কবিতা মঞ্জরী - ৪
জুলাই - ২০১৮ সংযোজন
মাদার্স ডে উপলক্ষে বিশেষ নিবেদন 
"মা"
দেবদাস ভট্টাচার্য্য 
ডালাস, টেক্সাস
(A special tribute to all mothers on Mothers Day, 13th May 2018)

বলিরেখাঙ্কিত মুখ, ন্যুব্জ শরীর বয়সের ভারে, 
অবিন্যস্ত কাঁচাপাকা চুল অযত্নে জড়ানো, 
কখনো বা তেলে জলে মেশামেশি দু’পাশে ছড়ানো,
কপালে সিঁদূর নেই, তবু তার চিহ্ন থেকে গেছে। 
স্তিমিত চোখের মণি, 
ভাঙ্গা ডাঁটিওয়ালা চশমা বারে বারে নেমে আসে,
আধময়লা সাদা জমির সস্তা কাপড়, 
আগেও দেখেছি তবে পাড়ের রঙ গেছে পালটে, 
ছিল লাল এখন ধূসর। 
দামী কাপড়গুলো ন্যাপথিলিন দিয়ে ভাঙ্গা ট্রাঙ্কে রাখা, 
সেই ট্রাঙ্ক আমার জন্মের আগে থেকে আজও আছে, 
ডালা ভাঙ্গা তবু তাতে তালা ঝোলে,  
কম্পাসের কাঁটা দিয়ে তালা খুলে কতোবার তালমিছরি সরিয়েছি। 
ছোট্ট মাদুরে বিকেলের পড়ন্ত বেলায় সারদা মায়ের মত 
দু’পা ছড়িয়ে দু চোখ নিবদ্ধ রাখে পুরাণে, গীতায়, রামায়নে।
গল্প বই দেখিনি কখনো। ক্লান্ত চোখে কখনো ঢুলুনি আসে, 

হালকা বাতাস এসে পাতা উলটে দেয়, 

তখনি চটকা ভেঙ্গে নেমে 

আসা চশমা তুলে ধরে আবার পাতায় চোখ রাখে। 

বুঝতে পারি, এলোমেলো মনে অতীত আঘাত করে, 

কিছু ভালোলাগা, কিছু বেদনার স্মৃতি। 

দেখতে পাই পাতা জুড়ে শুকনো জলের ফোঁটার দাগ। 

কতবার বলেছি, চশমাটা পালটে দিই? 

অমনি স্তিমিত চোখের তারায় আশনির ঝিকিমিকি, 

পান খাওয়া লাল ঠোঁট ভেঙ্গে দু’একটা অবশিষ্ট দাঁত উঁকি মারে, 

ফরসা ভাঙ্গা গালে হাসি ছড়িয়ে পড়ে শরতের পূর্ণিমার মত। 

নারে খোকা, বেশ চলে যায়। এতো শুধু চশমা নয়, এ তোর বাবার – ভারী যত্ন করে সুধির স্যাকরা ডেকে বানিয়েছিল তুই যে বছর এলি।

দেখা যায়? 

যাবে না কেনরে? শুধু বইর পাতা নয়, কত কিছু দেখি, কত কিছু। 
হাল্কা হয়ে আসে ভাঙ্গা গলা,
আমার গলার কাছে টের পাই আবেগের 
রুদ্ধ জলোচ্ছাস, বুকে পাষাণের ভার,

চোখ ভারী করে আসে দলে দলে শ্রাবণের মেঘ। 

 

উচ্চপ্রযুক্তির যুগ, চারিদিকে বিলাসের, আমোদের অজস্র সম্ভার। 
ইচ্ছে করে কিছু তুলে দিই। কিছু নেবে? জানতে চেয়েছি কতবার। 
অমনি সেই ফরসা গালে ফোকলা হাসি - সব আছে, বেশ আছি খোকা।

তোরা ভালো থাক।
নির্নিমেষে দেখি, কি নির্লিপ্ত! কোন চাহিদা নেই, প্রত্যাশা নেই।  
নিজেই নিজেতে সমাহিত, রাখেনি কিছুই সঞ্চয়ের মত করে শুধু

ভাঙ্গা ট্রাঙ্কটি ছাড়া। 
চারিদিকে দেখি, মনে হয় সময় থমকে আছে এইখানে 
নিস্তরঙ্গ পুকুরের মত, তাকে ঘিরে তুলসি মঞ্চ, আকাশ প্রদীপ, 
বেল জুঁই শিউলি শেফালি – 
নিম আমড়া তেঁতুল নারকেল সপেদার গাছ,
থানকুনি হিংচে পুঁই শুশনি কলমি আরো কত শাক, কতো পাখি, 
আদুরে বেড়াল, রোঁয়া ওঠা খয়েরি কুকুর। 

তার কোন পরিচয় নেই, খবরের শিরোনামে নেই, 
ভাবেনি কখনো একটা পরিচয় হোক,
অন্য পরিচয় একান্ত নিজের, 
মাতৃত্বের পরিচয়ে খুশি আগণিত মায়েদের মত, 
সারা মন জুড়ে আমি, আমি তার খোকা, আমাতেই সব সফলতা,
আমি তার মাতৃত্বের চরম পূর্ণতা। 

সমগ্র বিশ্বের কাছে সে সামান্যা নারী,
অন্য কোন পরিচয় নেই, নেই কোন ছবি,
সে আমার মা, একান্ত আমার, সে আমার সপ্তসিন্ধু, 
মহাতীর্থ, সে মহাসাগর, 
সে আমার সমগ্র সত্ত্বায়, সে আমার এ বিশ্বপৃথিবী।।   

 

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

আমার শহরে

- কাকলী দাস ঘোষ 

আমার শহর দিয়ে বয়ে চলা নামহীন নদী,
ওর বুকের উপর কংক্রিটের ব্রিজটা পার হয়ে 
এপারে এসো তুমি।
তুমি কী বহু দূর দেশে থাক বন্ধু -?
তবে মেঘের বাড়ি ছুঁয়ে
উড়ে এসো তুমি আমার শহর কোলে,
ছুঁয়ে যাও আজ নরম সকালের নদীজলে বিভাl
উড়ে এসো বন্ধু আমার কল্লোলিনী শহরের নীল

