকারী। দেব তো পরে হয়েছে। টালিগঞ্জে একটা কথা চালু আছে। আমি নাকি দেবকে ইন্ট্রোডিউজ করেছি। একদিন কলকাতার এক স্টুডিওতে একজন বর্ষীয়ান এডিটর স্বপন গুহ দেবকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সঙ্গে ছিলেন সুরকার অশোক ভদ্র। দেবকে দেখে ভাল লাগল। দেখ লম্বা চওড়া, দেখতে সুন্দর। তারপর আলাপ শুরু হল। ও তখন অলরেডি একটা বাংলা বইতে কাজ করে ফেলেছে। থাকত উত্তর কলকাতায়। যাতায়াত শুরু হল। যখন বন্মেতে থাকত, আমি গেলে এক ডাকে চলে আসত। তা একদিন ভেঙ্কটেশ ফ্লিমসের শ্রীকান্তর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ওর কথা বলি। উনি বললেন – ‘ঠিক আছে, আমাকে ছেলেটাকে একবার দেখিয়ে দিও তো’। দেব তখন বম্বেতে কিছু শো করছিল। তারই একটা অ্যালবাম শ্রীকান্তকে দেখাই। তারপর আমার থেকে ফোন নাম্বার নিয়ে দেব শ্রীকান্তর সঙ্গে দেখা করে। ‘আই লাভ ইউ’ বলে একটা ছবিতে সাইন করে। এখন তো বেশ নাম করেছে।

 

"শান তো গাইছেই। তাছাড়া নতুনদের মধ্যে জাভেদ আলি (এ আর রহমানের সুরে ‘যোধা আকবর’ ছবিতে ‘কহেনা কো যশনে বাহারা হ্যায়’ গেয়ে বেশ নাম করেছেন) আছে। বম্বেতে যারা আছেন সবাই ভাল। কলকাতার একটি নতুন ছেলে সুজয় ভৌমিক ভাল গাইছে। রাঘবও আমার কথায় গান গেয়েছে"

দেব অভিনীত ‘চ্যালেঞ্জ’ তো বেশ হিট –

‘চ্যালেঞ্জ তো আছেই। তাছাড়া ‘মন মানে না’, ‘বলো না তুমি আমার’ ওর হিটের তালিকায় আছে। রিসেন্ট ছবি ‘দুই পৃথিবী’ অবশ্য অতটা হিট হয়। দেব এখন ইয়ং ছেলেমেয়েদের হার্টথ্রব। ভেরী সাকসেসফুল। মনের দিক থেকে ও খুবই বাচ্চা ছেলে, ছেলেমানুষিতে ভরা। বড্ড কাইন্ড হার্টেড। সোজা জিনিষকে সহজ করে দেখা ওর মহত্ব। চোখের সামনেই উঠল। আরো বড় হোক।

শানের জন্য তো প্রচুর গান লিখেছ, তাই না?

হ্যাঁ, তা তো লিখছিই। প্রথম যখন ওকে দেখি ও শান হয় নি। শানকে আমি এখনও এটা বলি। ওর বোন সাগরিকা আমার কাছে একটা অ্যালবামের ব্যাপারে এসেছিল। দেখি একটা ছেলে বারবার দরজা দিয়ে উঁকি মারছে। কে জিজ্ঞাসা করাতে সাগরিকা বলল – ‘ও আমার ভাই, শান। বড্ড লাজুক। ওকে হাজার ডাকলেও ভিতরে ঢুকবে না। তা আমি সিগারেট ধরাতে গিয়ে দেখি এক লম্বা চুলের অল্প বয়স্ক ছেলে দাঁড়িয়ে। ভিতরে যাও না – লজ্জা পেয়ে শান বলল – না, না, ঠিক আছে।  কে জানতো এই লাজুক ছেলেটাই একদিন বলিউডে গান গাইবে।  শান ইজ এ ভেরী গুড বয়। খুব সরল, সোজা মনের ছেলে। আর ওর মত স্টাইলিশ সিঙ্গার এখন কোথায়। রেগুলার কিছু না কিছু গাইছে আমার কথায়। যেটা না তো না। একবার চেন্নাই থেকে আমার গানের জন্য ওকে ডাকলাম। বলল – ‘দেখো, গৌতমদা তুমি গানটা কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দাও। একটাও পয়সা নেব না। কিন্তু আমাকে প্লিজ চেন্নাই গিয়ে গাইতে বল না। আমি চেন্নাই গিয়ে গান গাই না।‘ এত পরিষ্কার কথা আজকাল কেউ বলে না।​

শান ছাড়া আর কারা ভাল গাইছে –

শান তো গাইছেই। তাছাড়া নতুনদের মধ্যে জাভেদ আলি (এ আর রহমানের সুরে ‘যোধা আকবর’ ছবিতে ‘কহেনা কো যশনে বাহারা হ্যায়’ গেয়ে বেশ নাম করেছেন) আছে। বম্বেতে যারা আছেন সবাই ভাল। কলকাতার একটি নতুন ছেলে সুজয় ভৌমিক ভাল গাইছে। রাঘবও আমার কথায় গান গেয়েছে। বাকিরা বড় শিল্পীরা অন্য ধরনের গান গান। আমি যে ধরনের গান লিখি তাতে ওনারদের সঙ্গে ম্যাচিংটা কম হয়।

শুনেছি গান লিখতে গিয়ে তোমাদের কিছু কিছু অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়...