গড়ানে ঢেউ নদী বুকে,
ছুঁয়ে যাও আমার শহরের অজানা নদীর নামহীন বন্দরl 
কুয়াশা নিমগ্নতায় শায়িত এখন 
সমাসীন ঘুম ভেঙে ও যে অজানিত মুখ মায়ায় চায় 
আজকের সূর্যোদয়l 
নিরাশ কোর না ওকে,
এরপর তো সেই পুরাতন নিয়মকানুন,
ছপছপ জলে জাহাজের ডেক -লঞ্চ হল্লা -চিমনির আকাশ ছোঁয়া 
চুলে ঢাকা মেঘের বাড়ি। 
তখন আর উড়তে পারবে না বন্ধু মেঘবাড়ি ছুঁয়ে। 
তাই বড় কাতর অনুরোধ -আকুতি আমার বন্ধু,
উড়ে এসো মেঘবাড়ি ছুঁয়ে এইক্ষণে 
আমার শহরে।

হারিয়ে গেছে
- মঈন মুরসালিন

আমি যখন ছোট্ট ছিলাম
স্বপ্ন ছিল মনে
দিনদুপুরে ছুটে যেতাম
দূর মহুয়ার বনে।

গাঙশালিকের পিছু পিছু
কাটত বিকেলবেলা
আমায় ঘিরে বসত তখন
প্রজাপতির মেলা।

সন্ধ্যা হলেই গল্প নিয়ে
বসত জটাবুড়ি 
আমার মনে উড়ত তখন
নানান রংয়ের ঘুড়ি।

গল্প শুনেই কখন যেন
আসত নেমে ঘুম
পরির ডানায় নেমে এসে
চাঁদটি দিত চুম।

যখন আমি হচ্ছি বড়
কাটছে না দিন আর
বুড়ির কথা ভেবেই ধূসর
দিনটি করি পার।

এই শহরের পেটের ভেতর
গ্রাম গিয়েছে ঢুকে
বুক টানটান মানুষ আমি
হাঁটতে থাকি ঝুঁকে।

বিবেচনা
- মিজানুর রহমান মিজান

 

বন্ধুর প্রেমে মন মজাইয়া
কি করলাম পাই না ভাবিয়া। 
ছাডিয়া গেল বানাইয়া দেওয়ানা।
পাইয়া আশ্বাস
নিলাম নি:শ্বাস
করল সর্বনাশ
এ তোমার বিবেচনা।   
প্রেমের পাঠশালাতে 
ভর্তি হলাম যবে তাতে 
লোভে মত্ত করে সাথে 
পিছন ফিরে তাকাইল না। 
এত পাষাণ হিয়া 
আমার সকল নিয়া 
গেল ত্যাজ্য করিয়া
পাপ পূণ্যের ধার ধারে না। 

 

বেহুঁস

মিজানুর রহমান মিজান

 

যৌবন কালে নারী পুরুষ

প্রেম আগুনে থাকে বেহুঁস

সব বন্দি রঙ্গিন চশমায়।

পাহাড পর্বত সাগর নদী

আকাশ পাতাল প্রকৃতি বন্দি

আবেগঘন ফুর্তিতে জীবন কাটায়।

ধর মার শক্তির বলে

ডানা মেলে নীলাকাশে চলে

শেষের দিন স্মরণ হয় না জোয়ারে নৌকা ভাসায়।

চল্লিশের কোটা পার হলে

একটু ভাবনার দরজা খোলে

যেতে হবে একদিন চলে

তখন পড়ে এ ভাবনায়।

খাটের ঘরে পা দিয়ে

অনেকটা দুর্বল হয়ে

আল্লাহমুখী হতে চায়।

তুই বিশ্বজয়ী

- নাজমুছ ছায়াদাত (সবুজ )

 

স্বপ্নগুলো
সাহারার বালুর মতো
সাইমুম ঝড়ে উড়ে যায়।
পেশীতে নেই তেজ
বোবা কণ্ঠ
ব্যথাতুর চাহনি-
সে নারী।
হাতুড়ির আঘাতে
যে স্বপ্ন বোনার চেষ্টা করে 
বাবুই পাখির মতো।
ইট ভেঙ্গে রোদে পুড়ে
ঝুড়ির বোঝা মাথায় তুলে
অট্টালিকা গড়ে।
ঠাই হয় পদতলে 
আহা কি নিয়ম।
বেলা আর অবেলা
বীজ বুনে ফসলের
মাঠের পর মাঠ ঢাকে
এতো টুকু আশায়।
লাভ কি বা হয়?
পুঁজিবাদ আর আমলার 
জাঁতাকলে পিষ্ট-
তাদের কোমল
কতক কাহিনী আকুতি
কতক প্রার্থনা ভালবাসা –
হাজারো রাতের অমানিশায়
চাপা পড়ে ।
মুখ ফিরিয়ে চলে যায়
রাতের প্রহরী,
আচ্ছা! তারা বিধাতাকে কি বলবে?
এই নিশাচরী দের জন্য।
আফসোস জায়া জননী
সতী কিংবা অসতী ।
আমার দর্শনে তুই বা তোরা 
রমণী সুদর্শনা সুলোচনা 
তুই গুনি সুভাষিণী
তুই নারী।
বিজয়া বিশ্বজয়ী।

 

ফিউশন ২
- মোঃ মুজিব উল্লাহ,পোর্ট কলোনী, চট্টগ্রাম

এই শীতে রাতের উৎসবে মায়াবী 
জ্যোৎস্না দেখো;অত:পর
আমাকে সুনিপুনভাবে শিখিয়ে দিবে
কী করে ভালোবাসা অনুভব করতে হয়?
সন্ধ্যে বেলায় তোমার চুলে শিশির ভরে 
রাখবো লক্ষ্মী
তুমি ব্যালকনিতে দাড়িয়ে থাকতে ভুলো না যেন
কোমল পরশ বুলিয়ে দেবো 
আবেগী লজ্জার চাদরে লুকিয়ে থেকো না
পরম মমতায় অধর ছুঁইয়ে দেবো 
কুয়াশার সমুদ্রে ডুবে তোমাতেই
একটু ওম খুঁজে নিবো...

শহর-শীতগান-প্রেম

- রাতুল তফাদার


শীতগান গাইছে শহর,
শীতঘুম জড়ানো আদুরে আওয়াজ;
পাতাগুলো একে একে বিদায় নিচ্ছে –
খাপখোলা চিঠি হয়ে
শীতের আজান নিয়ে।

সকালের মিঠে রোদ
অগোছালো চুল, ছুঁয়ে যায় 
ভোরের আদর, আরাম;
নেশাতুর ঠোঁট খোঁজে
চায়ের অনাবিল উষ্ণতা ।

প্রেমবেলার গড়পাড়,
ঘোড়ার খুরের দাগ
সবুজ ঘাসফুল বোঝে -
শিশিরের মন, প্রেম উচ্ছ্বল
গোলাপি রঙের মাতলামি ।

হালকা রোদেলা দুপুর,
পাতাঝরা হাওয়াকল
চুমু আঁকে গাছের ডালে;
শীতাতুর নরম শরীর
মাফলার সোয়েটারে সুখ খোঁজে ।

রকের আড্ডারা জমে ওঠে,
তালে তালে আগুন আঁচ দেয়
পিকনিক, খিচুড়ির আমেজে,
শহর শীতগান গেয়ে যায়,
ঘুম জড়ানো শীতল আবেশে।।

ধূসর

- অনীক চক্রবর্তী 

শাদা কিম্বা কালো
আঁধার নয়ত আলো
এস্‌পার কি ওস্‌পার
এধার অথবা ওধার


আমি কিন্তু ভাই এসবের মাঝে একটু ছোট্ট অবকাশের ফাঁকে সবুজ ঘাসের আগায় ফড়িঙের মতো দুলছি আর দুলছি আর দুলছি।

 

প্রশ্ন
- গৌতম ঘোষ, মুম্বাই


ছোট্ট খুকু প্রশ্ন করে মাকে,
আমি এলাম কোথা থেকে?
আদর করে বলেন মাতা,
তোরে দ্যাছেন বিধাতা।
অবাক হয়ে খুকু শুধায়,
বিধাতা কে? কোথায় থাকেন?
উর্দ্ধপানে দেখিয়ে মাতা বলেন,
তিনি ভগবান, থাকেন হোথায়।
কেমন করে এলাম আমি নীচে?
তিনিই এসে দ্যাছেন মোর কাছে।
খুকু শুধায়, কভু দেখি না কেন তারে?
মাতা বলেন, দেখবি কেমন করে?
খুকু শুধায়, কেন? কিসের অসুবিধা?
মাতা বলেন, যায় না যারে দেখা 
তিনি ভগবান, সবার বিধাতা।
অবাক খুকু ভাবে, এ কেমন কথা!
    
সেই খুকু আজ নিজেই মাতা,
নতুন এক শিশুর জন্মদাতা।
তবু প্রশ্নগুলো আজও ভাবায় তারে,
যখন নতুন শিশু একই প্রশ্ন করে।
মনের ধাঁধাঁয় জাল বুনে যায় ক্রমে,
নীল গগনের অসীম শূন্যে ভ্রমে,
বলাকা-দের পাখনাগুলির দোলায়
মনের জালে জড়ায় বিস্ময়।
            ---

 

হলদিয়া 

- সঞ্জয় আচার্য 


হলুদ বরণ সরষে ফুল হাওয়ায় দিলি দুল
কুশিয়ারার চপল মেয়ে ছাড়ল খোঁপার চুল।

পল্লীবালা পড়লো তোরে সাজলি নাকের নেত
বইল বাতাস গন্ধে অলস হলুদপাটির খেত।

হলদে খামের চিঠি নিয়ে হলদিয়া পাখি
বলল— তার খবর নিয়ো হৃদমাঝারে রাখি। 

হলুদ দিনের হলদে গাঁদা হলদে সূর্যমুখী
হলুদ রঙের কন্যারা সব রাঙিয়ে দিল আঁখি।

হলুদ মলাট উল্টে দেখি স্বপ্নরা সব সবুজ
পলাশ-শিমুল-কাঞ্চনেতে প্রেমের গল্প ত্রিভুজ।

হলুদ আশা নিয়ে এল ছোট্ট আমার শিশু
হলুদ কেন? মধুর হেসে সেও হল জিজ্ঞাসু। 

সুখ
- শাহানার রসিদ ঝর্ণা, উত্তরা – ঢাকা 

সুখ নিয়ে তো সবাই ভাবে ক’জন সুখী হয়
দুঃখে থাকা মানুষ বলে সুখ যে আমার নয়
গরীর যারা তারা ভাবে ধনী জনেই সুখী
জীবন জুড়ে ওদের আহা সুখ যে বহুমুখী
নিত্য যারা বসত করে বস্তি ও ফুটপাতে 
তারা কি আর একটু হলেও সুখের রঙে মাতে?
সুখটা যেন সোনার হরিণ দুঃখী জনের কাছে 
কেউ কি জানে মনের মাঝে সুখ ক’জনার আছে।
বাইরে থেকে যায় না বোঝা সুখটা কেমন তরো
সুখের কথা ভাবলে কেউ হয় ভয়েই জড়সড়। 
সারা জীবন সুখের পিছে যারা ছুটেই ছোটে 
হয়তো তাদের বুকেই কত সুখের গোলাপ ফোঁটে
কেউ বা বোঝে, কেউ না বুঝেই চুপটি করেই থাকে
ইচ্ছে হলেই সবাই পারে ছুঁতে যে সুখটাকে 
সুখ আসলে মনের ব্যাপার মনেই সুখের চাবি
সুখ না খুঁজে তাই তো এখন মনকে নিয়েই ভাবি। 