বাবু যত বলে পারিষদগণ বলে তার শতগুণ –তোমার মনে পড়ে ‘দুই বিঘা জমীন’ এর লাইনটা। আমাদের লাইনটাও তাই। কিছু লোক আছে বুঝুক না বুঝুক কিছু না কিছু চেঞ্জ করতে বলবে। এই ধরণের পরিস্থিতি প্রতি পদে এখানে ফেস করতে হয়। অনেকই তো বাংলা গানের কথা নিয়ে সমালোচনা করেন, কিন্তু তারা এই গল্পগুলো জানেন না। পুরনো দিনের এক নামী সুরকার অজয় দাস খুব অসুস্থ। তা উনি বললেন – ‘তুমি এদের সঙ্গে কাজ কর কি করে ভাই?’

 

তা চালিয়ে যাচ্ছ কি করে?

চালিয়ে যেতেই হয়। আর উপায় কি। একটা অ্যাডজাস্টমেন্টের মধ্যেই চলতে হয়। তবে এইভাবে তো কাজের মান তো আর বাড়বে না।

তুমি তো এত বছর ধরে গান লিখে আসছ। আমাদের এই বাঙালি সমাজে গান লেখার প্রফেশনটা কোন চোখে দেখে –

এটা একটা খুব ভাল বোল্ড প্রশ্ন করেছ। একটা ঘটনা বলি। আমি বম্বে গেছি। এক বন্ধু ফোন করে বলল – ‘তুই চলে আয়। কলকাতা থেকে বাবা, মা এসেছে, আলাপ করিয়ে দেব।‘ আমার বন্ধুটি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। একটু খামখেয়ালি গোছের। মাঝে মাঝে কাজ করে, মাঝে মাঝে করে না। তা আলাপের পর উঠি উঠি করছি। নিচে নেমে দেখি মেসোমশায় দাঁড়িয়ে। হেসে বললেন – ‘তোমার সঙ্গে আলাপ হয়ে ভাল লাগল। তা বাবা এই গান লেখার বাইরে কি কিছু কর?’ –না বলাতে ভীষণ অবাক হলেন। গলা নামিয়ে বললেন – ‘গান তো লেখো পয়সা টয়সা পাও তো?’ তোমার চলে কি করে? ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যসিক্যালি জানতে চাইলেন যে চারবেলা খেতে পাই কিনা। মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিতে প্রথম দিকে সমস্যা এসেছে। আমার পরিবারের এক গুরুজন বলেছেন তুই গান লিখলে আমি লোকের কাছে মুখ দেখাবো কি করে। আজ আমি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হই নি তবে পরিবার থেকে আর কোন অভিযোগ নেই। অ্যাকচুয়ালি নাও দে আর প্রাউড অফ মি।

 

তোমার পরিবার-

আমি ব্যাচেলার। আমি আর মা থাকি এই ফ্ল্যাটে। আমার ভাল নাম গৌতম ভট্টাচার্য্য। কি করে গৌতম সুস্মিত হলাম তার গল্প তোমায় বলি।  বম্বেতে থাকার সময় বাবা মারা গেলেন। ফলে কলকাতায় যাতায়াতটা বেড়ে গেল। হুগলীতে এক সাধুবাবা যাকে আমি গুরু বলে মানি, নামে কম্বিনেশনটা চেঞ্জ করতে বললেন। একদিন খেলার ছলে বোনের নামটা আমার নামের পাশে জুড়ে দি। আমার বোনের নাম সুস্মিতা। হয়ে গেলাম গৌতম-সুস্মিত। এই ঘটনাটা প্রথম জানাই বাবুল সুপ্রিয়কে।​

অনেক ধন্যবাদ, গৌতমদা...

তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ। মাধুকরী ডট কমের সকল পাঠককে সবার জন্য রইল শুভ কামনা। বাংলা গান শুনবেন, উৎসাহিত করবেন। সবই তো আর খারাপ হয় না, কিছু ভাল গান নিশ্চয়ই পাবেন। তাছাড়া যারা বাইরে আছেন আপনারাও তো ওখানে একটা বাংলা তৈরী করছেন। তা এই দুই বাংলার আত্মিক যোগটা যেন বজায় থাকে। আমরা তো আছি প্লিজ আপনারাও থাকুন। 

 