পালকি 
- শাহানার রসিদ ঝর্ণা 


একদিনে হয় মনবিনিময় অন্যদিনে গান
তোমার ওঁমের নকশী কাঁথায় ভালবাসার টান

নোনা ধরা রোদের পোড়ে আয়না ভাঙ্গা কাঁচ
পোড়া ধূপের গন্ধে কি পাও তপ্ত সীসার আঁচ

ঘোমটা টানা গৃহিনী দেয় উলুধ্বনি রোজ
দ্রোহের তিলক কেটে আহা কিসের কর খোঁজ

দেবালয়ের সখের বেদী সাজাও ঢেলে মন
ঘুঘুর ডাকে হয় যে উতল ঐতিহ্যের বন

তোমার দোরে পালকি থামে ছয় বেহারা চুপ 
দূর্বা ধানে পূর্ণ থালা হায় কি অপরূপ 

আজকে তোমার গায়ে হলুদ কালকে বিয়ের ক্ষণ 
একটা সুখের পালকি চড়েই দুলবো যে দুইজন। 

মন্বন্তরের আগামীতে মিলবে ডানা রোদ
তোমার অহম বোধেই সকল দেনা হবে শোধ।
 

হলদিয়া 
সঞ্জয় আচার্য 


হলুদ বরণ সরষে ফুল হাওয়ায় দিলি দুল
কুশিয়ারার চপল মেয়ে ছাড়ল খোঁপার চুল।

পল্লীবালা পরলো তোরে সাজলি নাকের নেত
বইল বাতাস গন্ধে অলস হলুদপাটির খেত।

হলদে খামের চিঠি নিয়ে হলদিয়া পাখি
বলল— তার খবর নিয়ো হৃদমাঝারে রাখি। 

হলুদ দিনের হলদে গাঁদা হলদে সূর্যমুখী
হলুদ রঙের কন্যারা সব রাঙিয়ে দিল আঁখি।

হলুদ মলাট উল্টে দেখি স্বপ্নরা সব সবুজ
পলাশ-শিমুল-কাঞ্চনেতে প্রেমের গল্প ত্রিভুজ।

হলুদ আশা নিয়ে এল ছোট্ট আমার শিশু
হলুদ কেন? মধুর হেসে সেও হল জিজ্ঞাসু। 

 

উত্তর 
উত্তরণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মাঝরাতের হ্যলোজেন উৎসবের ভীড়ে 
ধীর পায়ে ভেসে যাচ্ছে কেউ
আঁধারের খোঁজে, আরো একবার। 

কোন দোষ করেনি সেঃ এমন কিছু, 
গুণীও নয়। ভালবাসা দোষ না গুণ?
ভগবান জানেন বলেন না কাউকে। 
সে শুধু জানে জন্মদিনের মোম 
নিভে গেছে শেষ বারের মত, 
এঁটো কেক খাওয়াও সারা। 
আর তাকে বুঝলো না যারা, তারা 
মাথা উঁচু করে ফিরে গেছে যে যার মত। 
বুকে জমে ওঠা আবর্জনার স্তূপে 
হারিয়ে গেছে যত চেনা মুখ,
নিভে যাওয়া মোমের ধোঁয়ায় চারিদিক ঝাপসা 
বন্ধু-হ্যালোজেন নিভে আসছে;
ভালবাসা দোষ না গুণ?
ভগবান জানেন, আর জানাতে চলেছে সে। 

আর এক জন...
তাপসকিরণ রায়

পেলেই থেমে যায় চাওয়া পাওয়া
তার চে কিছু না পাওয়া থাক না মন জুড়ে !
তাকে মনে পড়ে , অনেক পথ এক সাথে
এগিয়ে যাবার যে স্মৃতি 
হারিয়ে গেল,এখনো কোন আশ্বিনের ঝড়ে
সে কথা মনে পড়ে
সে শীতল বিছানো পাটিতে
এক হলেও আর এক জন...। 

 

স্বপ্ন ছিল

ঈপ্সিতা  মন্ডল

স্বপ্ন ছিল বুকের মাঝে
যত্ন করে গাঁথা ;
স্বপ্ন যে হায় পাখির মত
যায় কি তারে বাঁধা ?
ভেবেছিলেম সোনার খাঁচায়
শিকল দিয়ে ধরে
রাখব তারে সারাজীবন
কেবল নিজের করে !
মুক্ত পাখি গায়ের জোরে
বন্দী করা যেই
বদ্ধ হলেম নিজেই যেন
সেই কারাগারেই ;
“লালন করা স্বপ্ন তুমি
বাঁধন হয়ে শেষে 
এলে আমার জীবন জুড়ে
দুঃস্বপ্নের বেশে ?
কেন তবে এমন করে
চেয়েছিলেম তোমায় ?
দুলিয়েছিলে হৃদয় কেন
এমনি দুরাশায় ? ”।।


             

উড়িয়ে দিলেম বন্দী পাখি
মুক্তি পাওয়ার আশায় ,
কঠিন কঠোর বাস্তবেতেই 
যুঝতে হবে আমায় ;
থাক না পাখি বনের মাঝে 
থাক না অমনি ছাড়া -
জানলা দিয়ে দেখব তারে 
নাই বা দিল ধরা ?
ভালবেসে নিজেই যদি
আসে আমার তরে,
বরণ করে নেব তখন
নেব আপন করে । ।।              

 

মুক্তি

- সুদীপ্ত বিশ্বাস

 

চে'র মৃত্যুতে কিছুই কি হল,
দুনিয়া বদলে গেল?
এখনও ধর্ম দু'চোখ রাঙায়!
এখনও ফোটেনি আলো।
ব্রুণোটা পুড়ল, বেঘোরে মরল 
তবুও কি হল কিছু?
এখনও সবাই ধর্মের ভয়ে
মাথা করে রাখে নিচু!
এখনও সবাই মন্দিরে যায়
মিথ্যে ঘন্টা নাড়ে
দেবতার ভয়ে মাথা নত করে
পূজা দেয় উপাচারে।
এখনও মানুষ ধর্মের নামে
রেপ করে, করে খুন! 
ধর্মান্ধের গায়ে কাটাঘায়ে
ধর্মে ছেটায় নুন।
হলোকাস্ট ও অ্যাপারথায়েড,
কালো বলে দেয় খোঁটা!
কাঁটার মতই এখনও বিঁধছে
SC, ST কোটা।
ধর্মের নামে চলে রাজনীতি,
ধর্মযুদ্ধ চলে
মানুষ মরছে, ফায়দা লুটছে
হরি -আল্লার দলে।
আর কবে বলো ফুটবে গো আলো?
আঁধার কাটবে কবে?
ধর্ম নামের নাগপাশ ছেড়ে
মানুষ 'মানুষ' হবে!

ধর্ম এখন

সুদীপ্ত বিশ্বাস

ধর্মে রাখত ধারণ করে, ধর্মে  দিত শিক্ষা
ধর্ম এখন বদলে গিয়ে অস্ত্রে দিচ্ছে দীক্ষা!

ধর্মে এখন আগুন জ্বালে, ধর্মে পোড়ায় দেশ
ধর্মে শেখায় সন্ত্রাসবাদ, ছড়ায় হিংসা-দ্বেষ।
ছেলে-বুড়ো, পুরুষ-নারী সবাই পড়ে ফাঁদে
ধর্মে মানুষ ঘর ছাড়া হয়,সব হারিয়ে কাঁদে।
ধর্মে এখন রক্তচোষে, ধর্মে করায় খুন
রহিম রামের কাটা ঘায়ে ধর্মে ছেটায় নুন।

ধর্মে এখন অস্ত্র শানায়, ধর্মে শেখায় যুদ্ধ
ধর্মে এখন রণং দেহী আল্লা- হরি -বুদ্ধ!

 

নাইটস্কুল

সুবীর সরকার

 

পাখির অনুজ্জল চোখ

বারান্দা পেরিয়ে উঠোন

গমখেত ঘিরে রাখা নাইট

                      স্কুল

নদীর গভীর থেকে হাওয়া

 

 

পাখি ও পাখনা

সুবীর সরকার

 

মঞ্চায়নের আগে সময় ও তারিখ জেনে নিতে

                                          হয়

লবণজলে চোখ ভেজালে

খাতা জুড়ে পাখি

               ও

             পাখনা

 

বিলাপ

সুবীর সরকার

 

আর্তনাদ শুনি

প্রতিবাদও করি

জাস্ট নিতে পারছি না

                এসব

অগ্রভাগে বিলাপ বসে

                  থাকে

একটু হিম কথা 
- নাজমুছ ছায়াদাত সবুজ

শীত এলো ফিরে
কুয়াশার চাদরে,
মাঠ ঘাট ঢাকা পড়ে
কি মায়ায় আদরে।
কেউ কেউ খুশি হয়
নতুন রঙ্গিন পোশাকে,
রাতে তাই ওম খোঁজে
লেপ আর তোষকে ।
ফুটপাতে যারা থাকে
ভেবেছ কি একটু,
শীতের কামড়ে তারা
করে উহু উহু।
নেই কাঁথা কম্বল
নেই জুতো জামা,
আকাশটা ছাদ হয়
সাথী চাঁদ মামা।
ব্যানার আর ফেস্টুনে
থাকে কত প্রতিবাদ,
শীত নিবারণে তাদের
এটাই  যে সম্পদ।
কত দাবি পাশ হয়
মিটিং আর মিছিলে,
তারা শুধু রয়ে যায়
অন্ধকার অতলে।
চাঁদ মাখা মুখ গুলো
নেই ভাবলেশ –
তবু চিৎকারে বলে যাই
তোরাই বাংলাদেশ। 

আমি সেই মেয়ে

-  সুগ্রীব মন্ডল 

 

আমিই সেই মেয়ে,
যার চারদিকে ছিল উন্মুক্ত আকাশ
মাথার উপর উড়েছিল সাদা পায়রা।
হৃদয়ের মাঝে ছিল এক ঝুড়ি আনন্দ
খেয়ে দেখেনি কোনো অশান্তির বিষ।
জীবন চলছিল ঠিক ঈগলের মতো,
স্বপ্ন দেখেছিলো এক অন্য পৃথিবীর।

আমিই সেই মেয়ে,
যার একলহমায় নিভে গিয়েছিল জ্বলন্ত স্বপ্ন।
ঘনিয়ে এসেছিল একরাশ কালো মেঘ,
দমকা হওয়ায় ছিঁড়ে গিয়েছিল ফুটো আকাশ
হারিয়েছিল জন্মদাতার কোমল হাত,
ভুলে গিয়েছিল বেঁচে থাকার উপায়।

আমিই সেই মেয়ে,
যাকে নিয়ে মাতামাতি করেছিল সারা বিশ্ব
খেলেছিল রাজনীতির খেলা
ঠিক লুডোর ছক্কার মতো।
সেদিন নেচে ছিল খাঁচায় বন্দি গিনিপিগ।
হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল উর্দিধারীর দল
গায়ে সেঁটে দিয়েছিল নগ্ন পোস্টার।
পাশে ছিল না  পাড়ার রামমোহন
আসতে পারেনি বিদ্যাসাগর
হয়তো  দিয়ে যেত একটুকরো সাদা কাপড়।

আমিই সেই মেয়ে,
টিভির পর্দায় ভেসেছিলো যার নাম
খবরের কাগজ ভিজে গিয়েছিল ন্যাকা কান্নায়
তর্ক লেগেছিল পোড় খাওয়া যুক্তিবাদী
সমালোচনা করেছিল সভ্য বুদ্ধিজীবী
রাস্তায় হাঁটেনি জ্বলন্ত মোমবাতির দল।

আমিই সেই মেয়ে,
জন্মেছিলাম এই রহস্যময় গ্রহে
যেখানে এসেছিল বিবেকানন্দও
তাও আজ আমি 'বহিরাগত'
যাক সে কথা,এখন থেমে গেছে দুরন্ত জীবন
নিঃশ্চুপ হয়ে বসে থাকি ওই নীল তারার মাঝে
শুধু কানে ঘোরাফেরা করে এক চেনা সুর
আমিই সেই রোহিঙ্গা।

ইচ্ছে মৃত্যু

-  দেবায়ন ভট্টাচার্য্য

কাঁচের ঘর আর 
পুতুল খেলার হাত-

নিয়ম করে নিয়ম মানা... 
সময় হলে – ‘ও ছুড়ি তোর বিয়ে!’

তাসের দেশে ইচ্ছা মৃত্যু! 

খাঁচার পাখি উড়বে খাঁচার মাঝে!  
আকাশ তাদের চোখের তারায় ভাসে। 

আমায় চেনে নি কেউ, চিনবে না তুমি। 

অনুভূতি
- মহঃ ইসহাক আহমেদ

বুক থেকে ঝরে পড়া কবিতার মাঝে, 
তোমায় দেখেছি আমি শাওন রাতে।
কবি বলে কবিতা সে তো তুমি নও;
আমি বলি সুন্দর অতি সুন্দর তুমি হও।

হিয়ার মাঝেতে মোর কত, কত ফুল ফোটে;
তার মাঝে মন মর শুধু তোমায়, তোমাকেই যাচে। 
জানিনা কেন তা জানি না,
আমি তোমার কাছেতে যেতে পারি না। 
দূর থেকে দেখি আমি যাতে টুটে পড়ে। 

কবি বলে ভীতু তুই, কাছে যেতে পাস ভয়;
আমি বলি ভীতু তুই, 
এ যে ভালবাসা
ভালবাসা একেই কয়। 