গৌরব সরকার

সংগীত শিল্পী 

DSC_0321.JPG

এই মুহুর্তে কলকাতা তথা বাংলার এক অত্যন্ত প্রতিভাবান তরুণ সঙ্গীত শিল্পী গৌরব সরকারের একটি খোলামেলা, প্রাণবন্ত সাক্ষাৎকার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।  কিছুদিন আগেই সময় কাটল ওর বাড়িতে। সময় কাটল হাসি ঠাট্টা আর গল্পের মধ্যে দিয়ে, জানা গেল বেশ কিছু অজানা তথ্য। অতুলনীয় আতিথেয়তার পাশাপাশি ভরে উঠল আমার তথ্যে-ভান্ডার। আশা করি মাধুকরীর সকল পাঠকদের ভাল লাগবে এই সাক্ষাৎকারটি।  এই মুহুর্তে গৌরব বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল নির্মাতা জি বাংলার "সা রে গা মা পা তে" অংশগ্রহণ করেছেন। যারা নিয়মিত বাংলা দূরদর্শনের পর্দায়, জি বাংলার অন্দরমহলে নজর রাখছেন তাদের কাছে এ খবর আর অজানা নয়। মাধুকরীর তরফ থেকে গৌরবকে জানাই অভিনন্দন। ওর সাফল্য কামনা করি। 

ছোটবেলা, স্কুল জীবন…

সেট্রাল কলকাতায় পার্ক সার্কাসেই আমার জন্ম ও ছোটবেলা কেটেছে। খুব ছোটবেলা মানে আড়াই বছর বয়স থেকেই গানের প্রতি একটা ভালবাসা জন্মে যায়। তার পিছনে আমার ঠাকুরমার অবদান রয়েছে।

আমার ঠাকুরমা রত্না সরকার সেই সময়ের একজন নামকরা শিল্পী ছিলেন। উনি হেমাঙ্গ বিশ্বাস, নির্মলেন্দু চৌধুরীর সঙ্গে গান গাইতেন। তাছাড়া অনেক ছায়াছবিতে, নাটকেও গান গেয়েছেন। সেই সুবাদেই ঠাকুরমার কাছে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আসতেন গান শেখার জন্য। এই গানের পরিবেশেই থাকতে থাকতে আমার গানের প্রতি একটা আগ্রহ জন্মায়। আমার ঠাকুরমার কাছে গান শেখা শুরু। খুব ক্যাজুয়ালভাবে একটা স্নেহের বাতাবরণের মধ্যেই দিয়েই আমার গান শেখা শুরু। ঠাকুরমার বাড়ি খুব কাছে থাকাতে আমার খুব মজা হত। ছুটির দিন সারাদিনই নানা মজা, গানের মধ্যেই কেটে যেত।

আমার পড়াশোনা শুরু হয় পার্কসার্কাসের মডার্ন স্কুলে। ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছি। তারপরে এগারো-বারো পড়েছি সংস্কৃত কলিজিয়েট স্কুলে। সেই ছোটবেলার স্কুলের মজাটা এখনও খুব মিস করি। তাই বছরে একবার না একবার স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের সাথে দেখা করি, সোসাল মিডিয়ার দৌলতে বন্ধুদের খুব পাশেই পেয়ে যাই। বাইরে কোথাও মিট করে প্রচুর গল্প গুজব এখনো করি। সেই ভালবাসাতে কিন্তু এখনও টান পড়ে নি। এখন খুব ইচ্ছে করে ছোট হয়ে আবার ঐ স্কুলে চলে যাই।

গানের শিক্ষাগুরু…

আমি ঠাকুমাকে নিয়েই শুরু করি। আধুনিক গানের পাশাপাশি ঠাকুমা নির্মলেন্দু চৌধুরীর সঙ্গে লোকগীতি গাইতেন। আবার তার পাশাপাশি হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সঙ্গে গাইবার সময় গণসংগীত গাইতেন। কাজেই বিভিন্ন রকমের গান ঠাকুমার সঙ্গে থাকতে থাকতে শুনেছি, পরে বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে নানা জোনের নানা সময়ের গানের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। ঠাকুমার কাছেই বেসিক গান মানে আধুনিক গান শেখা শুরু। কারোর কাছে গিয়ে যে আধুনিক গান শিখতাম তা কিন্তু নয়। ঠাকুমা কিছু কিছু গান শিখিয়ে দিতেন। কখনো বা কোন ক্যাসেটে গানটা শুনে ঠাকুমাকে গিয়ে শোনাতাম। এইভাবেই আধুনিক গানটা শুরু হয়। তাছাড়া আমি ঠাকুমার কাছে প্রচুর ফোক গানও শিখেছি। বিভধীরদ ধারার, বিভিন্ন ভাষার ফোক গান বলতে পারো। বিভিন্ন রাজ্যের বিহার, ওড়িষা, আসাম, পাঞ্জাব এদের নিজস্ব লোকগীতি, এদের স্টাইল। তাই সেই ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধারার গান শেখার আগ্রহ আমার খুবই ছিল। সব রকমেরই গান শুনতে খুব ভাল লাগত।

এরপর আমার যখন সাত-আট বছর বয়স আমি রাগ সঙ্গীত শিখতে আরম্ভ করি পন্ডিত আনন্দ গুপ্তার কাছে। প্রায় সাত বছর আমি শ