সূর্যের আড়ি
 -   শামীম হাসনাইন,মির্জাপুর, টাঙ্গাইল

কুয়াশায় ঢাকা তাই
দূর থেকে মনে হয়,
পাহাড়ের চূড়া যেন-
আমাদের বাড়ি

ইশারায় সূর্যকে
বললাম- মামা তুমি
উঠবে না আজ আর
দিয়ে দাও আড়ি।

চুপচাপ থেকে শেষে
সূর্যটা হেসে ওঠে
কুয়াশার দল ভয়ে
হারালো যে দিশে

ভয় পেয়ে দিশেহারা
দুধ সাদা কুয়াশা
ঘাস ছুঁয়ে মাটিতে
গেল শেষে মিশে।

১১.১২.১৩। মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

 

 


শীতের রাতে একটি ছেলে
- শামীম হাসনাইন

শীতের রাতে একলা একা
ঘর বাড়ি নাই তাই ছেলেটা 
ফুটপাথেতে হাঁটে
কখনো বা রাত কেটে যায়
স্টেশনের ছাউনি তলায়
কিংবা খেয়া ঘাটে।

ভীষণ গরিব অই ছেলেটা
কাঁপছে শীতে খুব
আমরা যখন লেপের নিচে
দিয়ে আছি ডুব।

কড়া নাড়ে

- মিজানুর রহমান মিজান

 

দু’টি ডালে দু’টি পাখি ছিল ভিন্ন ভিন্ন

যুগল জীবনে মায়ার বাধঁন হচেছ নাতো ছিন্ন।

বিয়ের বয়স আসে যখন বর ও কন্যার

লাজুক লাজুক কথা বলে ফুটে হাসি বন্যার।

রঙ্গিন চোখে দুনিয়া দেখে বাজে মধুর বিন

প্রত্যশায় সময় কাটে নাচে তা ধিন ধিন

অপূর্ব বাঁধনে গড়ে নীড় মধুর ভালবাসায়

সংখ্যা তত্ত্বের দুই থেকে অধিক হয় বংশ পরস্পরায়।

সুখ শান্তি আনন্দ বয়ে যাক চিরদিন

পুষ্পিত বাগানে সৌরভ ছড়িয়ে হোক অমলিন।

খোদার কাছে মিনতি জানাই করজোড়ে

দয়া, মায়া ভালবাসা সর্বদা যেন কড়া নাড়ে।


 

বেলা অবেলার শব্দেরা

 - রাতুল তরফদার


অচেনার ঘুমগানে
শব্দেরা যায় আসে,
চেনার সুরের ছোঁয়ায়
পাশ ফিরে যায় ।

বিকেলের কলিগানে,
শব্দেরা নেচে যায়,
ঘরফেরা পাখির ডাক
মিলিয়ে যায় আকাশের কোণে।

কনে দেখা গোধূলির
মোহময় শব্দেরা
মাদকতায় খুঁজে মরে
অলীক সুখ ।

রাতের ঘুমেলা নিঃশব্দেরা
আলতো চুমু এঁকে যায়,
নীরব শব্দ আলোড়ন খোঁজে,
চেনা শরীরের গন্ধে, ঘুমোয় নিঃশব্দে ।।

আবদার
 - রাতুল তরফদার


“আমার জন্য কবিতা লিখবি?”
আবদার টা কানে লেগে আছে,
কলম পিষে অলস আঙুলটা,
কাগজের চুমু খেতে খেতে ক্লান্ত
তবু কানে বাজছে কথাগুলো;
স্টাডি টা আমার নির্ঘুম চোখের সাক্ষী,
কাল মাঝরাতে তোর কথা ভাবতে ভাবতে-
যে টেবিল ল‍্যাম্পটা জ্বেলেছিলাম,
ভোরের হালকা রোদেলা আলিঙ্গন
ম্লান করে দিয়েছে তাকে।

কবিতা লিখি না ছাই, 
ছন্দ ভেঙে অছান্দিকতাই অভীষ্ট
‘ছন্ন’ হীন সেই ছন্দের আড়েই 
অবিরত খুঁজি তোকে, 
প্রতি পঙক্তি, প্রতি যতির শেষে
তোর গন্ধ শুকে যাই হালকা করে,
হন্যা রে, তোর ই জন্য লিখছি,
জানিনা কি ছাইপাশ।।

 

 

 

শীতবুড়ি

- গৌতম ঘোষ, মুম্বাই

বয়স তার পেরিয়েছে পঁচাত্তর,

কেশরাশি অতি বিরল ও ধূসর,

হাঁটু আর মাথা এক করি কাঁপিতেছে একাকিনী বুড়ি।

পাতা ঝরা শীতের সকালেরোদ চুরি গেছে কুয়াশার আড়ালে,

তাপ তাই লাগেনা পৃথিবীতে;

শীত বাড়ে উত্তুরে হাওয়াতে।

দৃষ্টি তার ভাসাভাসা,

মনে একরাশ জিজ্ঞাসা,

মেলেনি অনেক উত্তর,

বরফজমা পর্বত-শিখর।

দিবস গড়িয়ে যায় দ্বিপ্রহরে,

স্মৃতির ঝরা পাতা জুড়ে;

সে এক অবোধ্য কোলাজ,

পড়ন্ত রোদে ক্ষীয়মাণ লাজ!

দিন চলে যায় গোধূলিবেলায়,

মনের হিজিবিজি জালে জড়ায়ে বুড়ি

হেঁটে চলে গুটি গুটি পায়ে,

এক, দুই, তিন...শ্বাস গুনে গুনে,আলো-আঁধারির মাঝখানে।            ---
 

ধৌত রেখে গেছ 
- সঞ্জয় আচার্য 

ফাগুনসম্ভূত শরীর তাই পলাশের হাসি মুখে
উৎসবে জয়গান গাই কোকিলের মূর্ছনায়
আমের মুকুল, আমড়ার বোল
কিছু কিছু ঝরে পড়ে দখিনা বাতাসে
মধুলিট মাতোয়ারা শালমঞ্জরী সুবাসে।

বিলাসী সবুজ পাতায় মধ্যাহ্নের ধূলিস্নান
তপ্ত মহুয়া জ্বলে, তপ্ত শিমুল দোলে 
বসন্ত আকাশ দেখার অপেক্ষায় ভাঁট ফুলের কোরক 
ঘুঘুরা শিল্পী হয়ে সাজায় ইকেবানা
বাঁশবনের আড়ালে দখিনার পটমঞ্জরি 
উড়ন্ত দিন রংবাজ
অজানা মধুরতায় প্রদীপ্ত নর্তক ঋতুরাজ।

ছুটে আসে উল্লসিত কিশোরীর দল
ঘুম ঘুম চোখে ক্লান্তির রেখা নিয়ে
মুখে লেগে আছে মধুযামিনীতে আঁকা স্বপ্ন
দিশেহারা মন, শিথিল তনু
বসন্ত বাতাসে উড়ে কাঞ্চনের রেণু
এলোপাথাড়ি চলার শেষ কোথায় জানে বুঝি মহুয়ার বন 
তিলেকের সুখলগ্ন, মধুময় রাত 
হৃদয়ের ভাষাহারা আলোর প্রপাত
একাকী সীমাহীন গণ্ডি পেরনো 
আজ শুধু আজ থাক, না হোক পুরনো। 

গড়মিল হিসেব
- শাহানার রসিদ ঝর্ণা, উত্তরা – ঢাকা 

বিশ্বাসে নয় অবিশ্বাসে রথের চাকা দোলে 
নলুয়া বউ নকশি কাথাঁয় বিচ্ছেদী ফোঁড় তোলে
বেতের পাতায় স্মৃতির বাতাস ওড়ে শিমুল তুলো 
শান বাধাঁনো পৈঠা জুড়ে জটলা পাকায় ধুলো 
ফেসবুক হয় সখের আলাপ দীপাবলীর গানে 
ইমেল, জি মেল ভষ্মিভূত বিষ গোখরোর বাণে
হতচ্ছাড়া মৃত্যু এবং প্রেম তবু দেয় নাড়া
আপন ঘরে দিন-দেবীকার হিসেব নজর কাড়া
দেবদূতেরা শঙ্খ বাজায় অন্ত আদি নিয়ে 
বোকা ছেলের অন্নপ্রাশন খাঁটি দুধের ঘিয়ে 
সরাইখানায় মুসাফিরের মধ্য বয়েস পোড়ে 
মাঠের রাখাল কাঙ্গাল বেশে বৃন্দাবনে ঘোরে 
ঘুমরে কাঁদে আঙ্গুরবালা মসনদে নেই রাজা 
শুনলে পড়ে মোড়লপতি দেয় নীরবে সাজা 
আঁতুড় ঘরে কন্যা কাঁদে শঙ্কা মায়ের মনে 
দেবালয়ের স্বপ্নচারী নির্মোহ দিন গোনে
দোদুল্যমান সিলেবাসের নিয়ম পরিপাটি
দেখে শিখেও মন্দ মানুষ হয় না তো আর খাঁটি। 

বৈশাখী নার্গিস 
ইমন কল্যাণ

এখানে সবাই বদলে যায়। এমনকি যে ভালবাসে সেও। ক্রশিং এ হাজার খোয়াইশ পথ আটকে। কে কবে এল গেল ওসবে কিছু যায় আসে না। মঁশিয়ে আমার একটা আর্জি ছিল। যখন তুমি একলা হয়ে বন্ধু খোঁজো, কি ভেবে হাতড়াও। হাইওয়ে ধরে একটা মধ্যরাত গড়াতে শুরু করার পর। ধ্বংসস্তুপের ম্যানিকুইনে পর্দা টাঙানো থাকে। যদিও দুফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ে নদীতে। অসংখ্য ব্রিগেড পেড়িয়ে প্রেম আর প্রেম থাকে না। মঁশিয়ে ভালোবাসতে গেলে একটা জীবন কম পড়ে যাবে। নাহলে তো চলতি কা নাম ন দো গ্যায়ারা। বিশ্বাস আপাতত ক্লোব মিক্সে।**

 

হাইওয়ে

ইমন কল্যাণ

ঘুম না এলে নীলচে চোয়াল বেয়ে বীরত্ব নেমে আসে। আপনি সুর না বেসুর না অসুর তা বুঝতে কয়েক মাইক্রন শব্দই যথেষ্ট। একটা বেঞ্জ মার্সিডিজ, একটা ল্যান্ড রোভার তালিকায় থাকলেও গঙ্গার মেঘলা আকাশ জানে, আসলে বেঁচে থাকার জন্যে কোনটা বেশি দামী। মুচকি হেসে এটুকু বলতেই পারি..হেই নিগর..জাস্ট গ্রো আপ। পৃথিবী এখনো জেগে।**

ম্যানিকুইন  জীবন

ইমন কল্যাণ

হয়ত একটা জীবন কম। তার পরও অনেক কিছু। বলি কি একটু ডুব মেরে দিই এক বালতি জলে। তাও বুঝি হবে না। কারণ ঠাণ্ডাও কম নয়। তা বলে যে সুইটজারল্যান্ড এ বসে আছি তাও নয়। গতকাল কিম্বা আজ। আমার কিছু মনে নেই। একটা সমুদ্রের ভেতর  কতটা জল আছে সেটাও একটা কথা। আমার গানগুলো পকেটে। আমার সুর গুলো বালিশে চাপা। কান্নাগুলো আপাতত জানালায়। তারপর কে আর খোঁজ রাখে। আসলেই বিরক্তি কিম্বা নাটক কিম্বা মিথ্যে। এক সুত্রে বাঁধা। আমি ডানা মেলে দিই। আমি ফ্যানের দিকে চেয়ে মৃত্যু ভাবি। সময় ভাবি। আমার অনেক কিছুর জানার আছে। অনেক কিছু বলার আছে। কিন্তু আগামীকাল কোথায় যেন একটা কেটে যাওয়া বৃষ্টির কবিতা নেমে আসলেও আসতে পারে।

প্রাপ্তি

বুবাই হাজরা 

নিরন্তর কোলাহল শূণ্যতা খোঁজে 

এক পশলা বৃষ্টিও পড়তে চায় নিজে​

অন্ধকারের চাদরে মোড়া নীরবতা

একান্তে তৃষ্ণা মেটায় গভীর শূণ্যতা

সমুদ্রের বুকে আছড়ে পড়া ঢেউ

সুখময়ের ঠিকানা করে নেয় কেউ

ঝোড়ো হাওয়ার ক্লান্তি অবসাদ

গুড়িয়ে দিয়ে নবনির্মিত রাজপ্রাসাদ

কোকিলের কণ্ঠস্বর দিনের জানলায়

সুপ্রভাতের আগমন বার্তা জানাতে চায়

রেশমের পোষাকের বন্দীরত উষ্ণতা

রবির আগমনে পায় খোঁজে মলিনতা

প্রাপ্তি রোগে আক্রান্ত প্রকৃতি হইতে মানব

সরলতায় না মিলিলে হতে পারে দানব

ফিরে যাবো আমি আমার পর্ণ কুটিরে

মফিজুল ইসলাম খান

জলে স্থলে বারুদ লুকানো এই অশান্ত ভুবনে
        সারি সারি মৃত দেহ কাক শকুন বিক্ষুব্ধ শেয়ালের দল
        বেওয়ারিশ কুকুর পেছনে ফেলে
        অভাগীর রক্তের ফসল একদিন দুদিন করে যদি বেঁচে যাই
        আরো কিছুকাল 
        ফিরে যাবো গোমতীর কূলে
        অযত্নে বেড়ে ওঠা সবুজ ঘাস সযত্নে বিছিয়ে দেবে আপন হৃদয়
        রূপসী প্রহরীগণ অঞ্জুলী ভরে তুলে দেবে জল
        নিশ্চিন্তে আমি খুলে ফেলবো সমস্ত বসন
        পোড়া দেহ ভিজিয়ে নেবো
        তারপর 
        হিজল তলায় ঘুমবো সারা রাত
        গোমতীর সখীগণ দীর্ঘ চুলের সুবাস দেবে
        খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নেবে আমার ঝলসানো দেহ ।

        স্রোতস্বিনী গোমতী কাকডাকা ভোরে আমাকে জাগিয়ে দেবে
        মুগ্ধ নয়নে আমি দেখবো তার তরতর বয়ে চলা ।

        মেঠোপথে একা একা ঘাস ফড়িঙয়ের নৃত্য দেখে
        বাঁশঝাড় সুপারি বাগান কবরখলা পাড়ি দিয়ে
        পৌঁছে যাবো আমার পর্ণ কুটিরে

শুভ জন্মদিন

দেবদাস ভট্টাচার্য্য , ডালাস , টেক্সাস 


শিউলি ঝরার শেষে,
হালকা হিমেল বাতাসে আজ 
কিসের গন্ধ ভাসে! 
দরজা খুলে বাইরে দেখি
কুয়াশাতে মাখামাখি 
হালকা অবয়ব,
আসছে সে যে পায়ে পায়ে 
জন্মদিনের গন্ধ বয়ে 
সঙ্গে নিয়ে পাখির কলরব। 
নবারুনের আলো দলে
এ কোন অপরূপা এলে 
কে সাজালো এমন করে আজ!
হেমন্তকে সরিয়ে দিয়ে 
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
নতশিরে হাজির ঋতুরাজ। 

আমাদের গ্রাম

প্রজ্ঞা পারমিতা রায়

বোসগার্ডেন, কলকাতা 


দূরে সমুদ্র, আমি একা বসে আছি নীল

সমুদ্রকি আনন্দ কি আনন্দ ঘননীল
সাগর যেন মেলেছি ডানা
পাল তোলা নৌকা সারি সারি দোলে
সুখের সমুদ্র মন মহলে
কেউ যে কারো নয় ভাবি কেন মনে
খালি হাতে ফিরে যাব ভাসি নয়নে
সঙ্গী নেই সাথী নেই কেউ নাই কোথা
নৌকাখানি শুধু ভেসে যায় জলে
সে নৌকা করে যাচ্ছে সবাই
আমি একা বসে আছি কোথা কেহ নাই
নাই নাই বলছে গেহ নাই নাই বলছে সাগর সমুদ্র।

কালবেলা

সুদীপ্ত বিশ্বাস

 

মুখোশের মাঝে মুখটা হারিয়ে গেলে
মানুষে-মানুষে যবনিকা নেমে আসে,
উজানের স্রোতে অনেক সাঁতারু ছিল
অকুল পাথারে একজনও নেই পাশে।

 

বন্ধুর বুকে বন্ধু বসালে ছুরি, 
ভাইয়ের রক্তে দুহাত রাঙালে ভাই;
মনের আগুনে প্রতিদিন পুড়ে-পুড়ে
চিতার জন্য পড়ে থাকে শুধু ছাই।

ধর্মের নামে অন্ধেরা উন্মাদ
রক্তে-রক্তে রাঙিয়ে নিচ্ছে হাত;
মৃতের মিছিলে কত অসহায় মুখ
প্রশ্ন করছে,মৃত্যুর আছে জাত?

খুনের মিছিলে এ কেমন সভ্যতা?
প্রতিবাদ? তুমি প্রতিবাদী ভাষা শেখো;
ধর্মের-কল আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে
মানুষে-মানুষে ভালবাসা লিখে রেখো।

সরলা

মিজানুর রহমান মিজান

 

এ জীবনে বড় জ্বালা

দু:খ চিন্তায় গেল বেলা।। রে কালা……

আপন ভাবলাম যারে

সে যে অঙ্গার দেহ করে

তবু মিঠে না সাধ তার বেলা।। রে কালা…..

ভাল কাজ করতে চাইলে

হিংসার আগুনে পুড়ে জ্বলে

পদে পদে বাঁধা ডিঙ্গাই একেলা।। রে কালা…..

ভেবে দেখি মনে প্রাণে

মই দেইনিতো পাকা ধানে

তবু বিষের তীর মারে সরলা।। রে কালা…..

কফিশপ

সুবীর সরকার

 

যোগ করছি কফিশপ

ছাই কিভাবে ধুলো হয়ে

                     ওঠে

প্রকৃত নির্মাতা নাম ব্যাবহার

করেন না।

ছেঁড়া টুপিতে বাঁচা

                 আমাদের

 

 

টানেল

সুবীর সরকার

 

চোখের জল টানেল পেরোচ্ছে

বাল্যস্মৃতিতে আটকে থাকছি

‘চোখে চোখ রেখে কথা বলুন’

বাজনা থেকে সরে আসছে

                           গান

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

Please mention the "name of the articles" you would like to comment in the following box... Thank you.

Email : maadhukariarticles@gmail.com

​​​

© 2017 by Maadhukari.com

Bengali Online Magazine

Share your thoughts!
                                        Questions?